নিঃসন্তান দম্পত্তিদের জন্য এক আশীর্বাদ হয়ে এসেছে ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন বা টেস্টটিউব বেবি। পৃথিবীর প্রায় সব নিঃসন্তান দম্পত্তিরাই আজ টেস্টটিউব পদ্ধতির মাধ্যমে সন্তানের মুখে ‘মা’, ‘বাবা’ ডাক শুনতে পারেন। অথচ আজও হয়ত আমাদের বেশিরভাগেরই অজানা যে টেস্টটিউব বেবির সফল গবেষণা করেছিলেন এক বাঙালি বিজ্ঞানী! ১৯৭৮ সালে রবার্ট এডওয়ার্ডসের গবেষণার ফল হিসেবে জন্ম হয় লুইস ব্রাউনের, পৃথিবীর সর্বপ্রথম টেস্ট টিউব শিশুর। এর মাত্র ৬৭ দিন পর ৩ অক্টোবর ভারতে জন্ম নেয় পৃথিবীর দ্বিতীয় টেস্টটিউব সন্তান, পৃথিবীর দ্বিতীয় আর ভারতের প্রথম টেস্টটিউব শিশু। ভারতের এক নিঃসন্তান দম্পত্তি দেখা পান তাদের সন্তানের মুখ।
যুগান্তকারী এই আবিষ্কারের খবর স্থানীয় পত্রিকার পাশাপাশি বিদেশেও কিছু জায়গায় প্রকাশিত হয়। কিন্তু গবেষণা নিয়ে মেতে থাকা ডক্টর সুভাষ তার সহকর্মীদের ঈর্ষার কথা কল্পনাও করতে পারেননি। ডক্টর সুভাষকে যেখানে মাথায় নিয়ে নাচার কথা তখন তার আবিষ্কারকে হেয় করার জন্য গঠিত হয় এক প্রহসনের তদন্ত কমিটি!
একজন রেডিওফিজিওলজিস্টকে প্রধান করে গঠন করা হয় প্রজনন সম্পর্কিত গবেষণার তদন্ত কমিটি! তাঁদের মুখে একটি কথাই ছিল, “আমেরিকা যে কাজ করতে পারেনি, সে কাজ কীভাবে কলকাতায় করা সম্ভব হলো?” পদে পদে সুভাষ মুখোপাধ্যায়কে অপমান করা হয়। বিদেশ থেকে তার আবিষ্কারের ব্যাপারে কনফারেন্সে আমন্ত্রণ এলে তার বিদেশ যাত্রার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। তাঁর গবেষণায় বাধা দিতে বারবার তাঁকে বদলি করা হয়। নিজের দেশেই অবহেলা আর অপমানের জ্বালা সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত তিনি আত্মহত্যা করেন।
ডাঃ সুভাষ মুখোপাধ্যায়কে নীলরতন সরকার হাসপাতালে ছাত্রাবস্থায় খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন ডাঃ অভিজিৎ ঘোষ। পেজফোর-কে তিনি জানালেন তাঁর ব্যক্তিগত অভিঙ্গতা এবং ডাঃ সুভাষ মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।…