১২ বছর বয়সে রবিতীর্থে এসেছিলেন গন শিখতে আর এক প্রতিথযথা শিল্পী সুচিত্রা মিত্রের কাছে। সেই যে নারা বাঁধলেন রবীন্দ্রসঙ্গীতে আর ফিরে তাকান নি। সুচিত্রার জন্ম ১৯২৪ আর পূর্বার ১৯৩৫ মাত্র ১১ বছরের বড়ো গুরুর কাছে ষোলো আনা আত্মসমর্পণ। গুরু সুচিত্রা প্রাণঢেলে শিষ্যাকে দিয়েছিলেন তাঁর সব কিছু। অনেকেই দূর থেকে তাঁর গান শুনে গুলিয়ে ফেলতেন কে গাইছে সুচিত্রা না পূর্বা। সেই পূর্বা আজ চলে গেলেন গুরু সুচিত্রার জন্মদিনে। সুচিত্রা ১৯১১ সালে অনন্তযাত্রা করেছিলেন বয়স ৮৬। পূর্বা অনন্তযাত্রা করলেন বয়স ৮৫। অনেক মিল দুজনের মধ্যে।
আশির দশক থেকে পূর্বা নিজেকে মেলে ধরতে থাকেন তাঁর নিজস্ব ঘরাণায়। রবীন্দ্রসঙ্গীত শুধু গাইলে হবে না। অন্তর দিয়ে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কনিকা, সুচিত্রা আজীবন যা করে গেছেন। পূর্বাও সেই পথেই রবীন্দ্রসঙ্গীতকে পৌঁছে দিতে চেয়েছেন সাধারণ মানুষের অন্তরের অন্তস্থলে।
সেই সময় শিল্পীদের কাছে আকাশবানী ছিল তীর্থক্ষেত্র। সেখানে গান গাইতে পারলে শ্রোতাদের অনেক তারাতারি পৌঁছে যাওয়া যায়। হলও ঠিক তাই, আকাশবানীতে তাঁর গাওয়া দুটি গান জয় করলো শ্রোতাদের মন— ‘সীমার মাঝে অসীম তুমি’, ‘যদি তোমার দেখা না পাই প্রভু’। তাঁর গায়কিতে শ্রোতাদের মনে এক আলাদা অনুভূতির সঞ্চার করলো। চিরস্থায়ী হলেন পূর্বা।
আজ দক্ষিণ কলকতার নিজের বাড়িতে চিরনিদ্রায় শিল্পী। রেখে গেলেন স্বামী এবং একমাত্র কন্যাকে। অসুস্থ ছিলেন, চিকিৎসাও চলছিল। চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে শনিবার সকালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। প্রয়াত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পীর প্রয়াণে শোকবার্তা পাঠিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শিল্পীকে যথোচিত সম্মানও দিয়েছিলেন তিনি। যে সম্মান তাঁর অনেক আগেই পায়া উচিত ছিল। ২০১৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ‘সংগীত সম্মানে’ সম্মানিত করে জনপ্রিয় এই রবীন্দ্রসংগীত শিল্পীকে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর হৃদ্যতার সম্পর্ক ছিল। দু-একবার মমতার অনুরোধ মেনে রাজ্য সরকারের কয়েকটি অনুষ্ঠানেও গান শুনিয়েছিলেন প্রবীণ শিল্পী।