| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

কাজলদীঘি

Reporter Default
রিপোর্টার / ১৮১৭ জন পড়েছেন
আপডেট বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২০

জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়

ত্রয়দশ কিস্তি

তুই কোনওদিন দেখেছিস।

অনেকবার চেষ্টা করেছি, দেখতে পাই নি।

মিত্রা আমাকে জড়িয়ে ধরে বললো, রাত্রি বেলা এখানে এসে দেখার চেষ্টা করেছিস?

বহুবার।

দিনের বেলা এরকম শুনশান রাতের বেলা….।

মিত্রাদি তুমি আর কিছু বলো না প্লিজ, রাতের বেলা আমি আর পুকুর ঘাটে যেতে পারব না।

মিত্রা হাসল। আমরা নমস্কার করবো।

সেটা তোদের ব্যাপার।

মিত্রা, নীপা আমার কথা শেষ হবার পরেই জুতো খুলে প্রণাম করলো। আমিও প্রণাম করলাম।

প্রণাম করে উঠে বললো, তুমি কতো কি জানো অনিদা। দেখ আমি কতদিন হয়ে গেল এখানে এসেছি। বিন্দু বিসর্গ কিছু জানতে পারিনি। তুমি এগুলো কি করে জানলে?

এর মুখ থেকে তার মুখ থেকে গল্প শুনে শুনে।

মশাই জানে?

জানে কিছু কিছু, তবে সামন্ত ঘরের ফনি বুড়ো, ও হচ্ছে এই বেড় ভেতরের সবচেয়ে প্রাচীন মানুষ। আমি প্রায়ই দাদুর সঙ্গে গল্প করতাম। দাদুই নানারকমের গল্প বলতো।

বেড় ভেতর কিরে বুবুন?

বেড় ভেতর হচ্ছে গ্রাম্য কথা, মানে এই তল্লাটে।

তুই এগুলো লিখে ফেল বুবুন, দারুন হবে।

ভাবছি লিখব।

সব গল্পের মধ্যে পিরসাহেবের থানের গল্পটা ওদের দারুন লেগেছিল।

ফিরে এসে তারাতারি স্নান করে খেয়ে দেয়ে বাজারে এলাম।

সেদিন বিকেলটা দারুণ কাটল। অনাদিরা সবাই এসেছিল, একমাত্র দিবাকর আসেনি। রবীনও এসেছিল, মিত্রা রবীনকে বলে দিল, কাল সকাল পাঁচটায় বেরবে। ও যেন তার আগে গাড়ি চেক করে রেডি হয়ে নেয়। আগামীকাল সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে পৌঁছতে হবে। রবীন তাই বেশিক্ষণ থাকল না, চলে গেল।

আমরা প্রায় আটটা পর্যন্ত বাজারে ছিলাম, তারপর চলে এলাম।

ওরাও সবাই হাঁটতে হাঁটতে আমাদের সঙ্গে এলো। আমি অনাদিকে রবিবারের কথাটা মনে করিয়ে দিলাম। বাসুর বাড়িতেও গেছিলাম। এ গ্রমে বাসুরটাই দেখলাম পাকা বাড়ি। মিত্রার এই গ্রামের হাটটা ভীষণ ভালো লাগলো। গ্রামের হাটে কি-ই বা পাওয়া যায় তবু অনেক কিছু কিনে ওদের সব গিফ্ট দিল।

আমি বাসু আর সঞ্জয়ের বকেয়া টাকা মেটালাম। বললাম আমার অবর্তমানে, কাকাকে তোরা দেখবি। ওরা কথা দিল।

রাতে তারাতারি খেয়ে শুয়ে পড়লাম। মিত্রাকে বললাম, হবে নাকি।

থাক, কাল সকালে বরতে হবে। তারপর এতটা জার্নি।

বড়োমাকে ফোন করেছিলি?

করেছিলাম।

দুজনে জাপ্টা জাপ্টি করে শুয়ে পরলাম। চারটে নাগাদ কাকা ডেকে দিল। আমরা রেডি হয়ে গেলাম। কাকার মনটা খারাপ হয়ে গেল। নীপার চোখ ছলছলে। কাকিমা, মিত্রাকে জড়িয়ে ধরে কিছুটা কাঁদল। কাকা আমাকে বললো তুই কবে আসবি।

বলতে পারবো না, কলকাতা যাই, দেখি গিয়ে ওখানকার পরিস্থিতি, তারপর।

সবাইকে প্রণাম করে বেরিয়ে পড়লাম, ওদের মনটা ভারি হয়ে গেল।

মিত্রার মনটাও কম ভারি হয়নি।

গাড়িতে আসতে আসতে ও আমার সাথে খুব কম কথাই বললো। সব সময়ই জানলা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়েছিল। কলকাতার কাছাকাছি আসতে শুধু বলেছিল, বুবুন কোথাও গিয়ে ফেরার সময় এতটা মন খারাপ লাগেনি কখনও। কেন বলতো?

আমি মৃদু হেসে বলেছিলাম “ভালোবাসা”।

ও চুপ করে গেল।

অফিসে ঢোকার কিছুক্ষণ আগে ওকে বললাম, কিরে মিটিংয়ে কি নিয়ে আলোচনা করবি ভেবেছিস?

কেন তুই মিটিং অগার্নাইজ করবি, আমি তোর পাশে বসে থাকব।

তা হবে না। তোকেও তোর বক্তব্য রাখতে হবে। আমরা কি চাই সেই ব্যাপারটাও ওদের পরিষ্কার করে বলতে হবে।

তুই বল কি বলবো?

সেদিন ফোনে যে ব্যাপারগুলো তুই বলেছিলি মনে আছে?

কিছুটা।

সেইখান থেকে তোকে ধরতে হবে, মাথায় রাখবি সুনিত এবং চম্পক পালের গোদা। আমি সূত্রধরের কাজ করবো। তবে ওদের সঙ্গে আরও কিছু মাল আছে। আগে অফিসে যাই। আজই কালেকশন হয়ে যাবে। যা খবর, মল্লিকদা বেশ যুতসই ভাবে নিউজরুমে বসেছে।

তুই এতসব খবর রাখলি কি করে?

এসে যায়। এতদিন দায়িত্বে ছিলাম না। কে মালিক, কে কী জানার দরকার ছিল না। শুধু এডিটরকে চিনতাম। উনি স্টোরি করতে বলতেন, আমি করতাম। ছাপা হলো কি না হলো তা নিয়ে মাথা ঘামাতাম না। মাস গেলে মাইনেটা ঠিক মতো পাচ্ছি কিনা দেখতাম।

আমার কথা তোর একবারও মনে হতো না!

সত্যি কথা যদি বলি তাহলে বলতে হয় তোকে ভুলে থাকার চেষ্টা প্রত্যেক দিন প্রত্যেকটা মুহূর্তে করতাম। মনকে এটা বোঝাতাম তুই আমার নয়। তোকে পাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই বৃথা মরীচিকার পেছনে দৌড়ে লাভ।

মিত্রা আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।

তোকে যেদিন প্রথম দেখলাম ক্লাবে, তারপর থেকে ভাসা ভাসা আমার চোখের সামনে তোর মুখটা ভেসে আসত। ভুলে যাবার চেষ্টা করতাম।

কেন?

যে জিনিসটা পাওয়ার নয়, সেটাকে আঁকড়ে ধরে লাভ।

তখন তুই জানতিস না, আমি এই পত্রিকার একজন শেয়ার হোল্ডার।

না। অনেক পড়ে জেনেছি। তবে তুই যখন বললি আমি ফোন করে দিচ্ছি, তখন ভেবেছিলাম অমিতাভদার সঙ্গে অনেকের আলাপ আছে, তোরও খাতির থাকতে পারে।

আমাকে দেখেছিস?

তোকে আমি কোনওদিন দেখিনি।

দেখ এত কাছে ছিলাম কিন্তু কতো দূরে। আসা যাওয়ার পথেও তোর সঙ্গে কোনওদিন দেখা হয়নি।

আমি বেশির ভাগ সময় বাইরে থাকতাম। তারপর অফিসে ঢুকতাম রাতের বেলায়। ফিরতাম ভোররাতে।

প্রত্যেক দিন?

হ্যাঁ। কে আমার খোঁজ নেবে বল?

বড়োমা, ছোটোমা।

সে তো বছর খানেক হলো। তোর অফিসে আমি কলেজ ছাড়ার পর থেকেই আসি। তখন থেকেই লিখছি। গতো দু-বছর আমি পার্মানেন্ট। প্রথমে ফ্রি-লেন্সার তরপর চাকরিটা জুটলো।

তোকে কে এ্যাপয়েন্টমেন্ট দিয়েছিল?

তা জানি না। অমিতাভদা একদিন বললেন তোর বায়োডাটা দিস। দিলাম। তারপর নেক্সট যেদিন এলাম সেদিন বললেন, কালকে থেকে নিয়ম করে অফিসে আসিস। সেই শুরু।

তোর এ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার।

সব দাদার কাছে। প্রেসের কার্ডটুকু ছাড়া অফিসের কোনও ডকুমেন্টস আমার কাছে নেই।

আমি শেষ যেদিন তোর হস্টেলে গেলাম সেদিন দেখলাম তুই নেই। তোর পাশের রুমের ছেলেটি, কি যেন নাম?

বিপ্লব।

হ্যাঁ হ্যাঁ মনে পড়েছে। বললো মিত্রাদি অনিদা চলে গেছে।

আমি ওকে বললাম, তোর কাছে ওর ঠিকানা আছে?

ও বললো না, তুমি একবার শুভঙ্করবাবুর সঙ্গে কথা বলতে পার।

সেদিন শুভঙ্করবাবুর সঙ্গে দেখা করেছিলাম। তোর কথা জিজ্ঞাসা করলাম, বললো তুই এক কাজ কর ড. রায়ের সঙ্গে কথা বল, অনির ব্যাপার ড. রায় সব বলতে পারবে। গেছিলাম, স্যার বলতে পারে নি, শুধু বললো ও-তো প্রায়ই আসে আমার কাছে, তোমার কথা বলবো।

হ্যাঁ স্যার আমাকে বহুবার তোর কথা বলেছে। পরে স্যার ব্যাপারটা বুঝতেও পেরেছিল।

তুই যোগাযোগ করিসনি কেন?

তোর ওপর ভীষণ অভিমান হয়েছিল।

আমি একটা মেয়ে, আমার ব্যাপরটা তোর বোঝা উচিত ছিল?

এখন বুঝছি। তাছাড়া আমি তখন যেখানে থাকতাম সেই জায়গার কথা কোনও ভদ্র সমাজে বলা যায়না।

তখন কোথায় থাকতিস!

শুনে তোর লাভ?

বলনা শুনতে ইচ্ছে করছে।

সোনাগাছিতে একটা মাসির ঘরে।

কি বলছিস!

হাসলাম।

ইন্টারেস্টিং।

সত্যি ইন্টারেস্টিং। ওই আঠার মাস আমার জীবনের একটা বিরাট অভিজ্ঞতা। ওই নিয়েই লিখেছিলাম, সোনাগাছির সোনামেয়ে। তোর কাগজে আমার প্রথম ব্রেক।

আমি এখনও পর্যন্ত ভালো-খারাপ যা লিখেছি তার মধ্যে ওই লেখাটা আমার সবচেয়ে ফেবারিট। অমিতাভদা ধারাবাহিক করেছিলেন। দশটা ইনস্টলমেন্টে শেষ করেছিলাম।

লেখাটা পড়েছিলাম, একটু একটু মনে পড়ছে। কিন্তু ওটা যে তুই লিখেছিস তা জানতাম না। তারপর?

তারপর অমিতাভদা সঙ্গে করে নিজের বাড়ি নিয়ে গেল। কিছুদিন রইলাম। সোনাগাছির তল্পি-তল্পা গোটালাম। এখনও গর্ব করে বলতে পারি আমার যা সোর্স আছে পুলিশেরও নেই। কাগজের লাইনের লোকের কথা বাদই দিলাম।

কি করে করলি?

সবাই সতী বুঝলি। অতি গরীব থেকে অতি বড়োলেক সবার মেয়ের নেশা আছে। কে যায় না বেশ্যাপট্টিতে বল তো? আমার সরকারি, বেসরকারি তাবড় তাবড় লোকের সঙ্গে রিলেশন ওখান থেকে। কেউ একটা বউতে সুখী নয়। সোনাগাছির মেয়েগুলো না থাকলে তুইও কোনদিন রেপ হয়ে যেতে পারিস।

মিত্রা আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে।

এখনও ওখানে যাস!

নিয়ম করে প্রতি সপ্তাহে দু থেকে তিনবার। অনেক নতুন মুখ। তবে পুরনো যারা আছে, ভীষণ ভালোবাসে। প্রত্যেক বছর কার্তিকপূজো, ভাইফোঁটার সময় আমায় যেতেই হয়। পুরনোদের সঙ্গে নতুনরাও আমাকে চিনে ফেলে।

কেন!

বেশ্যা পট্টিতে কার্তিকপূজো সবচেয়ে বড়ো পূজো। সেদিন বেশ্যাপট্টি বন্ধ। আমি কারুর ভাই, কারুর দাদা, কারুর ছেলে।

তাই!

আমি মিত্রার মুখের দিকে তাকালাম।

তোকে সবাই খুব ভালোবাসে।

আমার একটা প্লাস পয়েন্ট আমি অনাথ। মা-বাপ হারা ছেলে।

একথা বলছিস কেন?

বুকের ভেতর থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো।

দেখলি তো আমার জন্মভিটে, আমার আত্মীয় স্বজন। কারুর সঙ্গে আমার কোনও রক্তের সম্পর্ক নেই। কি অভিজ্ঞতা অর্জন করলি?

তোকে বলবো। আর তোর ফ্ল্যাটটা।

ওটা অফিসের। তুই জানিস না?

না!

তাহলে কেমন মালিক তুই, তোর প্রপার্টির খোঁজ তুই নিজেই রাখিস না?

মিত্রা হাসল। ওর হাসির মধ্যে অনেক অর্থ লুকিয়ে আছে।

কার জন্য মনে হয় নেওয়া হয়েছিল, সে থাকল না, আমায় দিল।

কেথায়রে ফ্ল্যাটটা?

বালিগঞ্জ স্টেশনের কাছে।

মিত্রা একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলল।

তোর লাইফের জার্নিতে অনেক ভ্যারাইটি আছে।

তা আছে।

যাক আমি আর তুই এবার অনেকটা রিলিফ পাব।

ঘেচু।

মিত্রা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে!

মিটিংয়ের পর কি করবি?

আমার কিছু কাজ আছে, তুই বাড়ি যাবি।

আজ বাড়ি গিয়ে ভালোলাগবে না।

তাহলে!

তোর ঘরে শুতে দিবি।

ছোটোমা, বড়োমার পার্মিশন নিয়ে নে। আমার ফিরতে ফিরতে রাত হবে।

আমি তাহলে মিটিং সেরেই পালাব।

তাই করিস।

অফিসের গেটে গাড়ি দাঁড়াতেই সবাই কেমন যেন তটস্থ হয়ে পড়লো। সিকুরিটির ছেলেগুলো দৌড়ো দৌড়ি শুরু করে দিল। রবীন নেমে এসে গেট খুলে দিল। মিত্রা মালিকের মতোই গাড়ি থেকে নামলো। আমি আর এক পাশ দিয়ে নামলাম।

আমাকে এই হাউসের নিউজের আর এ্যাডের কয়েকজন ছাড়া বেশির ভাগ চেনে না।

সবাই কম বেশি আমাকে দেখছে।

দু-জনে একসঙ্গে অফিসে ঢুকলাম।

নিচের তলার যারা আমাকে চেনে কিন্তু ব্যাপারটা জানে না, তারা আমাকে টেরিয়ে টেরিয়ে দেখছে।

খবরটা যে বেশ রং-মিশিয়ে রসালো ভাবে হাউসের কোনায় কোনায় চাউর হয়েছে, ওদের চোখ মুখ দেখে স্পষ্ট বুঝতে পারছি।

লিফ্টের সামনে বেশ লাইন ছিল। সব অফিস স্টাফ। আমাদের দেখে সবাই সরে দাঁড়াল। কেউ কেউ মিত্রাকে মর্নিং ম্যাডাম বললো। লিফ্টে দু-জনেই উঠলাম।

এখনও অফিস কিছুটা ফাঁকা ফাঁকা। অনেকে অফিসে আসেনি। মিত্রাকে বললাম তুই তোর ঘরে যা। আমি নিউজরুমে যাচ্ছি, একটু হালচালটা বুঝে নিই।

মিত্রা তাই করলো।

নিউজরুমে ঢুকতেই দেখলাম, মল্লিকদা তার জায়গা আলো করে বসে আছে। দু-সপ্তাহ পর এই রুমে ঢুকলাম। পরিবর্তন বলতে শুধু দুটো নতুন ঘর হয়েছে। আমাকে দেখেই মল্লিকদার গাল চওড়া হলো। পাশাপাশি অনেক পুরনো নতুন ছেলে দেখতে পেলাম। নতুন যেগুলো আমাকে দেখেনি, তারা প্রথমে বুঝতে পারেনি। আমি কাছে গিয়ে প্রণাম করলাম।

বাড়ির খবর কি? তুমি এত সকালে কেন? দাদা কোথায়?

মল্লিকদা বললো কোনটা আর্জেন্ট।

সবকটা।

একসঙ্গে উত্তর দেওয়া যাবে না।

আমি আমার টেবিলে চলে এলাম। দেখলাম সব কিছু ঠিকঠাক আছে। কোনও পরিবর্তন হয়নি। দেখে মনে হচ্ছে, কেউ বসে কাজ করলেও আমার জিনিসপত্র খুব বেশি একটা ঘাঁটা ঘাঁটি করে নি। রাশিকৃত চিঠি জড়ো হয়ে আছে। মল্লিকদা কাছে এলো। কথা বল।

কে?

ছোটো।

হ্যালো।

এসেছিস একটা খবর দিতে হয় জানিস না।

সবেমাত্র ঢুকলাম, একমিনিটও হয়নি।

ফোনটা বেজে উঠলো।

একটু ধরো।

তুই আবার কি করতে ফোন করলি?

বড়োমাকে ফোন করেছিলাম, তোকে ফোন করতে বললো।

ছোটোর সঙ্গে কথা বলছি, মল্লিকদার ফোনে ছোটোকে ধরে রেখেছি।

আচ্ছা।

শুনলে।

শুনলাম।

এবার বলো।

একজন তো বললো দুপুর বেলা আসবে, আর একজন।

রাতে যাওয়ার কথা আছে, যেতেও পারি, নাও যেতে পারি।

হুঁ। দিদির সঙ্গে কথা বল। এখন নয়, আচ্ছা আচ্ছা দাও।

হ্যালো।….বলো।….শোনো আমি কাজ সেরে তোমাকে ফোন করছি,….না না যাবো,….দাদা বেরিয়েছে, ….ঠিক আছে।

আমি মল্লিকদার দিকে তাকালাম। মল্লিকদা আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে।

এবার বলো ফোনটা কে করলো।

তুই বিশ্বাস কর আমি করেছিলাম, কিন্তু এনগেজ ছিল, তারপর ও রিংব্যাক করলো।

এরা কারা? ইশারায় বললাম।

সব নয়া মাল, সুনিতের ফ্রি-ল্যান্সার।

সুনিতদা কোথায়?

সেদিন থেকে আর আসেনি।

এরা তোমার এখানে?

তেল তেল। যদি কাজ হয়।

ভালো মাল না ভুসি?

দু-একটা ভালো আছে।

ঝাড়াই বাছাই করে নাও। ফেলে রাখবে না। এরা কি রেগুলার আসে?

দেখছি তো।

নিচে ঢুকতে দেয় কে?

আর বলিস না। সব নতুন সিকুরিটির লোক। ওদের পর্যন্ত বিষিয়ে দিয়েছে।

এদের কন্ট্রোল করে কে?

সিকুরিটি অফিসার আছে।

সন্দীপ গেট দিয়ে ঢুকেই আমাকে দেখতে পেয়েছে। ছুটে আমার কাছে এলো।

গুরু তুমি কি মাল আজ টের পেলাম। সেদিন তুমি কথায় কথায় বলেছিলে, এডিটর হবে। মালিক বনে গেলে। আর তোমায় নিউজরুমে দেখতে পাব না।

সন্দীপকে চোখের ইশারা করলাম, সন্দীপ জিভ বার করলো।

সরি। উচ্ছ্বাস চেপে রাখতে পারলাম না।

মল্লিকদা সামনে দাঁড়িয়ে আছে, নাহলে উত্তরটা পেতিস।

বিশ্বাস কর যে ভাবে প্যাঁচ মারলো, না বলে থাকতে পারিনি।

ঠিক আছে। মল্লিকদাকে কিছু কথা বলেছি, আলোচনা করে নে।

আমি পায়ে পায়ে নিউজ রুমের বাইরে চলে এলাম।

ঠিক সময় মিটিং শুরু হলো। চললো প্রায় ঘণ্টা দেড়েক। সুনিত, চম্পক, অতীশবাবুরা যার যার নিজের কথা বললেন। আমি নির্বাক শ্রোতা।

মিত্রা কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর দিল ঠিক, কিন্তু জমলো না। বাধ্য হয়ে আমি বাটন নিজের হাতে নিয়ে নিলাম।

একে একে ওদের মুখোসটায় শুধু হাত দিলাম, খুললাম না।

দাদা মল্লিকদা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে।

পারদপক্ষে ওদের গ্রুপটা আমার সামনে দাঁড়াতেই পারলো না। শেষ পযর্ন্ত একমাসের সময় দেওয়া হলো সকলকে।

তাও আবার অমিতাভদা, মল্লিকদার রিকয়েস্টে।

বাকিগুলোকে জবাবদিহি করতে বলা হলো। সবাইকে যার যার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হলো।

সুনিতদাকে নিউজ কো-অর্ডিনেটর করা হলো। উনি মল্লিকদাকে দেবেন। মল্লিকদা দাদাকে দেবেন। মিত্রার অবর্তমানে দাদার হাতেই ক্ষমতা থাকবে।

মিটিং শেষহতে মিত্রা ইশারায় আমাকে বসতে বললো।

সবাই উঠে চলে গেল, দাদা বেরবার সময় বললো, তুই একবার আয়, কথা আছে।

যাচ্ছি যাও।

মিত্রা বললো, কিরে কখন যাবি?

ওর দিকে চোখ পাকিয়ে তাকাতেই ও বললো, আচ্ছা আচ্ছা, আমি যাই তুই পরে আয়।

আমি উঠে পরলাম। নিউজরুমে এলাম, দাদা নেই। মল্লিকদাকে বললাম, দাদা কোথায়?

কেন নিজের ঘরে!

খেয়াল ছিলনা দাদা এখন নিজর ঘরে বসছে। আমি ভেবেছিলাম সুনিতদা বসছে।

মল্লিকদা মুচকি মুচকি হাসছে।

মল্লিকদা নতুন ছেলে পুলেগুলোর সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিল। আমি খুব বেশি একটা পাত্তা দিলাম না।

মল্লিকদাকে ইশারায় বললাম, তুমি একটু দাদার ঘরে এসো।

মল্লিকদাও ইশারায় বললো, তুই যা আমি যাচ্ছি।

দাদার ঘরের দরজার সামনে হরিদা।

আমায় দেখেই হেসে ফেললো। ছোটোবাবু তোমার জন্য চাকরিটা রয়ে গেল।

তুমি ভালো আছো হরিদা।

হ্যাঁ। চা নিয়ে আসি?

কিছু খাবার জোগাড় করো না।

ডিম টোস্ট।

ঠিক আছে।

দাদার ঘরে ঢুকতেই দেখলাম সুনিতদা, চম্পকদা বসে আছে। আমাকে দেখেই উঠে দাঁড়াল, আমি রাখঢাক না করেই পরিষ্কার বললাম, আপনারা এখন যে যার নিজের কাজে চলে যান।

শুর শুর করে সবাই ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

ওরা বেরিয়ে যেতে দাদা আমার মুখের দিকে তাকাল।

তুই কি-রে!

কি-রে মানে? তোমায় ১২ দিন বাড়িতে বসিয়ে রাখলো। শেষ পর্যন্ত চাপের কাছে নতি স্বীকার করলে। একটা কথা তোমায় বলে রাখি, এদের ব্যাপারে আজ থেকে কোনও রিকোয়েস্ট আমায় করবে না।

মালিক হয়েছিস বলে তুই কি শুধু হুকুম করবি। দাদা হাসতে হাসতে বললো।

প্রয়োজন পড়লে তোমাকেও করবো। এই শিক্ষা তোমার কাছ থেকেই পেয়েছি।

পেছন দিকে তাকালাম। দেখলাম মল্লিকদা হাসছে। দাদার ব্যাপারে সব বললাম, সঙ্গে সঙ্গে মল্লিকদা বললো, অনির ডিসিশন ফাইন্যাল এখানে তোমায় আমি সাপোর্ট করবো না। এতে তুমি আমাকে যা মনে করো, আমার যায় আসবে না।

হরিদা ঘরে ঢুকলো, ডিমটোস্ট দেখে দাদা বললো, তুই বাড়ি যাবি না?

এখন যাব না।

কেন! মিত্রা চলেগেল, তুইও যা। তোর এখানে কোনও কাজ নেই।

কেন এখন কোথাও পাঠাবে না?

মল্লিকদা মুচকি হাসছে, আর একটা অনি তৈরি করার ধান্দা করছে।

নারে। মল্লিক মিথ্যে কথা বলছে।

দাদাকে অনেক রিল্যাক্সড দেখাচ্ছে। ভালো লাগলো।

শোনো যেটা বলতে এসেছিলাম, রাতে খাবার টেবিলে চারজনে মিলে বসে একটু কথা বলবো।

কাগজ ছেড়ে যেতে হবে।

সন্দীপকে দায়িত্ব দাও একটু একটু করে।

দিয়েছি।

তোমার সব ফিট ছেলেপুলে।

সবাইকে চাইলেই পাওয়া যাবে, ছিটকে গেছে। আবার জড়ো করতে সময় লাগবে।

কথা বলতে বলতেই ডিম-টোস্ট চা শেষ করেছি। চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালাম।

আমি এখন বেরচ্ছি। আমার মোবাইল বন্ধ থাকবে। ফোন করলে পাবে না। বড়োমাকে চিন্তা করতে বারন করবে।

লিফ্টে করে নিচে নামতেই দেখলাম কার মেইন্টেনেনসের ছেলেটা এগিয়ে এলো।

স্যার আপনার গাড়ি রেডি।

ওর দিকে একবার তাকালাম। আস্তে করে বললাম।

লাগবে না, বরং অফিসের কাজে লাগাও।

ছেলেটা আমার মুখের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো।

বেরিয়ে এলাম। একটা ট্যাক্সি নিয়ে সোজা দেবাশিসের কাছে এলাম।

দেবাশিস রিলায়েন্স কোম্পানীর ইষ্টার্নজোনের মার্কেটিংটা দেখে।

প্রায় একবছর পর ওর সঙ্গে দেখা হবে। মাঝে একটা প্রোগ্রামে চাক্ষুষ দেখা হয়েছিল।

ফোনে কথা হয়েছে কয়েকদিন আগেও। ভিজিটর স্লিপ দিয়ে বাইরে অপেক্ষা করলাম। কিছুক্ষণ পর দেবাশিস নিজে বেরিয়ে এলো। আমায় দেখেই হাতটা এগিয়ে দিলো।

কনগ্রাচুলেশন।

হঠাৎ!

শালা। কেন জিজ্ঞাসা করছিস? লোকের মুখে তোর কথা আমায় শুনতে হবে।

ও এই কথা।

আমরা দুজনেই করিডর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে দেবাশিসের চেম্বারে এলাম। চেম্বারটা একজন এক্সিকিউটিভের যেমন হয় তেমনি। দেবাশিস নিজের চেয়ারে বসতে বসতে আমাকে হাত দেখাল চেয়ারে বসার জন্য। আমি চেয়ারে বসতে বসতে বললাম।

জানিষ দেবা, আমি হইনি, আমায় করা হয়েছে।

তোর ক্ষমতা না থাকলে তোকে করবে কেন?

এর কোনও উত্তর আমার কাছে নেই। তাই চুপ করে রইলাম।

হ্যাঁরে মিত্রা কেমন আছে?

খুব ভালো।

আবার সেই পুরনো জায়গায় ফিরে গেছিস?

যাইনি। কখনও যাওয়া যাবে না। ও এখন বিবাহিত।

মিত্রাকে বল ওই বুড়োটাকে ডিভোর্স করতে।

তোর হলে, তুই পারতিস?

দেবা আমার মুখের দিকে তাকাল।

ঠিক। তোর মতো করে ভাবিনি, আমরা প্রফেশনাল জগতের লোক।

আমি কি আন প্রফেশনাল।

ক্ষমাকর, ভুল হয়েছে।

তোর বউ কেমন আছে?

ভালো।

একবার দেখালি না?

এইবার কাঁচা খিস্তি করবো।

কেন!

তুই শালা ইদের চাঁদ। কখন ফুরুত করে এলি আর চলেগেলি। তারপর তীর্থের কাকের মতো বসে থাকো। তার ওপর তোর কোনও ফোন নম্বর আমার কাছে নেই।

অফিসের ছিল?

অফিসে থাকিস। ফোন করলেই বলে নেই।

হাসলাম।

তোকে সেই সময় কুত্তার মতো হন্যে হয়ে খুঁজেছি। শেষ পর্যন্ত টিনাকে বললাম, তুই জানিস?

কে টিনা!

আরে আমাদের কলেজের সেই জুনিয়র মেয়েটা।

কোন মেয়েটা বল?

দেবাশিস একটা কাঁচা খিস্তি দিল।

সত্যি মেয়েটা তোর জন্য বিয়েই করলো না।

যাঃ।

মাইরি অনি, তুই মেয়েটাকে ঠিক বুঝলি না।

আমি ঠিক বুঝতেই পারছি না। তুই কোন মেয়েটার কথা বলছিস!

আরে সেই কালো মতো মেয়েটা, মুখটা দারুন মিষ্টি, তোর কাছ থেকে মাঝে মাঝে নোট নিত।

এবার মনে পড়েছে। কিন্তু মুখটা ভুলে গেছি।

তুই তখন মিত্রার প্রেমে পাগল।

সেই দিনগুলো আর ফিরে পাবো না। টিনা এখন কোথায়?

টাটাতে আছে।

কি করে ও।

আমি যে কাজ করি ও সেই কাজই করে।

ও কি আমার ব্যাপারটা জানতে পেড়েছে।

তোর ব্যাপারটা কলকাতার সব এ্যাডহাউস জেনে গেছে, সৌজন্যে চম্পকবাবু।

মালটা কেমনরে?

কেমন আবার, তুই বন্ধু বলে তোকে বলছি ওটাকে হাটা, ব্যাটা তোদের হাউসে কাজ করে, ফ্রিল্যান্সে অন্য হাউসে কাজ করছে। এমাসেই তোদের হাউসের এ্যাডগুলো অন্য কাগজে গেছে।

তুই দিয়েছিস কেন?

নোট পেয়েছি তাই।

আমি যদি নোট দিই তাহলে তুই আমাদের কাগজে এ্যাড দিবি?

নিশ্চই। নাহলে যেমন যেমন যাচ্ছে তেমন যাবে।

কামিং থ্রি মান্থসে কতো টাকার তুই এ্যাড দিতে পারবি?

কেন?

বলনা।

১২ কোটি। তবে তোদের কাগজ বলে। সার্কুলেশনটা ভালো।

তুই কত নিবি।

১০ পার্সেন্ট।

এতো টাকা নিয়ে করবি কি?

এটা নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত ভাগ হয়। আমার ভাগে দশ/বারো লাখ থাকে।

বলিস কি?

আবার খিস্তি, কিচ্ছু জানিস না যেন?

সত্যি। বিশ্বাস কর।

এতদিন তুমি পেছন ঘষলে ওখানে?

পেছন থাকলে তো ঘোষবো। আমি ন্যানো চিপ।

দেবাশিস হেসে ফললো।

তুই আমাদের কাগজে এ্যাড দে। আমি মিত্রাকে বলে ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।

দেবাশিস হাসছে।

চম্পক এতদিন তাহলে কি করলো?

ও আঁটি বাঁধছে। নিজের ঘর গুছিয়ে নিয়েছে। এখন তুই তাড়ালে ওর কোনও অসুবিধে হবে না।

কি বলছিস!

অনেকক্ষণ হেজিয়েছিস, চল লাঞ্চে যাই।

কোথায়?

তাজে যাব।

দেবাশিস চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল।

আমার পকেটে পয়সা নেই।

একথা বলিস না অনি, লোকে শুনলে হাসবে।

সত্যি বলছি।

তোকে পয়সা চেয়েছি। চল ওঠ।

দেবাশিস জোড় করে আমাকে তুললো।

পায়ে পায়ে দুজনে লিফ্টের কাছে এলাম। নিচে নামতে মিনট কয়েক লাগলো।

তোর গাড়ি কোথায়?

গাড়ি!

নেকু।

কিসের গাড়ি বল, মাথায় ঢুকছে না!

তোর গাড়ি?

ধ্যুস, আমি তো ট্যাক্সিতে এলাম।

তুই মাইরি সত্যি বিলা করে দিলি।

আমি হাসছি। দেবাশিসের দিকে তাকিয়ে আছি। দেবাশিস কিছুতেই আমার কথা বিশ্বাস করতে পারছে না। দুজনে হাঁটতে হাঁটতে ওর গাড়ির সামনে এলাম। বেশ দামি গাড়ি। এক্সিকিউটিভ লোকেরা এই ধরনের গাড়িই ব্যবহার করে। গাড়িতে উঠে বসলাম।

সেই দেবাশিস—

কলেজ লাইফে কি কথায় কথায় ওকে লনে বসিয়ে বুঝিয়েছিলাম, মানুষের মাথায় বুদ্ধি থাকে না পেছনে থাকে। কারন মাথার থেকে পেছনটা বড়ো। পেছন বুদ্ধি মাথায় ট্রান্সফার করে আমরা চলাফেরা করি, কথা বলতে পারি। অর্থাৎ পেছনের যত্ন নাও, মাথার নয়।

চার্লস ডারউইনের ওরিজিন অফ স্পেসিস বইয়ের নাম করে ওকে বুঝিয়েছিলাম। এরপর দেবাশিস বেশ কয়েকদিন দেবদাস হয়ে গেছিল। তারপর ওই মেয়েটার পাল্লায় পরলো। কি যেন নাম? অদিতি। আজ সেই দেবাশিস সোজাসুজি হিসাবের কথা আগে বলে নিল।

আমার কাছে খবর ছিল ১৫ থেকে ২০ পার্সেন্টে ব্যবসা হয় কখনও কখনও সেটা ২৫/৩০ পর্যন্ত ওঠে। আমাদের হাউসে যা এ্যাড আসে তার সব খরচ বাদ দিলে হাউস পায় মাত্র ৬০ পার্সেন্ট। এখন দেখছি এতো পুকুর চুরি!

রেসকোর্সের মাঠ ডান দিকে রেখে আলিপুরের দিকে গাড়িটা ঢুকলো। দেবাশিস পটাপট ফোনের বোতাম টিপে কাকে কাকে যেন ফোন করলো। বললো চলে আয় সারপ্রাইজ দেব। বুঝলাম শালা আমাকে আজ বলির পাঁঠা করবে।

মালিক হয়েছিস এখনও ধুর রয়ে গেলি।

ওর দিকে তাকিয়ে হাসলাম।

ও-তো জানে না আমি কি ভাবে মালিক হলাম। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম, আজই ওদের কর্পোরেট ওয়ার্লডে আমার নামটা ঠিক মতো লিখতে হবে।

তখন থেকে জানলার দিকে তাকিয়ে কি চিন্তা করছিস বলতো?

ওর চোখে চোখ রাখলাম। “এ মনিহার আমায় নাহি সাজে।”

নাচতে নেমে ঘোমটা ঢাকা দেওয়া?

হাসলাম।

জানিস অনি, তোর লেখাগুলো দারুন টাচি। তোদের কাগজ হাতে এলেই আগে খুঁজি তোর লেখা আছে কিনা, তোর লেখাটা পড়ার পর, অন্য খবর পড়ি।

আমার সৌভাগ্য।

আবার কাঁচা খিস্তি করে উঠলো দেবাশিস।

ভাগ্যিস তুই গাড়ি চালাচ্ছিস, না হলে তোর ড্রাইভার থাকেলে কি ভাবতো বল।

ড্রাইভার থাকলে এরকম ভাবে তোর সঙ্গে কথাই বলতাম না।

হেসে ফেললাম।

তোর এই হাসিটার দামই শালা লাখটাকা। তোর মধ্যে একটা কেয়ারলেস বিউটি আছে। বন্য ব্যাপার স্যাপার। আমি ঠিক গুছিয়ে বলতে পারছি না। তবে যে মাগী তোকে দেখবে। সেইই তোর প্রেমে পড়ে যাবে। করেছিস?

কি!

দেবাশিস আবার খিস্তি দিল। করেছিস?

কি বলতো?

নেকু।

না। কপালে জোটে নি।

বলিস কি!

সত্যি বলছি।

মিত্রা।

দেবাশিসের দিকে তাকালাম। কি বলতে চায় ও। বুঝলাম ও ভেতরের ব্যাপারটা অতোটা জানে না।

ও-তো আমার মালকিন।

এখন নিশ্চই নয়। তোকে প্রপোজ করেনি?

না।

একটা কানা ঘুষো যেন শুনছিলাম তোকে নিয়ে পালিয়ে গেছে।

আমি তোর সামনে। তোর গাড়িতে বসে আছি।

দেবাশিস হাসলো। হাসির মধ্যে একটা মানে খোঁজার চেষ্টা করলাম। তাহলে খবরটা এতদূর পর্যন্ত গড়িয়েছে। চোয়ালদুটো শক্ত হলো।

তাজে ঢুকলাম। দেবাশিসকে অনুসরণ করে একটা বিরাট হলঘরের মতো জায়গায় এলাম। বুঝলাম দেবাশিস এখানকার বারো মাসের খদ্দের। সবার সঙ্গেই ওর কমবেশি পরিচয় আছে। আমরা একটা টেবিলে বসলাম। ছ-জনের বসার জায়গা। বসলাম দুজনে। আমি ও পাশাপাশি।

কিরে এটায় বসলি?

এটাই বুক করেছি। অপেক্ষা কর, সব আসছে।

কারা! তুই কি আমাকে মারবার ধান্দা করেছিস।

থাম শালা, কাগজের মালিক হয়েছিস, কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি, এখনও কাঁদুনি গেয়ে চলেছে।

হঠাৎ একজন পাশের টেবিল থেকে উঠে এসে বললো, অনিদা না।

আমি চিনতে পারলাম না। অবাক হয়ে তাকালাম।

যদি একটু পরিচয় দেন, ঠিক খেয়াল করতে পারছি না।

আমি টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতীক, তনু হোটেল ক্যানিলওয়ার্থে একটা প্রোগ্রামে আপনার সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল।

দেঁতো হাসি হেসে বললাম, ও।

জানেন তনু এখন লন্ডনে। বিবিসির করেসপন্ডেন্ট।

হ্যাঁ, শুনলাম।

এখনও মাঝে মাঝে ফোন করে আপনার কথা জিজ্ঞাসা করে। আপনাকে ফোন করলেই ও স্যুইচ অফ পায়।

ওর নম্বর তোমার কাছে আছে?

আছে।

একটা কাগজে একটু লিখে দাও না।

ছেলেটি পকেট থেকে একটা রাইটিং প্যাড বার করে একটা কাগজে তনুর নম্বরটা লিখে দিল। দেবাশিসের চোখ চক চক করছে।

আপনি এখন আছেন?

কিছুক্ষণ।

পরে আপনার সঙ্গে একটু কথা বলবো।

আচ্ছা।

ছেলেটি যে টেবিল থেকে উঠে এসেছিল সেই টেবিলে চলে গেল।

দেবাশিস আমার দিকে তাকিয়ে আছে, চোখে-মুখে দিষ্টুমির ছাপ।

তনু মালটা কে-রে?

আমাদের কাগজে কাজ করতো, ফটোগ্রাফার।

লন্ডনে গিয়ে তোকে ফোন করছে।

যা বাবা, না করার কি আছে?

তুই কি লন্ডন ভাগবি নাকি?

ভাগতেও পারি। মূলতঃ আমি সাংবাদিক, ভালো চান্স পেলে না যাওয়ার কি আছে?

তোর মালিকানা।

যারা দিয়েছে তাদের ফিরিয়ে দেব।

তুই শালা সেই আগের মতোই আছিস, তোকে বোঝা খুব মুস্কিল।

পাশের টেবিলে চোখ পড়ে গেল। দেখলাম সেই টেবিলে বসে থাকা মানুষগুলো আমাকে টেরিয়ে টেরিয়ে দেখছে। নিজেদের মধ্যে চাপা স্বরে কথা বলছে। কথা যাকে নিয়ে হচ্ছে সে যে আমি বলাই বাহুল্য।

হইহই করে দেবাশিসের আমন্ত্রণ পাওয়া সকলে চলে এলো। তিনটে মেয়ে একটা ছেলে।

টিনাকে চিনিয়ে দেবার কোনও প্রয়োজন হলো না। কেননা ওর গায়ের রং কালো।

কিন্তু আর গুলোকে চিনতে পারলাম না।

আমি হাঁ করে ওদের দিকে তাকিয়ে আছি। দুজনের মাথায় আবঝা সিঁদুরের রেখা দেখলাম। সবাই আমাকে দেখে মিটি মিটি হাসছে। আমিও বোকা বোকা হাসি হাসছি। মুখ গুলো আমার স্মৃতিতে সব ফ্যাকাশে, রিকল করার চেষ্টা করছি। ঠিক ঠিক হচ্ছে না। দশ বছর খুব একটা কম সময় নয়, তবু….।

ওরা যে যার জায়গা নিয়ে বসে পরলো। সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে। বুঝতে পারছি টিনা আমার চোখে চোখ রাখতে পারছে না। বিয়ে করা দুটো মেয়ের মধ্যে একটা অদিতি হবে। কেননা দেবাশিস বললো ও বিয়ে করেছে। শেষ খবর পর্যন্ত আমি জানি দেবা অদিতিকে বিয়ে করেছে। অদিতি আমাদের থেকে জুনিয়র। মনে হয় টিনাদের ব্যাচ মেট। আর দুজনকে চিনতেই পারছি না।

তোর আজ পরীক্ষা, তোকে এদের সবাইকে চিনতে হবে। আমি কারুর সঙ্গে তোকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেব না।

আমি হাসলাম।

তিনটি মেয়েই হাল্কা সাজে সুসজ্জিত। আধুনিক বুটিকের তৈরি শালোয়াড় পরেছে। একটুও মড লাগছে না। বেশ ঝক ঝকে। সপ্রতিভ। ওরা জুল জুল করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। বুঝছি এরা দেবাশিসের খুব পেটোয়া। দেবাশিস এদের লিড করছে। ছেলেটি দেবার মতোই কোট টাই পরা।

শরীরে কর্পোরেট মানুষের ছোঁওয়া।

আমাকে একটু সময় দিতে হবে। দশবছর আগের দেখা মুখগুলোয়, দশবছর পরের ছবি আঁকব, বেশি না মিনিট পনেরো সময় তোর কাছে চাইছি।

ঠিক আছে তাই হবে। কি খাবি বল। দেবাশিস বললো।

আমি যা খেতে চাইবো, তোর এই তাজবেঙ্গলে পাওয়া যাবে না।

তুই যদি এখন ধেনো চাস তাও পাওয়া যাবে?

মাথার মধ্যে শুধু ওদের মুখগুলো নিয়ে নারাচাড়া করছি। দশ বছর আগের ছবিগুলো প্রথমে আবঝা, পরে আস্তে আস্তে পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। দেবার কথাটা পুরো কানে ঢোকেনি। তবু যতটা শুনলাম একটু অন্যমনস্ক হয়ে বলে ফেললাম।

জানিস দেবা, ধেনো খেয়েই আমি ওদের মধ্যে ঢুকে পড়ি, তোরা শখ করে পৌষমেলায় গিয়ে ধেনো খাস। এনজয় করিস। তোরা বাবু। আমি ওদের নাগর। বাবুদের ওরা আলাদা ট্রিটমেন্ট করে। আর নাগরদের পাশে শোয়ায়। আদর করে, সোহাগ করে….।

ওরা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে কথা শুনছিল।

দেবাশিসের চোখ যেন ঠেলে বেরিয়ে আসবে।

আর একবার বল।

যাঃ, এক কথা বার বার বলা যায়।

মেয়েগুলো আমার কথায় অবাক। ওদের চোখ তাই বলছে।

খিদে পেয়েছে। খাবার বল।

সবাই চুপ চাপ। দেবাশিস ওয়েটারকে ডেকে ওদের সঙ্গে শলা-পরামর্শ করে খাবার আনতে বললো।

অনি তুই কথাটা মার্ভেলাস বলেছিস। এভাবে কখনও ভাবিনি।

আচ্ছা দেবা তুই আমার পরীক্ষা নিবি, আমি তোকে যদি একটা ছোট্ট পরীক্ষা নিই তাতে তুই যদি ফেল করিস, তাহলে তুই এদের সঙ্গে আমায় পরিচয় করিয়ে দিবি।

না।

কেন?

আমি ফেল করবো তাই।

সবাই হেসে ফললো।

তুই প্রশ্ন শোনার আগেই বলছিস ফেল করবো। কেন?

তোর সেই কথাটা আমার এখনও মনে আছে।

কোন কথাটা?

লনে বসিয়ে সেই মারাত্মক রিগিং।

আমি হাসলাম।

মনে আছে মানে, যতদিন বাঁচব ততদিন মনে থাকবে। আমি এদের বলি সিনিয়াররা রিগিং করে শুনেছিস। আর অনি ওর ক্লাসমেটদের রিগিং করতো।

সবাই হেসে উঠলো।

তোর মনে আছে?

হাসলাম।

জানিস অনি সেই রিগিং আমার জীবনটা বদলে দিল। আনস্মার্ট দেবাশিস এখন কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে একটা ফিগার।

সত্যি অনিদা, তোমার ওই কথাটা আমরা দেবাদার কাছে অনেক পরে শুনেছি। যখন তোমার বেশ নাম ডাক হয়েছে, তখন। টিনা লজ্জা লজ্জা ভাবে বললো।

তাহলে তোর কেরিয়ারের মূলে আমি।

বলতে পারিস।

ওই বয়েসটা এখন নেই। তবে মাঝে মাঝে আমি ওই বয়সে ফিরে যাই।

কি করে যাস?

টিনা আমি কি ভুল বললাম।

টিনা আমার দিকে তাকিয়েছে, দেবাশিস আমার মুখের দিকে তাকাল।

তুই কি করে জানলি ও টিনা।

ও নিজেই বললো।

কোথায়!

এই বুদ্ধি নিয়ে তুই কি করে কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে ফিগার হলি কে জানে।

ওমনি চাটলি।

হাসলাম।

একজন ওয়েটার খাবার নিয়ে এসে হাজির।

নে খাবার এসে গেছে, খাওয়া শুরু কর। আমি বললাম।

সবাই খাওয়া শুরু করলো, এমনি গল্প গুজব হচ্ছে, আমি বললাম, জানিস দেবা আজ কলেজ লাইফের একটা কথা খুব মনে পড়ে যাচ্ছে। খুব বলতে ইচ্ছে করছে, টিনার দিকে তাকিয়ে বললাম, মাঝে মাঝে দু-একটা খারাপ কথা হয়তো মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারে, তোমরা কিছু মনে করবে না?

ওরা হাসতে হাসতে বললো না, তোমার কথা শুনতে ভীষন ভালো লাগছে।

তখন সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি, টেন পাস করে ইলেভেনের মেয়েগুলো সবে কো-এড কলেজে ভর্তি হয়েছে। ওরা যেন নীল আকাশে ডানা মেলে উড়ে বেরাচ্ছে কলেজের চারদিকে। আমি মিত্রা একদিন ১১ নম্বর থেকে ক্লাস করে হলঘর পেড়িয়ে লবিতে এসে দাঁড়িয়েছি।

তখন জিনসের প্যান্টের সেরকম প্রচলন ছিল না, তার ওপর মেয়েরা পরবে, এটা ভাবতেই পারতাম না। দেখলাম একটা মেয়ে জিনসের প্যান্ট আর টাইট গেঞ্জি, পায়ে হিলতলা জুতো পরে ঠক ঠক করে আওয়াজ তুলে কলেজের গেট দিয়ে ঢুকছে।

মিত্রাকে দেখিয়ে বললাম, দেখ তো মালটা কেমন। মিত্রা আমার দিকে তাকিয়ে বললো, চোখ পড়ে গেছে। আমি বললাম, হ্যাঁ। তোর থেকেও বেশ ডাঁসা।

মিত্রা দাঁত মুখ খিঁচিয়ে উঠলো।

আমি ওদের দিকে তাকিয়ে ওদের মুখ লক্ষ্য করছি কার মুখে কি প্রতিক্রিয়া হয়।

মিত্রাকে নিয়ে এগিয়ে গেলাম, মেয়েটি শিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠছে, আমি সামনে মিত্রা আমার ঠিক পেছনে….

অদিতি খেতে খেতে বিষম খেল। সবাই ওর দিকে দৃষ্টি ফেরাল। আমি মুখ নিচু করে হাসছি। অদিতি কাশতে কাশতে, হাসতে হাসতে বললো, প্লীজ অনিদা আর নয়। এটা কয়েকজন ছাড়া আর কেউ জানে না। দেবাশিসও জানে না। প্লীজ তুমি বোলো না।

কেন অদিতি, গল্পটা আর শুনবে না?

না।

কিরে দেবা, তোর বউ গল্পটা শুনতে চাইছে না কেন?

দেবা আমার দিকে বিষ্ফরিত চোখে তাকিয়ে। তুই শালা।

ঠিক আছে অদিতি আমি আর বলবো না। তুমি বরং শেষ টুকু এদের বলে দাও।

না। আমি বলবো না।

কেন?

আমি অদিতির দিকে তাকালাম।

দেখো, দেবা ভাবছে আমার বউকে….।

না না ও কিছু ভাবছে না। তুমি থামো।

শালা, তুই তো বড় খলিফা!

তাহলে আর একটা গল্প বলি। এটা একটু অন্য ধরনের।

অদিতি বললো বলো।

এটা শেয়ালদা স্টেশনের ঘটনা। মেয়েটা মোস্ট প্রোবাবলি নৈহাটি কিংবা ওই অঞ্চলে থাকত, প্লীজ অনিদা ওই গল্পটাও তুমি বলো না।

কেন মিলি।

আচ্ছা তোমার কি সব কথা মনে আছে?

মনেছিল কিন্তু মুখ গুলো স্যাডো হয়েগেছিল। তোমাদের কাছে পেয়ে সেই মুখগুলো আবার মনে পড়ে গেল। তখন দেবা ভদ্র ছেলে ছিল, আমি মা-বাপ হারা অনাথ ছেলে, চালচুলো হীন, কলকাতায় হস্টেলে থাকি লোকের দয়ায় চলে। দুনিয়ার বাউন্ডুলে বলতে যা বোঝায় ঠিক তাই। ও আমার এ ঘটনাগুলো জানে না। একমাত্র মিত্রাই আমার এইসব ঘটনার সাক্ষী। ওর সঙ্গে চ্যালেঞ্জ করে এসব করতাম। বড়লোকের মেয়ে, পড়াশুনার খরচ উঠে যেত।

নির্মাল্য তোরটা কি বলবো। মুখ নিচু করে খেতে খেতেই কথা বলছিলাম।

তার মানে ওরও আছে। দেবাশিস বললো।

হ্যাঁ তোরই মতো তব ওরটা একটু র।

শালা, তুই একটা জিনিসরে!

সেই জন্যই মিত্রা মনে হয় কর্মচারী থেকে মালিক বানিয়েছে।

সকলে চুপ করে গেল।

জানিষ দেবা নিজেকে নিয়ে আমি গর্ব করিনা। তবে একটা কথা বলি, অন্যভাবে নিস না, আমার খুব খারাপ লাগবে।

বিনয় করিস না।

কোনও কাগজ কোম্পানীর মালিক কোনওদিন এইভাবে তোদের মতো কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডের লোকজনদের সঙ্গে বসে এক টেবিলে খেয়েছে।

একেবারেই না।

তোরা আমার কাছে যাসনি, আমি তোদের কাছে এসেছি। কেন জানিস?

কেন!

তোরা কেউ আমার বন্ধু কেউ আমার জুনিয়র। আমি তো এই ওয়ার্ল্ডের কিছু বুঝি না। একটু যা ভালো লিখতে পারি। তোদের কাছ থেকে শিখবো, সাহায্য নেব বলে।

আমার ব্যাপারটা নিয়ে তোকে ভাবতে হবে না। ওদের ব্যাপরটা বলতে পারবো না। তুই ওদের সঙ্গে কথা বল।

তুই পরিচয় করিয়ে দিলি না।

শালা এখানেও জুতোটা মারলি?

কোথায়!

এরপর আর পরিচয় করিয়ে দেবার কিছু রেখেছিস।

ওরা কে কোথায় আছে কি করে জানব।

সেই কথা বল, টিনা টাটাতে, অদিতি এয়ারটেল, মিলি ভদাফোনে….।

অনিদা আমি আছি ওগিলভিতে। নির্মাল্য বললো।

তোমাদের হাত তুলে নমস্কার করছি না।

খাওয়া শেষ হোক তারপর তোকে এর উত্তর দেব। দেবাশিস বললো। তোদের কিছু বলার থাকলে বলতে পারিস।

আমাদের আলাদা করে কিছু বলার নেই।

টিনা বললো, আমাদেরটা এখান থেকে কন্ট্রোল হয় না। তোমাকে আমার সঙ্গে একবার মুম্বাই অফিসে যেতে হবে।

আমি কিছু বুঝি না, তুমি নিয়ে চলো, আমি নিশ্চই যাব।

তোমাকে একটা কোটেসন করতে হবে।

তুমি নিজেই করে দাও, আমি অফিসের প্যাডে ফাইন্যাল করিয়ে দেব।

সে কি করে হয়। তোমাদের একটা রেট চার্ট আছে।

সে তো তোমাদের কাছেই আছে। নিশ্চই অফিস থেকে পাঠিয়েছে।

তা আছে, সেই দেখে তোমরাই একটা করো। আশা রখবো তোমরা আমাকে ঠকাবে না।

এ কি বলছো অনিদা!

কাল একবার সবাই আয়না, মিত্রার ঘরে একটু আড্ডা মারব।

হ্যাঁরে মিত্রাকে দেখতে কেমন হয়েছে? দেবাশিস বললো।

তোর পছন্দ হবে।

না এখন যাব না। আগে তোর কাজ হোক, তারপর মিত্রাকে বলবো একটা পার্টি দিতে।

দেবাশিসকে বললাম, আমার ডেবিটকার্ড আছে, এখানে ওইটা দিয়ে পেমেন্ট করা যায়।

দেবাশিস আমার দিকে এমন ভাবে তাকাল যেন আমি ভস্ম হয়ে যাব।

তুই ওভাবে তাকাস না।

তুই যে বললি তোর কাছে পয়সা নেই।

টিনা অদিতি আমার খুব কাছেই বসেছে, ওরা মুখ টিপে হেসে ফেললো।

পয়সা মানে ওই কার্ডটুকু সম্বল।

তুই কি জানিস এখানে তোর একটা সইয়ের কতো দাম।

না জানা নেই।

চুপচাপ থাক, না হলে সোর মাচাব।

ক্ষমা কর ভাই, আর বলবো না।

আলাদা করে আর কাউকেই বলতে হলো না। ওরা বললো এ মাসে বাজেট আছে আমরা ফাইন্যাল করবো। তোমায় চিন্তা করতে হবে না। ড্রিলটা ডাইরেক্ট যখন তোমার সঙ্গে, কাজ করতে অনেক সুবিধে হবে।

আমি বললাম, রেসপনসিবিলিটি আমার। তোমাদের এ নিয়ে ভাবতে হবে না।

টিনাকে বললাম, তুমি প্রোগ্রাম করো, যদি আমার প্রয়োজন হয়, নিশ্চই যাব।

আমি আজই একটা ফ্যাক্স করে দেব, তোমায় কাল পরশু আশা করি জানাতে পারবো। আমি এইটুকু সময়ের মধ্যে ওদের খুব ফেমিলিয়ার হয়েগেলাম। বুঝতেই পারলাম না ওদের সঙ্গে এতদিন বাদে দেখা হলো।

এখন কোথায় যাবি? দেবাশিস বললো।

একটু গঙ্গার ধারে যাব।

কেন!

ইসলামভাই-এর কাছে।

সেটা আবার কে?

চরস, গাঁজা, কোকেন, বিক্রি করে। ডাকসাইটে কলকাতার ডন। আমায় প্রচুর নিউজ দেয়। দেখি কিছু পাই কিনা—

ওরা সবাই আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।

ভাবছিস মালিক হয়ে—

হ্যাঁ।

এটাই আমার জীবন, আমাকে বসিয়ে রাখলে অসুবিধে আছে। আমি নিজেকে নিজে কখনও ধরে রাখতে পারিনি।

দেবাশিস বললো, অফিসে তোর কোনও গাড়ি নেই!

আছে। অফিসে রেখে এসেছি। আমার গতিবিধি কাউকে জানতে দিই না। তখন তোকে বললাম না, আমি ট্যাক্সি, বাস, অটো নিয়ে ঘুরি, কলকাতায় এগুলো বেশ অ্যাভেলেবেল। এটা আমার সিক্রেট ব্যাপার। এমনকী তুই যদি এখন আমার সঙ্গে যাস ইসলামভাই আমার কাছে আসবে না। ও জানে আমি সাংবাদিক, কিন্তু ওর চেলুয়ারা জানে না।

সত্যি অনি তোকে দেখে হিংসে হচ্ছে।

কেন?

তুই কি সুন্দর সব কিছু মেনে নিস। মানিয়ে নিস। আমরা হলে পারতাম না।

পারবি, পারবি, সব পারবি, সময় হোক।

ওরা যে যার মতো নিজের নিজের গাড়িতে অফিসে চলে গেল। যাওয়ার আগে প্রত্যেকে আমার ফোন নম্বর নিল। এও জানাতে ভুললো না। মাঝে মাঝে ফোনে বিরক্ত করবে।

আমি ওদের কাছ থেকে বিদায় নিলাম। সবাইকে একটা কথা বললাম, আমার ব্যাপারটা ভুলে যেওনা যেন। ওরা কথা দিয়েছে এক সপ্তাহের মধ্য সমস্ত ব্যাপারটা ফাইন্যাল করবে শুধু আমার মুখের দিকে তাকিয়ে। অন্য কেউ হলে ওরা পরিষ্কার না বলে দিত।

আমি হাসতে হাসতে বললাম, কাজটা হলে আমি তোমাদের কাছে ঋণী থাকব।

এ কি কথা বলছো আনিদা! অদিতি বললো।

তাহলে আমরা কেউ তোমার কাজ করবো না। তোমাকে আগে তোমার কথা উইথড্র করতে হবে। টিনা বললো।

আমি অদিতির কাঁধটা ঝাঁকিয়ে বললাম, ওটা কথার কথা। তোমাদের অনিদার কোনও পরিবর্তন হয়নি, দেখতে পেলে না।

(আবার আগামীকাল)

আপনার মতামত লিখুন :

One response to “কাজলদীঘি”

  1. Subhajit says:

    Lekhok der ekta responsibility thake tader pathok der opore. Ekta valo golpo ke ki kore gola tipe sesh kore dite hoy apni tar ujjol udahoron… online e golpo ta na rakhle tule nin… delete kore din. Majh khan thek ekta duto page thakche na… part 1 kothag sesh hochhe 100 baar porbar poreo bujhte paflam na…. aaj thek aapnar ei golpo ta… one of my favourite…. amj chere dilam…. bole charlam…. bhali thakben. R aamader moton pathok niye chele khela korben na.
    _________ × ____________

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev