| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ত্রিপুরী কংগ্রেসের সময়কালীন সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কে স্বামী অসীমানন্দ সরস্বতীর কিছু স্মৃতিচারণা (প্রথম খণ্ড) : উৎপল আইচ

Reporter
উৎপল আইচ / ১২৫৫ জন পড়েছেন
আপডেট মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৪

প্রাককথন

যদিও স্বামী অসীমানন্দ সরস্বতী শ্রীমৎ স্বামী কিরণচাঁদ দরবেশজী মহারাজের কাছ থেকে দীক্ষা নিয়েছিলেন ১৯৪১ সালের ১৩ই মার্চ তারিখে, তিনি সন্ন্যাস গ্রহণ করেছিলেন ১৯৪৭-এর জানুয়ারি মাসে, তাঁর গুরুজী দরবেশজী মহারাজের (২রা জুলাই ১৯৪৬-এ) মহাপ্রয়াণের পর। স্বামী অসীমানন্দ সরস্বতীর পূ্র্বাশ্রমের নাম ছিল অন্নদা কুমার চক্রবর্ত্তী।

শ্রী অন্নদাকুমার চক্রবর্ত্তীর জন্ম হয়েছিল মানভূমের রামচন্দ্রপুর গ্রামে ১৯০৪ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি। অর্থাৎ তিনি ছিলেন নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর থেকে সাত বছরের ছোট।

শ্রী অন্নদাকুমার চক্রবর্ত্তী স্বাধীনতা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যোগদান করেছিলেন খুবসম্ভব ১৯২৬ সাল থেকে। যদিও তিনি মাঝে মাঝে কলকাতায় আসতেন, তাঁর কার্যক্ষেত্র প্রধানত ছিল মানভূম জেলায়, বিশেষত রামচন্দ্রপুরে। তখন সুভাষচন্দ্র বসু ছিলেন বার্মার মান্দালয় জেলে বন্দী। তিনি কারামুক্ত হয়েছিলেন ১৯২৭ সালের মে মাসের মাঝামাঝি। সুভাষচন্দ্র বসু প্রথমবার মানভূম জেলার সদর শহর পুরুলিয়ায় এসেছিলেন ১৯২৭ সালের ২২শে অক্টোবর তাঁর রাজনৈতিক গুরু স্বর্গীয় দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের পুরুলিয়াস্থিত বাসভবন – The Retreat-এ। দেশবন্ধু-পত্নী শ্রীযুক্তা বাসন্তী দেবীকে সুভাষচন্দ্র মাতৃসমা জ্ঞান করতেন এবং মা বলে সম্বোধন করতেন। মা-বাসন্তীদেবীর সাথে সাক্ষাৎ করাই ছিল প্রথমবার তাঁর পুরুলিয়া আগমনের উদ্দেশ্য। তিনি তখন সদ্য শিলং থেকে ফিরেছেন, সম্পূর্ণ সুস্থ হননি। খুব সম্ভবত: তিনি সেবার তাঁর মা বাসন্তী দেবীর পুরুলিয়ার বাড়িতে দু’দিন ছিলেন।

সুভাষচন্দ্র বসু দ্বিতীয়বার মানভূমে আসেন ১৯২৮ সালের ৬ই এবং ৭ই মার্চ, দোল পূর্ণিমার সময়, মানভূমের সাঁতুড়ি থানার রামচন্দ্রপুর গ্রামে। সেই রামচন্দ্রপুরেই সেবার মানভূম জেলার প্রথম রাজনৈতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ঐ সম্মেলনের সভাপতি ছিলেন সুভাষচন্দ্র। খুব সম্ভবত সেখানেই প্রথম তাঁর শ্রী অন্নদাকুমার চক্রবর্ত্তীর সাথে দেখা ও আলাপ হয়। তবে এমনও হতে পারে যে সেই সম্মেলনের দিনক্ষণ ধার্য করতে বা তাঁকে আমন্ত্রণ জানাতে অন্নদাকুমার চক্রবর্ত্তীই কলকাতায় গিয়েছিলেন এবং কলকাতায় সুভাষচন্দ্র বসুর সাথে তাঁর এই সম্মেলনের আগেই পরিচয় হয়েছিল। তিনি তাঁর আত্মজীবনী ‘আমার জীবন’ বইতে বলেছেন, “রামচন্দ্রপুর সম্মেলনীতে সুভাষচন্দ্র সভাপতিত্ব করতে সম্মত হলেন এবং তাঁরই নির্দেশক্রমে দোলপূর্ণিমার দিন সম্মেলনীর দিন ঠিক হল। অভ্যর্থনা সমিতির সভাপতির পদ নিয়ে গণ্ডগোল শুরু হয়েছিল। শেষ পর্য্যন্ত আমাকেই আবার সভাপতির পদ গ্রহণ করতে হয়। এই সম্মেলনীতে রামচন্দ্রপুর আশ্রমে প্রায় বিশ সহস্র লোকের সমাবেশ হয়েছিল।”

স্বামী অসীমানন্দ সরস্বতী ‘আমার জীবন’ গ্রন্থে আরও জানিয়েছেন, “দোলপূর্ণিমার দিন বেলা প্রায় ২টার সময় সুভাষচন্দ্র গ্রামোপ্রান্তে পৌঁছালেন। শ্রদ্ধেয় জীমূতদাদা গাড়ী চালিয়ে আনছিলেন। আমি গ্রামোপ্রান্তে যেয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা করলাম। তাঁর সেদিনের সেই বুকে জড়িয়ে স্নেহালিঙ্গন আজও আমার স্মৃতিতে অমর হয়ে আছে। সুভাষচন্দ্র আশ্রমে এলেন। সভার অধিবেশন শুরু হল।”

পুরুলিয়াবাসী গবেষক শ্রী দিলীপ কুমার গোস্বামীর বই ‘মানভূমে সুভাষচন্দ্র’ থেকেও জানতে পারা যায় যে সেবার সম্মেলনের তারিখগুলো সুভাষ চন্দ্র নিজেই ধার্য করেছিলেন। আমরা আরও জানতে পারি যে সেবার সুভাষচন্দ্রের সফরসূচীতে জেলা শহর বাঁকুড়াও ছিল এবং তাঁকে বাঁকুড়া থেকে সরাসরি মোটরগাড়ীতে রামচন্দ্রপুর নিয়ে আসা হয়েছিল। সুভাষচন্দ্র সেদিন ৬ই মার্চ ১৯২৮ তারিখে নির্দিষ্ট সময়ের বেশ কয়েক ঘণ্টা দেরীতে রামচন্দ্রপুর পৌঁছেছিলেন।

গবেষক শ্রী দিলীপ কুমার গোস্বামীর তাঁর বইতে লিখেছেন, “সুভাষচন্দ্রের সাথে মানভূম কংগ্রেসের তরুণ কর্মী (বয়ক্রম ২৫ বৎসর) অন্নদাপ্রসাদ চক্রবর্ত্তীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্ক অটুট ছিল আজীবন। অন্নদাপ্রসাদের ব্যক্তিজীবন ছিল অতি কৃচ্ছতাপূর্ণ। বহু প্রতিষ্ঠানের তিনি প্রতিষ্ঠাতা। জেলার রাজনৈতিক অন্দোলনের তিনি ছিলেন পুরোধা পুরুষ। সুভাষচন্দ্র পরবর্তীকালে কংগ্রেস ত্যাগ করে নতুন পার্টি ফরওয়ার্ড ব্লক তৈরী করলে অন্নদাপ্রসাদ সুভাষচন্দ্রের সাথে ছিলেন। এ-সময় অন্নদাপ্রসাদ জামা জুতো পরতেন না, সুভাষচন্দ্রের সস্নেহ অনুরোধে অন্নদাপ্রসাদ পুনরায় জামা জুতো পরতে শুরু করেন। সুভাষচন্দ্র তাঁর নুতন স্যান্ডেল অন্নদাপ্রসাদকে দান করেন। খদ্দর ভাণ্ডার থেকে খদ্দর কিনে অন্নদাপ্রসাদকে জামা তৈরী করিয়ে দেন। সুভাষচন্দ্রের সাথে অন্নদাপ্রসাদের এই ঘনিষ্ঠ ও আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক তৈরী হওয়ায় আমরা জেলার জন্য একটি চক্ষু চিকিৎসালয় পেয়েছি।” [এই ‘Netaji Eye Hospital’ সম্পর্কে আমার ১লা ডিসেম্বর ২০২২-এর পোস্ট দ্রষ্টব্য।

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=5860876727288744&id=100000994250636&mibextid=Nif5oz ]

এরকম কিছু কথা আমরা স্বামী অসীমানন্দ সরস্বতীর বইতেও পাই। তিনি ‘আমার জীবন’ গ্রন্থে বলেছেন, “এর আগে আমি জামা ও জুতো পরতাম না। সুভাষবাবুর সস্নেহ অনুরোধে সুদীর্ঘকাল পরে আবার জামা-জুতো পরলাম। সুভাষবাবু তাঁর নিজের নতুন স্যান্ডেল আমাকে দিলেন এবং খদ্দর ভাণ্ডার থেকে খদ্দর কিনে আমার জামা তৈরী করিয়ে দিলেন। তাঁর সেই স্নেহের দান আমি বহু যত্ন করে রেখেছিলাম। টেলার চার্চ্চার ও তাদের পাঠান বাহিনী কর্ত্তৃক আশ্রম লুণ্ঠন এবং লাইব্রেরী দহনের সময় সেই অমূল্য দান ভষ্ম হয়ে যায়।”

ত্রিপুরী কংগ্রেস সম্পর্কে স্বামী অসীমানন্দ সরস্বতীর কিছু বক্তব্য

অসীমানন্দ সরস্বতী তাঁর ‘আমার জীবন’ গ্রন্থে বলেছেন, “১৯৩৯ সালের প্রধান ঘটনা ত্রিপুরী কংগ্রেস। সুভাষচন্দ্র ১৯৩০ সালে বন্দী অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে যে অবস্থার সংগে পরিচিত হলেন তাতে তিনি বিশেষ চিন্তিত হয়ে পড়লেন। তাঁর সংগে গান্ধীজীর আলোচনা চলল। সুভাষচন্দ্রের মনোভাব বরাবরই আপোষ-বিরোধী ছিল। তিনি মুক্তকণ্ঠেই বল্লেন — ‘ক্ষমতার ছিঁটেফোটা পেলেও মন্ত্রীসভাতেই শুধু নয় কংগ্রেসেও দুর্নীতি ঢুকবেই। সংগ্রামে জয়ী হবার আগে গদীতে বসলে কংগ্রেসেরও সর্বনাশ হবে, দেশেরও সর্বনাশ হবে।” তিনি আরও বলেছিলেন — ‘ইংরেজকে তাড়ানোর পর গণপরিষদই ভারতের সংবিধান রচনা করবে। গান্ধীজি এবং সুভাষচন্দ্রের মতানৈক্যের ফলে সুভাষচন্দ্র হরিপুরা কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হলেও ১৯৩৮ সালের শেষের দিকে গান্ধীজি এবং সুভাষচন্দ্রের মধ্যে মতের পার্থক্য এত বেশী বেড়ে গিয়েছিল যে সুভাষচন্দ্র মাঝে মাঝে বলতেন – ‘মনে হচ্ছে সব ছেড়েছুড়ে দিয়ে নির্জনবাসে চলে যাই।’ তাঁর কোন কোন বন্ধু এই আজন্ম সন্ন্যাসীকে এ পরামর্শ দিলে তিনি বলেছিলেন – ‘জীবনযুদ্ধে পরাজিত হয়ে কাপুরুষের মত কখনও নির্জনবাসে যোগী সাজতে যাওয়ার আকাঙ্খাকে আমি মাথা তুলতে না দি। বাস্তবপক্ষে ১৯৩৮ সালের শেষদিকটা সুভাষচন্দ্রের বড়ই অশান্তিতে কেটেছিল। ১৯৩৯ সালে ত্রিপুরী কংগ্রেস ভারতের ইতিহাসে এক স্মরণীয় ঘটনা। সুভাষচন্দ্র গান্ধীজির বিরুদ্ধাচরণেও বিপুল ভোটে ত্রিপুরী কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হলেন। সুভাষচন্দ্রের এই জয়কে ও পট্টভি সীতারামাইয়ার পরাজয়কে গান্ধীজি নিজের পরাজয় বলে গ্রহণ করলেন। ডা. রাজেন্দ্রপ্রসাদ, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল প্রমুখ গান্ধীবাদী নেতারা সুভাষচন্দ্রের সংগে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করলেন। ষ্ট্রেচারে ক’রে অসুস্থ সুভাষচন্দ্রকে কংগ্রেস মণ্ডপে আনা হ’ল। সুভাষচন্দ্রের ছোট্ট অভিভাষণ অন্যে পাঠ ক’রে দিল। গান্ধীবাদীরা সুভাষচন্দ্রের জয়কে রাজনৈতিক জয় বলে আখ্যা দিলেন। সুভাষচন্দ্রের বীরত্বব্যঞ্জক প্রস্তাব গান্ধীবাদীদের আপ্রাণ চেষ্টায় ভোটের চোটে অগ্রাহ্য হ’ল এবং কুখ্যাত পন্থ-প্রস্তাব গৃহীত হ’ল। ত্রিপুরী কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় সুভাষচন্দ্র একদিকে যেমন সমগ্র ভারতের জনগণের সমর্থন লাভ করেছিলেন অপরদিকে তেমনি শরৎ বসুও বংগীয় প্রাদেশিক কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। উভয়ের এই নির্বাচনের সাফল্যে কংগ্রেস কর্ত্তৃপক্ষ রুদ্ধ রোষে গর্জন ক’রে উঠলেন।”

“ত্রিপুরী কংগ্রেস থেকে ফেরবার পথে সুভাষচন্দ্র বিশ্রাম নেবার জন্য জিয়লগড়িয়া এলেন কোলিয়ারীতে তাঁর দাদার বাসায়। কোলকাতায় যাবার দিন লিখলেন, “আমি আজ কোলকাতায় রওনা হচ্ছি। জরুরী দরকার। চিঠি পেয়েই কোলকাতা রওনা হবে।” চিঠি পেয়েই আমি কোলকাতায় রওনা হ’লাম।… এর পরবর্তী অংশ আমরা দ্বিতীয় খণ্ডে পড়বো।

ত্রিপুরী কংগ্রেসের তারিখ এবং জামাডোবায় অসুস্থ সুভাষচন্দ্র বসুর অবস্থান

ত্রিপুরী কংগ্রেসের জন্য সুভাষচন্দ্র কলকাতা থেকে রওনা হয়েছিলেন ৫ই মার্চ ১৯৩৯ তারিখ।

তিনি ৬ই মার্চ ১৯৩৯ তারিখে জব্বলপুর স্টেশনে পৌঁছান এবং তাঁকে এম্বুলেন্স করে ত্রিপুরী নিয়ে যাওয়া হয়।

৭ই মার্চ ১৯৩৯ তারিখ কংগ্রেসের অধিবেশনে সুভাষচন্দ্র অসুস্থতার কারণে যোগ দিতে পারলেন না। সেদিন তাঁর পরিবর্তে কংগ্রেসের সবচাইতে সিনিয়র প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হিসাবে মৌলানা আবুল কালাম আজাদ অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন।

৮ই মার্চ ১৯৩৯ তারিখ সুভাষচন্দ্র সাবজেক্ট কমিটির মিটিঙে স্ট্রেচারে করে যান এবং সভাপতিত্ব করেন। সেদিন পন্থ-প্রস্তাব আলোচিত হয়।

৯ই মার্চ ১৯৩৯ তারিখেও সুভাষচন্দ্র একই ভাবে সাবজেক্ট কমিটির মিটিঙে স্ট্রেচারে করে গিয়ে সভাপতিত্ব করেন। সেদিনও পন্থ-প্রস্তাব আলোচিত হয়েছিল।

১০ই মার্চ ১৯৩৯ তারিখে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ৫২তম অধিবেশন শুরু হয়েছিল। অসুস্থতার কারণে সুভাষচন্দ্র বসু অধিবেশনে যোগ দিতে পারলেন না। মৌলানা আবুল কালাম আজাদ অধিবেশনের সভাপতিত্ব করলেন। সেদিন রাষ্ট্রপতির হয়ে সভাপতির ভাষণ পাঠ করলেন শ্রী শরৎচন্দ্র বসু।

১১ই মার্চ ১৯৩৯ তারিখে জওহরলাল নেহেরুর পরামর্শের উত্তরে সুভাষচন্দ্র বলেছিলেন, “আমি জব্বলপুর হাসপাতালে যেতে এখানে আসিনি। অধিবেশনে শেষ হওয়ার আগে আমাকে অন্য কোথাও সরিয়ে দেওয়ার আগে আমি এখানে মৃত্যুবরণ করতে চাই।”

১২ই মার্চ ১৯৩৯ তারিখে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ৫২তম অধিবেশন শেষ হয়েছিল। এদিনই পন্থ-প্রস্তাব অনুমোদিত (পাস) হয়েছিল।

১৩ই মার্চ ১৯৩৯ তারিখে অসুস্থ সুভাষচন্দ্র ত্রিপুরী থেকে কলকাতা ফেরার জন্য রওনা হয়েছিলেন।

১৪ই মার্চ ১৯৩৯ তারিখ সকালে তাঁকে ডাক্তারদের পরামর্শ-মত ধানবাদ স্টেশনে নামিয়ে নেওয়া হয়। সুভাষচন্দ্রের সাথে তাঁর মাতৃদেবী (মা-জননী) এবং দুই ভাইঝি – ইলা ও শীলাও – ধানবাদে নেমে পড়েন। তাঁদের স্টেশনে রিসিভ করতে শরৎচন্দ্র বসুর জ্যেষ্ঠ পুত্র অশোক নাথ বসু এসেছিলেন ধানবাদ স্টেশনে। তিনি তখন জামাডোবার কাছেই বারারিতে চাকরি করতেন এবং ন’কাকাবাবুর বাড়িতেই থাকতেন।

১৪ই মার্চ থেকে ২১শে এপ্রিল ১৯৩৯ সকাল পর্যন্ত পাঁচ সপ্তাহের সামান্য বেশি সময়কাল সুভাষচন্দ্র বসু জামাডোবায় থেকেছিলেন। এখানে তাঁর সাথে দেখা করতে এসেছিলেন বাবু রাজেন্দ্র প্রসাদ (৬ই এপ্রিল), শ্রী সত্যরঞ্জন বক্সী (৬ই এপ্রিল সন্ধ্যায়), শ্রীকিরণশঙ্কর রায় (১০ই এপ্রিল), মৌলভী আশরাফুদ্দিন চৌধুরী (১২ই এপ্রিল), জওহরলাল নেহেরু (১৯শে এপ্রিল দুপুরে)।

২১শে এপ্রিল ১৯৩৯ তারিখে সুভাষচন্দ্র বসু জামাডোবা ছেড়ে কলকাতা রওনা হয়েছিলেন। উপরে আমরা দেখেছি যে সুভাষচন্দ্র এই কলকাতা ফিরে যাবার দিন, অর্থাৎ ২১শে এপ্রিল ১৯৩৯-এ, শ্রী অন্নদাকুমার চক্রবর্ত্তীকে চিঠি লিখেছিলেন, “আমি আজ কোলকাতায় রওনা হচ্ছি। জরুরী দরকার। চিঠি পেয়েই কোলকাতা রওনা হবে।”

পরের অংশ আমরা দ্বিতীয় খণ্ডে দেখবো।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :-

১) “আমার জীবন” গ্রন্থটি স্বামী অসীমানন্দ সরস্বতীর স্ব-কথিত আত্মজীবনী। তাঁর এই আত্মজীবনী লিখিয়ে নেবার এবং প্রকাশ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন স্বামী অসীমানন্দের কন্যা শ্রীমতি ভারতী দেবী। শ্রীমতি ভারতী দেবীর আগ্রহেই স্বামী অসীমানন্দ সরস্বতী তাঁর কন্যাকে বলেছিলেন, “রাত্রে শোবার পর বসিস, রোজ কিছু কিছু লিখে নিস।” সেমতই এটা ভারতী দেবী এটা লিখে নিয়েছেন তাঁর পিতৃদেবের কথা শুনে শুনে।

২) আমার কাছে ‘আমার জীবন’ গ্রন্থের ১৪২৬ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত যে দ্বিতীয় অখণ্ড সংস্করণটি রয়েছে, তাতে যে পুরাতন বানানগুলো আছে, বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই সেই বানান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। গবেষক শ্রী দিলীপ কুমার গোস্বামী মহাশয়ের ‘মানভূমে সুভাষচন্দ্র’ বইটির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

৩) এই লেখার সাথে জামাডোবার P-5-A বাংলো-বাড়ীর যে ছবিটা অ্যাট্যাচ্ করা হয়েছে সেটা গবেষক শ্রী দিলীপ কুমার গোস্বামীর বই ‘মানভূমে সুভাষচন্দ্র’ থেকে লেখকের অনুমতি নিয়ে সংগৃহীত হয়েছে। শ্রী গোস্বামী বহু খোঁজ করে ১৯১০ সালে জামাডোবায় এই বাড়িটার সন্ধান পেয়েছিলেন যেটায় নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর ন’দা শ্রী সুধীরচন্দ্র বসু ও ন’বৌদিদি শান্তিলতা বসু ১৯৩৯ সালে বাস করতেন এবং সুভাষচন্দ্র বসুও ১৪ মার্চ থেকে ২১শে এপ্রিল ১৯৩৯ সকাল পর্যন্ত ৩৮ দিন এই বাড়িতে থেকেছিলেন। শ্রী সুধীরচন্দ্র বসু তখন টাটা আয়রন ও স্টীল কোম্পানিতে কাজ করতেন এবং এই বাংলোটা তাঁকে কোম্পানি থেকে থাকার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। সুধীরচন্দ্র বসুও সপরিবারে ত্রিপুরী গিয়েছিলেন এবং তিনি ১৪ই মার্চের পর ফিরেছিলেন।

৪) আর অন্য যে গ্রুপ ফটোটা অ্যাট্যাচ্ করা হয়েছে, সেটা জামাডোবাতে এপ্রিল ১৯৩৯-এ শ্রী সুধীরচন্দ্র বসুর সেই বাংলো-বাড়ীর প্রাঙ্গণেই তোলা। ছবিতে অসুস্থ সুভাষচন্দ্রকে চেয়ারে বসা অবস্থায় দেখা যাচ্ছে, আর পেছনে দাড়িয়ে রয়েছেন সুভাষচন্দ্রের ন’দা শ্রী সুধীরচন্দ্র বসু ও ন’বৌদিদি শ্রীমতি শান্তিলতা বসু।

[এর পর দ্বিতীয় খণ্ড দ্রষ্টব্য।]

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev