জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়
১৪২ নং কিস্তি
তাহলে! কি রকম ইমপ্রুভ করেছি বল। বয়সটাকে দশবছর কমিয়ে দিয়েছি।
দাদাও আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে।
দাদার হাতের অর্গল মুক্ত হয়ে, আমি নিচু হয়ে দাদাকে প্রণাম করলাম।
সবাই দেখেছে, তোর চোখে কেমন লাগছে বল।
আবেগে গলার স্বর রুদ্ধ হয়ে গেল। কথা বলতে পারলাম না।
বার বার যেন মনে হচ্ছে দাদাকে জড়িয়ে ধরে দাদার বুকের ওম নিজের সারাটা শরীরে চপচপে করে মেখে নিই।
দাদার কাঁধে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে আছি। কোনও কথা বলছি না।
অনি ব্যানার্জী কখনও আবেগে গা ভাষায় না। ওর চোখ পাথরের। জলও বের হয় না।
দাদার মুখের দিকে তাকালাম।
হাসছে।
আমি দু-চোখ ভরে তাড়িয়ে তাড়িয়ে দাদার হাসিটা চোখের কাজল করে লেপ্টে নিচ্ছিলাম।
বল আমাকে কেমন লাগছে? তোর মুখ থেকে শুনি। বোবা হয়ে থাকলে হবে?
আমি মাথা নিচু করলাম। আস্তে করে বললাম, ভালো।
বড়ো দেখো এবার তোমার ছেলের গলার আওয়াজ বেরিয়েছে।
বুঝলি অনি আমি এখন সব একা একা করতে পারি।
হয়তো চোখটা ছল ছল করে উঠেছিল নিজেকে খুব জোরে সামলে নিয়েছি।
ছোটোমা এসে জরিয়ে ধরলো।
দাদাকে অনেক বেশি স্মার্ট লাগছে। ধুতি পাঞ্জাবী পরেছে ঠিক। তবু যেন মনে হচ্ছে আমি আজ থেকে কুড়ি বছর আগে দাদাকে যেমন দেখেছিলাম তেমন দেখছি।
ছোটোমার মুখটা প্রশান্তিতে চক চক করছে। কালচে মুখশ্রী বদলে গিয়ে রং লেগেছে।
কি দেখছিস?
চেনা চেনা মানুষগুলোকে বড়ো অচেনা লাগছে।
বড়োমা কাছে এগিয়ে এলো। আমার মুখে হাত বোলাল।
তোর মুখটা কেমন শুকনো শুকনো লাগছে। কালকে রাতে ঘুমোস নি?
ডাক্তার, দেখ তোমার বান্ধবী এসেই শুরু করে দিয়েছে। দাদা বললো।
ডাক্তারদাদার দিকে তাকিয়ে হেসে ফেললাম।
মল্লিকদা একটা স্যুট লাগিয়েছে। এই প্রথম মল্লিকদাকে স্যুট পরে দেখছি। বেশ লাগছে। বুড়ো মানুষটা একবারে জোয়ান হয়ে গেছে।
তোর মল্লিকদাকে দেখছিস?
ছোটোমার গালে গালে ঘসে দিলাম।
বড়োমা, ছোটোমার চহারাতেও কেমন যেন পরিবর্তন। সেই বালকি ভাবটা আর নেই। চামড়া বেশ টান টান। সবাই যেন বয়স একটু কমিয়ে ফেলেছে। ডাক্তারদা চনমন চনমন করছে।
কি অনিবাবু তুমি একবারে শুকিয়ে আমসত্ব হয়ে গেছ। অনিমেষদা বললো।
অনিমেষদা, বৌদি হাসতে হাসতে এগিয়ে এলো।
তুমিও তাই বললে অনিমেষ?
কেনো সামন্তদা!
এখুনি ওর বড়োমা একই কথা বলেছে।
অনিমেষদা চশমার ফাঁক দিয়ে আমাকে দেখছে।
তাই বুঝি।
বৌদি এসে জড়িয়ে ধরলো।
দেখ বুড়োগুলো কেমন জোয়ান হয়ে এসেছে। আর তুই চিন্তা করে করে নার্সিংহোম থেকে ঘুরে এলি। এবার তোকে ওখানে পাঠাব চিকিৎসা করাতে।
সুতপা কথাটা তুমি খারাপ বলো নি। ডাক্তারদাদা বললো।
আমি সবাইকে একবার করে জড়িয়ে ধরি।
বড়োমার গাড়ির পেছনেই মিত্রাদের গাড়ি।
একে একে মিত্রা, ছেলে, মেয়ে, তনু, সুন্দর, মিলি, মাম্পি, মিকি নামলো।
মিত্রাদের দেখে আমি অবাক হয়ে গেলাম। আমার চোখ ছোটো ছোটো হয়ে গেল।
মেয়ে, তনু-মিত্রাকে জড়িয়ে ধরে চোখ টিপে হাসছে।
দেখো দেখো ছোটোমা ওর চোখ দুটো দেখ। কিরকম ছোটো ছোটো হয়ে যাচ্ছে।
মিত্রা ওখান থেকেই চেঁচিয়ে উঠলো।
ছোটোমা আমার মুখো মুখি দাঁড়ালো।
দেখি, তোর চোখ দেখি।
আমি হেসে ফেললাম।
ওরকম ভাবে দেখবি না। চোখ গেলে দেব।
আমি ইসারা করলাম। একবারে চাপলুস।
দেব না।
ছোটোমা কান ধরার জন্য হাত তুললো আমি হাতটা ধরে নিলম।
বৌদি, বড়োমা হাসছে।
মিত্রা, তনু দু-জনে এক রংয়ের জিনসের প্যান্ট পরেছে।
দুজনের শরীরে এক রংয়ের একটা ঢলঢলে টপ।
মেয়ে ওরা যেন একবারে সমবয়সী হয়ে গেছে।
বাবা, মা আর ছোটোমাকে একবারে নতুন দেখাচ্ছে না। নিউ লুক?
ছোটোমা! কথাটা কানে খটকা লাগলো। মিত্রার দিকে তাকালাম। চোখে ইসারা। কেমন দিলাম? তনু মাথা নিচু করে মুখ টিপে হাসছে।
মেয়ের কথায় হেসে ফেললাম।
মেয়ে এসে জড়িয়ে ধরলো।
বান্ধবী চলো আমরা ভেতরে গিয়ে বসি। ডাক্তারদা বললো।
তখন সবাই একে একে নেমে এসে আমাকে ঘিরে ধরেছে। তনু, মিত্রা আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। এ বলে আমায় দেখ ও বলে আমায় দেখ। দুজনেই হাল্কা পেইন্ট করেছে। মাজা মাজা গায়ের রং বেশ উজ্জ্বল। চোখে হাল্কা আইলাইনার লাগিয়েছে। ঠোঁটে হাল্কা লিপস্টিক।
মিলি কাছে এগিয়ে এসে বললো, অনিদা, মিত্রাদিকে দেখেছ, একবারে ঝাক্কাস। এবার থেকে আমরা পরলে আওয়াজ দিতে পারবে না। মিত্রাদি কিন্তু চাবি খুলে দিয়েছে।
তা হোক, চোরের হাত থেকে সাবধান। মিত্রাদির হয়তো হারাবার কিছু নেই। তোমার এখনও আছে।
সবাই হেসে উঠলো।
ধ্যুস বলে মিলি ভেতরে চলেগেল।
মিকি, মাম্পি দুটো ছোটো ছোটো মানুষ এই বড়দের ভিড়ে কোথায় হারিয়ে গেছে কে জানে।
দুটোকে আর কাছা কাছি দেখতে পাচ্ছি না।
সুন্দরবাবু, অনন্যবাবু বেশ সুন্দর একটা স্যুট পড়েছে। গলায় টাই ঝুলছে। একবারে সাহেব।
নীরু, কনিষ্ক পাশ দিয়ে বাক্স টানতে টানতে চলে যাচ্ছে। যাওয়ার সময় বলে গেল।
অনি, ম্যাডামদের দেখেছিস। সাবধান। এবার যে কেউ ইঁট পাততে পারে।
খাতা কলমে দু-জনেই খালি আছি। কবে পাতবে বলো। মিত্রা চেঁচিয়ে উঠলো।
আমার দম নেই ম্যাডাম।
নীরুরা হাসতে হাসতে চলে গেল।
ছেলে এসে জড়িয়ে ধরেই বললো, বাবা তুমি কিন্তু আমাকে কিছু বলবে না। আমার মুখ থেকে প্রথমে শুনবে, তারপর তোমার মতামত জানাবে।
দেখ দেখ কিরকম তৈরি করেছি। মিত্রা পেছন থেকে বললো।
তনু হাসছে।
তাহলে তোমার সাধনা সার্থক হলো, কি বলো? আমি বললাম।
তনুর দিকে তাকালাম।
নিশ্চই। এমনি এমনি নাকি। মন থেকে চেয়েছি। আমি কোনও অন্যায় কিরিনি।
আমাকে কি দেবে।
সব তোমার, আবার নতুন করে কি দেব।
উরি বাবা, মিত্রাদিকে পাশে পেয়ে দেখছি বেশ টরটরি হয়েছো।
তাহলে আর ভাগ চাইবে না।
বেশ করবো চাইবো।
তনু মুখ টিপে হাসছে।
দেখছো মিত্রাদি আসার সঙ্গে সঙ্গে শুরু করে দিয়েছে।
তোকে কি বলেছি, পাত্তা দিবি না। দেখবি তোর পেছন পেছন ঘুরঘুর করছে।
সুন্দর মিত্রার কাছে এগিয়ে এসে বললো, বড়োমা চাবিটা দাও।
আমি সুন্দরের দিকে অবাক হয়ে তাকালাম।
পরিষ্কার না হলেও বেশ ভালো বাংলা বলছে।
একবারে ড্যাব ড্যাব করে তাকাবে না। বড়োমা প্রথমে ক্লাস নিয়েছে, তারপর ভাই, শেষে বোনের কাছে পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছি।
মিত্রা নিজের পার্স থেকে চাবির গোছা ওর হাতে তুলে দিল।
আমার জামাকাপর তোমার বাক্সে না মায়ের বাক্সে।
দেখ খুলে, কোনও একটাতে নিশ্চই থাকবে।
নিমেষে হাওয়া হয়ে গেল।
একটা একটা করে গাড়ি ঢুকছে, আর সবাই এক এক করে নামছে। বাগানটা গাড়িতে ভড়ে গেছে। ভজুরাম, জগন একের পর এক গাড়ি থেকে মাল নামিয়েই চলেছে।
তাকিয়ে দেখলাম একটা গাড়ি থেকে অনুপরা সপরিবারে নামল।
আমি দাঁড়িয়ে আছি। আমার দুই পাশে তনু, মিত্রা, মেয়ে।
কাকে ফেলে কার সঙ্গে কথা বলবো।
অনুপ এগিয়ে এলো।
বেশিক্ষণ থাকবো না, বাড়ি যাব। ও একটু ওর বাড়িতে যাবে। অনেকদিন যায় নি।
তাহলে এলি কেন?
বড়োমা বললো।
তাহলে বড়োমাকে বল, আমাকে বলছিস কেন। কিগো শিউলি ভুল বললাম।
অনুপের বউ শিউলি হাসছে।
ঋক এসে প্রণাম করলো।
কাকীমার সঙ্গে পরিচয় হয়েছে?
হাসছে।
কাকীমার কাছে তোর জিনিষ চেয়ে নিয়েছিস?
পরে দেবে বলেছে।
ও কি বলেছে জানিষ।
মিত্রার দিকে তাকালাম।
অনিকাকার অনেক কষ্ট। বাবার মতো উকিল হয়ে অনিকাকার সব কেশ লড়বে।
ততদিনে অনিকাকা মরে হেজে যাবে।
ওরা ভেতরে গেল।
শেষের গাড়ি থেকে দেখলাম। বনিরা সপরিবারে নামল।
গাড়ি থেকে বনি নেমেই ছুটতে ছুটতে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরেছে।
তাহলে, কেমন চমকে দিলাম বলো।
তোর বাবা সিপাই পাঠিয়েছে?
কেন! দিল্লীতে কি আমাদের সঙ্গে সিপাই থাকতো।
এখানে যদি লাগে?
তুমি আছো কি করতে। ঢিসুম ঢিসুম। আমার পেটে দুবার খুঁচিয়ে দিলো।
দেখ তোকে সকলে চিনে গেছে। মিত্রা বললো।
আমি হাসছি। মেয়ে হাসছে। বনির স্বামী নাগেশও হাসছে।
পিপটু এগিয়ে এলো। এইকদিনে বেশ বড়োসরো হয়ে গেছে।
মিকির থেকে বছর পাঁচেকের বড়ো। ওকে কাছে টেনে নিলাম।
মা বলেছে, তুমি কবে যাবে। বনি বললো।
শরীরটা ভীষণ গণ্ডগোল করছে।
শুনলাম তো। আবার তোমাকে নার্সিংহোমে নিয়েগেছিল তোমার বন্ধুরা। ডাক্তার আঙ্কেল বলেছে তোমাকে এবার থরো চেকআপ করবে। পারলে ওখানে নিয়ে যাবে।
তার আর দরকার নেই। ঠিক হয়ে যাবো।
স্ট্রং-ম্যান বলে কথা।
বনির কথায় সকলে হাসছে।
নাগেশ কেমন দেখলে তোমার বৌদিকে।
তুমি যে দুজনকে ছেড়ে কি করে এতদিন বাইরে পরে থাকলে তাই ভাবি।
হেসে উঠলাম। সঙ্গে সবাই জোড়ে হেসে উঠলো।
দেখ সার কথাটা বুঝেছে। তুই শুধু বুঝিস নি। মিত্রা বললো।
ম্যাম ইংরাজিতে। বনি বললো।
মিত্রা আবার রিপিড করলো।
নাগেশ হেসে আমাকে জড়িয়ে ধরলো।
চলো সব ভেতরে চলো। তোমাদের আসতে কোনও অসুবিধে হয়নি?
অসুবিধে! সব রাজকীয় ব্যবস্থা করে রেখেছো। তারপর অনিমেষ আঙ্কেল সঙ্গে আছে।
কম্যুনিষ্ট?
তা হোক, আমার সঙ্গে কোনও বিরোধ নেই।
মিত্রা এর মধ্যেই আমার হাতটা একটু টিপে দিল।
চোখ নাচিয়ে ইসারা করে বললো, বল কেমন লাগছে।
আমি ইসারাতেই বললাম কামরে খেতে ইচ্ছে করছে। আজ রাতে দু-টোকে এক সঙ্গে চটকাবো।
তনু দেখে ফেলেছে। হো হো করে হেসে উঠলো।
কি হলো?
বনি, তনুর দিকে তাকালো।
তোর দাদাকে জিজ্ঞাসা কর।
নিশ্চই বাজে কথা বলছে?
এটাও তুই জানিস!
আমাকেই কতোবার বলেছে।
তোকে সকলে চিনেগেছেরে বুবুন। মিত্রা বললো।
দাঁড়া দাঁড়া দাঁড়া। নীরু চেঁচিয়ে উঠলো।
আবার কি হলো।
অনি, প্লিজ একটু দাঁড়া।
কেন বলবি তো!
ছাগল, এই মুহূর্তটা ধরে রাখি। তুই দুই সখীকে হাত ধরে ঢুকছিস।
সবাই হেসে ফেললো।
ডাক্তারদাদা চেঁচিয়ে উঠলো, নীরু তুই দুটো সখীকে ভিজুয়াল করছিস। ওর যে কতো অলিখিত সখী আছে লণ্ডনে না গেলে বুঝতে পারতাম না।
তারমানে!
সব গল্প বলবো।
যাক সাধুবাবা তাহল ব্রহ্মচারী নয়।
মোটেই না। ইনি গৃহী সাধু। ওর কটা ছেলে মেয়ে জানিস?
সবাই হাসছে।
খোঁজ খবর নিয়ে জেনেছি দুটো ব্লাড রিলেটেড বাকি রেজিস্টার্ড গোটা দশেক। তারপর আরও কতগুলো আছে জানি না।
তনুর দিকে তাকালাম।
মাথা নিচু করে মুখ টিপে হাসছে।
কুড়িটা বছর হিল্লী-দিল্লী করে কাটিয়েছে, কিছু তো করতে হবে।
কাউকে যদি একটি কথাও বলেছিস, আমরা সবাই মিলে তোকে পিটবো। বড়োমা চেঁচিয়ে উঠলো।
এখন পেটাপিটি কোরো না। একটু সুস্থ হোক তারপর পিটো। মিত্রা বললো।
ও মা! দিদি দেখছো, তোমার ছুটকির কি কথার ছিড়ি। বড়োমার কথায় জ্যেঠিমনি হাসছে।
রান্নাঘরের দিকে চোখ চলে গেল। দেখলাম ইসি সরবত বানাচ্ছে। মাসি ট্রেতে করে নিয়ে এলো।
আমি শুরু করি। দামিনীমাসি বলে উঠলো।
কেন আবার কি করলো! বড়োমা দামিনীমাসির দিকে তাকাল।
পর্শুদিন এই সময় যা করেছে তোমাকে কিছু বলিনি। তখন তোমরা সবে মাত্র বেরচ্ছ।
আবার গণ্ডগোল করেছে।
নাগো বড়োমা। সুরো বলে উঠলো।
মাসি সকলকে জলের গ্লাস এগিয়ে দিচ্ছে।
ওই দেখো শুঁড়ির সাক্ষী মাতাল। একটাকে ঠিক ফিট করে রেখেছে। ডাক্তারদাদা বললো।
ওকে ফিট করাব দাঁড়াও। এই ক-মাসে তোর অনকে কিছু সহ্য করেছি। বড়োমা বললো।
আমি হাসছি।
কই সব গেল কোথায়? ভিড় ভাট্টায় খুঁজেই পাই না কাউকে।
বিধানদা, রূপায়ণদা, অনুপদা ঘরে ঢুকলো।
সামনেই আমি মিত্রাদের সঙ্গে দাঁড়িয়েছিলাম। আমাকে দেখেই অনুপদা জড়িয়ে ধরলো।
কেমন আছিস?
ওমনি, এ্যাঁ। এতদিন অনি মরেছে কি বেঁচে আছে খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন পর্যন্ত বোধ করোনি। অনিমেষদা এসেছে, ওমনি ধান্দাবাজি চালু।
তুই এতোবড়ো মিথ্যে কথাটা বলতে পারলি!
সত্যি কথাটা কি বলো।
ছার না অনুপ, ও এখন অনেক নক্সা মারবে। রূপয়ণদা বললো।
সত্যিটা একটু বলো না শুনি।
দামিনীমাসিকে জিজ্ঞাসা কর।
বিধানদা ততক্ষণে অনিমেষদার পাশে গিয়ে বসেছে।
তোকে ফোন করা যা ভগবানকে ফোন করাও তা, তোর ফোন তোর ইচ্ছে মতো চলে, ওটা সবার জন্য নয়। বড়োমাকে জিজ্ঞাসা কর।
উঃ অনুপ কেন ওর সঙ্গে বক বক করছো বলোতো। ও সবে মাত্র লাইন পাতছে। এবার ট্রেণ চালাবে। বৌদি বললো।
অনুপদারা হাসছে।
নক্সাটা কোথায় এবার বুঝেছিস। রূপায়ণদা বললো।
বৌদিই তোর প্যাঁচ পয়জার ধরে ফেলে। অনুপদা জড়িয়ে ধরে আছে।
ওরে ও সাত শেয়ানার এক শেয়ানা।
রূপায়ণদা চেয়ারে বসলো।
চারদিকে একটা হুলুস্থূলুস কাণ্ড চলছে।
অনিমেষ, রাঘবনের মেয়ে কোথায়? বিধানদা বললো।
দাঁড়ান দেখি।
তারপর বৌদির দিকে তাকাল।
দেখো সুতপা গেল কোথায়?
বৌদি বারান্দায় বেরিয়ে গেল।
বিধানদা ট্যাকটিসটা ভালোই নিয়েছে। আমাকে দেখেও দেখছে না। ভারি মজা লাগছে।
ব্যাপারটা এরকম তোর সঙ্গে বোঝাপড়ার ঢের সময় আছে। আগে এদিকটা একটু ওপর ওপর সামলিয়ে নিই। তারপর তোকে নিয়ে পরবো।
সত্যি, কে যে কোন ঘরে কোথায় ছিটকে গেছে বোঝা মুস্কিল।
হ্যাঁগো দামিনী ও বাড়ির ঘরগুলো খুলেছো? ডাক্তারদাদা বললো।
আপনি বসুন, সব ব্যবস্থা করা আছে, আপনাকে ব্যস্ত হতে হবে না।
চলো তনু জামাকাপরটা ছেড়ে আসি। মিত্রা আমার দিকে তাকিয়ে বললো।
কেন বেশতো লাগছে, একবারে কচি কচি।
অনুপদা শুনতে পেয়ে গেছে। ওদের দু-জনের দিকে তাকিয়ে চোখ বড়ো বড়ো করলো।
ওরে রূপায়ণ, এতক্ষণ ভিড়ের মধ্যে খেয়ালই করিনি। মিত্রা, তনুকে দেখ।
দেখছো ছোটোমা। মিত্রা চেঁচালো।
তোমাকে তখনই বলেছিলাম।
রাখ তুই, সবাই প্রথম প্রথম ওরকম একটু বলে, অনি বলে না, যস্মিন দেশে যদাচার, কাঁচা খুলিয়া নদী পার হও।
সবাই হেসে উঠলো।
দারুন দিলে ছোটো। বিধানদা হাসতে হাসত বললো।
তুই ঘুরিয়ে ওকে দিতে পারছিস না। ছোটোমা বললো।
ছোটোমা আমার কাছে এসে কপট গম্ভীর হয়ে বললো, অনেক কিছু স্টক করে নিয়ে এসেছি। একটু বেফাঁস করলেই বেলুন পিন মেরে দেব, মনে রাখিস।
মল্লিকদাকে রিপোর্ট করতে হবে।
করগে যা, ভারি বয়েই গেল।
বৌদি বনি আর নাগেশকে ধরে আনলো। এরই মধ্যে পোষাক চেঞ্জ করে ফেলেছে। একবারে সাধারণ পোষাক। বিধানদা, অনুপদা, রূপায়ণদার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিল।
পরিবেশটা ওরা ভীষণ এনজয় করছে।
ইসলামভাই, রতন, আবিদ, ভজু, জগন খেপে খেপে গোটা দশেক হাঁড়ি দুটো বড়ো বড়ো ঝুড়ি নিয়ে ঘরে ঢুকলো।
বুঝলাম কচুরী আর তরকারি এলো।
রতন আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে।
অদিতি, মিলি, টিনা, সুরো রান্নাঘরের সামনে ক্যাচ ক্যাচ করছে।
সত্যি এ ঘরে আমার বসার জায়গা নেই।
আমি বারান্দায় বেরিয়ে এলাম। পায়ে পায়ে নিজের ঘরের দিকে গেলাম। দেখলাম দরজা বন্ধ।
বাগানে চলে এলাম।
হাঁটতে হাঁটতে একবারে গ্যারেজ ঘরের সামনে চলে এলাম।
মনে হচ্ছে গ্যারেজ ঘরের চালে নতুন টিন লেগেছে। বেশ ভদ্রস্থ দেখাচ্ছে।
অনেকদিন এই পাশটায় আসা হয় নি। ভজুরামের ফুল গাছে থোকা থোকা গাঁদা ফুটে রয়েছে। ডালিয়াগুলো খারাপ হয়নি। বেশ কয়েকটা নতুন নতুন ফুল গাছ দেখলাম। এগুলো বেশ সৌখিন ফুল। নাম জানি না। দেখতে বেশ সুন্দর লাগছে। হরেক রঙে বাগানটা রাঙিয়ে উঠেছে।
বার বার মনের মধ্যে নাসরিনের ব্যাপারটা খচ খচ করছে।
মেয়েটা হঠাৎ এরকম হয়ে গেল কেন! এরকম হওয়া উচিত ছিল না।
ওদের যাতে কোনও অসুবিধে না হয় তার সমস্ত ব্যবস্থা আমি করেছি। শেষ বারও যখন দেখা করলাম তখন ও একটা স্কুলে পার্টটাইম টিচারি করছে। ফাদার ব্যবস্থা করে দিয়েছে।
আমার দারি গোঁফ নিয়ে কতো ইয়ার্কি ফাজলামো হলো। আমার জটা নিয়ে বিনুনি করে দিল।
তবে হ্যাঁ, কেন আমি বাইরে আছি তার কথা ওদের বলি নি।
উসমান বলেছে খোঁজ নেবে। কিন্তু ওর দ্বারা হওয়া মুস্কিল।
রতনকে বললে অবশ্য এখুনি খোঁজ পেয়ে যাব।
মন থেকে চাইছি না। যদি জানা জানি হয়ে যায় তাহলে গণ্ডগোল।
কৃষ্ণনগর আমাকে একবার যেতেই হবে।
হঠাৎ অবতারের ভাই চিনার কথাটা মনে পরে গেল।
আচ্ছা ওকে যদি বলি। আমার অনেক যুদ্ধের সৈনিক চিনা। আমি কলকাতায় ছিলাম না। কিন্তু নিস্তব্ধে আমার সমস্ত কাজ করে গেছে। ইসলামভাই, রতনরা কোনওদিন তা জানতে পারেনি। পরে অবশ্য জেনেছে। অবতার, নেপলা সমস্ত বিষয়টা অপারেট করেছিল।
পকেট থেকে ফোনটা বার করলাম। একবার চারদিক দেখে নিলাম, না অনেকটা দূরে আছি। এখান থেকে কেউ আমার গলা শুনতে পাবে না। তাছাড়া ওরা এখন সব নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত। হইচই হয়েই চলেছে।
ফোনটা অন করে গেটের দিকে মুখ করে দাঁড়ালাম। যাতে কেউ এলে দেখতে পাই।
ফোনবুক থেকে ওর নামটা খুঁজে নিয়ে ডায়াল করলাম।
বেশ কিছুক্ষণ বেজে যাওয়ার পর ফোনটা ধরলো।
একটা বাজখাঁই গলা চেঁচিয়ে উঠলো, হ্যালো।
বুঝলাম এ চিনার গলা নয়, সাগরেদ হবে।
চিনা আছে।
আপনি কে বলছেন।
আমাকে চিনতে পারবেন না। ওনাকে একটু দিন।
উনি এখন ঘুমচ্ছেন।
ঘুমথেকে উঠলে এই নম্বরে একটা ডায়াল করতে বলবেন। বলবেন, আমি অনিদা বলছি।
নামটা শোনা মাত্রই মন্ত্রের মতো কাজ হলো।
আপনি অনিদা!
নিমেষের মধ্যে ভদ্রলোকের গলার স্বরে পরিবর্তন ধরা পড়লো।
ধরুণ ধরুণ, আমি এখুনি দিচ্ছি।
এই যে বললেন ও ঘুমচ্ছে।
মিথ্যে কথা বলেছি, অপরাধ নেবেন না। সকাল বিকেল পুলিশ খালি টাকার জন্য ফোন করে যাচ্ছে। এক একজন এক এক নম্বর থেকে ফোন করে তাই বলতে বাধ্য হয়েছি।
ধরে রইলাম।
মিনিট দুয়েক পর চিনার গলা পেলাম।
দাদা প্রণাম, আমাকে একবারে ভুলে গেছ।
তাহলে ফোন করছি কেনো।
চিনা জোরে জোরে হাসলো।
তোমার শরীর কেমন আছে বলো?
কেনো খারাপ হয়েছিল নাকি!
তুমি খবর না রাখলেও চিনা তোমার খবর রাখে।
সে তো বুঝতে পারছি। ভালো না থাকলে তোর সঙ্গে কথা বলছি কি করে।
চিনা হাসছে।
যে প্রজেক্টগুলো চলছিল শেষ করেছিস?
সব শেষ করতে পারিনি। কয়েকটা বাকি আছে।
কেন?
মাঝে পয়সা-গড়ির খুব টান চলছিল।
রতনকে বলিস নি কেন?
রতনদা কতো টানে বলো।
কেনো?
তুমি যেন কিছু জানো না।
জানলে তোকে জিজ্ঞাসা করবো কেনো?
রতনদা আমাকে টানবে, আবিদকে টানবে, ভিকিকে টানবে, চাঁদকে টানবে আর….।
ও যদি সবাইকে টানে তোরা করছিস কি?
ফেঁসে গেছি।
কেন?
চাঁদ বাইরে একটা প্রজেক্ট করতে গিয়ে ফেঁসে গেছে। টাকা বেরচ্ছে না।
সমস্যা কি?
শুনলেই তুমি ঝাড়তে শুরু করবে। এই জন্য রতনদা কিছু বলেনি তোমায়।
শোনার দরকার নেই। টাকার দরকার অবতারের কাছ থেকে টানিস নি কেন?
দাদার কাছ থেকে টেনেই এদিকটা সামাল দিলাম।
মোদ্দা কথা ঝামেলা মিটেছে কি?
মিটিয়ে এনেছি। আর কিছুদিনের মধ্যেই রিটার্ণ আসতে শুরু করবে।
আমার একটা কাজ করে দিতে পারবি?
তোমার কাজ কখনও না বলেছি, তোমার কাজ করা সৌভাগ্যের ব্যাপার।
দেখলাম মিত্রা বাগানের ওপার থেকে চেঁচাচ্ছে।
একটু ধর।
আচ্ছা।
কি হয়েছে? চেঁচালাম।
বড়োমা ডাকছে।
বল যাচ্ছি।
হ্যালো।
অনিদা।
বল।
বৌদিরা এসে গেছে?
এই এলো।
যাক শান্তি। তুমি এবার ঝামেলা কম করবে।
কেন আমি কি তোদের এতদিন ঝামেলায় ফেলছিলাম।
চিনা হাসছে।
ঠিক আছে আর বলবো না। কাজের কথা বলো।
দুটো ছেলেকে খুঁজে দিতে পারবি।
ছবি দাও আর নাম বলো, একদিনে তোমার কাছে হাজির করে দেব।
তাহলে তোকে বলবো কেনো, আমিই খুঁজে নিতাম।
বুঝে গেছি, আর বলতে হবে না। কাজটা আমাকে করতে হবে। লোক দিয়ে হবে না।
এই তো মাথাটা খুলছে।
কোথায় থাকে?
থাকতো কৃষ্ণনগরে এখন থাকে শেয়ালদার কোনও একটা মেসে। হ্যাঁ কি যেন নাম, বরুন হোটেল, ওর আশেপাশে কি একটা মেস আছে। ওখানেই থাকে।
নামটা তুমি বলো?
ওরা কি নামে এখানে আছে জানি না। তবে আমি ওদের ঘণ্টা আর পক্কে নামে চিনি। একজনের ভাল নাম অতীশ ব্যানার্জী আর একজনের নাম অতনু ব্যানার্জী।
একটু কিছু বলো ওদের সম্বন্ধে।
দু-জনেই খুব ভালো ছেলে। উত্তরবঙ্গ ইউনিভার্সিটি থেকে এমএসসি পাস করেছে। এখানে কোনও অফিসে খুব ভালো চাকরি করে। মনে হয় ওদের অফিসটা পার্কস্ট্রীটে।
জীবনে প্রথম তুমি এমন একটা কঠিন দায়িত্ব দিলে।
একথা বলছিস কেন!
এতদিন যাদের খুঁজেছি, সব শালা চোরচোট্টা, চিটিংবাজ, মার্ডারার। তারা নয় আমাদের অ্যান্টি, না হলে আমাদেরই কাউকে মারার ধান্দা করছে, কিংবা আমাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করেছে। এই প্রথম ভালো ছেলে খোঁজার দায়িত্ব দিলে।
হাসলাম।
নিজে করবি। কথাটা যেন পাঁচকান না হয়।
সে আর বলতে।
মাথায় রাখবি এই কথাটা দ্বিতীয় যে ব্যক্তি জানে সে হচ্ছে অনিদা।
এরা কে গো দাদা, তোমার কোনও আত্মীয়?
আগে খুঁজে বার কর, তারপর সব বলবো।
চিনা হাসছে।
মাথায় রাখবি ওরা যেন বুঝতে না পারে, তুই ওদের খোঁজ করছিস।
ঠিক আছে।
আর একটা কথা।
বলো।
খুঁজে বার করার পর ওদের পেছনে লোক লাগিয়ে দিবি। কার কার সঙ্গে মেলা মেশা করছে। কি করছে না করছে সব। যাকে দায়িত্ব দিবি সেটাও তোর দলের কেউ না।
বাপরে বাপ, এতো বিশাল কাজ।
ঠিক তাই। যাকে দিবি আমাদের সারকিটের কারুর যেন পরিচিত না হয়। একবারে আনকোরা মুখ। যেদিন তোকে বলবো সেদিন ওদের পিছু ছারবি।
আচ্ছা।
খোঁজ পেলে আমাকে একবার জানাবি।
সেটাও তোমাকে বলে দিতে হবে। বুঝেছি তুমি খুব টেনসনে আছ। আমি এখুনি বেরচ্ছি।
হাসলাম। আবিদের বৌভাতের নেমন্তন্ন পেয়েছিস।
কাল ফোন করেছিল। তুমি প্রোগ্রাম করার অনুমতি দিয়েছো। দারুণ মজা করবো সেদিন।
রাখছি।
আচ্ছা।
ফিরে আস্তে আস্তে হঠাৎ মনে হলো, একটা ভুল করে ফেললাম। দায়িত্বটা অর্ককে দিলে বরং ভালো হতো। অনেক বেশি গোপনীয়তা রাখা যেত।
তারপর ভাবলাম, চিনা মনেহয় সে কাজ করবে না।
দুর যা হবার হবে।
ফোনটা স্যুইচ অফ করে পকেটে রাখলাম।
বারান্দায় উঠতেই দেখলাম, তনু ঘর থেকে বেরচ্ছে।
এসেছো, তোমাকে ডাকতে যাচ্ছিলাম।
এরই মধ্যে জামাকাপর ছেরে ফেলেছে। একটা সুন্দর শাড়ি পড়েছে। তনুকে শাড়ি পরা অবস্থায় কখনও দেখিনি। যদিও দেখে থাকি শেষ কবে দেখেছি মনে করতে পারছি না।
হাসতে হাসতে বললাম, নতুন সাজে দেখছি।
ছেলে মেয়ে বড়ো হয়েছে না।
হাসলাম।
হাসছো কেন?
বুঝেছি সাঁট-গাঁট ভালোই হয়েছে।
কেন হবে না? নিজের জিনিষ নিজে বুঝে নিয়েছি, অন্যায় কোথায়?
রাতে বোঝাবো।
সুযোগ পেলে তো।
কিরে তনু অনি কি বলছে? ছোটোমা তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে।
ওকে বলতে দাও না ছোটো ও এখন অনেককিছু বলে যাবে। কোনও রেসপন্স কোরো না। অনিমেষদা কচুরী খেতে খেতে বললো।
বিধানদা হাসছে।
তুমি আমাকে এখানে আসতে বলেছিলে অনিমেষ।
আপনি আসেন নি?
এসে শুনি ওকে কনিষ্ক নার্সিংহোমে নিয়ে গেছে। ভাবলাম আমার আসার খবর পেয়ে হয়তো শরীর খারাপ হয়েছে। ছুটে গেলাম নার্সিংহোম, সেখানে গিয়ে শুনি উল্টো ঘটনা।
আমি অনেক পরে শুনলাম। তারপর জানলাম বুঁচকি সেই সংবাদ বাহক।
তুমি আর কিছু শোনো নি?
না!
আরও আছে। আমি গেইজ করছি। আবহাওয়া তাই বলছে।
পরে আপনার কাছ থেকে শুনছি।
বিধানদা, অনিমেষদা কথা বলে আর সবাই শোনে আর মুচকি মুচকি হাসে।
দাদা, মল্লিকদাকে ধারে কাছে দেখতে পেলাম না।
বুঝলি অনি, ভানু দুধটা বেশ ভাল পাঠিয়েছে, দেশের গরু বলে কথা। চায়ে চিনি লাগলো না। অনিমেষদা বললো।
আমি ডাক্তারদার পাশে সোফার খালি জায়গায় বসলাম।
অনিমেষদার দিকে তাকালাম। চোখে হাসছি।
এর উত্তরটা কি দিতে হবে?
বিধানদা, ডাক্তারদাদা খাবার থামিয়ে আমার দিকে তাকালো।
পারলে দে।
ভানু দুধটা দিয়েছে ঠিক। কিন্তু আমি বয়ে নিয়ে এসেছি।
বিধানদা একবার অনিমেষদার মুখের দিকে একবার আমার মুখের দিকে তাকায়।
অনিমেষদা মাথা দোলাচ্ছে।
কি হলো।
আমি ওই অর্থে বলিনি।
বুঝবো কি করে। তুমি তো এখন ভানু আর ভানুর দুধের মধ্যে নিজেকে সঁপে দিয়েছো। তোমার ধ্যানজ্ঞান এখন সব ভানু আর তার দুধ।
অনিমেষ ও মারাত্মক জায়গা ধরে ফেলেছে। ডাক্তারদাদা বললো।
রূপায়ণদা, অনুপদা চেয়ারটা নিয়ে কাছে এগিয়ে এলো।
ব্যাপারটা খুব উচ্চমার্গের আলোচনা মনে হচ্ছে।
আপনি ওর অনিমেষের কথা ধরে ফেলেছেন! বিধানদা ডাক্তারদাদার দিকে তাকিয়ে বললো।
যেমন বাজনদার, তেমন তার তবলচি। বুঝেছেন বিধানবাবু। বহুদিনের সঙ্গতের ফসল। কোথায় একতালকে ভেঙে হাফতাল, কোথায় কোয়ার্টার তাল করতে হবে দু-জনেই ভালোমতো জানে। আমরা শ্রোতা, সচোর আচর ধরতে পারবো না।
বিধানদা তখনও ডাক্তারদার মুখের দিকে তাকিয়ে। আমি অনিমেষদার মুখের দিকে। অনিমেষদা তখনও মাথা দুলিয়ে চলেছে। আর কচুরীর টুকরো একটু একটু করে ছিঁড়ে মুখে দিচ্ছে।
আমি এখনও ভানুর দুধের চা মুখে দিই নি। আমি বললাম।
অনিমেষদা এবার হেসে ফেললো।
বুঝলাম বিধানদা, ডাক্তারদার মধ্যে ইসারায় কথা হলো।
রূপায়ণদা, অনুপদা আরও জোড়ে হেসে উঠলো।
ওর সঙ্গে কথা বলে বেশ মজা পাওয়া যায় তাই না সামন্তদা। অনুপদা বললো।
অনিমেষদা, অনুপদার মুখের দিকে তাকালো।
মুখে প্রশান্তির হাসি।
বৌদি চা নিয়ে এসেছে। পেছনে ছোটোমা আমার জন্য কচুরী নিয়ে এসেছে।
কি হয়েছে অনুপ, তোমরা ওরকম অট্টহাসি হেসে উঠলে কেন। বৌদি টেবিলে চায়ের ট্রে রাখতে রাখতে বললো।
আমি ছোটোমার হাত থেকে কচুরীর প্লেট নিলাম।
অনিমেষদার সঙ্গে অনির এখন হাইলেবেল কনভার্সেশন চলছে।
বৌদি একবার অনিমেষদার মুখের দিকে আর একবার অনুপদার মুখের দিকে বিষ্ময়ে তাকাল।
বসুন সব বুঝতে পারবেন। অনুপদা বললো।
আমি খেতে শুরু করে দিয়েছি। ছোটোমা দাঁড়িয়ে রইলো।
কিগো, অনিকে কি বলেছো? বৌদি বললো।
কিছু না। অনিমেষদার হাসি হাসি মুখ।
তাহলে।
অনিমেষদা এতক্ষণ যা কথা হয়েছে। ধীরে ধীরে রিপিড করলো।
বৌদি আমার ঘাড়টা চেপে ধরলো। দাঁতে দাঁত চিপে বললো।
মাথা তো নয় একবারে ঝুনো নারকেল।
দিদি ওকে ঘাড় ধরে কিছু হবে না। কানটা ধরে ছিঁড়ে নাও। ছোটোমা বললো।
বৌদি আমার পিঠে হাত বোলাচ্ছে।
না ছোটো। এইটুকু মাথায় ও সবার জন্য অতো ভাবে। এটা আমাদের বুঝতে হবে। মাঝে মাঝে অবশ্য কমিসনের পোকাটা মাথায় নড়াচরা করে।
আমি বৌদির মুখের দিকে তাকিয়ে হাসলাম।
ওই রকম বিটকেল মার্কা হাসি হাসবি না।
ওখানে না গেলে তুমি ওর কীর্তিকলাপ ধরতে পারতে। ছোটোমা বললো।
খেয়ে নে। কথাটা যখন তুই নিজেই তুললি কাজটা তাহলে সেরেই নি।
অনিমেষদা চায়ের কাপে চুমুক দিল।
বৌদি কি বললো শুনেছো?
কমিশন তুই পেয়ে যাবি।
কাজ তো সেরে এসেছো। কতটুকু বাকি রেখেছো।
অনিমেষদা জোড়ে হাসলো। সারাটা শরীর কাঁপছে।
আস্তে! গায়ে চা পড়ে যাবে। বৌদি বলে উঠলো।
অনিমেষদা হাত দেখাচ্ছে।
হ্যাঁরে মর্কট তুই কি করে জানলি ও কাজ সেরে এসেছে? বৌদি আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে।
গাড়ির চাকা স্টেপনি দুটোই খুলে নিয়ে চলে এসেছো। এরপরও বুঝতে হবে কাজ কিছু হয়নি?
অনুপদারা সবাই আবার জোড়ে হেসে উঠলো।
এবার দেখলাম বড়োমারা সবাই ঘর থেকে গুটি গুটি পায়ে বেরিয়ে আসলো।
বাবাঃ আসোর বেশ জমে উঠেছে। বড়োমা আমাদের দিকে তাকিয়ে বললো।
তনু, মিত্রারা আমাদের পেছেনে এসে দাঁড়াল।
অনুপদা উঠে দাঁড়িয়ে দাদাকে বসতে দিল। মল্লিকদা, ইসলামভাই কাউকেই দেখতে পেলাম না।
গাড়ির চাকা স্টেপনি আমি খুলি নি। গাড়ির মালিক খুলে দিল। অনিমেষদা বললো।
তুমি ওর কথায় নাচছো? বৌদি বললো।
আমি নাচছি কোথায়, ও নাচাচ্ছে তাই নাচছি।
এখুনি বলে বসবে আমি নাচাচ্ছি বলেই যে তুমি নাচবে তার কি কথা আছে।
তাই বলে বুঝি।
আনিমেষদা আমার দিকে জুল জুল করে তাকিয়ে।
বুঝলাম এখানকার রিপোর্ট খুব সুন্দর ব্রিফিং হয়েছে।
আমার কচুরী খাওয়া শেষ, ছোটোমার দিকে তাকিয়ে বললাম, ভানুর পাঠানো দুধের চা।
চা নেই, দুধ খা।
তাই দাও।
অনিমেষদা, বৌদি হাসছে।
দাদা সবার মুখের দিকে তাকিয়ে এতক্ষণ লক্ষ্য করছিল এবার ফুট কাটলো।
অনিমেষ নিশ্চই আফতাবকে নিয়ে পরেছো?
অনিমেষদা দাদার মুখের দিকে তাকিয়ে মাথা দোলাচ্ছে।
আপনি বুঝলেন কি করে? বিধানদা বললো।
বুঝবো না, গত পনেরোদিন শুধু এই নিয়েই তো গেল। বসে কথা হলো, ফোনে কথা হলো। মিত্রা, তনুর সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বললেন।
তা ঠিক—বৌদি বললো।
ভদ্রলোক। খুব ভালো মানুষ চেনেন। যাকে বলে একবারে জেন্টেলম্যান।
এক কথার মানুষ। অনিমেষদা বললো।
শেষে বললেন, আপনারা সবাই টেন পার্সেন্ট, অনি একা নাইন্টি পার্সেন্ট। ওর সঙ্গে গিয়ে আলোচনা করুণ। ও যা ডিসিশন নেবে সেটাই আমার ডিসিশন।
অনিকে ভীষণ ট্রাস্ট করে। বৌদি বললো।
দাদা, ছোটোমার দিকে তাকাল।
অনিকে চা দিয়েছো?
ছাটোমা মাথা দোলালো। না।
ওকে দাও, আমাকেও একটু দিও।
ছোটোমা হাসছে।
দাদা বিধানদার দিকে তাকাল।
তখনই বুঝলাম বিধানবাবু ভদ্রলোক অনির ওপর কতটা নির্ভরশীল। দিল্লীতেও একই ব্যাপার। রাঘবন বললো, এই প্রজেক্টগুলো অনেকটাই অনির ওপর নির্ভরশীল। আমি সরকারি দফতরের সমস্ত কাজ সামলে দেব। কিন্তু ওখানটা আপনাদের সামলাতে হবে।
আফতাব ইন্ডিয়ায় আসবে ঠিক কিন্তু ডিটেলসে আলোচনা করার মতো ওর এতো সময় নেই। ইন্ডিয়ায় ওর রিপ্রেজেন্টেটিভ অনি। অনিকে ও অন্ধের মতো বিশ্বাস করে। আজকে ওর সঙ্গে আমাদের যা ড্রিলিংস সব কিছুর মাধ্যম অনি। অনিমেষ অনেকভাবে নাড়াচারা করেছে, ওর মুখ থেকে শুনে নেবেন।
বিধানদা পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট বার করে একটা অনিমেষদাকে একটা নিজে নিয়ে ধরালেন। দাদাকে দিল না। বুঝলাম দাদা সিগারেট ছেড়ে দিয়েছে।
দু-জনেই আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে।
আর একটা ব্যাপার আমার মনে হয়েছে। ওখানে তোমাদের কিছু বলিনি। এখানে এসে বলছি। দাদা বললো।
কি! অনিমেষদা বললেন।
বুঁচকির প্রতি অফতাবের একটু দুর্বলতা এসেছে।
এটা আমারও মনে হয়েছে। বৌদি বললো।
দেখো ভদ্রলোক দু-দিন ওখানে ছিল। তোমাদের সঙ্গে যতটুকু কথা বলেছে, তার থেকে বেশি কথা বলেছে বুঁচকির সঙ্গে, একমাত্র ওকে নিয়ে সব জায়গায় ঘুরেছে। একমাত্র বুঁচকিকে ডাক নামে ডাকতো, ওর ভালো নাম ধরে কখনই ডাকে নি। মিত্রাকে বলেছে ওকে দিয়ে দে।
আপনি এগুলো লক্ষ্য করেছেন! অনিমেষদা সিগারেটে সুখটান দিয়ে বললো।
প্রথমে লক্ষ্য করিনি। ডাক্তার বলতে তখন ভালো করে লক্ষ্য করলাম।
ছোটোমা চা নিয়ে এসে টেবিলে রাখলো।
বাবা কোথায় গো। মেয়ের গলা পেয়ে পেছনে তাকালাম।
কেনো! মিত্রা বললো।
আফু আঙ্কেল ফোন করেছে। বাবার ফোন বন্ধ।
মিত্রা ফোনটা মেয়ের হাত থেকে আমার হাতে দিলো।
হ্যালো।
আফতাবভাইয়ের গলা পেলাম, ভয়েজ অন করে দিয়েছে মিত্রা। সবাই শুনবে।
সালাম আলেকম।
আসলাম আলেকম সেলাম।
এরপর আমার সঙ্গে আফতাবভাইয়ের ঠাট উর্দুতে কথা শুরু হলো।
মিত্রা আমার দিকে দুষ্টুমি চোখে তাকিয়ে। ভাবটা এরকম তুই কি শয়তান। শুনতে চাইলাম বলে উর্দুতে কথা বলতে শুরু করলি।
ওনারা সব ভালো ভাবে পৌঁচেছেন।
এই তো একসঙ্গে বসে কথা বলছি।
কাল দিল্লীতে ছিলো।
হ্যাঁ, আজ সকালের ফ্লাইটে ফিরেছে।
রাঘবনের সঙ্গে কথা হলো।
কি কথা হলো?
রাঘবন চাইছে প্রজেক্টটা হোক।
তাহলে করে ফেলো।
তোর সেই এক কথা।
ফোন কে করেছে, তুমি না মেয়ে?
তোর জেনে কি হবে।
তারপর জোরে হেসে উঠলো। স্পিকার যেন ফেটে যায়।
অনিমেষদা, বিধানদা চোখ দিয়ে যেন আমায় গিলে খাবে।
ও আমার নতুন বন্ধু। ওর সঙ্গে আমার একটা চুক্তি হয়েছে। ও প্রত্যেকদিন একবার করে মিস কল করবে আমি আর তোর দিদি ওর সঙ্গে কথা বলবো।
কেনো?
কেনো পাগলামো করি তুই জানিস।
আবার শুরু করে দিলে।
আর করবো না।
দিদি কোথায়?
তোর গলা শুনছে। তুই একবারে ফোন করা বন্ধ করে দিয়েছিস।
অফতাবভাইয়ের গলায় অভিমানের সুর।
চুপ করে রইলাম।
বুঁচকি বললো, আবার তুই নার্সিংহোমে ভর্তি হয়েছিলি।
এরা কিছু হলেই আর রিক্স নিচ্ছে না। তুলে নিয়ে চলে যাচ্ছে।
তুই এখানে চলে আয় সব দায়িত্ব আমার।
যাব, এখানে নানা ঝামেলায় জড়িয়ে পরেছি।
শুনেছি। তোকে যেতে বারন করেছিলাম।
তাহলে বুঁচকিকে পেতে?
আবার আফতাবভাই হেসে উঠলো।
তোর বড়োমা, ছোটোমা ভীষণ সুইট, আমিও ছোটোমা, বড়োমা বলে ডাকলাম।
নতুন মার কাছে নতুন কি কি খেলে?
আবার জোড়ে হেসে উঠলো আফতাবভাই।
তোর প্রিয় খাবার একদিন খেয়েছি।
এবার কাজের কথাটা কি বলে ফেলো।
অনিমেষবাবু অনেক কিছু বললো। সব শুনলাম। দাদা, মল্লিক, ডাক্তারবাবু ছিল। কাল রাঘবনের সঙ্গেও ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা করলাম।
তোমার কি মতামত।
তোকে ফাইলগুলো দিলাম, তুই তো কিছু বললি না।
কাজ করার সময় পেলাম কই। দিদির সঙ্গে আলোচনা করেছো?
করেছি।
কি বলছে?
তুই দিদির সঙ্গে কথা বল।
একটুক্ষণ চুপ থেকে দিদির গলা। হ্যালো।
বলো দিদি।
তোর সঙ্গে কথা বলবো না। তুই ভীষণ স্বার্থপর।
কি করবো। তুমি আমাকে পথ বাতলে দাও।
তুই সকলকে বুদ্ধি দিস, আমি তোকে কি করে দেব।
আমাকে একটু সময় দাও। আসবে নাকি এখানে?
কবে নিয়ে যাবি?
কবে আসবে বলো।
তুই যেদিন নিয়ে যাবি।
এখানে এসে হোটেলে থাকতে হবে।
কেন তোর বাড়িতে থাকতে দিবি না।
আমার বাড়ি নেই।
দাদার বাড়িটা তোর নয়?
ওখানে থাকতে পারবে না।
বুঁচকি ছবি দেখিয়েছে।
বাবাঃ আমাকে ছেড়ে এবার বুঁচকিকে ধরেছো মনে হচ্ছে।
শোন না।
বলো।
ওর বিয়ের খরচ আমি দেব।
হঠাৎ এই বুদ্ধিটা গজাল কি করে?
কি জানি হঠাৎ মনে হলো। দিদির গলাটা কেমন ভাড়ি ভাড়ি শোনাল।
মনে হওয়ার একটা কারণ আছে।
তোকে বলতে পারবো না, যা।
দুজনে মিলে আবার পাগলামো শুরু করে দিয়েছো।
দিদি চুপ করে রইলো।
তাহলে বুঁচকির কালকেই বিয়ে দিয়ে দিই।
দে। আমি আজ রাতের ফ্লাইটেই চলে যাব।
পাত্র ঠিক করো।
ওর করা আছে বলেছে।
আমি কথা বলতে বলতে অনিসার মুখের দিকে তাকালাম।
মাথা দুলিয়ে না না করছে।
বুঁচকি আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
তুই আমার কথা শোনাচ্ছিস।
একটু একটু।
একবারে শোনাবি না।
ঠিক আছে শোনাব না।
আর একটা কথা আছে।
বলো।
ওখানে প্রজেক্ট হলে বুঁচকি আর বসিরের শেয়ার রাখবি।
বুঁচকির অতো পয়সা কোথায়?
তোর দাদা দেবে। ও তোর মেয়ে নয় আমাদের মেয়ে।
যাক বাঁচা গেল। আমি এখন ঝাড়া হাত-পা।
আর একটা কথা।
এটাই শেষ না আরও আছে।
কেনো তোর শুনতে অসুবিধে হচ্ছে।
একটুও না।
শুনলাম তোর পকেটে পয়সা নেই।
এটা আবার কে বললো।
যেই বলুক, আমি সত্যি বলছি কিনা বল।
যে বলেছে সে মিথ্যে বলেছে।
তোর দাদার কাছ থেকে নিতে হবে না। আমি তো দিদি এই কাজগুলো করতে খরচ হবে, আমি আমার এ্যাকাউন্ট থেকে ট্রান্সফার করছি।
ঘুটিটা ভালো চাললে।
তোর মাথা ভাঙবো।
এমনিই ভাঙা মাথা, আবার ভাঙবে?
দিদি হেসে উঠলো।
শোন না।
বলো।
বসির ফোন করেছিল।
কেনো?
এই মাসের শেষের দিকে ওর ক্লাস শেষ হয়ে যাচ্ছে। দু-মাস ছুটি। তোর কাছে যাবে বলছে।
ওকে রাখবো কোথায়?
তুই ওকে ফোন কর।
সবাইকে একসঙ্গে আসতে হবে। ও একা এলে চলবে না।
তোর দাদা যাবে না। আমি যাবো।
অনিমেষদা ঝুঁকে পরে কথা বোঝার চেষ্টা করলো। ডাক্তারদাদা হাসছে।
তোমাদের নিজস্ব প্লেনে আসবে, না ভাড়া করা প্লেনে আসবে।
তোর খোঁচা দিয়ে কথা বলা বার করছি।
তুমি এখন অনেক দূরে।
তোর সঙ্গে কথা বলবো না বুঁচকিকে দে।
কথা শেষ।
হ্যাঁ।
দাদার কিছু বলার নেই।
আর একটা ফোনে কার সঙ্গে কথা বলছে।
ধরো।
হাসতে হাসতে মেয়ের হাতে ফোনটা দিয়ে দিলাম।
মেয়ে একটুও দাঁড়াল না। কানে ফোনটা দিয়ে বেরিয়ে গেল।
(আবার আগামীকাল)