দ্বিতীয় অধ্যায়
রাজনীতিতে ব্যবসায়িক সংগঠন
রাজনৈতিক জীবনে জনগণের ব্যবসায়িক উদ্যমের প্রকৃতি নির্ভর করত সরকারের চরিত্র ভিত্তি করে। কোন এক একচ্ছত্র রাজার রাজত্বে ব্যবসায়ীরা রাজার কাজকর্ম সম্পাদন করতে সহায়তা করত। আবার যে রাজত্বে রাজা নেই, সেখানে তাদের কাজ বাড়ত; কারিগর শ্রেণীগুলোকে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের নানান কাজ সম্পাদন করতে হত। ফলে আমাদের এ বারের আলোচনাটি রাজা নির্ভর এবং রাজা নিরপেক্ষ রাজত্ব এই দুই ভাগে ভাগ করতে হবে।
রাজা নির্ভর রাজত্বগুলোর জনগণের জনগণের প্রথমতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল রাজা নির্বাচন করা। প্রায় প্রত্যেক রাজনীতি, রাষ্ট্রনীতির পণ্ডিত মনে করেন ভারতবর্ষের বৈদিক আমলে রাজা নির্বাচন জনগণের কাছে অজানা-অচেনা বিষয় ছিল না। জিমার বলছেন কোনও কোনও রাজ্যে জনগণই রাজা নির্বাচিত করত। জিমারের তত্ত্বটিকে সমর্থন করেছেন ওয়েবার এবং ব্লুমফিল্ড। কিন্তু বিরোধিতা করেছেন গেল্ডনার। গেল্ডনারের বক্তব্য প্রজারা রাজাকে নির্বাচিত করত না, রাজার রাজত্বকে মেনে নিতে বাধ্য হত। ম্যাকডোনেল মনে করেন গেল্ডনারের বক্তব্য অনেকটাই সত্যের কাছাকাছি, কিন্তু একই সঙ্গে মনে করেন কোথাও কোথাও জনগণ রাজাকে নির্বাচিত করত।
জিমার এবং অন্যান্যদের বক্তব্যের সমর্থনে আমরা কিছু সূত্র তুলে দেওয়া চেষ্টা করব এবং দেখাতে চেষ্টা করব কীভাবে নির্বাচনে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হত।
‘Like subjects choosing a king, they, smitten with fear, fled from Yritra.
কৌষিতকীতে [উপনিষদ] ব্যবহৃত অথর্ববেদের দুটি স্তবকে রাজার অভিষেকের যে ঘটনা বিবৃত হয়েছে সেটি নিঃসন্দেহে রাজা নির্বাচনের স্পষ্ট ইঙ্গিতবাহী —
“Let the falcon lead hither from far (para) the one to be called, living exiled in others’ territory (kshetra); let the (two) Asvins make the road for thee easy to go; settle together about this man, ye his fellows.
“Let thine opponents call thee; thy friends have chosen (thee) against them (?prati); Indra-and-Agni, all the gods, have maintained for thee security (kshema) in the people (vis).
Whatever fellow disputes thy call, and whatever outsider — making him go away (apanch), O Indra, then do thou reinstate (avagamaya) this man here.
III. “Unto thee hath come the kingdom; step forward with majesty as lord of the people, sole ruler…
“Thee let the people choose unto kingship.
“Hither hasten forth from the furthest distance…
O Indra, Indra, come thou to the tribes of men, for thou hast agreed, concordant with the Varunas. He here hath called thee from his station (thinking) he should sacrifice to the Gods and make the people submissive.
“The Goddesses of welfare who assume various forms and are present in all places, all assembling have made thy path clear. Let all in concord call thee… .
lV. [The following passage of Atharvaveda, used by Kausitaki for the restoration of a king, also refers to the election of a king from among several candidates (belonging to the same family according to Zimmer.)]
“At his direction (pradis) O Gods, be there light, sun, fire or also gold; be his rivals (sapatna) inferior to him… .
“With what highest worship (brahman), O Jatavedas thou didst bring together draught (payas) for Indra, therewith, O Agni, do thou increase this man here; set him in supremacy (sraisththya) over his fellows (sajata).
“…O Agni, be his rivals inferior to him…”
“Increase, Indra, this Kshattriya for me; make thou this man sole chief of the clans (vis); unman (mis-aksh) all his enemies; make them subject to him in the contests for preeminence.”
“Portion thou this man in village, in horses, in kine; unportion that man who is his enemy…
“In him, O Indra, put great splendours; destitute of splendour make thou his foe.”
“I join to thee Indra who gives superiority (? uttarvant) by Avhom men conquer, are not conquered; who shall make thee sole chief of people (jana), also uppermost of kings descended from Manu.
“Superior (art) thou, inferior thy rivals, whosoever, O king, are thine opposing foes; sole chief, having Indra as companion, having conquered, bring thou in the enjoyments (bhojana) of them that play the foe.”
King-makers are referred to in the following passages.
VII. “Even as the non-royal king-makers, the heralds and headmen, are to the king, so those paryangas (animals encircling the main animal) are to the horse
VIII. “They that are kings, king-makers, that are charioteers and troopleaders (সংস্কৃত) subjects to me do thou O parna make all people round about. (This verse occurs in a passage in Atharvaveda which is used by Kausitaki to accompany the binding on of an amulet for general prosperity, including, as is apparent from the context, the success of a king)
রাজা নির্বাচনের প্রমাণ হিসেবে প্রাসঙ্গিক সব গুরুত্বপূর্ণ স্তবক ওপরে উদ্ধৃত করলাম। আমি বেদ বিশেষজ্ঞ নই। এখানে যে মানে করা হয়েছে তার গুণমান বিষয়েও আমার মন্তব্য করা সাজে না। তবে এই অনুবাদ যদি মূলানুগ হয়, যদিও এই অনুবাদের গুণমান নিয়ে এখনও কোনও প্রশ্ন ওঠে নি, তাহলে নিশ্চিন্তে বলতে পারি কখনো কখনো রাজারাও জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হতেন। ওপরে উদ্ধৃত স্তবকগুলির মধ্যে I এবং III-এ সরাসরি রাজা নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। II, IV এবং V স্তবকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা বলা হয়েছে। আর নির্বাচকমন্ডলীর কথা বলা হয়েছে VI VIII VIII স্তবকে। সাফল্যের জন্যে প্রার্থনা এবং উৎসবের আয়োজন করা হত এবং প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারাবার জন্যে ইন্দ্রকে আহ্বান করা হত। এই সবগুলো স্তবক I-এর মর্মবার্তার সঙ্গে মিলে যায় এবং এর থেকে আমাদের মনে হয় যে রাজা নির্বাচন খুব একটা ব্যতিক্রমী ঘটনা ছিল না, এবং গণজন এই বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন ছিল। প্রত্যেক প্রতিদ্বন্দ্বী অসীম উৎসাহে এবং চরম কুশলতায় নির্বাচকদের তাদের পাশে নিয়ে আসার চেষ্টা চালাত এবং ভগবানের কাছে একজন প্রতিদ্বন্দ্বী তার বিপক্ষের নিকৃষ্টতা জানিয়ে তীব্র প্রার্থনা করত।
গেল্ডনার মনে করেন আমরা যে স্তবকগুলি আলোচনা করলাম সেগুলি রাজাকে শুধুই স্বকৃতি দেওয়ার, নির্বাচিত করার প্রক্রিয়া নয়, তার বাইরে অনেক কিছু। তবুও পণ্ডিতদের স্বীকৃতি অস্বীকৃতির তথ্যকে তুল্যমূল্য করে বলা যায় রাজা নির্বাচিত হওয়ার তথ্য আমরা বেদে পেয়েছি।
শতপথ ব্রাহ্মণে নির্বাচকদের শ্রেণী হিসেবে বিবেচনার দুটি উদাহরণ পাচ্ছি রথারুঢ় এবং গ্রাম প্রধান এবং এই দুই পক্ষ সে সময়ের রাষ্ট্রে সামরিক এবং অসামরিক সমাজের প্রতিনিধিত্ব করত। মহাবগগতে আমরা পাচ্ছি বিম্বিসার ৮০,০০০ গ্রামের প্রভু ছিলেন এবং তিনি ৮০,০০০ গ্রাম প্রধান বা গামিকের বৈঠক ডাকতেন। পুরোনো সাহিত্যে বিশাল সংখ্যার ব্যবহারের প্রবণতা নিয়ে আলোচনাকে দূরে সরিয়ে রেখে গ্রামীকদের নিয়ে বৈঠককে আমরা আদতে দূর বৈদিক সময়ের নির্বাচন প্রথার লুপ্ত হয়ে যাওয়া স্মৃতি হিসেবে গণ্য করতে পারি। বৈদিক সময়ে রাজাদের নির্বাচিত হওয়া বিষয়ে শতপথ ব্রাহ্মণের এই স্তবকটি গুরুত্ব বহন করে
Thou (the king and Indra) art Brahman! Thou art Indra, mighty through the people (or he whose strength is the people, i.e., the Maruta in the case of Indra, and the subjects or peasantry in that of the king).
নতুনভাবে নির্বাচিত রাজার প্রতিশ্রুতি দানের গুরুত্ব বহন করে Indra and Agni — all the gods, have maintained for thee security in the people.” বাক্যটি। আমরা লক্ষ্য করি বার বার দেশের কথায় জায়গায় মানুষের কথা বলা হয়েছে। ফলে রাজার প্রার্থনাটা এরকম হয় “people, lord of people,” ”sole chief of the clan (vis),” “sole chief of people” (jana), এবং “of lion aspect he might devour all the (hostile) clans. ঋগবেদে বলা হয়েছে অসমশক্তিধারী অগ্নি having coerced the people by his strength, has made them the tributaries of Nahusha. শতপথ ব্রাহ্মণে বহিষ্কৃত রাজা দুষ্টঋতু পৌমাসায়ন সৃঞ্জয়দের ওপর আধিপত্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অথর্ব বেদে অগ্নি একটির পর একটি ক্ল্যানে প্রবেশ করছিলেন এবং কল্যাণের রাজাকে জনগণের (বিষম) রাজা হিসেবে অভিহিত করছিলেন। এধরণের বহু উদাহরণ আমরা দিতে পারি। এবং যখন শ্লোকগুলি রচনা করা হচ্ছিল, সে সময় সরকারগুলিতে রাজা বাছার ক্ষেত্রে জনগণের ভূমিকার বিষয়টা অনুভব করা যেত।
বৈদিক উত্তর যুগে স্পষ্টভাবে রাজা নির্বাচন এবং রাজা মনোনয়নের বিষয়টি বর্ণনা করা হয়েছে। পঞ্চগারু জাতক এবং তেলপাত্ত জাতকে বোধিসত্ত্বকে রাজা হিসেবে জনগণ নির্বাচন করে। মহাবংশের দ্বিতীয় অধ্যায়ে উল্লিখিত হয়েছে প্রাচীন ভারতে প্রথম রাজার নাম ছিল মহাসম্মত। অর্থাৎ যে রাজা জনগণের সম্মতিতে নির্বাচিত হয়। শান্তিপর্বেও বলা হয়েছে প্রথম রাজা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হয়েছিলেন।
রামায়ণে আমরা একটি চমকপ্রদ স্তবক পাই যেখানে বলা হয়েছে জনগণের মত এবং সম্মতিই তখনো রাজা নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। অযোধ্যাকাণ্ডে যখন দশরথ রামকে রাজপদে অভিষিক্ত করতে চাইলেন, তিনি রাজধানীর চারপাশের শহর এবং গ্রাম প্রধানদের আহ্বান জানালেন —

এছাড়াও উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে ব্রাহ্মণ এবং সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন সঙ্গে ছিলেন আরও কিছু করদ রাজাও। সক্কলে উপস্থিত হলে রাজা সকলের সামনে প্রস্তাব পেশ করে বললেন —

যদিও রাজা শেষ কথা বলার যোগ্যতা রাখেন, তৎসত্ত্বেও তিনি উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের ভিন্ন মত শোনার ইচ্ছে প্রকাশ করলেন। তিনি বললেন, রাজার স্বার্থ নয়, তিনি রাজত্বের বিকাশের জন্যে উদ্গ্রীব। উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ একমত হয়ে রাজার ইচ্ছেতেই সম্মতি জানালেন—

কিন্তু রাজা এতে সন্তুষ্ট হলেন না। তিনি উপস্থিত ব্যক্তিবর্গকে বললেন তারা হয়ত রাজার সিদ্ধান্তেই সম্মতি প্রকাশ করেছেন তাই তারা কেন রামকে যুবরাজ হিসেবে বেছে নিচ্ছেন, সে বিষয়ে বিশদে তাদের মত প্রকাশ করুন। তখন উপস্থিত প্রতিনিধি একে একে রামের গুণাবলী প্রকাশ করলেন এবং বললেন কেন রামকে রাজপদে উপযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে নির্বাচিত করা হচ্ছে। বৃদ্ধ রাজা [দশরথ] তখন হাত জড়ো করে উপস্থিত মানুষদের সিদ্ধান্ত মেনেনিলেন এবং তার প্রতিও [জনগণের পক্ষ থেকে] একই সাধুবাদ বর্ষিত হল।
এতক্ষণ যে আলোচনাটি করলাম সেটি সাংবিধানিক ক্ষমতার উপযুক্ত বহিঃপ্রকাশ এবং তখনও জনগণ তাদের রাজা বেছে নেচ্ছেন। রামায়ণে জনগণের ক্ষমতার আরেকটি উদাহরণ আছে রাজা দশরথের প্রয়াণের পরের সময়ে। সে সময়ে আবার নির্বাচকেরা একজোট হলেন রাজা নির্বাচিত করতে।

উপস্থিত প্রতিনিধিদের মধ্যে একজন বললেনন সেই দিনই ইক্ষাকু বংশের কাউকে রাজা হিসেবে নির্বাচিতকরা উচিৎ; কিন্তু রাজগুরু বশিষ্ঠ রাজত্ব অর্পণ করা হয়েছে ভরতকে, তার আগমনের জন্যে সকলের অপেক্ষা করা দরকার। ভরতকে আগমনের বার্তা পৌঁছে দেওয়ায় হল। ভরত সম্বন্ধে বলা হল—

আবার রামায়নে পাচ্ছি —

সগর রাজার প্রয়ানের পরে প্রজারা পুণ্যবান রাজা অংশুমানকে রাজপদে নিযুক্ত করল।
মহাভারতেও রাজা নির্বাচনে জনগণের ক্ষমতা প্রয়োগের উদাহরণ পাচ্ছি। যখন খবর পাওয়া গেল প্রতীপ তার পুত্র দেবপীকে সিংহাসনে বসাবার তোড়জোড় করছেন, সে সময় ব্রাহ্মণ, প্রবীন এবং শহরের প্রতিনিধিরা রাজ্যাভিষেক স্থগিত করালেন। রাজা সংবাদ পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রতিনিধিরা রাজাকে জানান যদিও রাজা হিসেবে দেবপী সর্বগুণান্বিত ব্যক্তি, কিন্তু তার চামড়ার রঙ তাকে রাজা হতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনগণের দাবি মেনে নিয়ে দেবপীর ভাইকে রাজা করা হল।


আবার যযাতি তার ছোট ছেলে পুরুকে সিংহাসনে বসানোর সিদ্ধান্ত নিলে, জনগণ রাজার জৈষ্ঠপুত্রর সিংহাসন চ্যুতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করল। যযাতি জনসমুদায়কে পুরুর যোগ্যতা বোঝালেন, জনগণ বুঝল এবং যথাবিহিত পুরু সিংহাসনে আরুঢ় হলেন।

জনগণ তাদের সম্পত্তি প্রকাশ করলে রাজ্যাভিষেক সম্পন্ন হল।

ওপরের উদাহরণ থেকে পরিষ্কারভাবে বোঝা গেল, এমনকী মহাকাব্যের যুগেও রাজা নির্বাচনের ধারণাটি একেবারে মুছে যায় নি। বৈদিক সময়ের মত রাজা-নির্বাচক/কিংমেকার (রাজকত্তারঃ) —

পরবর্তী সময়েও সক্রিয় ছিলেন; এবং তাঁরা প্রয়োজনে রাজা নির্বাচনের অধিকার তখনও প্রয়োগ করতেন। বেশ কিছু সময়ে তাঁরা রাজার মনোনয়ন সিদ্ধান্ত বাতিল করার মত ক্ষমতা ধারণ করতেন।
একই বিষয় আমরা উল্লেখ পাচ্ছি দীঘনিকয়ে; পিতা দিসম্পতির মৃত্যুর পর রাজাকর্তারো (যারা রাজা বাছেন) যুবরাজ রেণুকে রাজা বেছে নিলে, সে বন্ধুবান্ধবদের পুরষ্কার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। স্বাভাবিকভাবে, দীঘনিকায় সূত্রে জানতে পারছি, ঠিক সময় উপস্থিত হলে রাজাকর্তারোরা রাজকুমার রেণুকে রাজপদে অভিষিক্ত করে। এই ঘটনা থেকে আমরা নির্দিষ্টভাবে বুঝতে পারলাম, রাজা বেছে নেওয়ার দলের মানুষেরা শুধুই আলঙ্করিক পদ অধিকার করতেন না, রাজা নির্বাচনে তাদের প্রভূত ক্ষমতা ছিল।
পরের সময়ের লেখতেও আমরা রাজা নির্বাচনের কিছু সংবাদ পাচ্ছি। ১৫০ খ্রির গিরিনার শিলালেখতে রুদ্রদমন, যাকে বলা হয়েছে —

সব জাতি তাদের নিরাপত্তা বিধানের জন্যে রাজা নির্বাচন করল।
আবার খালিমপুর শিলালিপিতে পালবংশের ভিত্তিস্থাপন করা রাজা গোপাল মাৎস্যন্যায়ের পরিবেশ ধ্বংস করতে, সে সময় রাজাকে সরিয়ে প্রকৃতিপুঞ্জ বা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হন।

এখানে উল্লেখ করা দরকার হিউএন সাং বলেছিলেন হর্ষবর্ধনকেও রাজত্ব চালানোর জন্যে নির্বাচিত করা হয়। রাজ্যবর্ধন হত্যা পরবর্তী সময়ে, মন্ত্রীরা একত্রিত হন। মন্ত্রীদের মধ্যে জনৈক ভাণ্ডি হর্ষবর্ধনের নাম প্রস্তাব করে বলেন, তিনি [হর্ষবর্ধন] যেহেতু পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জুড়ে থাকতেন, জনগণ আবশ্যিকভাবে তাঁকে বিশ্বাস করবে। আমি তাঁকে রাজকীয় কর্তৃত্ব ধারণ করার প্রস্তাব দিচ্ছি। প্রত্যেকে এ বিষয়ে তাঁদের ভাবনা প্রকাশ করুক। Because he is strongly attached to his family, the people will trust in him. I propose that he assume the royal authority. Let each one give his opinion on this matter, whatever he thinks. প্রস্তাবটি মন্ত্রীসভা গ্রহণ করলে হর্ষবর্ধনকে সিংহাসনে আরোহন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
কাসাকুদি লেখ থেকেও জানান যায় পল্লব রাজা নন্দীবর্মন প্রজাদের দ্বারা নির্বাচিত হন।

(চলবে)