বাংলা বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন পঞ্চায়েত সদস্য-সহ ৫০০–এর বেশি তৃণমূল কর্মী। যদিও কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগদানের ঘটনায় ঘাসফুল শিবিরে কর্মী সমর্থকরা সেই যোগদানকে ঠিকভাবে মেনে নিতে পারেননি। ফের বিজেপির মতুয়া সংগঠনে ভাঙন। মালদহে দু-হাজার কর্মী যোগ দিল তৃণমূলে।
তৃণমূলে জেলা সভাপতি বদলের পর জেলার শুক্রবার সংগঠনের বিরাট পরিবর্তন ঘটল এই দলবদলকে কেন্দ্র করে। বিজেপির নেতা-কর্মীরা দলে দলে যোগদান করলেন তৃণমূল কংগ্রেসে। বিজেপি ছাড়লেন মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষেরা বিজেপির মালদহের বামনগোলা ব্লক কৃষক সংগঠনের সভাপতি মতুয়া সংগঠনের নেতা প্রায় দু-হাজার কর্মী। শুক্রবার পাকুয়াহাট এলাকার হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ মন্দির প্রাঙ্গনে যোগদান সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে দলে দলে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নেন বিজেপি ছেড়ে আসা মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষেরা।
সম্প্রতি মালদহ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছেন আবদুর রহিম। তিনি মালতিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক। মালদহে মৌসম বেনজির নূরকে সরিয়ে তাঁকে জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারপরই জেলায় বিজেপির সংগঠনে থাবা বসিয়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের দু-হাজার কর্মীকে ঘরে ফেরালেন তিনি। এদিন তৃণমূলের যোগদান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন সাংসদ ঠাকুরনগর মতুয়া মহাসংঘের অন্যতম সংঘাধিপতি মমতাবালা ঠাকুর। ছিলেন জেলা চেয়ারম্যান সমর মুখোপাধ্যায়, জেলা সভাপতি আবদুর রহিম-সহ জেলা ও ব্লক নেতৃত্ব। তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে সবাইকে সংবর্ধনা দেওয়ার পর হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ মন্দির প্রাঙ্গনে গিয়ে হরিচাঁদ-গুরুচাঁদের ছবিতে নতমস্তকে প্রণাম জানান।
প্রাক্তন সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর বলেন, এই দলবদলে বামনগোপলা ব্লক তথা মালদহ জেলা তৃণমূল কংগ্রেস আরও শক্তিশালী হল। এরপর এই ব্লকে তৃণমূলের সমর্থনে আরও মানুষ আসবেন। তৃণমূল যে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প নিচ্ছে, তার ফলেই মানুষের এই বিপুল অন্তর্ভুক্তি। মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষকে যোগদান করিয়ে মমতা মমতাবালা ঠাকুর আরও বলেন, বিজেপি সাংসদ তথা অধুনা কেন্দ্রীয়মন্ত্রী মতুয়া সম্প্রদায়ের ভক্তদের নাগরিকত্ব নিয়ে ভুল বুঝিয়েছে। মতুয়া সম্র্য়দায়ের ভক্তরা এখন সেই ভুল বুঝতে পেরেছেন। তাই তাঁরা দলে দলে তৃণমূলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।