| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

উৎসর্গ করা রুটি : সামিরা আজম অনুবাদ মনোজিৎকুমার দাস

Reporter
সামিরা আজম / ৩৮৫ জন পড়েছেন
আপডেট শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

ইব্রাহিম তাকে তামাক ভরা পাইপটি তার হাতে দিল। তার মনে হল, সে বাচ্চার মতো কেঁদে উঠবে। তার চোখ অশ্রু সিক্ত হলো। সে তার মাথাটি একদিকে ঘুরিয়ে নিল। নিজের দুঃখ গোপন করে সে ব্যারিকেডটি দেখার জন্য মাথা উঁচু করলো। ফিরে যেতেই সে আইরিস ও তার সঙ্গীদের মুখোমুখি হলো। তাদের দুঃখ আর নিঃশব্দ নীরবতা তাঁর চোখে পড়লো। তার মনে হলো মেঘে ঢাকা চাঁদ তাদের সাথে শোক করছে। সে দুঃখকে বিলাসিতা বলে মনে করলেও সে কিন্তু আজ তা ভাবতে পারছে না। সে তার বন্ধুকে সচেতন করার জন্য তার বর্ম ফেলে দিয়ে কাঁদতে চেয়েছিল। অবশেষে সে লজ্জা না করে কাঁদলো। সে চোখ মোছার জন্য তার গায়ের পশমী শার্টের আস্তিনটি উঁচু করলো।

সে সেই রাতের কথা ভুলতে পারে না।

শীতের রাত । আরব সৈন্যবাহিনী ছোট্ট একটি বাড়িতে ছিল। চারটি পাথরের ঘর ও একটি ছোট বাগান। সেখানেই ছোট্ট হাসপাতাল গড়ে তোলা হয়। হাসপাতালের শয্যায় আটজন আহত সৈনিক ছিল।

যুদ্ধের পরে ইহুদী পুরুষরা এসেছিল। রাতে প্রচণ্ড ঠান্ডা। শীতের হাত থেকে তাঁর ভারী ওভার কোট যথেষ্ট ছিল না। সে ক্লান্ত হয়ে পড়লে শহরের প্রাচীরের ঘরের দিকে তাকিয়ে হাসপাতালের প্রাচীরের সামনে ঝুঁকে পড়েলো। হঠাৎ আক্রমণের আশঙ্কা নিয়েই সে অস্বস্তিকরভাবে ঘুমিয়ে পড়লো। পুরো রাস্তাগুলিতে স্ট্রিটল্যাম্প জ্বলছিল।

সে সাদা ইউনিফর্ম পরা নার্স মেয়েটিকে তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলো। সময় কত হয়েছে তা তখন সে জানতো না, মেয়েটি তাকে জিজ্ঞাসা করলো সে চা চাইছে কিনা। সে চা বা অন্য কিছুর কথা চিন্তা করেনি। তবুও সে অনুভব করেলো গরম কিছু পেলে ভাল হতো। কৃতজ্ঞতার সাথে সে তাঁর প্রস্তাব গ্রহণ করলো। নার্স মেয়েটি চা নিয়ে ফিরে এলো। তাকে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে না হয় এজন্য সে চার চুমুকে চা শেষ করলো। সে মেয়েটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে শূন্য কাপটি ফেরত দিল। মেয়েটি চলে যাওয়ার পর সে ভাবলো যদি সে তার সাথে আরও কিছু কথা বলতো তবে তা কতই না সুন্দর হতো! সে মাথা ঘুরিয়ে জানালার পিছনে তার ছায়া দেখার চেষ্টা করলো। সে কাউকে দেখতে পেল না। সে মেয়েটিকে মনে মনে ধন্যবাদ জানালো।মেয়েটি কে হতে পারে? সেখানে দু’জন মহিলা নার্স আছে। সে মেয়েটির সাদা ইউনিফর্ম ছাড়া আর কিছুই দেখতে পায়নি।

দ্বিতীয় রাতে মেয়েটি চা নিয়ে আসলে সে তাকে ভাল করে দেখবার জন্য সংকল্পবদ্ধ হলো। মেয়েটি আসবে বলে সে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করলো। কিন্তু মেয়েটি এলো না। সে বলেছিল তাঁর যত্ন নেওয়া সত্যিই তাঁর প্রয়োজন, কিন্তু সে খুব ব্যস্ত থাকবে। দরজায় নক করে নিজেরই চা চাওয়া উচিত ছিল, সে ভাবলো। লাইটগুলি নিভে গেল, শহরটি যেন ঘুমিয়ে পড়লো। তাকে ও তার সহকর্মীদের দেখভাল করার দায়িত্ব নার্সটির ছিল।

গতকাল রাতে সে এই সময়ে চা পান করেছিল। সে উষ্ণতা চায়। হঠাৎ সাদা ইউনিফর্ম পরা সেই মেয়েটি তার পাশে উপস্থিত হলো। সে মেয়েটির কথা শুনতে পেল। ‘আমি আপনাকে জিজ্ঞাসা না করেই আপনার চা এনেছি।’

সে চোখ তুলে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে চায়ের কাপটি নিতে তার ঠান্ডা হাতটা বাড়িয়ে দিল। সে ঠিক করলো মদ পানের আগে তার সাথে যা বলবে। ‘আপনি কি এখানকার কাজ কঠিন বলে মনে করেন?’

মেয়েটি উত্তরে বললো, ‘আপনি কি মনে করেন আমি এই জাতীয় দায়িত্বের জন্য যথেষ্ট ভাল নই?’

‘আমি … না, একদম মনে করি না …।’

সে তাকে ধন্যবাদ না দিয়ে কাপটি দিল।

সে কয়েক ধাপ দূরে সরে এসে বললো, ‘মিস।’ এবার সে মেয়েটির কাছে গিয়ে বললো, ‘মাফ করবেন, আমি আপনার নামটি জানতে পারি কি?’

মেয়েটি হেসে বললো, ‘কেন নয়? আমরা সবাই কমরেড,আমার নাম সুআদ।’

‘আমি রমিজ। আমার বন্ধুরা আমাকে সার্জে বলে ডাকে। আমাদের কি হাত মিলানো উচিত?’

মেয়েটি হেসে তার দিকে হাত বাড়িয়ে দিল। তারপর সে যতটা এগিয়ে এসেছিল ঠিক তেমন ভাবে পিছিয়ে গেল।

সুআদ। কী আশ্চর্য – অন্য একজন সুআদ। এই নামটি তার ভাগ্য বদলে দেবে বলে তার মনে হলো। কিছু দিন আগে একরের মহিলা কমিটি আরব সেনা বাহিনীর হাতে হাতে তাদের বোনা উলের শার্ট এবং কম্বল উপহার দিয়েছিল। প্রত্যেকের পকেটে সেই যুবতীদের একএক জনের নাম সম্বলিত একটি করে কার্ড ছিল। সে সেই কার্ড পকেটে রেখেছিল। সে একটি কার্ডে ‘সুআদ’ শব্দটি পড়েছিল।

সে কার্ডটি আবার পকেটে রেখে দিয়েছিল। তার পকেটেট এটা কি তার হতে পারে? যদি তা হয়, তবে কি এটি একটি আনন্দদায়ক কাকতালীয় ঘটনা নয়?

সে মেয়েটির দরজার দিকে ঘুরে দেখলো, ঘরটি তালাবন্ধ।

হাসপাতালের আহতদের দেখভালের জন্য তৃতীয় রাতে মেয়েটি তার শিফট শুরু করলো।

দরজা খোলা ছিল, সে ভিতরে ঢুকলো। সে তাকে সালাম করে জিজ্ঞাসা করলো তাদের সাথে দেখা করতে পারে কিনা। রমিজ জবাব বললো, ‘কেনো না? আমি চাই আপনি হাসানের সাথে দেখা করেন যাতে সে আপনাকে যুদ্ধের বিবরণ জানাতে পারে।’ মেয়েটি বললো, ‘আমি নিজে কয়েক ডজন বার তা শুনেছি, তবে আর একবার শুনলে তাতে কোন ক্ষতি হবে না’।

সে তাকে অনুসরণ করলো।

সে হাসানের ব্যান্ডেজ করা মাথার সামনে দাঁড়ালো।আহত লোকটির কথা শুনে তারা দুজনেই হেসে উঠলো। আহত লোকটি বললো, ‘সুআদ একজন ভাল নার্স। তিনি আমাকে সিগারেট ছুঁতে দেয় না।’

হাসতে হাসতে রমিজ খেয়াল করল নার্সটির দাঁতগুলো খুব সাদা।অদম্য ইচ্ছায় তার চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছে।

সে তাকে জিজ্ঞাসা করলো; “আপনি কি আমার সাথে একমত হবেন যে তিনি একজন ভাল নার্স?’

‘ভাল? সে সবার মধ্যে সেরা। তিনি আমার বৃদ্ধা মায়ের চেয়েও ভাল। তিনি সব সময় আশেপাশে থাকেন। অবসর সময়ে তিনি কাপড় বোনেন।’

শার্টের কথা রমিজের মনে পড়লো। তাঁর হাত সরে গেল, ওভারকোটের ঘন বোতামগুলির দিকে। দেখানোর জন্য কোটটি খুলে রমিজ তার দিকে ফিরে বললো, ‘আপনি এই শার্টটি চিনতে পারন?’

‘হ্যাঁ।’

‘আমি কি কোর্টটার প্রাপ্যদার নই? আমার কাছে এখনও কার্ড আছে।’

রমিজ ঘণ্টা খানেক অস্বস্তি বোধ করলো। হাসান সিগারেট চেয়েছিল সুআদ নামের নার্সটি তাকে অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত হাসান ধূমপান করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল রমিজকে।

দু’সপ্তাহ পেরিয়ে গেল এবং আহতরা অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত হওয়া ছাড়া অন্য সবাইকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যেতে শুরু করলো। রামিজের গার্ডের দায়িত্ব শেষ হয়ে গেছে। সে চাকরিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে ফিরে এলো। রমিজ নতুন নিয়োগকারীদের সাথে সাক্ষাত করে সে নিজের রাইফেলটি নিয়ে নাইট গার্ডের দায়িত্ব পালন করে। ভোর হলে সে নিজের ঘরে গিয়ে তার লোহার খাটের উপর শুয়ে পড়ে।সে শুয়ে শুয়ে নার্স মেয়েটির সম্পর্কে চিন্তা করে।

একটি পুরো সপ্তাহ কেটে যায়, এই সময়টিতে সে মেয়েটিকে দেখেনি। সে কোথায় থাকতে পারে? কেন সে তার সম্পর্কে চিন্তা করে। মেয়েটি যে শার্টটি বুনেছিল সে সম্বন্ধে সে কেন ভাবে? গতকাল সকালে সে পোশাক পরে কিছু একটা আবিষ্কার করেছিলেন। শার্টটি কে পরবে তা জেনে মেয়েটি তা তৈরি করেছিল কি! যে ব্যক্তি এটি পরেছে তার চেহারাটি কেমন হওয়া উচিত সে সম্পর্কে তার মনের চোখে একটি ছবি থাকতে পারে। স্পষ্টতই মেয়েটি ভেবেছিল যে এটা পরবে তাকে লম্বা হতে হবে, কাঁধ প্রশস্ত হবে — সে আশা করেছিল লোকটি বীর হবে।

আট দিনের দিন সে রাস্তায় মেয়েটিকে দেখতে পেয়ে তার পিছু নিলো। তখন মেয়েটির গায়ে নার্সের ইউনিফর্ম ছিল না। রমিজ তাকে থামিয়ে দিয়ে বললো, ‘আমি আপনাকে ইউনিফর্মের বাইরে চিনতে পারিনি।’

সে হাত নেড়ে বললো : ‘অন্য হাসপাতালে বদলি হয়েছি। আমি কিছুই করতে পারিনি; আজ আপনি কী করছেন?’

‘দিনের বেলা প্রশিক্ষণ দেওয়া রাতে গার্ডের কর্তব্য পালন করছি। আমার হাতে কোন সময় নেই।’

মেয়েটির সাদা দাঁতে উজ্জ্বল হাসি ফুটে উঠলো। সে তাকে অবাক চোখে দেখে লজ্জিত মুখে দূরে চলে যেতে চাইল,কিন্তু রমিজ তার সাথে কথা বলতে ছুটে গেল।

লজ্জিত কণ্ঠে মেয়েটিকে সে বললো, ‘আমি আপনার কাছ থেকে দূরে আছি। আমি কোথায় আপনার সাথে দেখা করতে পারি কি?’

‘আমাদের শহরটা খুব ছোট। আপনি ইচ্ছে করলে আমার সাথে দেখা করতে পারেন।” মেয়েটি জবাবে বললো।

‘তবে আমরা অস্ত্র হাতে কমরেড। আমি পুরুষ ও মহিলা উভয়কেই নিয়োগের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।পোর্ট ক্লাবে আসুন। ড্রিলিং শেষ করার পরে আমরা কিছু সময় কথা বলতে পারি।’.

তারপর এক সময় রমিজ তার কাজ শেষ করে নার্সটিকে চেয়ারের বসার প্রস্তাব দিয়ে তাকে স্বাগত জানালো।

‘ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন না?’ মেয়েটি তাকে জিজ্ঞেস করেলো।

‘একবার আমি বুঝতে পারি, ইহুদি জনবসতিগুলিতে কোন ধরণের একত্রিতকরণ ও প্রস্তুতিমূলক চাপ চলছে। আমাদের সামনে এটা কঠিন কাজ হবে।’

‘আপনি কি ভয় পাচ্ছন?’

না, না। আমার ধারণা ইহুদিরা তাদের বসতিগুলিতে প্রচুর পরিমাণে অস্ত্র জমা করেছে। আমরা অনেক কিছুই খুঁজে পেয়েছি।’

‘আপনি নিজে সেখানে গেছেন?’

‘হ্যাঁ, সম্পর্কের টানাপোড়েন হওয়ার আগে আমি অনেক আগে যেতাম। এখন আমি যেতে পারব না। আমি তাদের ব্ল্যাক লিস্টে আছি।’

মেয়েটি তাকে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলো। বর্তমানে, তার ঠোঁট দুটো খোলা, তার চেহারা ও চোখে চমক। সে বললো, ‘আপনি জানেন, আমি বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম যে আপনি কোনও বীরের একজন হবেন।’

‘একজন বীর? কোনও উপায় নেই, যদিও আপনার কার্ড আমাকে এক হওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছে।’

“তা কি এখনও আপনার কাছে আছে?’

‘সেটা এই যে।’ রমিজ কার্ডটি মেয়েটিকে দেখালো।

মেয়েটির হাতে কার্ডটি দিয়ে তার হাতে আস্তে করে চাপ দিল। তারপর তার বিব্রতকর অবস্থাকে আড়াল করার সুযোগ দেওয়ার জন্য রমিজ তাঁর সামনের নীল সমুদ্রের দিকে তাকালো।

বসন্তের দিনরাত! বসন্তকালীন প্যালেস্তিনের এই অংশের সমুদ্রটিতে দিনের বেলা সাদা পাল তোলা নৌকা চলে। রাতে লম্পটরা মাছ ধরার নৌকা নিয়ে আসে। ফুলের ঘ্রাণ বাতাসকে পরিপূর্ণ করে তোলে। সেই বসন্তে রমিজ দুটি বিষয় শিখলো। একটি হচ্ছে প্রেম আর একটি হচ্ছে যুদ্ধ। প্রথমটি দ্বিতীয়টির অর্থ বুঝিয়ে দেয়। যুদ্ধ কেবল হত্যা করা নয়। বরং এটি হচ্ছে তার ভালবাসার জমিন।

সুআদ এর কালো চোখে মুগ্ধতা ছিল। রমিজ সুআ এর চোখে ফিলিস্তিনের মঙ্গল দেখতে পায়। রমিজ ভাবে, আমি একটি সুখী বাড়ির চিত্র ও এমন একজন স্ত্রীকে দেখেছি যা তার মধ্যে যুবা বীরের জন্ম দেয়।

প্রতিটি নতুন দিনের সকালের কাগজে যুদ্ধের খবর আসে। কাস্তাল যুদ্ধ । শত্রুর জনবসতিতে প্যালেস্তিনিরা সন্ত্রাসের ত্রিভুজ থেকে প্রতিক্রিয়া জানায়। হাইফা থেকে একরে নাহারিয়া যাওয়ার পথে অনুপ্রবেশকারী ইহুদী সাঁজোয়া যানগুলিতে তার ও তার কমরেডদের অভিযান চলছে। সালামার প্রতিটি শহরে ও গ্রামে তার লোকেরা বীরত্ব দেখাচ্ছে।

তারপর হাইফার পতন হলো।

কখনই সে সেই দিনের সন্ধ্যার কথা ভুলতে পরবে না।

সে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রশিক্ষণে ব্যস্ত। সে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে দেখলো শরণার্থী ভরা কয়েক ডজন নৌকা। একরের লোকেরা নতুন পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে শহরের প্রান্তে জড়ো হয়েছিল। হাইফায় যে লড়াই চলছে সে সম্পর্কে তারা সচেতন ছিল। তারা জানতো যে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ গোপনে দুর্গের অবস্থানগুলিতে সহায়তা করেছিল। যদিও ব্রিটিশরা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিল যে তারা হ্যান্ডাকে ম্যান্ডেট পিরিয়ড শেষ হওয়ার কয়েক মাস পরে ছেড়ে যাবে না, তারা হঠাৎ ঘোষণা করলো যে তাদেরকে শহর ছেড়ে চলে যেতে হবে।

এই সন্ত্রাসটি কার্মিল পর্বতের ঢালু অঞ্চলে বসবাসকারী টাইল আরবদের উপরে হলো। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষগুলো আতঙ্কজনক গুজব ছড়িয়েছিল যা সত্যি আতঙ্কের কারণ হয়েছিল। একই সময়ে, তারা বন্দরটি খুলেছিল এবং যারা পালাতে ইচ্ছুক তাদের বহন করার জন্য তাদের জাহাজ সরবরাহ করেছিল। তাই পাহাড় থেকে গুলি ছুড়তে গিয়ে লোকেরা তাদের মধ্যে ছিটকে পড়েছিল।

নৌকাগুলি তাদেরকে একর উপকূলে ফেলে দিয়েছিল। হায় মানবসমাজ! কেউ কেউ তাদের ক্ষত দেখে হতবাক, কেউ কেউ ক্ষুধার্ত হয়ে ধুকে মরে, এখনও অন্যরা সন্ত্রাসের কবলে পড়ে।

রমিজরা অনেকের জন্য খাবার ও আশ্রয় দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল।

সে রাতে তিনি সুআদকে কয়েক ডজন মহিলা স্বেচ্ছাসেবীর সাথে দেখেছিল। বন্দরের আহতদের হাসপাতালে পাঠানে হয়।

পর দিন সকালে দরজায় কড়া নাড়তে রমিজ জেগে উঠলো। সে দরজা খুললো। দরজার সামনে নার্স মেয়েটিকে দেখে সে অবাক হলো। সে কাঁদছিল।

সে বললো, তার ভাই একটি ট্রাকে মালপত্র বোঝাই করে রেখেছিল। তারপর তার স্ত্রী, তার বাচ্চাদের নিয়ে সে তাতে চড়ে লেবাননে চলে গেছে। টায়ার পাড়ার কুড়ি পরিবার ইতিমধ্যে তার ভাইয়ের মতো পরিবার পরিজনও নিয়ে লেবাননে চলে গেছে। তার ভাই তাকে তাদের সাথে নিয়ে যাবার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সে যেতে অস্বীকার করে। সে তাদের সাথে না যাওয়ায় সে তার সাথে তর্ক করে। না যাওয়ায় সে তার মুখে থাপ্পর মেরেছিল। তখন সে সেখান থেকে পালিয়ে আসে।

মেয়েটির কথা শুনে রমিজ চমকে উঠে চুপ করে রইল, তাকে কী বলবে তা সে জানে না। একটু পরে সে মেয়েটিকে বললো, ‘আমার করণে হয়তো আপনি ভাইয়ের সাথে যাননি।’ তার কথা শুনে মেয়েটি কিছু সময় নীরব থেকে বললো, “না, আপনার কারণে নয়। হ্যাঁ, আমি আপনাকে ভালবাসি, এটা সত্য। তবুও, আপনি সব কিছু না!” সে রমিজের ওখান থেকে দরজা খুলে শহরের দিকে গেল। ছোট বড় কয়েক ডজন গাড়ি লোকজন বোঝাই করে যেন বাতাসের গতিতে দ্রুত চলছিল। বাধা দেওয়া, মিথ্যা বলে কাঁদতে বা চিৎকার করতে বা পাথর ছুঁড়ে মারতে শুরু করে কিনা তা লোকজন জানতো না।

এক সপ্তাহ পরে শহরটি লোক শূন্য হয়ে গেল।যোদ্ধারা বাদে কয়েকজন মুষ্টিমেয় নার্স ছোট ছোট হাসপাতালগুলেতে থাকলো। হাইতি ও আশেপাশের গ্রামগুলির লোকজন শরণার্থী হয়ে নিজেদের ঘরবাড়ি ছাড়লো। সুআদের সাথে দেখা করার সুযোগ রমিজ পেল না। উত্তর ও দক্ষিণে শত্রুরা আক্রমণ করার সুযোগের জন্য অপেক্ষা করছিল। রমিজরা রাইফেল ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করতে দিনের পর দিন গ্রামে ছিল। অন্য লোকদের সাথে রমিজও তার আঁটসাঁট পোশাক পাঁচটি

সিগারেটের কারখানার ছাদে ব্যারিকেডের পিছনে রাখলো। ম্যান্ডেট শেষ না হওয়া পর্যন্ত আরব সেনাবাহিনী যুদ্ধের জন্য আসতে না পারলে এই শহরটিকে ধরে রাখতে হবে।

একরের জাতীয় কমিটির দায় দায়িত্বগুলো রমিজের উপর পড়লো। সে বিশ্রামের সময় সুআদ এর কথা ভাবলো।

জাতীয় কমিটির ভয় ছিল খাবার শেষ না হয়ে যায়, তাই তারা রমিজের কাছে খাবার ও অন্যান্য জিনিস পাঠালো। সুআদ ঝুড়িতে রুটি, সিগারেট এবং ক্যান্ডি নিয়ে এলো। রমিজের চোখ ভরে গেল ভালবাসায়। তার ইচ্ছা হলো সে তার সমস্ত কমরেডের সামনে তাকে জড়িয়ে ধরতে। তারপর সে তার হাতটি সুআদের ঠোঁটে ছোঁয়ালো। সে চলে গেল; রাস্তায় বাঁকটা তাকে আড়াল না করা পর্যন্ত সে তাকে দেখছিল।

দু’দিন দু’রাত গোলাগুলির লড়াই আরও তীব্র আকার ধারণ করলো। শত্রুদের সাঁজোয়া গাড়ি নাহারিয়া যাওয়ায় প্রধান সড়ক ধরে এগিয়ে চলছিল। যোদ্ধারা তাদের পাশের বাড়ির ছাদের থেকে তোপ দেগে হামলা চালালো শত্রুর বিরুদ্ধে ।

পরের দিন বিকেল তিনটা পর্যন্তও যুদ্ধ কমলো না। কিছু লোক বিশ্রামের জন্য ব্যারিকেডে শুয়েছিল, আবার কেউ কেউ মাটিতে পড়েছিল। রমিজ শহরের দিকে যাওয়ার আগে বাগানের কলটিতে সে গোসল করলো। আরব সৈন্যদল কী পরিকল্পনা নিয়েছিল তা জানতে সে শহরে যাচ্ছিল। সে বুলেটের শব্দ শুনতে পেল।

উদ্যানের দরজার দিকে ঘুরে সে দেখতে পেল এক হাতে ঝুড়ি নিয়ে সুআদকে আসতে। তার এক হাত তার বুকের কাছে চেপে ধরা। শুরুতে সে দাঁড়িয়ে থাকায় কোনও ভুল দেখেনি। তারপরই সে তার বাহ ও তার বুক থেকে রক্ত প্রবাহিত হতে দেখল। রমিজ তার হাত দিয়ে তার ক্ষত থামিয়ে দিয়ে তাঁর কমরেডদের ডেকে বললো, মুখ দিয়ে তার রক্ত শুষে নিতে। সে শত্রু সৈন্যে গুলিতে মারাত্মক ভাবে আহত হয়েছে, রমিজ ভাবলো।

সুআদ কথা বলার জন্য মুখ খুললো, কিন্তু তার গলা দিয়ে স্বর বের না হওয়ায় যেন দমবন্ধ হবার মতো অবস্থা হলো। তারপর সব শেষ হয়ে গেল।

এত তাড়াতাড়ি এটা ঘটলো যা রমিজ বিশ্বাস করতে পারছিল না। কেন সে তাকে মরতে দিল? কেন সে তার মুখে চুম্বন দিল না!

সে মারা গেল। তার চুলের ঘ্রাণ তখনও বাতাসে ভাসছিল। তার চোখ দুটো কখনও মৃত্যুর কথা বলেনি। কেবলমাত্র তা প্রেম ও জীবনের প্রতিশ্রুতির কথা বলেছে।

চোখের সামনে ঘটা দুঃস্বপ্নটি ভুলবার জন্য আইরিস চোখ রগড়াতে থাকে। তার হাতে ইব্রাহীমের দেওয়া পাইপটি ধরা ছিল। আইরিস তার নখগুলো নাড়াচাড়া করে। আইরিস কমরেডদের দিকে তাকায়।

‘হ্যাঁ, সে মারা গেছে, তার চোখ দেখে মনে হচ্ছে। আমাদের অবশ্যই তাকে আপনার কাছ থেকে নিয়ে পাহাড়ের গায়ে কবর দেওয়া উচিত। আমরা একটি পতাকা দিয়ে তার সমাধি চিহ্নিত করবো, আর তাকে বীরাঙ্গনা হিসাবে ঘোষণা করবো।’ রমিজ বললো।

‘সুআাদ আপনাকে ভালবাসতো, সে আমাদের সকলের জন্য বিশেষ করে ইব্রাহিম, ওয়াদি, সালিহ, আহমদ ও আবদুল্লাহর সাহসের প্রতীক হয়ে থাকবে।

আকাশে এক চিলতে রূপোলী চাঁদ ও কয়েকটি তারা শোভা পাচ্ছিল। ব্যারিকেডের পিছনে তারা। তাদের কাছে খাবার ছিল না, পানীয়ও জলও ছিল না। রাতে তারা ঘুমায়নি।

ভোর বেলা দু’একটি সংঘাত বাদে বাকি রাতটি শান্তিপূর্ণভাবে কেটে গেছে।

ভোরবেলায় আবদুল্লাহ চোখের পাতা ঘষে পাশের কাঠের বাক্সের স্তূপের দিকে চেয়ে জিজ্ঞাসা করলো; ‘খাওয়ার কিছু নেই?”

ওয়াদিয় জবাব দেয়, ‘আমাদের ক্ষুধা আছে। কিন্তু খাবার —’

সে চুপ করে থাকে।

রক্তের দাগযুক্ত সুআদের রুটি সেখানে ছিল। ওদের রুটির জন্য কি সুআদের এই দুর্ভাগ্য!

তাদের ক্ষুধা অসহনীয় হয়ে ওঠলো। খাবারের অভাবে তারা দাঁড়াতে পারছিল না। রমিজ বললো, ‘সুআদ জীবন দিয়ে আমাদের জন্য রক্ত মাখা রুটি উৎসর্গ করে গেছে।’

লেখক পরিচিতি : সামিরা আজম (Samira Azzam) জন্ম ১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯২৭ মৃত্যু ৮ আগস্ট ১৯৬৭। একজন ফিলিস্তিনি লেখক, সম্প্রচারক এবং অনুবাদক। তিনি ছোটগল্পের জন্য খ্যাত ছিলেন। ১৯৪৮ সালে আজম প্যালেস্তাইন যুদ্ধের মধ্যে তার স্বামী এবং পরিবার নিয়ে প্যালেস্তাইন (palestinian) থেকে পালিয়ে যান। তাঁর ছোট গল্পের প্রথম সংকলন ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত হয়। ১৯৫৯ সালে বেইরুটে ফিরে আসার পরে তিনি ফিলিস্তিনি সামাজিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি ‘দ্য বিগ শ্যাডো’ (The Big Shadow) ও ‘দ্য ক্লক অ্যান্ড দ্য ম্যান’ (The Clock and the Man) নামে দুটো গল্প সংকলন প্রকাশ করেন। তিনি তাঁর লেখায় ফিলিস্তিনি সমাজের নানা চিত্র তুলে ধরেন।

সামিরা আজম ফিলিস্তিনের এক খ্রিস্টান অর্থোডক্স পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একরের প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং হাইফায় উচ্চ বিদ্যালয়ে “তাকমিলিয়েত আল রহিবিতে” পড়াশোনা করনে। স্কুল শিক্ষিকা হওয়ার আগে তিনি ফিলিস্তিনের একটি সংবাদপত্রে “উপকূলীয় বালিকা” ছদ্ম নামে নিবন্ধ লিখতে শুরু করেছিলেন। আজম দুই বছর পর তার পরিবার ছেড়ে ইরাকের একটি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হন। ইরাকে তিনি পূর্ব এশিয়া ব্রডকাস্টিং সংস্থার বেতার সম্প্রচারক হিসাবে তার কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। প্রথমত, তিনি ব্রডকাস্টিং স্টেশন দ্বারা বৈরুতে স্থানান্তরিত হওয়ার আগে “মহিলা কর্নার” প্রোগ্রামটির জন্য লিখেছিলেন, যেখানে তিনি “উইথ দ্য মর্নিং” (With the Morning) অনুষ্ঠানের প্রধান ছিলেন। তাঁর কণ্ঠ অনেক আরবদের জীবনে নিয়মিত উপস্থিতি জানান দেয়। তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর গল্পের তিনটি সংকলন প্রকাশিত হয়েছিল: ছোট জিনিস (১৯৫৪); দীর্ঘ ছায়া (১৯৫৬); এবং অন্যান্য গল্প, (১৯৬০) তাঁর চতুর্থ এবং পঞ্চম সংগ্রহ, দ্য ক্লক অ্যান্ড ম্যান (১৯৬৩) এবং দ্য ফেস্ট অফ ওয়েস্টার্ন উইন্ডো (The Feast of Western Window) ১৯৭১ মরণোত্তর প্রকাশিত হয়েছিল। ২৪ শে ডিসেম্বর, ১৯৫৯, আজম আদিব ইউসুফ হাসানকে বিয়ে করেছিলেন। সামিরা আজম ১৯৬৭ সালের ৮ আগস্ট হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। তাঁর লেখা গল্প ‘Bread of Sacrifice’ কে’ উৎসর্গ করা রুটি’ নামে বঙ্গানুবাদ করা হলো। প্যালেস্টাইন ভূমির যুবক-যুবতীদের প্রেম ভালবাসা যুদ্ধের বলি, তারই বেদনাদায়ক কথা লেখক গভীর মমতায় তুলে ধরেছেন এ গল্পে।

মনোজিৎকুমার দাস, অনুবাদক ও কথাসাহিত্যিক, লাঙ্গলবাঁধ, মাগুরা,বাংলাদেশ।

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev