আরামবাগ হাইস্কুলের দুই ছাত্র উচ্চমাধ্যমিকের মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন। কৃতী ছাত্রদ্বয়ের সাফল্যে স্কুলের শিক্ষকরা উচ্ছ্বসিত। সপ্তম স্থান অধিকার করা মহম্মদ শাহীদ মাধ্যমিক মেধা তালিকায় দশম স্থান অধিকার করেছিলেন। সপ্তম স্থান অধিকার করে সফলতার ধারা এবারও বজায় রেখেছেন। সোমশুভ্র অষ্টম স্থান অধিকার করেছেন।
আরামবাগ হাইস্কুল এবার জোড়া সাফল্য পেয়ে নজির গড়েছে। এদিকে খানাকুলের রামনগর অতুল বিদ্যালয়ের ছাত্র স্বর্নাভ খামরুই একাদশ স্থান অধিকার করেছে। প্রধান শিক্ষক অমিত আঢ্য এ খবর দিয়ে জানান, স্বর্নাভ ৪৮৬ নম্বর পেয়ে খানাকুলে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। কারণ খানাকুলে সে প্রথম। ফলপ্রকাশের পরেই তিন ছাত্রের বাড়তি উৎসবের মহল তৈরি হয়। প্রতিবেশীরা শুভেচ্ছা জানাতে ভীড় জমান। স্কুলের শিক্ষকরা তিন ছাত্রের ভালো ফলের প্রত্যাশা করেছিলেন। প্রথমজন মাধ্যমিকে মেধা তালিকায় দশম স্থান পেয়েছিলেন। দ্বিতীয়জন একাদশ স্থান অর্জন করেন। অল্পের জন্য হাতছাড়া হয় শিখর ছোঁয়ার কৃতীত্ব।

মহম্মদ শাহীদ
উচ্চ মাধ্যমিকে অবশ্য আরামবাগ শহরের ৬ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা দুই ছাত্রই মেধা তালিকায় কৃতিত্বের সঙ্গে জায়গা করে নিয়েছেন। সপ্তম স্থান অধিকারী মহাম্মদ শাহিদের প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৩। সোমশুভ্র কর্মকারের প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৯। মহম্মদ শাহীদ বলেন, মাধ্যমিককে মেধা তালিকায় ছিলাম। উচ্চ মাধ্যমিকেও থাকবো আশা করেছিলাম। প্রত্যাশা পূরণ হওয়ায় ভালো লাগছে। অঙ্ক, বায়লজি, রসায়নে আমি ৯৯ পেয়েছি। ইংরেজিতে পেয়ছি ৯৬। বাংলায় ৯৭। এই সাফল্যের পিছনে বাবা মা ও দিদি ও স্কুলের শিক্ষকদের ভূমিকা রয়েছে। নিট পরীক্ষা দিয়েছি। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হতে চাই।
বাবা ভেটেরিনারি চিকিৎসক মহম্মদ খায়রুল আলম বলেন, ছেলের এই সাফল্যে আমরা খুবই গর্বিত। মাধ্যমিকের পর পড়াশোনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। একাগ্ৰভাবে পড়াশোনা করে গেছে। তাই এই সাফল্য এসেছে। মা সালেমা খাতুন বলেন, মাধ্যমিকে ভালো ফল করেছিল। উচ্চমাধ্যমিকও ভালো ফল করায় ভালো লাগছে। এই সাফল্যের পিছনে স্কুলের শিক্ষক, আল আমীন মিশন ও পাথ ফাইন্ডারের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবদান রয়েছে।

স্বর্নাভ খামরুই
অষ্টম স্থান অধিকারী ছাত্র সোমশুভ্র কর্মকার বলেন , মাধ্যমিকে অল্পের জন্য মেধা তালিকায় স্থান পায়নি। এবার ভালো ফল আশা করেছিলাম। অষ্টম স্থান অধিকার করবো ভাবতে পারিনি। অঙ্কে ১০০, বায়োলজিতে ৯৫, রসায়নে ৯৯, পদার্থবিজ্ঞানে ৯৮, ইংরেজিতে ৯৭ পেয়েছি। নিট পরীক্ষা দিয়েছি। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হতে চাই। নিজের হবি সম্বন্ধে বলতে গিয়ে জানায় ক্রিকেট খেলতে ও দেখতে ভালোবাসে। প্রিয় খেলোয়াড় বিরাট কোহেলি। বাবা পেশায় শিক্ষক গোপীনাথ কর্মকার বলেন, উচ্চ মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় ছেলে স্থান পাওয়ায় ভালো লাগছে। এই সাফল্যের পিছেন স্কুলের শিক্ষকদের অবদান সবচেয়ে বেশি। স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিকাশচন্দ্র রায় বলেন, দুই ছাত্রকে নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা ছিল। প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। স্কুলের এই জোড়া সাফল্যে আমরা উচ্ছ্বসিত।
কভারের ছবি সোমশুভ্র কর্মকার