বিজেপিতে অর্ন্তকলহ দিনে দিনে যে বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা দিনে দিনে যে কমবে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ আভাস পাওয়া গেছিল লকডাউন শুরু হওয়ার আগে। লকডাউনের সময় যা প্রকট হয়ে উঠেছিল। খাদ্য সংকটে কিংবা আমফান ঝড়ের দাপটে মানুষ যকন অসহায় তখন বিজেপি নেতা-কর্মী এমনকি বিধায়ক-সাংসদের দেখা মেলে নি। কিন্তু সব সময়ের জন্য পাশে ছিলেন তৃণমূল কর্মী ও নেতারা। এই তো দু-একদিন আগে দমদমে বিজেপির প্রাক্তন কর্মীরা তাদের নিজেদের অফিসেই তালা ঝুলিয়ে দিলো নাব্য বিজেপির দাপটে। এদের মধ্যে দু-একজন আবার ওই এলাকার বেশ নামজাদা মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির সক্রিয় কর্মী তাঁদের হাতেই তৈরি এই বিজেপির কার্যালয়। আবার উত্তর ২৪ পরগণায় বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তারক ঘোষ তার নিজের গোষ্ঠীর লোকেদের নিয়ে সভা ডেকেছিলেন। সেই সভায় ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। পুরনো বনাম নতুনের লড়াই। পুলিশ গিয়ে সামল দেয় সেই পরিস্থিতির।

নীচু তলার নেতারাও তাই মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছেন। প্রথম ধাক্কাটা তারা পেয়েছিলেন লকডাউনের সময়, বিজেপি নেতাদের মুখে মারিতং জগৎ গোছের কথা তারা মেনে নিতে পারছিলেন না। ঢোক গিলে হজম করলেও সেটা যে বদহজমের শামিল তা তাঁরা টের পাচ্ছিলেন। তাই এখন এই গোলমেলে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে আসার ধুম লেগেছে। বিজেপি বলছে তৃণমূলের এই আই ওয়াশের জবাবা ঠিক সময়ে দেখতে পাবেন। প্রশ্ন তাহলে এই বিজেপির মন্ডল সভাপতি থেকে শুরু করে সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য যাঁরা তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন এরা কারা?

২০১৯ লোকসভা ভোটে কোচবিহারের অবস্থা বেশ নড়বড়ে ছিল। উত্তরের তিনটি লোকসভা আসনই জেতে বিজেপি। সেই নিরিখে প্রায় ৭০ শতাংশ আসন বিজেপির দখলে। কতটা? ভাঙতে শুর করেছিল লকডাউনের সময় এখন যা নিয়মিত। এই তো গতকালই কোচবিহারে বাংলাদেশ লাগোয়া সাবেক ছিটমহলের মানুষেরা বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার রাজ্য সদস্য ওসমান গনি-সহ প্রায় ২০০ জন কর্মী পার্থপ্রতিম রায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিলেন। সেদিন পার্থপ্রতিম দিনহাটা নৃপেন্দ্রনারায়ণ স্মৃতি সদনে ওই বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের নিয়ে কর্মীসভা করছিলেন। আজ ২৮ সেপ্টেম্বর কোচবিহার জেলা তৃণমূল কংগ্রেস অফিসে বিজেপি সংখ্যালঘু মোর্চার ৯ নং জেপি-র মন্ডল সভাপতি ফারুক আলম, ১৪/১৫ নং জেপি-র মন্ডল সভাপতি ইয়াকুব আলী, জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য মহ. আমিনুর হোসেন, শহর কোচবিহার বিজেপির ১৩ নং ওয়ার্ডের বুথ সভাপতি শান্তনু রায়, ১৩ নং ওয়ার্ডেরই বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা শিক্ষক তাপস দাস-সহ শতাধিক বিজেপি কর্মী তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন। উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম মুখপাত্র সুপ্রিয় চন্দ, পৌর প্রশাসক মন্ডলীর চেয়ারম্যান ভূষণ সিং, নিরঞ্জন দত্ত, উৎপলকান্তি দেব, রাহুল রায়-সহ অনান্যরা।