করোনা ভাইরাসের কারণে এবার আমেরিকার ভোটে অন্য কিছু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি দেখা যাচ্ছে। পোস্টাল ব্যালটের দিকেই ভোটারদের ঝোঁক বেশি। পোস্টার ব্যালটে ভোট দেওয়ার আগ্রহও বেড়েছে ভোটারদের। আমেরিকার ইতিহাসে এই প্রথম সর্বাধিক সংখ্যক ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন বলে নির্বাচনী বিশ্লেষকদের মত। প্রাথমিক ভাবে তার কিছুটা আভাসও পাওয়া গেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছেও তেমনই খবর আছে বলে সেখানকার নির্বাচনী বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন। এই খবর পাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাধারণ মানুষ যাতে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে না পারে, তার জন্য চেষ্টা করেছিলেন। প্রথমে পোস্টাল সিস্টেমকে তাদের ঘাটতি অর্থ সাহায্য না দিয়ে পঙ্গু করে দিতে চেয়েছিলেন। দ্বিতীয়ত মেইল ড্রপ বক্স ও সর্টিং মেশিন সরিয়ে দিয়ে ফেডারেল সরকারের প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হাউসে ডেমোক্রেটরা মেজোরিটি। তারা এই অন্যায় আচরণ বন্ধ করে দিয়ে পোস্ট অফিসের জন্য ১২ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। সেই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের বন্ধু হিসেবে স্বজন-পোষণের মাধ্যমে নিয়োগ হওয়া পোস্টমাস্টার জেনারেলকে হাউস কমিটির মুখোমুখি বসিয়ে জবাবদিহি করতে বাধ্য করা হয়েছে।
এনবিসি নিউজ লিখছে, গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬টি সুইং স্টেটের অন্যতম নর্থ ক্যারোলাইনায় আগাম ভোট দেওয়া শুরু হয়ে গেছে। নর্থ ক্যারোলাইনাই প্রথম যেখানে অগ্রিম ভোট দেওয়া শুরু হলো।
গত ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নর্থ ক্যারোলাইনায় ৬,৪৩,৪০০ ভোটার আগাম পোস্টাল ব্যালট চেয়ে অনুরোধ জানিয়েছে। এর মধ্যে ৩,৩৭,৩৬২ জনই রেজিস্টার্ড ডেমোক্রেট ভোটার। আর এর প্রায় এক তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ১,০৩,৬২০ রেজিস্টার্ড রিপাবলিকান ভোটার। বাকি ভোটাররা কোনও পার্টিতে রেজিস্টার্ড নন। অথচ ২০১৬ সালের নির্বাচনে নর্থ ক্যারোলাইনায় মাত্র ৩৮,৮৭১ জন ভোটার আগাম পোস্টাল ব্যালট চেয়ে অনুরোধ জানিয়েছিল বলে লিখেছে এনবিসি নিউজ।
আর এক সুইং স্টেট ফ্লোরিডায় মোট ভোটারের মধ্যে প্রায় ৪৭ শতাংশ রেজিস্টার্ড ডেমোক্রেট আর ৩২ শতাংশ রেজিস্টার্ড রিপাবলিকান ভোটার আগাম পোস্টাল ব্যালট চেয়ে অনুরোধ জানিয়েছে। সংখ্যা হিসেবে এই স্টেটের ৪০ লক্ষেরও বেশি ভোটার পোস্টাল ভোট দেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছে। ২০১৬ সালের নির্বাচনে এই সংখ্যা ছিল ৩০ লক্ষ। ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডায় জয়ী হয়েছিলেন ১,১২,৯১১ ভোট বেশি পেয়ে। ফলে তার ঝুলিতে ২৯টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট জমা হয় ফ্লোরিডা থেকে।
পেনসিলভেনিয়ায় ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় ৪৫,০০০ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হন। এ বছর এখনো পর্যন্ত ১০ লক্ষেরও বেশি রেজিস্টার্ড ডেমোক্রেট ভোটার পোস্টাল ব্যালট চেয়ে আবেদন জানিয়েছে। পক্ষান্তরে রেজিস্টার্ড রিপাবলিকানরা চেয়েছে ৩,৮৮,০০০টি। অর্থাৎ যাঁরা ভোট দেওয়ার জন্য পোস্টাল ব্যালট চেয়েছেন তাদের মধ্যে ৭০ শতাংশই ডেমোক্রেট।
এনবিসি নিউজের তথ্য অনুসারে অপর তিনটি সুইং স্টেট ওহাইও, মিশিগান ও উইসকনসিনের মধ্যে ৫০ শতাংশ রেজিস্টার্ড ডেমোক্রেট পোস্টাল ভোট দিতে আগ্রহ প্রকাশ করে ব্যালট চেয়ে আবেদন করেছে। আর রেজিস্টার্ড রিপাবলিকান ভোটার ৩৮ শতাংশ। উইসকনসিনে দুই দলের রেজিস্টার্ড ভোটারই সমানহারে পোস্টাল ব্যালট চেয়ে অনুরোধ জানিয়েছে। আর সেই হার হলো ৩৯ শতাংশ করে। তবে এখনো পর্যন্ত মিশিগানই একমাত্র সুইং স্টেট যেখানে পোস্টাল ব্যালট চেয়ে অনুরোধ জানিয়েছে সবচেয়ে বেশি। রিপাবলিকান ৪৩ শতাংশ এবং ডেমোক্রেট ৩৮ শতাংশ। তবে প্রতিটা স্টেটেই পোস্টাল ব্যালট চেয়ে আবেদন জানানোর সময় এখনো আছে। পরবর্তীতে ফারাকটা হয়তো কমতেও পারে।
আগামী ৩ নভেম্বর ভোটে জেতার জন্য এখন সকলের নজর পোস্টাল ব্যালটের দিকে। নির্বাচনী বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সংখ্যা যত বাড়বে ততই জো বাইডেনের জয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকবে। এই জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়া আটকাতে মরিয়া অন্য পক্ষ।