এই শতাব্দীর নজিরবিহীন রেল দুর্ঘটনা। হঠাৎ এক ঝাঁকুনিতেই সব তোলপাড়। কেউ যাচ্ছিলেন পেটের দায়ে কাজ করতে, কেউবা চিকিৎসা করাতে। এক নিমেষে বেনজির, মর্মান্তিক ও ভয়াবহ দুর্ঘটনা। এর কবলে পশ্চিমবঙ্গের সিংহভাগ যাত্রী। গভীর রাতেই দুর্ঘটনাস্থলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে দোলা সেন ও মানস ভুঁইয়া পৌঁছে যান। দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হেলিকপ্টারে উড়ে যান দুর্ঘটনাস্থলে। মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সবরকমের সহায়তার আশ্বাস দেন। এরপর তিনি হাসপাতালে জখমদের পাশে দাঁড়ালেন। মমতা বলেন, এই শতাব্দীর নজিরবিহীন রেল দুর্ঘটনা। রেল পরিকাঠামো নিয়ে সমালোচনা করেন তিনি। নিশ্চয় কিছু আছে, ভালো করে তদন্ত হোক। অ্যান্টি কলিউশন ডিভাইস ছিল না। রেলমন্ত্রী থাকাকালীন এটা ব্যবস্থা করেছিলাম। এই ব্যবস্থা থাকলে এতবড় দুর্ঘটনা হত না। কেবল তাই নয় এই কেন্দ্র সরকার গতবার রেলবাজেটই পেশ করেনি। এদিকে ঘটনাস্থলে দোলা সেন ও মানস ভুঁইয়া একটি টিম নিয়ে তদারকি করছেন। দোলা সেন জানান, ভয়াবহ ও মর্মান্তিক ঘটনা। যা দেখলে গা শিউরে উঠে। মানবদরদী দিদি এই ঘটনায় মর্মাহত ও শোকাহত। তিনি এ রাজ্যের প্রত্যেক মৃত ও জখমদের পরিবারের পাশে আছেন। সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, প্রায় ২৪ ঘন্টা পরেও রেল দুর্ঘটনার কারণ ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। তবে প্রাথমিক রিপোর্টে জানা যাচ্ছে সিগন্যাল ও চালকের ভুলেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৫। আহতের ৭০০। এ রাজ্যের অধিকাংশ দুর্ঘটনার কবলে দক্ষিণবঙ্গের মানুষ।

উল্লেখ্য, শুক্রবার ওড়িশার বালেশ্বরের বাহানাগা বাজারের কাছে নজিরবিহীন রেল দুর্ঘটনা কেড়ে নিল অন্তত শতাধিক মানুষের প্রাণ। যশবন্তপুর-হাওড়া এক্সপ্রেসের বেলাইন দুটি কামরার সঙ্গে পাশাপাশি সংঘর্ষে ছিটকে গেল আপ করমণ্ডল এক্সপ্রেস। আর তা ধাক্কা মারল পাশের লুপ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মালগাড়িতে। তিনটি ট্রেনের এই অপ্রত্যাশিত সংঘর্ষ ভয়াবহ আকার নিল বালেশ্বর। মুহুর্তে ওলটপালট হয়ে গেল যেন দুনিয়াটাই। হুঁশ ফিরতেই আশপাশে শুধু আর্তনাদ, চিৎকার ও কান্নার রোল। খেলনার মতো দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া করমণ্ডল এক্সপ্রেসের ১৫টি কামরা। তার নীচে চাপা পড়ে রয়েছে দেহাংশ ও রক্তাক্ত শরীর। সময় তখন সন্ধ্যা ৭টা।
প্রসঙ্গত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে রাজ্যের মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া ও রাজ্যসভার সদস্য দোলা সেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল গভীর রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। জখমদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে রাজ্যের তরফে ১২ জন ডাক্তার সহ ৭০টি অ্যাম্বুলেন্স ও ২টি শববাহীযান ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে ঘটনাস্থলে গভীর রাতেই পৌঁছে যান রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণো। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিকেলে বিশেষ বিমানে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উচ্চ পর্যায়ের কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে রির্পোট খতিয়ে দেখেন। এরপর ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের সঙ্গে দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন এবং আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান।
এদিকে উদ্ধার কাজ অব্যাহত। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। সেনা, এনডিআরএফ-সহ ওড়িশা প্রশাসনের উদ্ধার কাজে তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণো ঘোষণা করেছেন দুর্ঘটনায় প্রত্যেক মৃতের পরিবারকে ১০ লক্ষ, গুরতর জখমদের ২ লক্ষ ও অল্প আহতদের ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় এরাজ্যের প্রত্যেক মৃতের পরিবারকে ৫ লক্ষ, গুরুতর জখমদের ১ লক্ষ ও অল্প আহতদের ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এই দুর্ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্নের মুখে রেল। পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায় এই ঘটনায় রেলমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। সেই সঙ্গে রেল দুর্ঘটনার দায় নিতে হবে প্রধানমন্ত্রীকে।