| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

কর্পোরেট লাইফ ইন এন্সিয়েন্ট ইন্ডিয়া : রমেশ চন্দ্র মজুমদার (৪নং কিস্তি) অনুবাদ : বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
বিশ্বেন্দু নন্দ / ২৭২ জন পড়েছেন
আপডেট সোমবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২২

প্রথম অধ্যায়

পাঁচ

এই অনুকূল অবস্থার প্রেক্ষিতে শ্রেণী এবং অন্যান্য সংগঠনগুলির শুধুই অবয়বেই বৃদ্ধি ঘটছে না, [রাষ্ট্রীয় প্রণোদনায়] তাদের নানান উদ্দেশ্যপূরণ হওয়ায় সংগঠনগুলির ওপর গণজনের আস্থা নিরন্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বহু শিলালেখ পাঠ সূত্রে এই আস্থা বৃদ্ধি, অর্থাৎ রাজপুরুষেরা সংগঠনগুলোকে যে নানান সামাজিক কাজে লাগাচ্ছেন তার বিস্তৃত উদাহরণ আমরা এখানে উপস্থিত করছি —

১। ৪২ তম বছরে অর্থাৎ ১২০ খ্রিতে, নাসিকের একটি শিলালেখয় শক গোষ্ঠী প্রধান নহপনের জামাই উষাভদত্ত ৩০০০ কর্ষাপণ দান করার কাজটি লিপি এবং নথিবদ্ধ করেন। যেসব বৌদ্ধ সন্ন্যাসী নাসিকের গুহায় বাস করেন, তাদের পরিচর্যার জন্যে এই অর্থ, গোবর্ধন অঞ্চলের একটি শ্রেণী সংগঠনকে দান করা হল নিম্নলিখিত শর্তে

‘মাসিক ১ শতাংশ সুদে ২,০০০ কর্ষাপণ (কাহাপণ) তাঁতিদের শ্রেণী সংগঠনকে দান করা হল; ‘মাসিক ০.৭৫ শতাংশ সুদে ১,০০০ কর্ষাপণ আরেকটি তাঁতি শ্রেণী সংগঠনকে দান করা হল; একই সঙ্গে এটাও বলে দেওয়া হল, এই অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রয়োজন নেই, সেই অর্থের সুদ ব্যবহার করা যাবে। এই দানের উদ্দেশ্য বিষয়ে বিস্তৃতভাবে বলা হল মাসিক ১ শতাংশ হারে ২,০০০ কর্ষাপণকে কাপড় অর্থ হিসেবে গণ্য করতে হবে; এই অর্থ থেকে বাস এবং বাসস্থান রক্ষা করা প্রত্যেক সন্ন্যাসীকে ১২ কাষাপণ মূল্যের বস্ত্র দিতে হবে; অন্য ১,০০০ টাকা কুশানদের অর্থ হিসেবে দিতে হবে, যার অর্থ এখন আর জানা যায় না।

উপসংহারে আমাদের জানানো হচ্ছে, ঘোষণা (এবং) প্রথা অনুসারে, টাউনের হলের নথি রাখা দফতরে [এই দানের বিষয়টি] নিবন্ধিত হল (proclaimed (and) registered at the town’s hall, at the record office, according to custom)।

২। তৃতীয় শতকে নাসিকেরই রাজা ঈশ্বরসেনের রাজত্বের ৯ম বছরে (২) একটি লেখতে গোবর্ধনের একটি শ্রেণী সংঘে এই ধরণের চিরস্থায়ী দানের সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে —

‘কুলারিকদের (Kularikas, হয়ত কুম্ভকর) শ্রেণী সংঘে ১,০০০ কর্ষাপণ, Odayantrikas ওড্যান্ত্রিকদের (যারা জলঘড়ি, জল সেচের যন্ত্র ইত্যাদি তৈরি করেন) শ্রেণী সংঘে ২,০০০ কর্ষাপণ, দান করা হল। শিলালেখটির শেষ অংশটা বিকৃত হয়েগিয়েছে কিন্তু যতটুকু পড়া যাচ্ছে, তাতে স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে তেল তৈরি করা কলু সমাজের শ্রেণী সংগঠনে কিছু অর্থ দান করা হয়েছে, অন্য আরেক শ্রেণী সংগঠনে আরও ৫০০ কার্ষাপণ দান করা হয়। দানের উদ্দেশ্য ত্রিরশ্মি পাহাড়ে বসবাস করা সন্ন্যাসীদের ওষুধপত্র ব্যবস্থা করা।

৩। জুন্নার শিলালেখতে বলা হয়েছে কোণাচিক এলাকায় একটি শ্রেণী সংগঠনে যে দান করা হল, সেটির আয়কে দুভাগ করে করঞ্জ এবং বট গাছ লাগাতে ব্যবহার করতে হবে।

৪। জুন্নারের আরেকটি শিলালেখতে বাঁশের কাজ করা এবং কাঁসার কাজ করা শ্রেণী সংগঠনে অর্থ দান করা হয়েছে।

৫। ঐ একই এলাকার তৃতীয় শিলালেখয় একটি গুহা এবং জলাধার দান করেছে ভুট্টা/গম ব্যবসায়ীরা।

এ ছাড়াও বেশ কিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শিলালেখর উল্লেখ পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে কোনও না কোনও শ্রেণী সংগঠনে নির্দিষ্ট কিছু কাজের জন্যে অর্থ দানের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু কোন সূত্রে এই কথাগুলো বলা হয়েছে তার সারমর্ম পাওয়া যায় নি। যে পাঁচটি শিলালেখ পাওয়া গিয়েছে, সেগুলি নির্ভর করে আমরা শ্রেণী সংগঠনের কাজকর্ম এবং কাঠামো বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য জানতে পারছি। ১-৪ নম্বর শিলালেখ থেকে একটা বিষয় দ্বর্থ্যহীনভাবে বোঝা যাচ্ছে, শ্রেণী সংগঠনগুলি জনগণের অর্থ অছি হিসেবে জমা রাখত এবং সেই জমা থেকে নিয়মিত সুদ দিত। শ্রেণী সংঘগুলি যেহেতু অর্থ ধার দিত, তাই মেকিয়াভেলির মত রাজা তাদের চতুরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার পদ্ধতি পরিকল্পনা করতেন — কৌটিল্য সূত্রে এই তথ্য আমরা আগেই আলোচনা করেছি। হয়ত শ্রেণীগুলি আধুনিক কালের ব্যাঙ্কের মত কাজকর্ম করত। প্রথম শিলালেখতে স্পষ্ট শ্রেণী সংগঠনগুলি ৯ থেকে ১২ শতাংশ বার্ষিক সুদ দিত [নবাবি আমলেও তাই দেখি সুশীল চৌধুরী, ওম প্রকাশের গবেষণা সূত্রে]। শ্রেণী সংঘগুলি যেহেতু দেশজুড়ে সঙ্গঠিতভাবে কাজ করত, তাই তাদের অবশ্যই নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম নির্দিষ্টভাবে অনুসরণ করতে হত যাতে তাদের ওপর জনগণের আস্থা তৈরি হয়। শ্রেণী সংগঠনগুলি বিপুল সংখ্যায় অর্থ জমা রাখত বলেই জনগণের আস্থা অর্জন করা জরুরি ছিল। এই নিয়মগুলি নিশ্চই দীর্ঘসময়ের জন্যে কার্যকর ছিল এবং তাদের কাজকর্মের মধ্যে সততা এবং সমতার দৃষ্টি অনুসৃত হত। এ সব নিয়ম কঠোরভাবে পালন করা হত বলেই জনগণ তাদের কাছে দীর্ঘসময়ের জন্যে অর্থ বিনিয়োগ করতে দ্বিধা করত না। প্রথম শিলালেখর উপসংহার থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার এই শ্রেণী সংগঠনগুলি প্রাচীনকালের শহরগুলিতে আধুনিক সময়ের পৌর সংস্থার ভূমিকা পালনও করত একই সঙ্গে তাদের কাজ ছিল জনগণের অর্থ জমা রাখার অছি হিসেবে কাজ করা। তারা শুধুই অর্থ জমা রাখত না, ৩ নম্বর শিলালেখ থেকে বুঝতে পারা যায় তারা বিভিন্ন সম্পত্তিও গছিত রাখত।

দানগুলি করা হত নানান কারনে। এই কাজ সম্পাদন করতে শ্রেণী সংগঠনগুলোকে নিশ্চয়ই তাদের পেশার বাইরে অতিরিক্ত কিছু পেশাদারি দক্ষতা অর্জন করতে হয়েছিল। কোনও কোনও শ্রেণী সংগঠনের দায় ছিল দান দেওয়ার সময় উদ্দিষ্ট গাছ লাগানো, এবং কারিগর সংগঠনগুলো ওষুধ ইত্যাদি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ না হয়েও গুহায় বসবাস করা সন্ন্যাসীদের চিকিৎসার দায় নিতে হয়েছিল। উল্লিখিত শিলালেখ থেকে আরেকটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে যায়, একই অঞ্চলে একের বেশি শ্রেণী সংগঠন অবস্থান ছিল। উদাহরণস্বরূপ গোবর্ধন অঞ্চলে একটির বেশি তাঁতি সংগঠন কাজ করেছে। শ্রেণী সংগঠনগুলিকে পেশার নামেই চিহ্নিত করা হত, কিন্তু একটি জায়গায় কোনচিক অঞ্চলের শ্রেণী সংঘও বলা হয়েছে। এর কারন হতে পারে, সেই গ্রামে হয়ত একটাই শ্রেণী সংগঠন ছিল বা গ্রামজোড়া একই পেশার মানুষ মিলে একটিমাত্র সংগঠন তৈরি করেছিল। পালি সাহিত্যে এই ধরণের সংগঠনের কথা বলা হয়েছে। ৫ নম্বর শিলালেখতে দেখি, শ্রেণী সংগঠনগুলি শুধু দান গ্রহণ করছে না, তারা নিজেরা দানও করছে।

প্রথম যুগের ধর্মশাস্ত্রগুলোতে বেশ কিছু জারি করা নিষেধাজ্ঞা আমাদের শ্রেণী সংগঠনের কাজকর্ম বিষয়ে আরও কিছু অন্তর্দৃষ্টি দান করে। যাজ্ঞবল্ক্য সংহিতার দ্বিতীয় অধ্যায়ে এই শ্লোকগুলো পাচ্ছি—

শ্লোকটি থেকে আমরা আন্দাজ করতে পারি শ্রেণী সংঘগুলোর চরিত্র হয়ত যৌথতা নির্ভর ছিল — আজকে যাকে আমরা সংগঠনের সংবিধান বা আর্টিকলস অফ এসোসিয়েসন বলে অভিহিত করি, সঙ্ঘগুলো সেই নীতি এবং প্রথামালা তৈরি আর অনুসরণ করত; পুরাকালে সে সব নিয়মনীতি অবজ্ঞা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হত। শ্রেণীর প্রতিনিধিরা দরবারে শ্রেণী সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করতেন; রাজার পক্ষ থেকে তাদের যথাযোগ্য সম্মানও দেখানো হত। শ্রেণীগুলির পরিচালনায় সর্বোচ্চ আধিকারিক (ক্রিয়া চিন্তক) হিসেবে কাজ করতে খাঁটি, সৎ এবং পুণ্যবান ব্যক্তিকে নিয়োজিত করা হত। সংগঠনের সঙ্গে তাঁদের কী সম্পর্ক ছিল, সেটি আজ আর জানা যায় না। অথবা তাদের রাজা নিযুক্ত করত না বা তারা সদস্য দ্বারা নির্বাচিত হতেন সে তথ্যগুলোও আজ ধোঁয়াশায় ভরা। তবে ‘কর্তব্যম বাচনম লেশম সমূহ-হিতবাদিনাম’ বাক্য থেকে স্পষ্ট হয় এই আধিকারিকেরা সমবায়িক সংগঠনের সদস্যদের ওপরে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে পারত এবং কোনও সদস্য নেতৃস্থানীয়র সিদ্ধান্ত অমান্য করলে, তাকে শাস্তি দেওয়ার সম্পূর্ণ অধিকার ছিল সেই আধিকারিকের। সদস্যরা সমবায়িক সংঘের প্রণীত আইন এবং প্রথা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হত; এবং সদস্যরা যদি আধিকারিকের কাজের বিরুদ্ধাচরণ করত, এবং কর্তৃপক্ষ এবং সাধারণ সদস্যর মধ্যে যদি মতান্তর ঘটত, অথবা আইন ভঙ্গের কাজ হত, তাহলে রাজা দুপক্ষকে আইন মেনে চলতে বাধ্য করতেন। সর্বোচ্চ আধিকারিকের হাতে যদিও বিপুল ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি কখনোই সঙ্ঘ পরিচালনায় একছত্র আধিপত্য চালাতে পারতেন না। সেক্ষেত্রে সদস্য সাধারণ একত্রিত হয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আইন এবং প্রথা মেনে চলতে তাকে বাধ্য করত (নানান টিকাকার এ বিষয়ে বিশদ মন্তব্য করেছেন। মিত্রমিশ্র যাগ্যবল্ক্যস্মৃতির দ্বিতীয় অধ্যায়ের ১৮৭ নম্বর শ্লোক সম্বন্ধে টিকা করে বলছেন, সংঘ সমবেত হয়ে সর্বোচ্চ আধিকারিককে শাস্তি দিতে পারত। পরে এই বিষয় নিয়ে বিশদে আলোচনা করেছি)।

সংঘের সভাপতি (প্রেসিডেন্ট) বিষয়ে কোনও উল্লেখ যদিও করা নেই, কিন্তু শ্রেষ্ঠীণ শব্দটা সে সময়ের শিলালিপিগুলিতে নিয়মিত ব্যবহার হওয়া থেকে মনে হয়, তিনি সংঘের সভাপতিই ছিলেন; কিন্তু সত্যকারের ক্ষমতা ন্যস্ত ছিল সর্বোচ্চ আধিকারকের হাতে। ফলে এই সময়ের শ্রেণী সংঘের সংবিধানের সঙ্গে আমরা আধুনিক সময়ের সমিতির সংবিধানের সঙ্গে তুলনা করতে পারি যেখানে একজন সর্বোচ্চ আধিকারিক এবং তার সভাসদ নিয়ে সংঘের কার্যকলাপ পরিচালনা করেন। শ্রেণী সংঘের সমবায়িক মর্ম অসামান্যভাবে প্রকাশিত হয়েছে ১৯০ নম্বর শ্লোকে, শ্রেণী সংঘের কাজকর্ম চালানোর সময় কোনও সদস্য যদি কোনও উপহার পান (হয়ত রাজা এবং অন্যান্য সূত্রেও) তাহলে সেটি শ্রেণী সংঘকে অর্পণ করারা প্রথা ছিল, এবং তিনি সঙ্ঘকে সেই উপহার জমা না দিলে তাকে পাওয়া দানের ১১ গুণ অর্থ জমা দিতে হত।

এই সময়ের শ্রেণী সংঘ এবং অন্যান্য সমবায়িক সংঘের গুরুত্ব বিষয়ে নিচের পয়েন্টগুলো থেকে আমরা কতগুলো তথ্য আবিষ্কার করি

১। কোনও সমবায়িক সংঘের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি (সমবিদব্যতিক্রম) উল্লঙ্ঘনের বিষয়টি যাজ্ঞবল্ক্যে আর মনুতে একটি আইনি উপধারা হিসেবে আলোচিত হয়েছে;

২। সাধারণ প্রবচন উল্লেখ করে যাজ্ঞবল্ক্য বলছেন শ্রেণী সংঘের আইন এবং প্রথা (সাময়িক — নারদ স্মৃতিতে সাময়কে বর্ণনা করা হয়েছে সংঘ চালনার নীতিসমূহ হিসেবে। এর পর থেকে আমি এই অর্থে সাময়িক শব্দটা ব্যবহার করেছি) নির্ভর করে যে দায়িত্ব অর্ষিত হয়, সেটি শাস্ত্রবচন এবং রাজার তৈরি আইনের বিরোধী হয় না এবং সেটি সতর্কতা সহযোগে প্রয়োগ করতে হয়; ফলে সংঘের প্রতি দায় আর রাষ্ট্রের প্রতি সেই দায় সমভাবেই প্রযুক্ত হয়।

ওপরের উল্লিখিত মহাভারতের স্তবক সম্বন্ধে বলা যায়, সাধারণভাবে সে সময়ে শ্রেণী সংঘে খুবই গুরুত্ব অর্পিত হত। ফলে শ্রেণী সংগঠন অনেক সময় রাজকীয় ক্ষমতার অন্যতম সহায়ক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। শ্রেণী সংঘের নেতৃত্বের মধ্যে দ্বন্দ্ব উপস্থিত হওয়া বা তাদের বিশ্বাসঘাত করতে প্রণোদিত করাকে রাষ্ট্র বিরোধী কাজ হিসেবে দ্বর্থহীনভাবে চিহ্নিত করা হত। গন্ধর্বদের হাতে পরাজিত হয়ে মানসিকভাবে অস্থির দুর্যোধন রাজধানীতে ফিরতে অস্বীকার করে বললেন, ‘সেখানে ফিরে আমি কী করে শ্রেণী সংঘের নেতৃত্বর মুখোমুখি হব? শ্রেণী সংঘের নেতৃত্ব (এবং অন্যান্যরা) আমায় কী বলবেন এবং আমিই বা তাদের প্রশ্নের কী উত্তর দেব?’ শেষে আমি শান্তি পর্বের একটি শ্লোক উল্লেখ করব, শ্রেণী সংঘের সদস্যরা যে শ্রেণীতেই থাকুক না কেন, সেই শ্রেণীর প্রতি তাদের দায়িত্ব পালন না করার পাপকে কোনও ধরণের প্রায়শ্চিত্ত দিয়ে ঢাকা যায় না।

শ্রেণী সংঘ বিষয়ে হরিবংশতে একটি আকর্ষণীয় সূত্র উল্লিখিত হয়েছে; কৃষ্ণ এবং কৃষ্ণের অনুগামীদের মধ্যে কুস্তির লড়াইএর বর্ণনায় কুস্তির আখড়া ঘিরে দর্শকদের ক্ষমতার থাকবন্দী অনুসরণ করে বসার যে আয়োজন করা হয়েছে সেখানে নানান শ্রেণী সংঘের নেতৃত্বের বসার আলাদা জায়গাকে বলা হয়েছে পাহাড়ের মত বিশাল, এবং এই পাহাড়ের মত বিশাল ক্ষেত্রগুলিতে প্রত্যেক শ্রেণীর নেতৃত্বের নাম, হাতিয়ার এবং তাদের কাজর্মের নানান উৎপাদনে সজ্জিত করা হয়েছে।

প্রাচীন বৈশালীর বসারহতে (Basarh) যে পোড়ামাটির সিল পাওয়াগিয়েছে, সেটি সে সময়ের শ্রেণি সংঘের কাজকর্মের বিষয়ে নতুন ধারণা তৈরি করতে সাহায্য করেছে। সিলে যে সব কিংবদন্তি পাওয়া গেল —

১। শ্রেষ্ঠী স্বার্থবাদ কুলিক নিগম

২। শ্রেষ্ঠী কুলিক নিগম

৩। শ্রেষ্ঠী নিগম

৪। কুলিক নিগম

ওপরের কিংবদন্তিগুলির গুরুত্বপূর্ণ শব্দটা হল নিগম আজকের ভাষায় গিল্ড বা কর্পোরেশন (যৌথ উদ্যোগ)। অধ্যাপক ডি আর ভাণ্ডারকর বলছেন এর কোনও বিশেষ মানে নেই, একে সাধারণ অর্থেই অর্থাৎ শহর বোঝাতে ব্যবহার করা দরকার। অধ্যাপক ভাণ্ডারকরের মন্তব্যটি গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে যদি অন্য কিছু আশ্চর্যজনক আবিষ্কার না হয়, আমরা তাঁর সম্মানে এই শব্দের মানেকে আলাদা করে চিহ্নিত করলাম না।

ওপরে গুরুত্বপূর্ণ কিংবদন্তি আলোচনায় দেখলাম, শহরের পরিচালনায় যৌথভাবে বা আলাদা আলাদাভাবে শ্রেষ্ঠী, কুলিক এবং স্বার্থবাহদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়কে আপাত ব্যতিক্রমী মনে হলেও দক্ষিণ ভারতের ব্যবসায়ীদের বিপুল বিশাল শ্রেণী সংগঠনের উদাহুরণের প্রেক্ষিতে বলা যায়, এই ধারণাটা খুব একটা ব্যতিক্রমী নয়, আমরা এ বিষয়ে সবিস্তারে পরিবর্তী অধ্যায়ে আলোচনা করব। গোয়ালিয়রের ৮৭৭ খ্রিঃর একটি শিলালেখতে উল্লেখ করা হয়েছে যে শহর পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হল শ্রেষ্ঠী এবং স্বার্থবাহদের ওপর।

শ্রেষ্ঠী, স্বার্থবাহ এবং কুলিক শব্দগুলি সাধারণ সংস্কৃত অভিধানে শ্রেণী সংঘের প্রধান বা বাণিজ্য কাফেলার প্রধান হিসেবে। কিছু পূর্বে পোড়ামটির সিলে উৎকীর্ণ শ্রেণী সংঘের বিষয়টি আলোচনা থেকে পরিষ্কার শ্রেণী সংঘ এতই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে যে তারা শহর পরিচালনার কাজে দায়িত্ব প্রাপ্ত হচ্ছে। আমরা এর আগে জাতক আখ্যানে শ্রেষ্ঠী এবং কারিগর অধ্যুষিত গ্রামের উল্লেখ পেয়েছি, যতদূর সম্ভব চতুর্থ এবং পঞ্চম শতে একই অবস্থা ছিল। যাই হোক আজকে [রমেশবাবু লিখছেন আজ থেকে ১০০ বছর আগে — অনুবাদক] দাঁড়িয়ে আমাদের যে জ্ঞান রয়েছে তাতে একটা বিষয় পরিষ্কার বৈশালীর বসারহতে (Basarh) যে সিল পাওয়ায় গিয়েছে, সে সূত্রে বলতে পারি গুপ্ত আমলে ভারতের বিভিন্ন শহরে শ্রেণী সংঘ এতই ক্ষমতাশালী হয়ে উঠেছিল যে তারা শহর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও অর্জন করেছিল। যে সব পণ্ডিৎ নিগম শব্দটিকে শ্রেণীর অর্থে ব্যবহার করেছেন তারা বসারহতে (Basarh) সিল বিষয়ক অন্যরকম সিদ্ধান্ত নিউয়েছেন। আমরা ড ব্লখের উদ্ধৃতিটা উদ্ধার করলাম — সিল-শিলালেখতে সব থেকে বেশি উল্লিখিত হয়েছে যে সব শ্রেণী সঙ্ঘ (নিগম) তারা হল ব্যাংকার (শ্রেষ্ঠীন), সওদাগর (স্বার্থবাহ), ব্যবসায়ীদের (কুলিক)। ব্যক্তির নামের সিল পাওয়া গিয়েছে; সেখানে ব্যক্তির নাম বহুবার উল্লিখিত হয়েছে, কিন্তু ব্যক্তির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী দফতরের প্রধানের নাম মাত্র ১ বার এসেছে। ব্যক্তির মধ্যে অধিকাংশই বড় সওদাগর (কুলিক)। অনেকে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী (কুলিক)। জনৈক হরি নিজেকে কুলিক এবং প্রথম কুলিক নামে চিহ্নিত করেছেন। দুজন ব্যাংকার (শ্রেষ্ঠীন), একজন স্বার্থবাহ বা সওদাগর নাম দোদ্দা। ব্যক্তির নামে দুয়ের বেশি সিল পাওয়া যাচ্ছে যেখানে তারা পরস্পরের নাম উল্লেখ করছেন বা বা তাদের নাম ব্যাংকারদের গিল্ডের সঙ্গে জুড়ে পাওয়া যাচ্ছে ইত্যাদি, ব্যক্তির মধ্যে অধিকাংশই গিল্ডের সদস্য। সিলগুলোর উদাহরণ দেখে মনে হয় উত্তর ভারতের বড় ব্যবসা কেন্দ্র যেমন পাটলিপুত্রতে আজকের দিনের চেম্বার অব কমার্সএর মত সংগঠনের অস্তিত্ব ছিল (The most numerous among the seal-inscriptions is that referring to the corporation or guild (nigama) of bankers (Sreshthin), traders (Sarthavaha), and merchants (Kulika). It is invariably combined with other seals giving the names of private individuals, only in one instance it is found together with the seal of the Chief of Prince’s Ministers. The list of private names is fairly conspicuous. A great many of them are distinguished as merchants (Kulika). One person, Hari by name, styles himself both Kulika and Prathoma Kulika. Two persons are called bankers (Sreshthin), and one, Dodda by name, was a sarthavaha or trader. Generally two or even more of the seals of private individuals are found in combination with each other or with the seal of the guild of bankers, etc., of which evidently most of them were members. It looks as if during those days, something like a modern Chamber of Commerce existed in upper India at some big trading centre, perhaps at Pataliputra (Annual Report of the Archpcological Survey, 1903-4, p. 104.))। (চলবে)

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev