করোনার কালো ছায়া একটু সরে যেতেই ভ্রমন পিপাসু বাঙালী সপ্তাহান্তে ছুটি সাথে দোল পূর্ণিমা উপোভোগ করতে ছড়িয়ে পরেছিল বাংলার কোনে কোনে। সেই আনন্দ উৎসবে রাঢ় বাংলার বিষ্ণুপুর ছিল অন্যতম আকর্ষণ কেন্দ্র। বাংলার একান্ত আপন এইসব অনবদ্য টেরাকোটার ফলকে সজ্জিত শতাব্দী প্রাচীন মন্দির দেখে বিপুল সংখ্যার পর্যটক যখন একটু অন্য রকম আনন্দ নিতে বোটে করে লালবাধের জলে নৌকাবিহার আর সাথে বিষ্ণুপুর ঘরানার সংগিত শুনতে আসছিলেন লালবাধের পাড়ে। সেখানকার শ্রীহীন জনমানব শূণ্য ভাঙা ঘাট আর বন্ধ টিকিট কাউনটার তাদের সেই আশায় জল ঢেলে দিচ্ছিল। ২০১৮ মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরনায় উৎসারিত যৌথ উদ্দোগের এই হতোদ্যম চেহারা মনটাকে খারাপ করে দিল।

কি নেই এখানে? পর্যটকদের জন্য সার সার বাঁধানো বসার যায়গা। ১২ আসন বিশিষ্ট মোটর চালিত বোট, সব নিয়ে এক দুর্দান্ত টুরিস্ট স্পট। একটু নজর দিলে এটি হয়ে উঠতে পারে বিষ্ণুপুর তথা স্থানীয় পর্যটনের অন্যতম সেরা স্ট্রেস-বাস্টার। সাথে প্রশাসন আর স্থানীয় লোকেদের কিছু আয়।

একসময় দীর্ঘদিন ধরেই জবরদখলের চাপে গতি হারিয়েছিল লালবাঁধ। সঙ্গে জলজ উদ্ভিদ গতি রুদ্ধ করেছিল এই হেরিটেজ জলসম্পদের। অনেকদিন ধরেই এই লালবাঁধ সংস্কারের দাবি জানাচ্ছিলেন বিষ্ণুপুরবাসী। ঘাটে চান করতে আসা একজন জানালেন “২০১৮ সালে লালবাঁধ সংস্কারের জন্য একাধিক প্রকল্প হাতে নিয়েছিল রাজ্যের সেচ দফতর। বিষ্ণুপুর মহকুমা প্রশাসনের উদ্যোগে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছিল। হাজির ছিলেন সেচ দফতর, বিদ্যুৎ দফতর, লালবাঁধ ট্রাস্টি বোর্ড, বিষ্ণুপুর পুরসভার আধিকারিক বৃন্দ।
পরিযায়ী পাখিদের কথা ভেবে পৃথক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হযেছিল ওই বৈঠকে। বাঁধের জলে ভেসে থাকা জলজ উদ্ভিদ পরিষ্কার করে মাছ চাষের ব্যবস্থার কথাও হয়েছিল।

শহরের জানজট কমাতে বাঁধের উত্তর দিক বরাবর একটা রাস্তার কথাও হয়েছিল। লালবাঁধের পাড়গুলির সৌন্দর্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিষ্ণুপুর পুরসভাকে। আর আলোর বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বিদ্যুৎ দফতর। সব নিয়ে ছিল এক দারুন সম্ভাবনাময় লালবাধের স্বপ্ন।