| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

রাসায়নিক কৃষি ব্যবস্থার খাদ্য রাজনীতি ও মানুষের স্বাস্থ্যহানি (২য় কিস্তি)

Reporter
অনুপম পাল / ৮২৭ জন পড়েছেন
আপডেট বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

এক কথায় দেশজ ফসলের উৎপাদনশীলতা চেপে যাওয়ার নামই সবুজ বিল্পব। উদ্দেশ্য ছিল দেশের ফসলের বৈচিত্রের কথা সাধারন মানুষ যেন না জানতে পারেন। কৃষক যেন সনাতনী বীজ ও চাষের সব কৃৎকৌশল ভুলে যায় এবং এর সন্মন্ধে খারাপ ধারণা তৈরী হয়। উন্নত বিজ্ঞানের নামে শুধুমাত্র বিশেষ কয়েকটি চিহ্নিত দেশী জাতকে ব্যবহার করে শুধুমাত্র শংকরায়ন করা চালু হল। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য প্রখ্যাত জিনতত্ত্ববিদ থিওডোর ডাবঝানস্কি বলেছিলেন “জীববিদ্যায় কোনকিছুই অর্থবহ হয় না যদি তা অভিযোজনের মাধ্যমে আসে”। শংকরায়ন করার পর ওই চরিত্রকে আপাত সুস্থির করতে খুব বেশী হলে ৬ বছর সময় লাগে। অথচ দেশজ ফসল গুলি প্রকৃতির কোলে লালিত ও পালিত হয়েছে ১০০ বছর বা তার বেশী সময় ধরে, এটাই হল অভিযোজন। সুতরাং ওই জাত গুলির চরিত্র আপাত সুস্থির এবং স্থায়ী হবে। কিন্ত তথাকথিত শংকরায়িত করা আধুনিক জাতের চরিত্র  ১/২ বার চাষ করার পরই ঠিক থাকবে না।ফুল আগে পরে আসবে,শীষ ছোট হবে ধান মোটা হয়ে যেতে পারে ইত্যাদি। তাই বছর বছর বীজ পাল্টাতে হবে। জিন পরিবর্তিত শস্যের ক্ষেত্রে এটা সত্য।

শস্যের মোট উৎপাদন বৃদ্ধিতে শুধু মাত্র দামী বীজ, সার ও কৃষি বিষের ভূমিকা ছাড়াও আরও বেশ কিছু ঘটনা এর সঙ্গে সম্পর্কিত যেমন—পতিত জমি চাষের আওতায় নিয়ে আসা। জঙ্গল কেটে চাষের জমিতে অন্তর্ভুক্তকরণ। ডাল শস্য ও তৈল বীজের এলাকা কমে যাওয়া সেই জায়গায় দানা শস্য উৎপাদন হওয়া, পশ্চিমবঙ্গে গমের এলাকা কমে যাওয়া এবং বোরো চাষের এলাকা বৃদ্ধি। শুধুমাত্র আদর্শগত ভাবে সেচ প্রাপ্ত সমতল ভূমিতেই উচ্চফলনশীল (আধুনিক) জাতের ফসলের ফলন বাড়ল। সেচের আওতায় জমির পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। ১৯৫০-১৯৭৬ পর্যন্ত প্রায় ২৫.০৭ লক্ষ হেক্টর জঙ্গল কেটে কৃষি কাজের আওতায় আসে।

হাতি ধান

পাঞ্জাবে যেখানে গমের সবুজ বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল সেখানে ধান ও গমের এলাকা ১০ গুণ বৃদ্ধি পায় সেই সঙ্গে ডাল শস্যের এলাকা ১০ গুণ কমে যায়। এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গে ও অন্যান্য প্রদেশের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নয়। পাতে ডাল–ভাতের জায়গায় শুধু ‘ভাতই বেশী হয়’, ডালের ঘাটতি দেখা দেয়। এখন ডালের দাম বেশী, বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় ১৯৫০-১৯৭৯ পর্যন্ত ধানের মোট এলাকা বৃদ্ধির হার ১.০১% ধানের উৎপাদন বৃদ্ধির হার ২.০৬% মোট ফলন ১.৫৭% যা আশাব্যঞ্জক চিত্র নয়। আফ্রিকার দেশগুলিতেও প্রচুর সার বিষ প্রয়োগ করে সবুজ বিপ্লব সফল হয়নি। কৃষি-রাসায়নিকের ব্যবহার ‘‘কম, নিয়ন্ত্রিত, প্রয়োজন মত’’ ইত্যাদি করেও কি জৈব বৈচিত্র্য ক্ষয় ও দূষণ ঠেকানো যায় নি। শিল্প নির্ভর কৃষিতে এই দূষণ কমার সম্ভাবনা নেই। এই বিপ্লবের জয়গান যাঁরা প্রথমে গেয়েছিলেন তাঁরাই এখন এই অবক্ষয়ের কথা স্বীকার করছেন। সদ্বিচ্ছা থাকলে উচ্চ ফলনের দেশজ ফসলের জাত দিয়েই দেশজ সবুজ বিল্পব ঘটতে পারত। জন সাধারনের শুধু উদরপূর্তি না হয়ে পুষ্ট সাধনও হত।

সবুজ বিপ্লবের প্রাপ্তি:

তাড়াতাড়ি প্রচুর উৎপাদনের জন্য রাসায়নিক সার-বিষ ও বাজারের কেনা বীজ একই ধরনের ফসল চাষে কৃষককে উদ্ধুদ্ধ করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল ফসল বৈচিত্র্য কমিয়ে ভর্তুকি যুক্ত শংকর জাতের ধানের বীজে ও কৃষি উপকরনের বাজারীকরন। কৃষকরাও চটজলদি ম্যাজিক ফলনে আকৃষ্ট হয়ে পড়লেন। চাষ না হওয়ার ফলে ধীরে ধীরে বিশেষ বৈশিষ্ট্যের আঞ্চলিক ধানের জাতগুলি হারিয়ে গেল। শুধু ধান নয় গম, বাজরা, ভুট্টা, ছোলা, অরহড়, নটেশাক, বেগুন ইত্যাদির বেশীর দেশজ জাত পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। ক‌োন প্রযুক্তির মাধ্যমে ক‌োন বিজ্ঞানী আর ফিরিয়ে আনতে পারবেন না। আশ্চর্যের কথা পুষ্টিগুন, রোগ ও প‌োকা প্রতিরোধক শক্তি, উৎপাদনশীলতা, স্বাদ ইত্যাদি কিছুই জানার আগেই হারিয়ে গেল।এটা গোটা মানব জাতির কাছে অপূরনীয় ক্ষতি। দেখা গেছে কৃত্রিম উপায়ে অপ্রাকৃতিক বীজের দ্বারা উৎপাদন বৃদ্ধি ও পুষ্টিগুন কমে যাওয়া অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত।

ওই জাত গুলিতে প্রচুর রোগ পোকা লাগে। এর জন্য প্রচুর রোগ ও পোকা নাশক কৃষিবিষ লাগে। ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে শত্রুপোকার প্রতিরোধ শক্তি, পুনরুত্থানের মত ঘটনা ঘটেছে। পোকার আক্রমণাত্মক শক্তি বাড়ছে। অন্য ফসলেও পুণর্বন্টিত হচ্ছে। এক ফসলের পোকা অন্য ফসলেও আক্রমণ করছে। মৌমাছির মত বহু পরাগ মিলনকারী পোকার সংখ্যা কমছে।

কৃষি বিষের দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র—জল, মাটি, বাতাস, বন্যপ্রাণী, খাদ্য, মাছ, মাংস, ডিম, মাতৃদুগ্ধ ও গোদুগ্ধে। মানুষ বিভিন্ন মারণ ব্যাধির শিকার হচ্ছেন। বাড়ছে ক্যানসারের মত মারণ ব্যাধি। সবুজ বিপ্লবের পীঠস্থান পাঞ্জাবের অবস্থা করুন। ফসলের উৎপাদন হ্রাস, ভূমির অবক্ষয়, ঋণের বোঝা, কৃষক আত্মহত্যা এবং ভাতিন্ডা জেলায় সর্বাধিক ক্যানসার রোগ। ভাতিন্ডা থেকে বিকানীর গামী ট্রেনটির নাম এখন ক্যানসার এক্সপ্রেস কারণ প্রচুর সংখ্যক রোগী কম খরচে চিকিৎসা করাতে বিকানীর যান ওই ট্রেনে।

রেইসল কারসন

মাতৃ দুগ্ধে ও ডিডিটির উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে। (প্রায় ২৬.৬ পি পি এম)। ১৯৩৯ সালে পল মুলার ডিডিটি (ডাইক্লোরো ডাইফিনাইল ট্রাইক্লোরো ইথেন) আবিষ্কার করেন তৈরী করেন এবং ২য় বিশ্ব যুদ্ধের সময়  সৈন্যরা পতঙ্গ বাহিত রোগ ম্যালেরিয়া ইত্যাদি রোগে মারা পড়ছিলেন। ডিডিটি ছড়িয়ে কীট পতঙ্গ নিয়ন্ত্রন করা হয়। প্রচুর যুদ্ধরত সেনার প্রান বাঁচে। পরে ফসলের পোকা মারার কাজে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৬২ সালে রেইসল কারসন সাইলেন্ট স্প্রিং গ্রন্থে প্রকাশ করলেন ডিডিটি বিষের তীব্রতা ও জমিতে বহুদিন অবিকৃত থাকার কথা। পাখির ডিম ভঙ্গুর হয়ে যায়, বিকলাঙ্গ পক্ষী শাবকের জন্ম হয়। তাছাড়া এই বিষ ক্যানসার সৃষ্টি করে। অনেক দেশে নিষিদ্ধ হয়ে হলেও মশা মারার কাজে ভারত সহ কিছু দেশে চালু আছে। এই গবেষনাকে কোম্পানীর লোকজন কটাক্ষ কর গালিগালাজ করেন, হিস্টরিয়া গ্রস্ত মহিলা বলতে পিছপা হননি। কারন মানুষ এই সত্যটা জেনে ফেললে ডিডিটি বিক্রি হবে না। ডিডিটির আবিষ্কর্তা পল মুলারকে ১৯৪৮ সালে রাসায়নে নোবেল পুরষ্কার দেওয়া হল অথচ এর ভয়াভয়তা নিয়ে যিনি মানুষকে সচেতন করলেন তাঁর জুটল লাঞ্ছনা।

কৃষকেরা এক ধরনের ফসল (Monoculture) চাষে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ঋণে জর্জরিত হয়ে বিগত ১৫ বছরে ২.৫ লক্ষ কৃষক আত্মহত্যা করেছেন এর মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক, পাঞ্জাব ও মহারাষ্ট্র (এখন বিদর্ভ) সর্বাধিক। তুলো ও আঙুর চাষীদের (মনোকালচার) অতিরিক্ত ঋণের বোঝাই এর কারণ। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে একই জাতের ধানের পর ধান চাষ হচ্ছে, বা গম ও আলু। এই মনোকালচার জনিত দেশের বিপুল জৈব বৈচিত্র ধ্বংসের জন্য ভবিষ্যৎ খাদ্য সুরক্ষার পথ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

দেশজ ফসল মানেই খারাপ নয় —কটকের ধান্য গবেষণা কেন্দ্রের অধিকর্তা ও প্রখ্যাত ধান্য গবেষক ডঃ আর এইচ রিচারিয়া ৭০-এর দশকে শতর্ক করেছিলেন উপযুক্ত পরীক্ষা (Quarantine) ছাড়া জাপানী ধান এদেশে প্রবেশ করলে, জাপানী ধানের (জ্যাপোনিকা) খোলা পচা, খোলা ধ্বসা ও বাদামী শোষক পোকা ভারতীয় (ইন্ডিকা) ধানে ছড়িয়ে পড়বে। তিনি ১০০০ বেশী স্বল্প মেয়াদী ধান নির্বাচন করেছিলেন যেগুলির মেয়াদ ৯০-১০০ দিন এবং প্রায় ১০টি উচ্চফলনশীল দেশী ধান নির্বাচন করেচিলেন যেগুলির ফলন ছিল বিঘায় ২০-২৮ মন।কিন্তু কোন এক অজ্ঞাত কারনে আজ পর্যন্ত সেই ধানগুলির কোনো পরীক্ষা নিরীক্ষা হল না, কৃষকের কাছেও পৌঁছয়নি। অথচ ওই ধানে রোগ পোকা খুব কম লাগে, রাসায়নিক সার ও বিষ লাগে না। বীজও কিনতে হয় না বছর বছর। সুতরাং সহজেই অনুমেয় কাদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য দেশী ধানের প্রচলন করানো হল না।

রাসায়নিক সার, কীটনাশক বিষও বাজারের কেনা তথাকথিত উচ্চফলনশীল ধানের জাত যেমন লাল স্বর্ণের ফলন কোন কোন কৃষকের জমিতে আগে বিঘা প্রতি ২৫ মনও হয়েছে। কিন্ত গড় ফলন ধীরে ধীরে ১৫-১৬ মনে নেমে এসেছে। সামগ্রিক ভাবে ফলন কমল কিন্ত সার ও বিষের প্রয়োগ আগের থেকে বেশী হচ্ছে। চাষের খরচও বাড়ল।

জলাজমির ধান খেতে জন্মানো প্রচুর মাছ, গেড়ি, কাকড়া, চিংড়ি, গুগলি, কাছিম ইত্যাদি সহজ লভ্য প্রোটিনের উৎস ধ্বংস হয়ে গেল। কারন সামান্যতম রাসায়নিক সার ও বিষের প্রভাবে মাছ জন্মাতে পারে না।

খেসারীর ডাল নিয়ে খাদ্য রাজনীতি : জমি উর্বর রাখার জন্য ধান কাটার ৭-১০ দিন আগে মাটিতে রস থাকা অবস্থায় খেসারীর বীজ ছড়িয়ে দেওয়া হত। কোন চাষের দরকার নেই; সেচ, সার, রোগ ও পোকা নাশকেরও প্রয়োজন পড়ত না। শিকড়ে নাইট্রোজেন আবদ্ধকারী  রাইজোবিয়াম গুটি জমিকে উর্বর করে তুলত পরবর্তী ফসলের জন্য। প্রচার মাধ্যমে খেসারী খেয়ে পঙ্গু হওয়ার ভয়ের বাতাবরন তৈরী করা হল যাতে ওই ফসল চাষ কেউ না করে। আদতে পশ্চিমবঙ্গে ওই রোগের কোন রোগী পাওয়া যায় নি। বিহারে অপুষ্টির শিকারে আক্রান্ত মানুষ শুধু ভাত আর ওই ডাল ক্রমাগত খাওয়ার জন্য ওই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। আসলে রোজ কেউ একই ডাল খায় না, ডাল সিদ্ধ করে জল ফেলে দিতে হবে। প্রচুর মানুষ খেসারীর ডাল খেয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে আছেন। ডালে একটি বিশেষ রাসায়নিক (β-N-oxalyl-amino-L-alanine, or BOAA) থাকলেও তা থেকে রোগ হওয়ার সম্ভবনা খুব কম। অনেক বেশী পরিমান কীটনাশক আমাদের রোজকার খাবারে আছে। আর কলকাতা শহরের মত বড় শহরের বাতাস দূষনের ফলে অনেক বেশী বিষ শরীরে প্রবেশ করে। পরীক্ষা হলে অনেক খাবারই অখাদ্য হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা সফল হলেন। কম খরচের মাটি উর্বরকারী ডালের (খেসারী) চাষ উঠে গেল,সেখানে মাটির তলার জল মাটি থেকে পাম্প দিয়ে তুলে, প্রচুর সার, বিষ ও বাজারের কেনা বীজ দিয়ে সবর্ত্র বোরো ধানের চাষ বেড়ে গেল। এর জন্য ভর্তুকিও দেওয়া হয়। সামগ্রিক ভাবে ডাল শস্যের এলাকা কমে গেল গোটা ভারতেই।

খেসাড়ি কলাই

সুখের কথা সম্প্রতি ২০১৯ সালে ভারতীয় স্বাস্থ্য অনুষন্ধন পরিষদ ওই নিষেধাঞ্জা তুলে দেওয়ার পক্ষে রায় দিয়েছেন (ICMR panel clears ‘unsafe’ khesari dal banned in 1961, The Indian Express, 4th Sept,2019)। এখন ডাল শস্য অন্য রাজ্য এমন কি বিদেশ থেকে প্রচুর আমদানি করতে হয়। ভারতের মোটা চাহিদার প্রায় অর্ধেক পরিমান ছোলা ও মটর ডাল কানাডা থেকে  আমদানি করা হয়। ওদেশে ডাল খাওয়ার চল নেই। ডালশস্য পাকার পর ফসল তোলার কয়েক দিন আগে ভয়ংকর আগাছা নাশক গ্লাইফোসেট বিষ স্প্রে করা হয় যাতে ডাল শস্য তাড়াতাড়ি মরে শুকিয়ে যায়। এর মেশিনে ফসল কাটার সুবিধা হবে।কিন্ত গ্লাইফোসেট বিষের অবশেষ ডালে থেকে যায় এবং আমাদের দেশে ওই বিষের কোন পরীক্ষা হয় না। গ্লাইফোসেট ক্যানসার ডায়াবেটিস সহ বহু রোগের কারন। এই কৃষি ব্যবস্থা সুষ্ঠ কৃষি ব্যবস্থার অন্তরায়। মানুষ ও মাটির স্বাস্থ্য নষ্ট হতে বাধ্য। মার্কিন অধ্যাপক জারেড ডায়মন্ডের মতে কৃষিকাজ মানব সভ্যতার একটা বড় ভূল। (দ্রষ্টব্য Guns, Germs, and Steel: The Fates of Human Societies,1997) তিনি দেখিয়েছেন এর ফলেই শিশুদের অপুষ্টি ও ছোঁয়াচে রোগভোগ বেশী হয়। এটা এখন ভাবতে আমাদের অবাক লাগবে। বলতে গেলে কৃষিকাজ শুরুর সেই আদি লগ্ন থেকেই মাটি অবক্ষয়ের সূচনা হয়। কিন্ত কৃষি কাজ বন্ধ হয় নি। লাঙ্গল দিয়ে চাষ করা এবং খুপি করে চাষ করার মধ্যে বিস্তর ফারাক।

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev