উমা অধিকারী, নার্স, আর.জি.কর হাসপাতাল। নামটা চেনা চেনা লাগছে কি? অনেকেই ভুলে গেছেন। লকডাউনের প্রথম দিকে প্রতিবেশীদের হাতে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে হেনস্তা হয়েছিল। যেহেতু তিনি আর.জি.করের নার্স আর.জি.করে সেই সময়ে করোনা ধরা পরেছিল। স্বাস্থ্যকর্মী উমা পাড়ায় সংক্রমণ ছড়াতে পারেন বলে আশঙ্কা করেন তাঁর প্রতিবেশীরা। ঘরে ছোট শিশু থাকায় টানা হাসাপাতাল থেকে যাওয়াও তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। ফলে তাঁকে বাড়িতে আসতেই হতো। থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে পরিবারের সবার মেডিক্যাল স্ক্রিনিং করিয়ে তবে সেই সমস্যা থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন তিনি।
সেই উমা এবার মমতাময়ী মা। মানবতার কাছে হার মানল করোনা-ভীতি। বৃহস্পতিবার হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে জন্ম নেয় একটি শিশু। সি সেকশন করে সন্তানের জন্ম দেওয়া তার মা-এর পক্ষে তখনই তাকে দুধ খাওয়ানো সম্ভব ছিল না। জন্ম নেওয়া ওই শিশুটি সেদিন রাতে দুধের জন্য ছটফট করছিল। এই রকম পরিস্থিতিতে হাসপাতালে সদ্য মা হওয়া অন্য প্রসূতিদের দিয়ে স্তনপান করানো হয়। কিন্তু করোনা সংক্রমণের ভয়ে অন্য মা-এরা কেউ শিশুটিকে দুধ খাওয়াতে এগিয়ে আসেননি। এদিকে শিশুটি কেঁদেই চলেছে। খবর পেয়ে এগিয়ে এলেন সদ্য মা হওয়া ঐ ডিপার্টমেন্টের নার্স উমা অধিকারী। নিজে কোলে তুলে নিয়ে শিশুটিকে স্তনদান করলেন। থামল শিশুর কান্না।

উমার কথায়, করোনা-ভীতির থেকে তখন অনেক বড় হয়ে গিয়েছিল এক ফোটা দুধের জন্য সদ্যোজাত শিশুর আকুতি। সব রকম সাবধানতা অবলম্বন করেই তিনি শিশুটিকে দুধ খাওয়ান বলে জানিয়েছেন। তাঁর স্বামী এই ঘটনায় প্রথমে ভয় পেয়ে গেলেও তাঁকে আশ্বস্ত করেন উমা।
ছবি : অঞ্জন ঘোষ