দিন কয়েক হলো অভির সঙ্গে আলাপ হয়েছে। তাও আমার লেখার গুণে।
ও আমার কাজলদীঘির খুব ভক্ত।
হঠাৎ একদিন ফোরামে দেখলাম ওর রিপ্লাই। একবছর চেষ্টা করে অরিজিন্যাল লেখার সন্ধান পেলাম।
আমি লগইন করার পর দেখলাম একটা পার্শোন্যাল ম্যাসেজ। অভির। তাতে স্পষ্ট লেখা আছে আমি আলাপ করতে চাই।
সেই শুরু।
চ্যাট করতে গিয়ে বুঝলাম। অভি, অনি আর চিকনার প্রেমে পরে গেছে।
মাঝে মাঝে জ্বালাতন করে আমার সঙ্গে মিত্রাদির আলাপ করিয়ে দাও না।
ব্যাটা থাকে দুর্গাপুরে বনবাসে গেছে আমেরিকার রেসিনে। চাকরি করে আইবিএম-এ। একটা প্রজেক্টের কাজে অফিস পাঠিয়েছে। এক বছরের ছেলে, কর্মরতা বৌকে রেখে ছুটেছে আমেরিকা।
সেদিন বিকেলের দিকে মেল চেক করতে বসেছি। হঠাৎ বাবুর পিং-এর আওয়াজে সজাগ হলাম।
দাদা, আজ বাবা দিবস।
দূর ব্যাটা গতকাল হয়েগেছে।
তোমকে কতোবার বলবো আমি তোমার থেকে বারো ঘন্টা পিছিয়ে রয়েছি।
শুরুতেই ধানাই-পানাই। আপডেট কোথায়।
এখন হবে না। একটা নতুন লেখা লিখছি।
কি লিখছো বলো।
কাল দশহারা গেছে, গঙ্গা পূজো ছিল। হিন্দু কাস্টমসে এই প্রিয়েডটা ভীষণ ভাইট্যাল।
আজ থেকে শুরু হচ্ছে অম্বুবাচী। মা ঋতুমতী হচ্ছেন।
সধবারা কেন অম্বুবাচী করে না। বিধবারা কেন অম্বুবাচী করে সেই নিয়ে পড়াশুন করছি।
তার মধ্যেই থাকবে ঋতুমতী মহামায়া মা কমাখ্যার গল্প।

হুমমম। ইন্টারেস্টিং।
আমার এখানে এখন চারটে পনেরো।
হঠাৎ এত সকালে উঠে পরেছিস।
কাল অফিস থেকে এসেই ঘুমিয়ে পরলাম। খাওয়া দাওয়া হয় নি। খিদেরচোটে ঘুম ভেঙে গেল।
তাহলে মুখ ধুয়ে কিছু খেয়ে নে।
সবে ভোর হচ্ছে। পাখি ডাকছে।
বড়ো মনখারাপ করা পরিবেশ তাই নারে।
আমার মনখারাপ করে না। একটা নতুন দিন, কি লেখা আছে তাতে জানি না। আমি এনজয় করি।
ওর সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বললাম।
জানো দাদা ভোর হলো। আমার বাড়িটার ঠিক কুড়ি ফুট দূরে একটা রাস্তা হুস হুস করে গাড়ি চলছে।
তোর বাড়িটা শহর থেকে কতটা দূরে।
দাঁড়াও, কেটে পরোনা যেন। এই ভোরবেলাটাকে স্মরণীয় করার জন্য একটা স্পিলবার্গের এ্যাফেক্ট দিই।
সেটা আবার কিরে।
ওদিক থেকে কোন সারা শব্দ পেলাম না। লেখায় মনে নিবেশ করলাম।
বেশ কিছুক্ষণ পর বক্সে ঢং ঢং আওয়াজ হতে মনিটরের দিকে তাকালাম। অভি পিং করছে।
কিগো কেটে পরলে নাকি। আছো।
বল।
কি করছিলে।
লিখছিলাম।
একটা মেল করেছি দেখো, তারপর যতটা লিখেছো কপি করে পেস্ট করো।
দেখলাম অভি দশখানা ছবি পাঠিয়েছে। ও যেখানে থাকে সেইখানকার। কিভাবে ভোরের আলো অন্ধকারের বুক চিড়ে ফুটে বেরচ্ছে তার ছবি। অদ্ভুত একটা সবুজ পরিবেশ চারদিকে ঘিরে রয়েছে।
গাছের ফাঁক দিয়ে কুড়ি ফুট দূরের রাস্তা দেখা যাচ্ছে। কাঠের বারান্দায় ল্যাপটপ চায়ের কাপ।
সত্যি এক স্বপ্নিল পরিবেশ।
হ্যাঁরে তুই কি কাঠের বাড়িতে থাকিস।
এখানে বেশির ভাগ বাড়িই কাঠের। যাক আমার স্পিলবার্গ এ্যাফেক্ট পছন্দ হয়েছে।
তুই আমার মনটা চুড়ি করে নিলি।
এবার গল্পটা ঝাড়ো।
তুই জানিস।
জানি তো কি হয়েছে আমি শুনতে চাইছি।
কামরূপ কামাখ্যার একটা পৌরাণিক কাহিনী আছে।
হুমমম।

ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর এই তিনজন হচ্ছেন সৃষ্টি, স্থিতি এবং ধ্বংসের দেবতা। সৃষ্টির একবারে আদি মুহূর্তে সৃষ্টি কর্তারা যখন জগত তৈরির কাজে ব্যস্ত হলেন। পাগল শিব তখন গভীর ধ্যানে মগ্ন হলেন।
ধ্বংসের দেবতা যদি অভিমানে মুখ ঘুরিয়ে নেন তাহলে সৃষ্টি হবে কি করে। ব্রহ্মা, বিষ্ণু পরলেন মহা ফাঁপরে। বিষ্ণুর বুদ্ধিতে ব্রহ্মা নিজের মানসপুত্র দক্ষকে ডেকে পাঠালেন। দক্ষ এলেন ব্রহ্মার কাছে।
ব্রহ্মা তাঁকে বললেন, তোমাকে একটা কাজ করতে হবে।
দক্ষ পিতৃ আজ্ঞা পালনের জন্য উন্মুখ হয়ে উঠলেন।
বলুন পিতা আমাকে কি করতে হবে।
ব্রহ্মা তখন বললেন, দেখো দেবাদিদেব মহাদেব মহাযোগে তন্ময় হয়ছেন। এইরকম ভাবে চললে সৃষ্টির ব্যাঘাত ঘটবে। ধ্বংস না হলে সৃষ্টি করবো কি করে?
তুমি জগন্মাতার পূজা করো। প্রার্থনা করো তিনি যেন তোমার কন্যারূপে জন্মগ্রহণ করে শিবের পত্নী হন।
পিতৃ আজ্ঞা পালনে দক্ষ তৎপর হয়ে উঠলেন। এবং নিজের কাজে মনোনিবেশ করলেন। দেবী মহামায়া দক্ষের আকুল প্রার্থনায় প্রীত হয়ে আবির্ভূতা হলেন। দক্ষকে এই বর দিলেন আমি তোমার কন্যা রূপে জন্মগ্রহণ করবো এবং শিবকে স্বামীরূপে গ্রহণ করবো। কিন্তু একটা কথা তোমায় মনে রাখতে হবে, যখনই আমার অনাদার হবে আমি দেহত্যাগ করবো।
দক্ষ দেবী মহমায়ার কথা মেনে নিলেন।
যথা সময়ে মহামায়া দক্ষরাজার পত্নী বীরিণীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করলেন এবং মহাদেবকে বিবাহ করলেন। মহামায়া সতী নাম নিয়ে স্বামীর সঙ্গে চলে এলেন শ্বশুর বাড়ি কৈলাসে।
এতো ধানাই পানাই না করে স্ট্রেইট সর্টে এসো না।
হবে না।
কেন।
পুরানের গল্প। আমি লিখছি না। আমার বাবাও লেখে নি।
খেপে যাচ্ছ কেন।
বল।
একটা নতুন জিনষ জানলাম।
কি।
দক্ষের স্ত্রীর নাম যে বীরিণী তা জানতাম না।
ইন্টারাপ্ট করবি না।
সরি।
কিছুদিন পর স্বর্গরাজ্যে একটা অনুষ্ঠানে দক্ষরাজ নিমন্ত্রিত হয়ে এলেন। দেবসভা মাঝে পাগল শিব শ্বশুর দক্ষকে পাত্তাই দিলো না। জামাই-এর এরকম অভব্য ব্যবহারে দক্ষ বেশ অপমানিত বোধ করলেন।
শিবকে টাইট দেওয়ার জন্য দক্ষরাজ এক শিব হীন যজ্ঞের আয়োজন করলেন। তাতে দেবর্যি নারদকে ত্রিভুবনের সকলকে আমন্ত্রণের কথা বললেও শিবকে আমন্ত্রণ জানতে নিষেধ করলেন।
যথা সময়ে দক্ষরাজের যজ্ঞ শুরু হলো। নারদের মুখে সতী পিত্রালয়ে যজ্ঞ হচ্ছে শুনে, সেখানে যাওয়ার জন্য উন্মুখ হলেন। স্বামীর অনুমতি নেওয়ার জন্য তাঁর কাছে এলে শিব পাত্তাই দিলেন না। শেষে সতী দশমহাবিদ্যা রূপ দর্শন করালেন। তখন শিব সতীকে পিত্রালয়ে যাওয়ার জন্য অনুমতি দিলেন। (আগামীকাল)
বীরিণী নামটা এই প্রথম শুনলাম।