সুবর্ণলতা
কালকে অতিক্রম করে মহাকালের করতলের উষ্ণতায় থাকার মতো চরিত্র হলো সুবর্ণলতা। ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’ পর্বে লেখিকার সব কথা শেষ হয়নি, হয়নি সমাজের বিবর্তনের ধারা। প্রথম খণ্ডে যদি উপন্যাস শেষ হয় তাহলে নারী জাগরণের যে সূচনা হয়েছে তা থেমে যায়। পাঠককুল অতৃপ্ত থাকেন, বুকের ভেতরে হাহাকার তৈরি হয়। অবশ্যই সাহিত্যের জন্য এ-রকম অতৃপ্ত থাকাটা স্বাভাবিক হলেও তৃপ্তি ও প্রশান্তির জায়গাও চায় পাঠককুল। আশাপূর্ণা দেবী এই খণ্ডে সুবর্ণলতার চরিত্রের মাধ্যমে স্বাধীনতাপূর্ব অখণ্ড ভারতের সমাজের যে ছবি এঁকেছেন তা কেবল সাহিত্যের মধ্যেই পড়ে না; বরং সমাজবিজ্ঞানের উঠোনেও গড়ায়। লেখিকা নিজেও ভূমিকায় লিখেছেন, ‘‘আপাতদৃষ্টিতে ‘সুবর্ণলতা’ একটি জীবনকাহিনী, কিন্তু সেইটুকুই এই গ্রন্থের শেষ কথা নয়। সুবর্ণলতা একটি বিশেষ কালের আলেখ্য। যে কাল সদ্যবিগত, যে কাল হয়তো বা আজও সমাজের এখানে সেখানে তার ছায়া ফেলে রেখেছে। ‘সুবর্ণলতা’ সেই বন্ধন-জর্জরিত কালের মুক্তকামী আত্মার যন্ত্রণার প্রতীক।
আর একটি কথা আবশ্যক। আমার ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’ গ্রন্থের সঙ্গে এর একটি যোগসূত্র আছে। সেই যোগসূত্র কাহিনীর প্রয়োজনে নয়, একটি ‘ভাব’কে পরবর্তী কালের ভাবধারার সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়োজনে।
সমাজবিজ্ঞানরা লিখে রাখেন সমাজ বিবর্তনের ইতিহাস, আমি একটি কাহিনীর মধ্যে সেই বিবর্তনের একটি রেখাঙ্কনের চেষ্ট করেছি মাত্র।”
টিলজির এই উপন্যাসটি দুটি পর্বে বিভক্ত। প্রথম পর্বে ছাব্বিশটি এবং দ্বিতীয় পর্বে একত্রিশটি পরিচ্ছদে বিভক্ত হয়ে ৪৩৮ পৃষ্ঠায় শেষ হয়। প্রথম পর্বে সুবর্ণের যৌথ পরিবারের যাপিত জীবন এবং দ্বিতীয় পর্বে একক পরিবারের যাপিত জীবনের আখ্যান লিপিবদ্ধ হয়। এই খণ্ডে স্বদেশী আন্দোলনের সামান্য উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে এবং সুবর্ণলতাও এই স্বদেশী আন্দোলনে শরিক হলেও গুরুত্বপূর্ণ কোনো ভূমিকায় দেখা যায়নি। তবে কোনো সন তারিখ না দিয়ে লেখিকা একটি সত্যিকারের কল্পকাহিনীই তৈরি করেছেন। দীর্ঘ উপন্যাসের সময় বিবেচনায় সারা পৃথিবী বাদই দিলাম, এই উপমহাদেশেও ব্যাপক রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও এটিকে পারিবারিক গণ্ডির মধ্যেই লেখক রেখেছেন এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখেছেন।
সুবর্ণলতার বিয়ে হয় একটি বড় যৌথ পরিবারে যেমনটি হয়েছিল তার মা সত্যবতীর। কিন্তু সত্যবতী এক সময় যৌথ পরিবারের গণ্ডি ছেড়ে নবকুমারকে নিয়ে কলকাতায় এসে পড়েন। সুবর্ণলতার বিয়ে হয় কলকাতা শহরের দর্জিপাড়ার একটি বড় যৌথপরিবারে। সত্যবতী অনেক যুক্তিবাদী হলেও সুবর্ণলতার মধ্যে তেমনভাবে যুক্তিবাদী চরিত্র গড়ে ওঠেনি। বরং একরোখা ও কিছুটা খামখেয়ালিপনা স্বভাবের হন। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্পষ্টভাষী সুবর্ণর যৌক্তিক কথা হলেও সেসব কথা শাশুড়ি মুক্তকেশী কিংবা ভাজরা সহজে গ্রহণ করতেন না। শাশুড়ি-বউয়ের মধ্যে টোকাটুকি প্রায় সবসময়ই লেগে থাকত। মুক্তকেশীর চার ছেলে আর চার মেয়ের সংসারে সুবর্ণর বিয়ে হয় দ্বিতীয় ছেলে প্রবোধের সঙ্গে। বিরাট সংসারের দায়ভার যেন সবর্ণর উপরই ন্যস্ত হয়। কলকাতার বাসায় দক্ষিণের বারান্দা, বিরাট সংসারের সঙ্গে মানিয়ে চলা, স্বামীর প্রেম লাভ ইত্যাদি সবকিছুই কিশোরী সুবর্ণকে সামাল দিতে হয়। কিন্তু মা সত্যবতী যে স্বপ্নের বীজ বুনে দিয়েছিল শিশু বয়সে সেই বৈরী সংসারে কেবল সন্তান উৎপাদন আর সন্তান লালনের প্রতি অন্য জা-ভাজদের মতো আত্মোৎসর্গ করেনি। শাশুড়ির সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে যাওয়া যেন নিত্যদিনের ঘটনা। মুক্তকেশী সংসারের কাজকর্ম সেরে সুখী শাশুড়ির মতো পাড়া বেড়ানো আর পুজো-অর্চনাতেই ব্যস্ত থাকেন। আর যতটুকু সময় পান ততটুকু যেন সুবর্ণর সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ করেন। চুন থেকে পান খসতেই সুবর্ণর দিকে তাক করা হতো বিরোধের তীর। একটি নয় বছরের শিশুকে নিয়ে মা স্বপ্ন দেখতেন, তাকে সেভাবে তৈরি করার জন্য কাজও করছিলেন কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি বরং বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয় এবং একটি বড় সংসারের দায় নিয়ে পিতৃমাতৃর সোহাগ আদর ছাড়া স্বামী-শাশুড়ির মন খুশি করে চলতে হয়। কতটুকু সম্ভব একটি শিশুর পক্ষে? সুবর্ণর বিয়ের দৃশ্যটি কল্পনা করলে মনে হয় সেই দাসপ্রথার মতো। সুবর্ণর বিয়ে পর শ্বশুর বাড়িতে একটি মাত্র মানুষই ছিল যার কাছ থেকে সহানুভূতি পেত সুবর্ণর বড় ননদ।
পাঠক করা যাক কিছু অংশ—“সেই ছোট্ট বেলায় বেগুনী বেনারসী মোড়া সুবর্ণ যখন কাঁদতে কাঁদতে এদের বাড়িতে এসে দুধে-আলতার পাথরে পা দিয়ে দাঁড়িয়ে হঠাৎ ডুকরে উঠে বলেছিল, ‘আমাকে তোমরা ছেড়ে দাও গো, তোমাদের পায়ে পড়ি।’ তখন চারদিক থেকে ছি-ছিক্কারের অগ্নিবাণে সুবর্ণ তো প্রায় ভস্ম হতে বসেছিল, মুক্তকেশী তো এই মারে কি সেই মারে, সেই দুঃসময়ে ওই বড় ননদই রক্ষা করেছিল তাকে। বলেছিল, তোমরা সব কী গো! দুধের বাছা একটা, আর ভেতরের ঘটনাও জেনেছ সবাই, ওর প্রাণটার দিকে তাকাচ্ছ না?’’
মুক্তকেশীর রুদ্রচক্ষুর শাসন-ত্রাসনের বাড়ির সবাই থাকত তটস্থ। কোনো মানুষই মুক্তকেশীর মুখের উপর ন্যায্য কথা বলার ছিল সাহস করত না, সাহস করত কেবল সুবর্ণ। তবে মায়ের গৃহত্যাগের বদনামের বোঝা মাথায় নিয়ে সংসার শুরু করলেও এই কথা চলতে থাকে দীর্ঘদিন।
প্রবোধও মায়ের একান্ত ভক্ত হিসেবে স্ত্রীকে কটু কথা কিংবা বড় তালের মতো খোঁপা ধরে জোরে-সোরে নাড়া দিতেও কুণ্ঠিত হতেন না। পরে অবশ্যই কিশোরী স্ত্রীকে ভুলিয়েভালিয়ে বশে নিয়ে আসতে পারত। সুবর্ণর অকপট কথা, স্বাধীনচেতা মনোভাব ও আচরণের জন্য প্রবোধ শারীরিকভাবেও নির্যাতন করতেন। এত বড় পরিবারে এত সদস্যদের মধ্যে সুবর্ণই ব্যতিক্রম স্বাধীনচেতা এবং প্রাগ্রসর মননের ও মুক্ত চিন্তার অধিকারিনী মায়ের কথায় প্রবোধের নির্যাতনের সীমাও মাঝে মাঝে ছাড়িয়ে যেত। কিন্তু সেটি কত কাল? সুবর্ণকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে ভুল বার্তায়, পরাজয়ের গ্লানিতে, আদর্শের কাছে হেরে যাওয়ার মাঠে কত দিন বশে রাখা যায়। সুবর্ণর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার মধ্যে মায়ের বপিত বীজ থেকে অঙ্কুর, অঙ্কুর থেকে বিটপ, বিটপ থেকে মহীরূহে পরিণত হতে থাকে, সময়ের ঐক্যতানে ভেতরের সত্তায় বাজতে থাকে মুক্ত বাতাসের সুর, প্রগতির উত্তাপে উদীপ্ত হয়ে দীপ্রতায় নারীর প্রকৃত মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে থাকে।
সুবর্ণর বয়স বাড়তে থাকে এবং সেই সঙ্গে উপন্যাসের কলেবর বাড়তে থাকে। অথবা উপন্যাস এগিয়ে যায়, সেই সঙ্গে চরিত্রগুলোর বয়স বাড়তে থাকে। সুবর্ণর পরিবারের সদস্য সংখ্যা বাড়ে। চার ছেলে ও চার মেয়ের মা হন। কিন্তু সুবর্ণর মন যতটা সংসারে থাকে ঠিক ততটাই থাকে তার লেখাপড়ার দিকে। নিজেও পদ্য লিখেন এবং পদ্যর প্রতি গভীরভাবে অনুরাগী হয়ে ওঠে, লিখেন ডায়েরী। মনের ভেতরে গেঁথে থাকে বই পড়ার স্বপ্ন। একদিন ননদ সুবালার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে স্বদেশী আন্দোলনের কর্মী অম্বিকার সঙ্গে পরিচয় হয়। অম্বিকা কবিতা লিখে এবং প্রচুর বইপত্রের মালিক ও পড়ুয়া। তাঁর সঙ্গে পরিচিত হয়ে বইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ হয়, পদ্যর প্রতি আসক্তি জাগে। ঘটনাটি নাটকীয়ভাবে লেখিকা ঘটিয়েছেন ওখানে প্রবোধকে উপস্থিত করে। সন্দেহপ্রবণ প্রবোধ স্ত্রীকে খুঁজে পায় অম্বিকার বাড়িতে এবং বড় বিশ্রি কাণ্ড ঘটে। সুবর্ণকে সেখানেই নির্যাতন করেন স্বামী প্রবোধ।
এমন নানা রকম শারীরিক নির্যাতনের বর্ণনা উপন্যাসে রয়েছে। কিন্তু এরপরও সুবর্ণ হেরে যাওয়ার মেয়ে নন। সত্যবতীর মেয়ে হয়ে কীভাবে হেরে যাবেন?
সুবর্ণ মায়ের মতোই প্রতিবাদী হয়ে ওঠে এবং স্বামীর সংসারে নির্যাতন সইতে না পেরে একবার শাশুড়িই তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। বলেন, ‘মানুষের রক্ত যদি তোর গায়ে থাকে তো ও বৌকে লাথি মেরে মের ফেল পেবো। আর যদি জন্তু-জানোয়ার হোস তো পরিবারকে মাথায় করে ভেন্ন হয়ে যা। নষ্ট মেয়েমানুষ নিয়ে ঘর করতে মুক্ত-বামনী পারবে না।’
সত্যি সত্যি সুবর্ণকে বাপের বাড়িতে দিয়ে আসা হয়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস যে বাপের বাড়িতে একবেলা আহারও জুটেনি। বাবা নবকুমার সঙ্গে সঙ্গে তাকে শ্বশুর বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়ে যান। এই বাবার বাড়িমুখো সুবর্ণ আর কোনোদিন হননি।
কিন্তু ধীরে ধীরে সুবর্ণ নিজের অবস্থান তৈরি করেন এবং এক সময় দর্জিপাড়া ছেড়ে প্রথমে ভাড়া বাসায়, পরে নিজের বাড়ি নির্মাণ করেন। তাঁর স্বপ্নের দক্ষিণের বারান্দা মোহও পূর্ণ হয়।
কিন্তু সুবর্ণ কি জয়ী বা হয়েছেন? নিজ গৃহে নিজের ছেলেরাই সুবর্ণর কথা শুনেছে? পারুলকে স্কুলে ভর্তি করাতে গিয়ে প্রথমে স্বামীর তিরস্কার এবং পরে ছেলেদের তিরস্কার আর বিদ্রূপের কাছে হার মেনে পারুলের স্কুলে পড়াই হয়নি। নিষ্পৃহ বকুল বেড়ে উঠেছে অনেকটা মা ও নানির ধাতে। পারুলও সাহিত্য ভালোবাসত এবং কবিতা লিখত। বকুল লেখাপড়ার পাশাপাশি সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী হয়ে ওঠে।
লেখিকা এখানেই বকুলকে নির্মাণ করেন অত্যন্ত সচেতন ও সতর্কতার সঙ্গে যা পরবর্তী ‘বকুলকথা’ খণ্ডে প্রধান চরিত্রের আখ্যান হয়ে ওঠে। বকুল শেষ পর্যন্ত স্কুলে পড়ার সুযোগ পায় সুবর্ণলতার আগ্রহ ও জেদের কারণে। পারুলের মধ্যে কাব্যপ্রতিভা ছিল এবং মাঝে মাঝে লুকিয়ে পদ্য লিখত। এই খবর কেবল বকুলই রাখত।
বৃহৎ ক্যানভাসের সামান্য অংশ জুড়ে থাকলেও জগু ঠাকুর যিনি প্রবোধের মামাত ভাই একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আবির্ভূত হন। মেয়েলি স্বভাবে জগু ঠাকুরের একটি প্রেস ছিল। সুবর্ণলতা এই ভাসুরের সন্ধান পেয়ে নিজের স্মৃতিকথা মূলক একটি পুস্তিকা ছাপানোর জন্য সেখানে একদিন গিয়ে উপস্থিত। জগু ঠাকুর এই স্মৃতিকথা দেখে পাগলপ্রায় এবং নিজের খরচেই পাঁচশ কপি প্রকাশ করে একদিন সুবর্ণর বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। জগু ঠাকুরের উৎসাহের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়—‘এই যে তোমাদের মা’র বই হয়ে গেছে। নাও এখন বন্ধুবান্ধবকে বিলোও। সার্থক মা তোদের, লোকের কাছে বলতে কইতে মুখ উজ্জ্বল। ছাপাখানার লোকেরা তো শুনে তাজ্জব।’ বলা বাহুল্য বকুল এর বিন্দু-বিসর্গও বুঝতে পারে না।
এই পুস্তিকাটি বাড়িতে প্রবোধ ও ছেলেদের হাতে পৌঁছলে শুরু হয় হাসাহাসি আর বিদ্রূপের জোয়ার। যেমন ছেলেরা তেমন প্রবোধ। হয়তো বকুলই মায়ের এই কাজের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়েছে। বকুলের প্রেমের আভাসও মিলে এখানে যদিও সেটি পরে টেকেনি।’
শেষ অধ্যায়ের আগের অধ্যায়ে সুবর্ণলতার মৃত্যুর দৃশ্য এমনভাবে বর্ণিত হয়েছে যে পাঠক এখানে এসে জমে যায়। মানুষের জীবনের ধারাবাহিকতা তো এমনই হয়। দুরন্ত শৈশব কৈশোর থেকে বয়স বাড়ে আর ধীরে ধীরে বার্ধক্যের কোলে গড়ায়। এক সময় মৃত্যুর কোলে সব শান্ত হয়। সেই নয় বছরের সুবর্ণকে নিয়ে পাঠক পাঠ শুরু করলেও উপন্যাসের শেষে এসে বৃদ্ধা মৃত্যুশয্যায় এক নারীর প্রতি মানুষের ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার্ঘ দেখে পাঠক স্তম্ভিত হয়। কিন্তু এখানেও নারীর পরাধীনতার নমুনা দেখতে পাওয়া যায়। বড় মেয়ে চাঁপা মৃত্যুযাত্রী মাকে দেখতে আসতে পারেনি পারিবারিক ঝামেলার কারণে। ছেলেরা দূর দূরান্ত থেকে এসেছে বটে কিন্তু মায়ের শেষকৃত্যের খরচের ব্যাপারেও উদারতা কিংবা মাতৃভক্তির নমুনা দেখা যায় না। তবে শেষ পর্যন্ত তারাও মায়ের প্রতি যতটুকু ভক্তি দেখানোর দেখিয়েছে।
শেষ অধ্যায়ে মুহ্যমান বকুল মায়ের কোনো লেখা পাওয়া যায় কি না হন্যে হয়ে খোঁজে। শেষ পর্যন্ত জগু ঠাকুরের প্রেসেও হানা দেয়। কিন্তু ততদিনে জগু ঠাকুরের প্রেস লাটে উঠে। সেখানেও মায়ের লেখার কোনো চিহ্নও পায়নি। ভারাক্রান্ত মন নিয়ে ফিরে আসে বাসায়। এখানেই শেষ হয় সুবর্ণলতা।
লেখক বলছেন, ‘হঠাৎ ঘুরে দাঁড়িয়ে বুঝি সেই দাঁত-খিঁচানো ঘরটার উদ্দেশ্যে মনে মনে একটা প্রণাম জানিয়ে মনে মনেই বলে, মা, মাগো! তোমার পুড়ে যাওয়া, হারিয়ে যাওয়া লেখা, না-লেখা সব আমি খুঁজে বার করবো, সব কথা আমি নতুন করে লিখবো। দিনের আলোর পৃথিবীকে জানিয়ে যাবো অন্ধকারের বোবা যন্ত্রণার ইতিহাস। [ক্রমশ]