আর তিনদিন পরেই রাত বারোটা স্পর্শ করতেই মোবাইল ফোনে উপচে পড়বে হ্যাপি নিউ ইয়ারের শুভেচ্ছা বার্তা। বাতাসে কান পাতলেই শোনা যাবে বাজির শব্দ আর হ্যাপি নিউ ইয়ারের উল্লাস ধ্বনি।
বুঝতে চেষ্টা করি, একি গতানুগতিকতার কাব্য নাকি মর্ডান টাইমস যান্ত্রিকতার হুজুগ। জিজ্ঞাসা জাগে মনে, শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানোর মুহূর্তে প্রেরক দাতার শুভকামনার কথা কি সত্যি মনে আসে! আশা করি, শুভেচ্ছা বার্তা ব্যক্তিকেন্দ্রিক নিক্ষেপণ হলেও তা যেন সমগ্রের শুভ হাওয়ার কারণ ঘটে। যা “গ্রেটেস্ট হ্যাপিনেস ফর দ্য গ্রেটেস্ট নাম্বারস” দর্শনের অনুযায়ী।
যেমন — সংসারের একজন মেয়ে যদি সুখী থাকে তবে গোটা পরিবারটাও সুখে থাকবে।
মা, মেয়ে, স্ত্রী, বৌমা, আত্মীয়া, সহপাঠী, সহকর্মী, বস, বন্ধু — সংসারে একই মেয়ের অজস্র ভূমিকা পালন করতে হয়। যা বেশ কঠিন। তাই কখনো সঙ্গী অবসাদ আবার কখনো ভেঙে পড়া। অথচ এই পরিবেশেই ঘুরে দাঁড়াতে হবে সকলকে।

শাশুড়ি-বউমার সম্পর্কে পারদের ওঠানামা ‘ঘর ঘর কি কাহানি’। বিয়ের পর মাছের সবচেয়ে ছোট টুকরো বৌমাকে দেন শাশুড়ি অথচ বাড়ির আদুরি মেয়েটির জন্য বিয়ের আগে সব থেকে বড় পিসটা তোলা থাকতো বাড়িতে। আবার সেই বৌমাই রান্নাঘরে আরশোলা দেখে ভয় পেলে তাকে বাঁচাতে ছুটে আসে শাশুড়ি।
শাশুড়ি-বউমার এহেন লড়াই মধ্যবিত্ত প্রায় সব বাঙালি পরিবারের চেনা গল্প। অভিমান, ঝগড়া পেরিয়ে তা কখনও কখনও নির্ভরতার, ভালবাসার সম্পর্ক হয়ে ওঠে বটে, তবে বহু ক্ষেত্রেই এ সম্পর্কে চাপা টেনশন থাকেই। সেই চিরচেনা বিষয়কে বরং একটা উদাহরণ দিয়ে বোঝাই।
সিনেমার নাম ‘মুখার্জিদার বউ’। বিয়ের পরে মেয়েদের ক্ষমতায়নের জার্নি নিয়ে এই ছবি। যেখানে শাশুড়ি-বউয়ের সম্পর্ককে আলাদা আঙ্গিকে বোনা হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা শাশুড়ি বৌমার ঝামেলার সমস্যার সমাধান এই ছবিতে পাওয়া গেছে। সঙ্গে রয়েছে ঘটি-বাঙাল বিরোধিতার পরিচিত স্বাদ। সিরিয়ালে যেভাবে শাশুড়ি বউয়ের সম্পর্ককে দেখানো হয়, সেদিক থেকে কাহিনীটা একটু স্বতন্ত্র।
গল্পটা মোটামুটি এ রকম—
শোভারানী শাশুড়ি ও তার বৌমা অদিতি দু-জনেই গৃহবধূ ও মুখার্জি পরিবারের বউ। দেখতে গেলে তাদের পরিচয় এক, বাড়ি এক, এমনকি অধিকারের মানুষও এক। অথচ সবকিছু নিয়েই তাদের মতভেদ। কোন এক সময় অদিতির ইচ্ছা ছিল সে চাকরি করবে কিন্তু আর পাঁচটা মেয়ের মতোই নানা পরিস্থতিতে তার চাকরি করা হয়ে ওঠেনি। আজো সেই খিদেটা রয়ে গেছে অদিতির মধ্যে ‘মুখার্জিদার বউ হাওয়ার পরও। অন্য মেয়েদের মধ্যে সেই ইচ্ছেটা দেখলে অদিতির খুব ভালো লাগে।
বাঙ্গালি পরিবারের শাশুড়ি বলতে যেমন বোঝায়, শোভারানি তেমনি এক সাধারণ মহিলা। তাঁর জীবন নানান চড়াই উতরাইয়ের মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত হয়।

মুখার্জি পরিবারের ছেলে শাশ্বত মুখার্জি। চাকরি করেন, মধ্যবিত্ত মানুষ। যিনি মা আর বউ কাউকেই রাগাতে পারেন না। বউ আর মায়ের দুজনের মধ্যে ঝামেলায় কোনরকম ব্যালেন্স করে পালাতে পারলে বাঁচেন। অদিতি ও শাশ্বতর একটি পাঁচ-ছবছরের ছোট্ট মেয়ে আছে — নাম ইচ্ছে। সে স্কুলে যায়। ভীষণ ম্যাচিওরড হলেও এই বয়সের মধ্যে যে শিশুর সারল্য থাকে তাই রয়েছে। সে বাবা-মাকে সহজ ভাবে কঠিন প্রশ্ন করে, যা ভাবতে বাধ্য করে। তার সঙ্গে বাড়ির সকলের সম্পর্ক ভালো।
শাশুড়ি বৌমার ঝামেলায় তাদেরকে বাধ্য করা হয় একসঙ্গে থাকতে অথচ তারা দু-জন স্বাধীন মানুষ যাদের ইচ্ছা অনিচ্ছা সম্পূর্ণ আলাদা। সেখান থেকেই আসল বিরোধ শুরু। শাশুড়ি বৌমার সম্পর্কের মধ্যে দিয়ে বৃহত্তর পিতৃতন্ত্রকে ধরার এবং তাকে একটু টোকা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
শোভারানী ও অদিতিকে কাছে নিয়ে আসার এবং তাদের মানসিকতার পরিবর্তনের পিছনে হাত রয়েছে এক মনস্তত্ত্ববিধ নাম– অরিত্রিকা ভট্টাচার্য। যিনি এই দুজনকে একটি জার্নির মধ্যে দিয়ে নিয়ে গেছেন।
অধিকারবোধের এই অসম লড়াইয়ে নিজেরাই খোঁজেন মতভেদের কারণগুলি। এতে একে অপরকে চেনে নতুন ভাবে। এক ছাদের নীচে থাকতে থাকতে একে অপরের বন্ধু হয়ে যায় অসম বয়সের-সম্পর্কের দুই মহিলা। ছবিটা দেখলে কোথাও নিজেদের সঙ্গে রিলেট করতে পারবেন।
আমাদের মেয়েদের জীবনের প্রতিটা গল্প সত্যি করতে গেলে একধাপ এগিয়ে গিয়ে লড়তে হয়। কেন জানেন? প্রতিটা গল্পে সমাজ আমাদের একে অপরের সঙ্গে লড়িয়ে দেয়। আর এই চক্রবুহ্যে পিষতে পিষতে সমাজের তথাকথিত যে প্রতিবাদের ভাষা, সেটাই ভুলে যাই আমরা। সুখী থাকার জন্য কিছু নিয়ম ভাঙ্গারও দরকার আছে।

একসঙ্গে থাকলে ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি, মতের অমিল, নতুন করে পাওয়ার দায়িত্ব ইত্যাদি সম্পর্কের বৈরতা সৃষ্টি করে। আসলে যে কোন সম্পর্ক গড়ে তুলতে গেলে দু-দিক থেকেই প্রচেষ্টার দরকার।
নরম-গরমে সংমিশ্রণ সম্পর্কে কিছু ছোট ছোট পদক্ষেপ, বৌমার নতুন নৈপুণ্যের ছোঁয়া আরও দৃঢ় করে তুলতে পারে সম্পর্ককে। আর এই মধুর একটি সম্পর্ক এনে দিতে পারে অকৃত্রিম ভালোবাসায় পূর্ণ পরিবার। এটাই হোকনা সম্পর্কের নিউ ইয়ার রেজলিউসান।
কবিগুরু বলেছেন, “সুখে থাকো আর সুখী করো সবে” ব্যাপারটা অনেকটা অন্যকে পারফিউম স্প্রে করার মতো। যার দ্বারা ব্যক্তি নিজেও সুগন্ধিত হয়, পরিবেশও সুগন্ধযুক্ত হয়। আসলে সুখ হলো এক ‘ওয়ানড্রাস কমোডিটি’ যা যত দেবে তত থাকবে। নতুন বছরের আগাম শুভেচ্ছা রইলো। ভালো থাকুন, ভালো রাখুন।
আসন্ন নতুন বছরের *রেজলিউসান*- বিবাদ নয়
ভালোবাসা মাখা শান্তির পরিবেশ চাই*
মা,বৌমা*দের সন্মান দিন।
খুব সুন্দর বললেন। আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই ????❤️
খুব ভালো লাগলো????
থ্যাংক ইউ বন্ধু ????