শিক্ষক দিবস : ৩ জানুয়ারি
১৯৬২ সাল। রাজেন্দ্রপ্রসাদের পরে ভারতের রাষ্ট্রপতি হলেন সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণান। তিনি দর্শনের শিক্ষক ছিলেন। মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি কলেজ, মহীশূরের মহারাজা কলেজ, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি অধ্যাপনা করেছেন। রাধাকৃষ্ণান রাষ্ট্রপতি হবার পরে তাঁর কিছু ছাত্র ঘটা করে তাঁর জন্মদিন পালনের আয়োজন করেন। সে কথা শুনে তিনি পরামর্শ দেন তাঁর জন্মদিনটি শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করা হোক : “Instead of celebrating my birthday, it would my proud privilege if September 5th is observed as Teacher’s Day.” বিশ্ব শিক্ষক দিবস ৫ অক্টোবর হলেও ভারতবাসী রাধাকৃষ্ণানের জন্মদিন ৫ সেপ্টেম্বরকেই শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।
এর বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ ধ্বনিত হয় বহুজনদের কণ্ঠে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এন. সুকুমারের কথা আমরা একটু শুনে নিই : “Savitri Bai Phule is a true democratic educationalist. She democratized education for marginalized sections and, particularly, women in general . She started schools and advocated education for all . That’s why January 3rd needs to be considered as the true Teacher’s Day.” অর্থাৎ সাবিত্রী বাই ফুলে ছিলেন গণতান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থার পূজারী, তিনি প্রান্তিক মানুষ বিশেষ করে নারীদের শিক্ষার জন্য বহু উদ্যোগ গ্রহণ করেন; তাই তাঁর জন্মদিন ৩ জানুয়ারি প্রকৃত শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করা প্রয়োজন। রাধাকৃষ্ণানের সঙ্গে তুলনা করে শ্রীসুকুমার বলেন, “Still, educational institutions, whether schools, middle or higher, are all exclusive and practice discrimination . Did Radhakrishnan ever speak about inclusive education? September 5th is a Sarkari ( government) memory of Teacher’s Day, but January 3rd is the public memory of teacher’s Day.” শ্রী সুকুমার রাধাকৃষ্ণানের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উত্থাপন করছেন তা হল : রাধাকৃষ্ণান হিন্দু ধর্ম-দর্শনে বিশ্বাসী, তিনি দলিতদের ও নারীদের শিক্ষার বিরোধী — “Radhakrishnan firmly believed in Hindu Philosophy, which denies education for Dalits and wonen . How can we consider this day as Teacher’s Day?”
Plagiarism -কি ও কেমন
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের অধ্যাপক সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণানের সম্বন্ধে চুরির অভিযোগ তুলেছিলেন তরুণ অধ্যাপক যদুনাথ সিংহ। এই চুরিকে ইংরেজিতে বলে plagirasim . শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ plagiarius শব্দ থেকে, যার অর্থ কারোর সৃজনশীল রচনা থেকে চুরি করা। রোমান কবি মার্তিয়াল প্রথম অন্য এক কবির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উথ্থাপন করেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এই plagiarism-এর সংজ্ঞা দিয়েছে, যেমন :
ক] “Use . without giving reasonable and appropriate credit to or acknowledging the author or source, of another person’s original work.” (Stanford)
খ] “Use of another’s work, words or ideas without attribution” (Yale)
গ] “Deliberate use of someone’s else’s language, ideas, or other original materials without acknowledging its sources.” (Princeton)
ঘ] “It is the use of a writer’s ideas or phraseology without giving due credit.” (Oxford College of Emory University)
পলিবিয়াস, হেরাক্লিডাস পন্টিকাস, প্লিনি দ্য এল্ডার এঁরা সকলে চুরির দায়ে অভিযুক্ত। আধুনিক যুগে এই ড়ভিযোগ উঠেছে রেবেকা মুর হাওয়ার্ড, সুজান ব্লাম, ত্রেসি ব্রেতাগ, সারা এলিন ইটনের বিরুদ্ধে।
আমাদের এই উপমহাদেশে plagiarism নিয়ে চমৎকার একটি প্রবন্ধ লিখেছেন ইদ্রিশ বখতিয়ার (Subcontinental plagiarism)। তিনি বলেছেন আগের দিনে চুরি ধরাটা সহজ ছিল না। কিন্তু গুগল আসার পরে সেটা অনেক সহজ হয়ে গেছে। রাধাকৃষ্ণানের কথা বলতে গিয়ে বখতিয়ার বলেছেন ফরিদ জাকারিয়ার কথা, বলেছেন এই চুরিবিদ্যা বড় বিদ্যা নিয়ে রীতিমতো গবেষণা করেছেন সৈয়দ হাসান মাসান্না নাদভি, যা প্রকাশিত হয়েছে ‘মেহের-ই-নিমরোজ’ পত্রিকায়।
প্রখ্যাত হিন্দি কথাকার কবি নুন মিমের বইএর একটি চমৎকার ভূমিকা লেখেন জাকারিয়া। পরবর্তীকালে প্রমাণিত হয় যে সেটি সি ডি লুইসের বই A Hope for Poetry থেকে নেওয়া; নিয়াজ ফতেপুরি ছিলেন ‘নিগার’ নামক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও লেখক। তিনি উইলিয়াম হেনরি হাডসনের An Introduction to the Study of Literature থেকে হুবহু বেশ কিছু অংশ স্বীকৃতি ছাড়া নিজের বইতে ব্যবহার করেছেন। ইসমত চুঘাতির ‘জিদ্দি’ একটি বিখ্যাত বই, এটি তুর্কি লেখক হাজিরার বই থেকে চুরি করা। কাজি আবদুল গফফর চুরি করেছিলেন খলিল জিব্রাণের বই থেকে ইংরেজ লেখক জেরোম কে জেরোমের লেখা থাকে হুবহু নিজের রচনায় ব্যবহার করেছেন ইমতিয়াজ আলি তাজ। কথা উঠেছিল রবীন্দ্রনাথ না কি লালন ফকিরের ভাবকে নিজের ভাষায় রূপ দিয়েছিলেন। (আগামীকাল)