বিধানসভা নির্বাচনে আরামবাগের আকাশ ঢেকেছিল গেরুয়া রঙে। এবার সেই আকাশ ঢেকেছে সবুজ আবিরে। হারানো মাটি ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস পুনরুদ্ধার করতে পারল বলা যায়। আরামবাগ মহকুমার চারটি বিধানসভা বিজেপির দখলে। সেই জায়গায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একের পর এক প্রকল্পের উন্নয়ন ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নব জোয়ারের ঢেউয়ে মানুষ আপ্লুত। আর সেই ফলস্বরূপ মানুষ দুহাত দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্ককে শক্তপোক্ত করে তুলল। কেবলমাত্র খানাকুল-২ ব্লক ছাড়া বাকি সবকটি ব্লকেই অধিকাংশ পঞ্চায়েত দখল করেছে তৃণমূল। যদিও গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিরোধীশূন্য ছিল এই সব পঞ্চায়েতগুলি এবং অধিকাংশ পঞ্চায়েতে বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় তারা জয়লাভ করেছিল। এবারে তা হয়নি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দিয়েছে বিরোধী দলগুলি। এমনকি বিক্ষুব্ধ তৃণমূল ও নির্দল হিসাবে যথেষ্ট বেগ দিয়েছে তৃণমূলকে। কিন্তু সব শেষে তৃণমূলই বিজয়ীর হাসি হাসল।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সকাল থেকে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে ভোট গণনা শুরু হয়েছে আরামবাগের বিভিন্ন প্রান্তে। আরামবাগের ভোট গণনা কেন্দ্র হয়েছিল কালীপুর নেতাজী মহাবিদ্যালয়ে, গোঘাট-১ ব্লকের গণনা কেন্দ্র গোঘাট হাই স্কুল, গোঘাট-২ ব্লকের কামারপুকুর কলেজ, খানাকুল-১ এর রাধানগর রামমোহন কলেজ, খানাকুল-২ এর নন্দন পুর হাইস্কুল রূপচাঁদ একাডেমি এবং পুরশুড়া ব্লকের পুরশুড়া বিদ্যাসাগর ভবন। হুগলি জেলা পরিষদের ৫৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা হয়েছে, পঞ্চায়েত সমিতির ৬১৯টি আসনে এবং পঞ্চায়েতের ৩৮৮০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী আরামবাগ মহকুমার গোঘাট-১ এবং গোঘাট-২ ব্লকে একটি মাত্র পঞ্চায়েত কুমারচক ত্রিশঙ্কু অবস্থায় আছে বাকি সবকটিতেই তৃণমূল পঞ্চায়েত গঠন করতে চলেছে। খানাকুল-১ ব্লকের ঠাকুরানিচক পঞ্চায়েত ত্রিশঙ্কু অবস্থায় আছে এখানে তৃণমূল ১২টি, বিজেপি ১২টি এবং সিপিএম একটি আসনে জয়লাভ করতে চলেছে। এই ব্লকের ১৩টি পঞ্চায়েতের বাকি বারোটিতেই বোর্ড গঠন করতে চলেছে তৃণমূল। পুরশুড়া ব্লকের সাতটি পঞ্চায়েতের মধ্যে একটিতে এগিয়ে আছে বিজেপি বাকি সবকটিতেই তৃণমূল বোর্ড গঠন করতে চলেছে। একমাত্র খানাকুল-২ ব্লকে তৃণমূলের ভরাডুবি হয়েছে বলা যায়। এখানে এগারোটি পঞ্চায়েতের মধ্যে মাত্র তিনটি পঞ্চায়েত ধরে রাখতে পেরেছে তৃণমূল বাকি সবকটিতেই বোর্ড গঠন করতে চলেছে বিজেপি। পঞ্চায়েত সমিতির আসনের ফলাফল আসতে শুরু করেছে এখানেও তৃণমূলের প্রার্থীরাই এগিয়ে আছেন। পঞ্চায়েতের মতো ফলাফল হবে বলেই আশা করা যাচ্ছে সাধারণ ভাবে।