বই পরিচিতি
[সুকুমার রায় হুমায়ুনের পারস্য প্রবাস উপাখ্যান লিখতে যে সব বইএর সাহায্য নিয়েছেন, তার বিস্তৃত বর্ণনা দিয়েছেন। শুরু করছেন ভারতবর্ষের মুঘল সাম্রাজ্যের দৃষ্টিভঙ্গীতে লেখা ইতিহাসগুলো থেকে। তারপরে আসবে পারসিক সাফাভি দৃষ্টিভঙ্গীতে লেখা ইতিহাস, শেষে ইওরোপিয় বইপত্র।]
৫। ফায়ুজুলকাওয়ানিন, লখনৌএর নবাব মহম্মদ আলি হুসেইন খানের লেখা। ‘বইতে মূলত প্রচুর সংখ্যায় ঐতিহাসিক চিঠি সংকলিত হয়েছে, চিঠিগুলির অধিকাংশ দপ্তরগুলির বর্ণনাক্রমিক ইতিবৃত্ত(অফিসিয়াল এনালস) থেকে নেওয়া। এটি তিনটে বইএর সমাহার – সে সময়ের বইএর অধ্যায় বিভাগ, ‘দফতর’এ ভাগ করা, প্রথমটা সম্রাট আর শাহজাদাদের চিঠি, দ্বিতীয়টা অভিজাতদের মধ্যে চালাচালি এবং সম্রাট আর শাহজাদাদের উদ্দেশ্যে পাঠানো চিঠি, তৃতীয়টি অন্যান্য চিঠিপত্র। বইতে পারস্যে প্রবেশের অনুমতি চেয়ে হুমায়ুনের শাহ তাহমস্পকে পাঠানো চিঠি থাকলেও শাহের উত্তরটি অনুপস্থিত। শাহের হেরাটের প্রশাসককে পাঠানো ফরমান এবং আফগানিস্তানে হুমায়ুনকে পাঠানো আফজুলাতুলতাওয়ারিখে উল্লিখিত চিঠিটা বইতে আছে। ফায়ুজুলকাওয়ানিনএর দাবি চিঠিটা হুমায়ুনকে লিখেছিলেন ইরাণের শাহজাদা। আমি স্যর জদুনাথ সরকারের পাণ্ডুলিপিটা ব্যবহার করেছি।
৬। দুরারুলমানসুর, মহম্মদ আসকরি বিলগ্রামির লেখা। ১২৩১হ/১৮১৬য় শেষ হয়েছে। অক্ষরক্রম অনুসারে এবং লেখকের নামে বহু ঐতিহাসিক চিঠি সাজানো হয়েছে। শাহ তাহমস্পের হেরাটের প্রশাসককে পাঠানো চিঠি আর ইরানে ঢোকার অনুমতি নিতে হুমায়ুনের শাহকে পাঠানো চিঠি আর তার উত্তর উল্লিখত হয়েছে। বাংলার এশিয়াটিক সোসাইটির পাণ্ডুলিপি ব্যবহার করেছি।
৭। দ্য ট্রাভলস এন্ড এডিভেঞ্চার্স অব দ্য তুর্কিশ এডমিরাল সিদ্দি আলি রইস ইন ইন্ডিয়া, আফগানিস্তান, সেন্ট্রাল এশিয়া এন্ড পারসিয়া ডিউরিং দ্য ইয়ার্স ১৫৫৩-১৫৫৬, এ ভ্যামবেরি, লন্ডন ১৮৯৯। তুর্কির নৌসেনায়ক সিদ্দি আলি রইস পারস্যে যান ১৫৫৩-৫৬ সময়ে। তিনি হুমায়ুনের পারস্যবাস নিয়ে কলমপাত করেন নি। ইরানে হুমায়ুনের যাত্রাকালে ভৌগোলিক স্থান চিহ্নিত করা নিয়ে উদ্ভুত সমস্যার কিছুটা তার বইতে রয়েছে। তার ভ্রমণ কাহিনী অনুবাদ করেন ভ্যামবেরি।
ইওরোপিয় সূত্র —
১। ডি লায়েটের ডেস্ক্রিপশন অব ইন্ডিয়া এন্ড ফ্রাগমেন্ট অব ইন্ডিয়ান হিস্টোরি, অনুবাদ জে এস হল্যান্ড এবং টীকা এস এন ব্যানার্জী, বম্বে ১৯২৮। মূল বইটার লেখক Pelseaert, নাম Frangmentum Historiae Indicae, লেখা শুরু হয়েছিল ১৬২০র ডিসেম্বরে জাহাঙ্গীরের রাজত্বে। হুমায়ুনের আলোচনায় তিনি সম্রাটের ইরাণ প্রবাসকাল আলোচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন শাহ হেরাটের প্রশাসককে হুমায়ূনের অভ্যর্থনার যেমন নির্দেশ দেন, তেমনি বাহারাম মির্জার দুরভিসন্ধি আর সুলত্যানম বেগমের উদারচিত্ত প্রভাবের কথাও বলেছেন।
২। স্তোরিয়া দো মোগোর, নিকোলো মানুচি, অনুবাদ উইলিয়াম আরভিন, জন মুরি, ১৯০৭-০৮। প্রথম খণ্ডে হুমায়ুনের ইতিহাস লিখেছেন আর পারস্যে হুমায়ুনের সঙ্গে ঘটেচলা নানান ঘটনা উল্লেখ করেছেন।
শাহ তাহমস্পের আমলে দুই ইওরোপিয় পারস্যে যান প্রথমজন ব্রিটিশ রাজদূত এন্থনি জেনকিনসন, ১৫১২, ভেনিসিয় রাজদূত ভিন্সেনশিও ডিএলিসান্দ্রি, ১৫৭১। এদের বর্ণনায় হুমায়ুনের পারস্য ভ্রমনের উল্লেখ নেই, ক) আর্লি ভয়েজেস এন্ড ট্রাভলস টু রাশিয়া এন্ড পারসিয়া, এন্থনি জেনকিনসন এবং অন্য ব্রিটিশ লেখক, হাকলুইত সোসাইটি, ৭২, ৭৩, ১৮৮৫-৮৬ খ) ন্যারেটিভ অব দ্য মোস্ট নোবল ভিন্সেশিও ডিএলিসান্দ্রি ইন ট্রাভলস অব ভেনিসিয়ানস ইন পারসিয়া, ঐ, ৪৯, ১৮৭৩।
আধুনিক বই —
১। ডবলিউ এরিস্কাইন — আ হিস্ট্রি অব ইন্ডিয়া, খণ্ড ২ ১৮৫৪
২। এইচ বেভারিজ — হুমায়ুন ইন পারসিয়া, ক্যালকাটা রিভিউ, জানু, ১৮৯৮
৩। ব্যানার্জী এস কে — ঐ, ঐ, মে ১৯৪০
৪। ঐ — হুমায়ুন বাদশা, খণ্ড ২, লখনৌ, ১৯৪১
পারসিক ভুগোল, ইতিহাস আর ভ্রমণ বিষয়ে —
১। শারডিন, স্যর জন – দ্য ট্রাভলস অব স্যর জন শ্যারডিন ইনটু পারসিয়া এন্ড দ্য ইস্ট ইন্ডিজ, লন্ডন, ১৬৮৬
ঐ — ট্রাভলস ইন পারসিয়া, উইথ এন ইন্ট্রোডাকশন বাই পার্সি সাইকস, লন্ডন, ১৯২৭
২। মোরিয়ার, জে — আ জার্নি থ্রু পারসিয়া, আরমেনিয়া, এন্ড এশিয়া মাইনর, টু কন্সট্যান্টিনোপল ইন দ্য ইয়ার ১৮০৮ এন্ড ১৮০৯, লন্ডন, ১৮১২
৩। কিন্নিয়ার, জে এম — আ জিওগ্রাফিক্যাল মেমোয়ার অব দ্য পারসিয়ান এম্পায়ার, লন্ডন ১৮১৩
৪। ম্যালকম স্যর জন — দ্য হিস্ট্রি অব পারসিয়া, ২ খণ্ড, লন্ডন, ১৮১৫
৫। ফ্রেজার, জেমস বি — ন্যারেটিভ অব জার্নি ইনটু খোরাসান, লন্ডন, ১৮২৫
৬। ঐ — এন হিস্টোরিক্যাল এন্ড ডেস্ক্রিপটিভ একাউন্ট অব পারসিয়া, ফ্রম দ্য আরলিয়েস্ট এজেস টু দ্য প্রেজেন্ট টাইম, এডিনবরা, ১৮৩৪
৭। বারবিয়ার ডি মেইনার্ড — ডিকশিওনারিই জিওগ্রাফক…, প্যারিস, ১৮৬১
৮। গোল্ডস্মিথ এফ জে — এস্টার্ন পারসিয়া, ২ খড, ১৮৭৬
৯। ম্যাকগ্রেগর, সদ্যরা চার্লস এম — ন্যারেটিভ অব আ জার্নি থ্রু দ্য প্রভিন্স অব খোরাসান… ২ খণ্ড, লন্ডন, ১৮৭৯
১০। কার্জন, জর্জ এন — পারসিয়া এন্ড দ্য পারসিয়ান কোশ্চান, ২১ খণ্ড, লন্ডন, ১৮০২
১১। ঘনি, মহম্মদ আবদুল — আ হিস্টোরি অব পারসিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড লিটারেচার ইন মুঘল কোর্ট, এলাহাবাদ, ১৯২৯-৩০
১২। লে স্ট্রেঞ্জ জি — দ্য ল্যান্ডস অব ইন্সটার্ন খিলাফত, কেম্ব্রিজ, ১৯৩০
১৩। সাইকস, স্যর পার্সি — আ সিস্টোরি অব পারসিয়া, ২ খণ্ড, লন্ডন, ১৯৩০
১৪। এবতিহাজ, জি এইচ — গাইড বুক অন পারসিয়া, তেহরান, ১৯৩৩
১৫। মাসুদ কিহান — জুগ্রাফিয়াহইমুফসসলইইরান, ৩ খণ্ড, তেহরান, ১৩১০-১১হ
১৬। হুতসমা এম, আরনল্ড টি ডবলিউ, বাসেত আর, আর্টম্যান আর — এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলাম, লন্ডন, ১৯১৩-১৪।
সমাপ্ত