প্রথম অধ্যায়
বার
প্রাচীন যুগের শেষ এবং মধ্য যুগের ঠিক আগের সময় পর্যন্ত দক্ষিণ ভারতে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন শিলালেখ সূত্রে শ্রেষ্ঠী এবং কারিগর সমাজের শ্রেণী সংগঠনের স্পষ্ট উল্লেখ পাচ্ছি। ৭২৫ খ্রিঃর রাজকুমার বিক্রমাদিত্যের লক্ষ্মণেশ্বর শিলালেখতে কাঁসা-পিতল কারিগরদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। একই শিলালেখতে শ্রেণীর সংবিধানও উতকীর্ণ করে তাদের প্রশাসনিক কাজে অংশ নেবার কথাও বলা হয়েছে। সংবিধানে বলা হচ্ছে পরিজিরি (Porigere) শহরে সব ধরণের প্রজা কার্তিক মাসে তাদের দেয় রাজস্ব, শ্রেণী সংগঠনকে অর্পণ করবে। শিলালেখতে উতকীর্ণ শর্ত থেকে পরিষ্কার, শ্রেণী সংঘ এখানে স্থানীয় প্রশাসনের এক্সটেনশন হিসেবে সরকারের মহাজন এবং খাজাঞ্চিখানা হিসেবে কাজ করার জন্যে উদ্দিষ্ট। একই জায়গার ৭৯৩-খ্রিঃর আরেকটি শিলালেখয় তাঁতিদের শ্রেণী সংগঠন এবং তার প্রধানের কথা উতকীর্ণ হচ্ছে। দ্বিতীয় কৃষ্ণের রাজত্বকাল ৯০২-৩ খ্রিঃতে মুলগুন্দ শিলালেখতে ৩৬০টি শহরের শ্রেণী সংগঠনের চার জন নেতার কথাও পাওয়া যাচ্ছে। শিলালেখটির বক্তব্য সূত্রে আমরা শ্রেণী সংঘের বিকশিততম অবস্থা আন্দাজ করতে পারি। লেখসূত্রে আমরা স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি এই শ্রেণী সংগঠন বিশাল এলাকায় তাদের কাজকর্মের ব্যবস্থাপনা করছে। ত্রিভূবন চক্রবর্তী রাজাধিরাজ দেবের তামিল শিলালিপি থেকে জানতে পারি কাঞ্চি এবং তার শহরতলী আর ২৪টা নগরের তেল ব্যবসায়ীরা কাঞ্চির একটি মন্দিরে মিলিত হয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, থিরুক্কাচুরের তেল ব্যবসায়ীরা সেই গ্রামের মন্দিরের পুজো দেওয়া এবং বাতিদানের দায়িত্ব গ্রহণ করবে। এটিকে তারা জাতির ধর্ম হিসেবে অভিহিত করছে। ষষ্ঠ বিক্রমাদিত্যের সময়ে ১১১০ খ্রির শিলালেখতে, বেশ কিছু শ্রেণী সংঘের যৌথভাবে দান করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে the 120 (members of the) guilds, being (convened), made gifts to the god Kammatesvara of Ehur : the stonecutters’ guild assigned one quarter of a gold piece; the braziers’ guild, as much lime for drawing sacred figures (as was necessary); the carpenters, blacksmiths, the goldsmiths, the berattumbar, (?), and others, an ada for each residence। দ্বাদশ এবং ত্রয়োদশ শতকেরত বহু শিলালেখতে তেলি, তাঁতি, কারিগর, কুম্ভকর ইত্যাদি কারিগর পেশাদারদের শ্রেণী সংগঠনের বহু উল্লেখ পাওয়া যাচ্ছে।
তাছাড়া দক্ষিণ ভারতের শ্রেষ্ঠীরা তাদের শ্রেণী সংগঠন ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে চালাবার জন্যে খ্যাত ছিল। ১২০৪-এর বেলগাঁও শিলালেখতে নানান ব্যবসায়িক শ্রেণী সংগঠনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও ষষ্ঠ বিক্রমাদিত্য এবং দ্বিতীয় তাইলাপার নিদাগুন্ডি শিলালেখতে ৫০৫ শ্রেষ্ঠীর একটি সংঘের কথা পাচ্ছি যারা বিভিন্ন ধার্মিক কাজে নানান ধরণের বস্তু ইত্যাদি দান করত। জটাবর্ণম বীর পান্ড্যের দশম বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ৭৯ জেলার ১৮টা উপজেলার শ্রেষ্ঠী দল একযোগে মিলিত হয়ে নিম্নলিখিতভাবে মন্দির সারাবার অর্থ আলাদা করে সরিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেয় — মহিলাদের কাপড়ের গাঁটরি থেকে একচতুর্থ পানম পরিমান বস্ত্র, লঙ্কা এবং আখরোট এবং সোনান ইত্যাদির প্রতিটা পণ্ডি থেকে নির্দিষ্ট পরিমান সম্পদ। যেউরের একটি ১০৭৭ খ্রির শিলালেখয় পাচ্ছি শিবপুরার শ্রেষ্ঠীদের একটি যৌথ সংঘে নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ দান করা হচ্ছে আগুণ পুজা সম্পাদনের উদ্দেশ্যে। আরেকটি শিলালেখতে উল্লেখ পাচ্ছি, একজন ব্রাহ্মণকে ভরণপোষণ করার শর্তে শ্রেষ্ঠীদের [শ্রেণীতে/সঙ্ঘে?] অর্থ দান করা হচ্ছে।
বিক্রম চোলের সময়ে তিরুমুরুগানপুন্ডির একটি শিলালেখতে শ্রেষ্ঠী সংঘের কথা বলা হচ্ছে। দক্ষিণ ভারত জুড়ে ৫০০ কাছাকাছি এই ধরণের শ্রেণী সংঘের অস্তিত্ব ছিল। চালুক্য রাজা ১১৭৮-এর দ্বিতীয় জগদেকামিল্লার একটি শিলালেখতে আয়াভুল, আজকের আইহোলে ৫০০ শ্রেষ্ঠী বসবাসের উল্লেখ পাওয়া যাচ্ছে। শ্রেষ্ঠীদের এই ধরণের যৌথ শ্রেণী সংগঠনের বহু উদাহরণ দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বারবার উল্লিখিত হয়েছে। একটি কানাড়ি শিলালেখতে আইহোলের ৫০০ স্বামী, নানাদেশি সেত্থিরা একত্রিত হয়ে আহভামল্লেশ্বরের পুজার জন্যে অর্থ বরাদ্দ করার কথা বলা হচ্ছে। ১১৬১-র মানাগোলি শিলালেখতে বানাঞ্জ ধর্মের রক্ষক হিসেবে বিখ্যাত আইহোলের ৫০০ বিখ্যাত স্বামীর কথা উল্লিখিত হয়েছে।
দক্ষিণ ভারতজুড়ে বিভিন্ন শিলালেখতে ব্যবসায়িকদের নানান সংগঠনের কথা উল্লিখিত হচ্ছে বালাঞ্জিয়ম, বালাঞ্জিয়ুর, বালাঞ্জি, বানাঞ্জি ইত্যাদি উপসর্গ অনুসর্গেজুড়ে। এইধরণের যৌথ সমবায়িক সংঘ দক্ষিণ ভারতে বহু অতীত কাল থেকেই ছিল এবং এই সংগঠনগুলি অন্যান্য সমাজের ওপর এবং ভারতের নানান প্রান্তে প্রভাব ফেলেছে। প্রথম রাজেন্দ্র চোলের সময়ের একটি শিলালেখয় শ্রেষ্ঠী সংগঠন এবং রাষ্ট্রের গুণগান গাওয়া হয়েছে that these were praised by 500 virasasanas (i.e., edicts?) glorifying their deeds, were virtuous protectors of the Vira-Valanjika (or Valanjiya) religion, that they were born of Vasudeva, Kandali and Virabhadra, were the devotees of Bhattaraki (i.e., the goddess Durga?) and consisted of various subdivisions coming from the 1,000 (districts) of the four quarters, the 18 towns, the 32 velarpuram and the 64 ghatikasthana, viz., settis, settiputras (settippillal ?), kavares, yandalis, bhadrakas, gavunda-svamins, singam, sirupuli, valattukai (i.e., valangai) variyan and others. These nanadesis met together at Mayilarpu (i.e., Mylapore) and decided to convert Kattur which was originally Ayyupulal into a Virapattina and thus exempted its inhabitants of all communal contributions entitling them to receive twice what they used to get till then (in the matter of honorary privileges ?). They resolved, also, that henceforward ard the town was not to be inhabited by such members of the mercantile classes (1) as demnded taxes or tolls by threatening people with drawn swords or by capturing them (?) and (2) as wantonly deprived people of their food or otherwise afflicted them. They also declared that those who offended against this decision were placed outside the Valanjiya-community (i,e, were excommunicated).
মানাদেশি শব্দটি ব্যবহার থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার হয় যে এই তথ্যপঞ্জীতে যে ব্যবসায়ীদের নাম রয়েছে তারা বিভিন্ন দেশে ব্যবসা করে। কাট্টুর শিলালেখতে শ্রেষ্ঠী এবং রাষ্ট্র সম্বন্ধে যে ধরণের প্রশস্তি লেখা হয়েছে, সেই রকমের একটি দীর্ঘ প্রশস্তি মহীশুর রাজ্যের বালিগামী শিলালেখতেও উল্লিখিত রয়েছে they were brave men (viras) born to wander over many countries ever since the beginning of the krita age, penetrating regions of the six continents by land and water routes and dealing in various articles such as horses, elephants, precious stones, perfumes and drugs, either wholesale or in retail. শ্রেষ্ঠীদের নিয়ে এই গর্বিত অবস্থান সমর্থিত হয়েছে শ্রীলঙ্কা এবং বার্মায় আবিষ্কৃত শিলালেখগুলিতে। সে সব লেখয় সমুদায়িক দানের কথা বলা হয়েছে। উত্তর বার্মার পাগান শহরে এক বৈষ্ণব মন্দির শহরের (নানাদেশি) ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যমে তৈরি হয়। বাসিনিকোণ্ডা শিলালেখ সূত্রে জানা যাচ্ছে নাড়ু, নগর এবং নানাদেশি গোষ্ঠী এবং অন্যান্য ধার্মিক সম্প্রদায়ের (সমায়া) ৮টি অঞ্চল থেকে নানান ধর্মীয় অনুগামী সম্প্রদায় যেমন এরিবীর, মুনাইবীরিলঞ্জিঙ্গাবীর, কোঙ্গাভাল, এছাড়াও অন্যান্য তাঁতি সম্প্রদায় ইত্যাদি থেকে ১৫০০ জন প্রতিনিধি শিরাবল্লীর বিশেষ জনসমাবেশে উপস্থিত হয়। এই সমাবেশের উদেশ্য ছিল শিরাবল্লীকে নানাদেশী-দশমাদি-এরিবীরপট্টন হিসেবে গণ্য করা এবং শহরের বাসিন্দাদের জন্যে বেশ কিছু সুযোগ সুবিধে দেওয়া, হয়ত কাট্টুর শিলালেখতে যে ধরণের সুযোগ সুবিধের কথা বলা আছে, সেরকম কিছু।
দুটি বিশেষ শিলালেখ উপরোক্ত ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের গোষ্ঠীগত উদ্যমের কথা বর্ণনা করছে। সেখানে বলা হয়েছে By one of them the merchants of the eighteen samayas of all countries (residing) in Nandyala sthala grant the privilege to trade in certain articles, without paying duty, to a certain Puliyama-Setti for having killed Karapakala Kati-Nayaka who had become a traitor to the samayas. আরেকটি শিলালেখয় একইভাবে, একই দলকে বলা হচ্ছে নিহত দলীয় জনৈক এতেনা নামক ব্যবসায়ীর সঙ্গে ব্যবসা করাতে। অর্থাৎ মারা যাওয়ার পরেও শ্রেণী/দল/গোষ্ঠী তার প্রয়াত সদস্যের পরিবারের সঙ্গে ব্যবসা করছে।
এই ধরণের ব্যবসায়িক সংঘ যেমন ভালাঙ্গাইদের নানান তথ্য আবিষ্কার করা গিয়েছে। ত্রিচিনোপল্লির জেলার একটি শিলালেখতে ভালাঙ্গাই ইদাঙ্গাইদের একজোট হওয়ার চুক্তি পাওয়া গিয়েছে। সেই লেখ থেকে জানছি ৯৮টি শ্রেণীর ভালাঙ্গাই এবং ৯৮টি শ্রেণীর ইদাঙ্গাই একত্রিত হয়ে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় থাকা ব্রাহ্মণ এবং ভেলাল্লা জমিদারদের বানিয়া ভাড়াটেদের শোষণের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার উদ্যম নেয়। [তামিলনাড়ুর দুই শ্রেণী গোষ্ঠী ভালাঙ্গাই আর ইদাঙ্গাই। ভালাঙ্গাই মানে ডান হাত আর ইদাঙ্গাই বাম হাত। ভালাঙ্গাই শ্রেণী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে মূলত চাষী এবং কৃষিভিত্তিক পেশাদারদের নিয়ে। পেরিয়ারেরা সেই প্রাচীন কাল থেকে বিংশ শতক পর্যন্ত এদের পাশে ছিল। ইদাঙ্গাই তামিলনাড়ু বিশ্ববিখ্যাত ধাতু, তাঁতি এবং অন্যান্য কারিগর শ্রেণীর সংগঠন। ইদাঙ্গাইএর ৫টা গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক জাতি হল কান্নার, থাট্টার, আসারই, কল্লার, থাচান। স্বাভাবিকভাবে সংখ্যায় বেশি হওয়ায় ভালাঙ্গাইদের জোর বেশি ছিল। ভালাঙ্গাই ৬০টার বেশি জাতি নিয়ে তৈরি, সেখানে ইদাঙ্গাই মাত্র ৬টি জাতির সমন্বয়। ভালাঙ্গাইরা অনেক সংগঠিত, সামাজিকভাবে এবং রাজনৈতিকভাবেও। জাঁ এন্টনি ডুবয় হিন্দু ম্যানার্স কাস্টমস এন্ড সেরিমনিতে বলছেন তারা পেরিয়ারদের তারা ভালাঙ্গাই-মৌগাট্টার – ভালাঙ্গাই-বন্ধু আখ্যা দেয়। চোল রাজত্বের সময় দুটি শ্রেণী মিলে ১০০র কাছাকাছি (৯৮টা) জাতি ছিল। উনবিংশ শতকে সেটা ৬০+ এবং ৬+এ দাঁড়ায়।]
ভালাঙ্গাইএর ৯৮ এবং ইদাঙ্গাই-এর ৯৮ শ্রেণীর অর্থ এরা ছোট ছোট গোষ্ঠীর সংগঠন ছিল। এগুলি একসঙ্গে মিলে বড় দল/শ্রেণী তৈরি হয় — এবং এটি আশ্চর্যজনকভাবে বর্ণিত হয়েছে এর আগে উল্লিখিত উত্তত্তুর শিলালেখয়, আমরা ৯৮টা উপ-জাতি (সাব-সেক্ট) এক জোট হয়ে, রাজার রাজত্বের ১০ম বছরে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছি, আমাদের ওপর যত ভাল, আমরা নিজেদের এক মা-বাবার পেটের সন্তান হিসেবে দেখব, এবং যত খারাপই নেমে আসুক না কেন, আবড়া সব কিছুই ভাগ করে নেব। ইদাঙ্গাই শ্রেণীর ওপর হানিকর কিছু ঘটে, আমরা যৌথভাবে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করব। যৌথ মণ্ডলীর সভায় যারা সম্প্রদায়গত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্যে the birudas of horn, bugle and parasol নিয়ে এসেছে, তারা আমাদের শ্রেণীর সদস্য। এর পর থেকে আমাদের চেনার চিহ্ন হবে সারসের পালক আর ঝুলন্ত খোলা চুল। বৈঠকে শিঙ্গা আর শাঁখ বাজানো হবে এবং ইদাঙ্গাইদের চিহ্ন হিসেবে বিউগল বাজবে। যারা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করবে, প্রত্যেকেই সমাজের/শ্রেণীর শত্রু চিহ্নিত হবে। ইদাঙ্গাইদের শ্রেণীর সিদ্ধান্তের যারা বিরুদ্ধাচরণ করবে, তাদের বিষয়ে ইদাঙ্গাই সমাজকে জানানো হবে এবং তাদের শ্রুতিমান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। যারা আমাদের বিরোধিতা করবে, তাদের আমাদের শ্রেণী দাস হিসেবে গণ্য করবে। [We, the members of the 98 sub-sects enter into a compact, in the 10th year of the king, that we shall hereafter behave like the sons of the same parents, and what good or evil may befall any one of us, will be shared by all. If anything derogatory happens to the Idangai class, we will jointly assert our rights till we establish them. It is also understood that only those who, during their congregational meetings to settle communal disputes, display the birudas of horn, bugle and parasol shall belong to our class. Those who have to recognise us now and hereafter, in public, must do so from our distinguishing symbols — the feather of the crane and the loose-hanging hair (?). The horn and the conchshell shall also be sounded in front of us and the bugle blown according to the fashion obtaining among the Idangai people. Those who act in contravention to these rules shall be treated as the enemies of our class. Those who behave differently from the rules (thus) prescribed for the conduct of Idangai classes shall be excommunicated and shall not be recognised as Srutimans. They will be considered slaves of the classes who are opposed to us.”]
মাথায় রাখা দরকার এই ভাবে ভালাঙ্গাই-৯৮ শ্রেণী নামে সমবায়িক গোষ্ঠী তৈরি হল। বেশ কিছু শিলালেখ সূত্রে ভালাঙ্গাই-এর ৯৮ শ্রেণী আর ইদাঙ্গাই-এর ৯৮ শ্রেণীর কার্যকলাপ বিষয়ে আমরা জানছি [যদিও জাঁ ডুবয় ইদাঙ্গাইদের ৬টা জাতি বলছেন]। কিন্তু এর বহু পরের সময়ে, ১৪২৯ খ্রিঃতে দক্ষিণ আরকোট জেলার বৃদ্ধাচলমে যে লেখটি পাওয়া গিয়েছে সেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ… যদিও এই লেখটি সম্পূর্ণ নয়, কিন্তু এটা থেকে যতটুকু বক্তব্য উদ্ধার হয়েছে, তার থেকে পরিষ্কার, রাজার পক্ষে আমলা/আধিকারিকেরা বলপ্রয়োগ করে ভালাঙ্গাই আর ইদাঙ্গাইদের থেকে রাজস্ব আদায় করত; এর প্রতিকার করতে দুটি গোষ্ঠী শ্রেণী সংগঠন তৈরি করে, এবং যারা এই সিদ্ধান্ত মানবে না তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে [[It] is not in a good state of preservation, but from what remains of it, it is ascertained that the members of the Valangai and Idangai sects met together in the courtyard of the local temple and came to the decision ‘ that since the officers of the king and the owners of jivitas oppressed … and the kaniyalan and the Brahmanas took the raja-karam (i.e. taxes), none of the Valahgai and Idangai people should give them shelter and that (none of the people of the two sects) born in the country should write accounts for them or agree to their proposals. If any one proved traitor to the country (by acting against this settlement), he should be stabbed.’]। একই বছরে লেখা, অন্য অঞ্চল, তাঞ্জোর জেলার করুক্কাই (Korukkai) থেকে উদ্ধার হওয়া আরেকটি লেখ ওপরের গৃহীত সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানাচ্ছে। তাদের বক্তব্য ভালাঙ্গাইদের ৯৮টা এবং ইদাঙ্গাইদের ৯৮টা গোষ্ঠী একযোগে মিলিত হয়েছে …. কারণ তারা[রাজকর্তৃপক্ষ] আমাদের উৎপাদনের ওপর রাজস্ব আদায় করে না, অন্যান্যভাবে অতিরিক্ত কর আদায় করে।…. আমরা দেখলাম পালিয়ে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই। হঠাৎ বুঝলাম আমরা এবং সারা দেশ এই দুষ্কর্মকে রুখতে এক জোট নই, তাই আমাদের ওপর অত্যাচার নামিয়ে আনা হচ্ছে। এরপর থেকে আমরা ন্যায় অনুযায়ী উৎপাদনের নির্দিষ্ট অংশ রাজস্ব হিসেবে দেব, এবং আমাদের ওপর অন্যায়ভাবে অতিরিক্ত রাজস্ব চাপিয়ে দেওয়াকে আমরা মানব না (because they did not tax us according to the yield of the crop but levied the tM xes unjustly Ave were about to run away. Then we realized that because we of the whole country were not united in a body, we were unjustly (dealt with) Hereafter we shall but pay what is just and in accordance with the yield of the crops and we shall not pay anything levied unlawfully)।
প্রাচীন ভালাঙ্গাই শ্রেণী সংগঠন আদতে এক ধরণের বৃহত্তর ব্যবসায়িক সংঘ বিশেষ। এই উদ্যম আমাদের বুঝতে শেখায় কোন পদ্ধতিতে যৌথ ভাবনায় জারিত হয়ে ছোট ছোট সংগঠন মিলে বিশালাকারের ব্যবসায়িক সংঘ হয়ে ওঠে।
কোট্টায়াম এবং কোচিনে তিনটি তাম্রভূমিদানলিপি পাওয়া যায়, (ড. হেরমান) গুন্ডার্ট প্রাচীনতম মালায়লমে লিখিত পায়ানুর পাট্টোলা কবিতা আবিষ্কার করেন, সেখানে আঞ্জুবনম (Anjuvannam মূলত অভারতীয় ব্যবসায়িকদয়ের সংগঠন) এবং মানিগ্রামম (Manigramam ভারতীয় ব্যবসায়িকদের সংগঠন) নামক দুটি সূত্র উল্লিখিত হয়েছে। যে সূত্রে দুটি বিষয় উল্লিখিত হয়েছে, তাতে এদুটিকে ব্যবসায়িক সংঘ হিসেবে মনে করা যেতে পারে। স্থানু রবির কোট্টায়াম তাম্রফলকে এদের কথা বেশ কয়েকবার উল্লিখিত হয়েছে এবং এদের আর আরও ৬০০কে দানের রক্ষক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বলা হয়েছে “to preserve the proceeds of the customs duty as they were collected day by day and to receive the landlord’s portion of the rent on land. If any injustice be done to them, they may withhold the customs and the tax on balances, and remedy themselves the injury done to them. Should they themselves commit a crime, they are themselves to have the investigation of it. আঞ্জুবনম এবং মানিগ্রামমকে শহরের রাজস্বমুক্ত জমি নিয়ন্ত্রণের অধিকার দেওয়া হয়। পায়ানুর পাট্টোলা এবং এই ভূমিদানলিপি সূত্রে আমরা আন্দাজ করতে পারি ভালাঞ্জিয়ারের মত আঞ্জুবনম এবং মানিগ্রামম ছিল অর্ধস্বশাসিত ব্যবসায়িক সংগঠন। রবিকোরামকে, শেট্টি (ব্যবসায়ী) নামে উপাধি দেওয়া হচ্ছে এবং একই সঙ্গে তাকে বাণিজ্য অধিকারও দেওয়া হচ্ছে। আমরা কোট্টায়াম বীররাঘব তাম্রলিপিতে ঠিক যেভাবে দেখেছি, এখানেও মানিগ্রামমের প্রধান হিসেবে তাকে রাজস্ব আদায়ের সমস্ত অধিকার দেওয়া হচ্ছে। এর থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে যায় যে মানিগ্রামম আদতে একটি ব্যবসায়িক সংগঠন (আঞ্জুবনম এবং মনিগ্রামম বিষয়টি আমি নিয়েছি ড ভেঙ্কাইয়ার কোট্টায়াম প্লেট অব বীররাঘব প্রবন্ধ থেকে)।
এই তাম্রপত্রগুলির তারিখ এখনও প্রতিষ্ঠিত হয় নি [বর্তমান সময়ে তারিখ নির্ণয় সম্ভব হয়েছে ১২২৫ খ্রিঃ – অনুবাদক]। কেউ এটিকে অষ্টম শতাব্দে প্রতিস্থাপিত করতে ইচ্ছুক অন্যরা একে চতুর্দশ শতকে নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু প্রবন্ধ লেখক ভেঙ্কাইয়া বলছেন সংগঠন তৈরি হওয়ার সূত্রেই তাম্রলিপিটি তৈরি হয়েছে এই ধারণাটি ভুল। তিনটি তাম্রপত্র জারি করার বহু আগে থেকেই আঞ্জুবনম এবং মনিগ্রামমএর মত সামাজিক সংঘের অস্তিত্ব ছিল।
আমরা দেখলাম হিন্দু শাসনের শেষ সময় পর্যন্ত ব্যবসায়িক সংগঠন খুবই বিকশিত অবস্থায় প্রতিষ্ঠিত সংগঠন হিসেবে কাজ করত এবং এই শ্রেষ্ঠী সংগঠনগুলি দক্ষিণ ভারতের সমাজ জীবনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
[এই হল প্রাচ্যবাদী কনক্লুশন] (চলবে)