ঊনবিংশ শতকের শুরু। জাতিকে এক নতুন ভাবাদর্শে উদ্বুদ্ধ করেন রাজা রামমোহন রায়—বাংলার নবজাগরণের জনক। তমসাচ্ছন্ন জাতি আত্ম-আবিষ্কারের আলোর ছটায় তখন উদ্ভাসিত হয়। শুরু হয় চেতনার উন্মেষ, আত্ম-মর্যাদা ও আত্ম বিশ্বাসের উপলব্ধি, জ্ঞানের প্রকাশ, সৃষ্টির আনন্দ। রামমোহনের প্রগতিবাদী আন্দোলনের দুর্বার আবেগের ধারা তুঙ্গ শৃঙ্গে পৌঁছায় স্বামী বিবেকানন্দের স্বপ্ন, আদর্শ ও জনজাগরণের সংগ্রমে।
বাংলা সমৃদ্ধি ও সামগ্রিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে। বিশ্বের দরবারে বাংলা আজও প্রগ্রতি ও মানবতার প্রতীক। এক বিংশ শতাব্দীর চার দশকের কমিউনিস্ট শাসনের অবসান ঘটায় বাংলার মানুষ, প্রতিষ্ঠিত হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মা মাটি মানুষের সরকার।
বহু মণীষীর জীবন ও কীর্তির মাঝে নিহিত আছে নবজাগরণের ইতিকথা। তাঁদের সাধনা ও সৃষ্টির মাধ্যমে জগৎ জানতে পারে ভারতের গরিমা, মহত্ব ও বিশ্বমানবতার বার্তা। বিংশ শতকের সূচনা হয় বঙ্গ ভঙ্গের দুর্বার প্রতিবাদ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ব্যাপক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। দেশ প্রেম—জাতীয়তাবোধের দুর্দমনীয় আঘাতে ইংরেজ আমলের অবসান হয়—প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন ভারত। স্বাধীন বাংলা গড়ার কর্মযজ্ঞ শুরু করেন ডা. বিধানচন্দ্র রায়।
নবজাগরণের দুশো বছর উপলক্ষে বাবুবাগানের পুজোর সুবিশাল গ্রন্থাগারে অধিষ্ঠিত আছেন মা দুর্গা। সৃজনে রয়েছেন অধ্যাপিকা সুজাতা গুপ্ত, প্রতিমায় শিল্পী সনাতন পাল, আবহ সঙ্গীত শিল্পী কল্যান সেন বরাট।
ছবি ও ভিডিও : চয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক সামন্ত