খানাকুল ও আরামবাগে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ডিভিসি গত শনিবার ৬৯ হাজার কিউসেক জল ছাড়ায় দামোদর ও মুণ্ডেশ্বরী নদীতে বিপদসীমার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে বন্যার জল। নিচু এলাকাগুলোতে জল ঢুকতে শুরু করেছে। একেবারে নিচু এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের উঁচু জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। প্রশাসনের একদল প্রতিনিধি খানাকুল-এর বন্যা পরিদর্শন করেন। হুগলি জেলাশাসক, মন্ত্রী বেচারাম মান্না, আরামবাগ সাংসদ মিতালী বাগ, আরামবাগ তৃণমূলের সাংগঠনিক জেলা সভাপতি স্বপন নন্দী, হুগলি জেলাপরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধারা-সহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা খানাকুলের বন্যা পরিস্থিতি সরজমিনে ঘুরে দেখেন।
প্রশাসন সূত্রে খবর, দ্বারকেশ্বর নদীর অবস্থা ভয়াবহ। পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়াতে নদীর জল ফুঁসছে। নিচু এলাকাগুলোতে জলমগ্ন হয়ে গেছে। উদ্ধার কাজ জোরকদমে শুরু হয়েছে। ময়াল, ডোঙ্গল, বন্দর, ঘোষপুর এলাকার নদীবাঁধগুলোতে সর্বক্ষণ নজরদারি শুরু হয়েছে। প্রশাসনের তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, পাঞ্চেত ও ডিভিসি আজ দফায় দফায় জল ছাড়া শুরু করেছে। পাঞ্চেত যে এক লক্ষ ৩০ হাজার কিউসেক জল ছেড়েছিল, ডিভিসি এক লক্ষ কিউসেক জল ইতিমধ্যে ছেড়েছে। এরপর ফলে খানাকুলের বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যার জল ডুবতে শুরু হয়েছে। সরকারিভাবে উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে। মুণ্ডেশ্বরী ও কানা মুণ্ডেশ্বরী নদীর জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। দেখা দিয়েছে নদীবাঁধে ফাটল। খানাকুল-২ ব্লকের নন্দনপুর, রামচন্দ্রপুর, রাজহাটি, নতীবপুর, চিংড়া, শাবলসিংপুর, বলপাই ইত্যাদি এলাকায় বন্যার জল ঢুকতে শুরু হয়েছে। নিচু এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দল পৌঁছেছে। বহু মানুষকে উঁচু জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। সর্তকবার্তা জারি করা হয়েছে।
এদিকে রবিবার দুপুরের পর থেকে প্রবল বর্ষণ শুরু হয়েছে। নিচু এলাকাগুলোতে জলমগ্ন হয়ে গেছে। সবজি ও ধানের চরম ক্ষতির সম্মুখীন হবে চাষিরা। প্রসঙ্গত, গত শনিবার ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে তারকেশ্বের একটি গ্ৰামকে তছনছ করে দেয়। এদিকে প্রবল ঝড় ও বৃষ্টিতে আরামবাগ, খানাকুল ও তারকেশ্বর লন্ডভন্ড অবস্থা। মাটির বাড়ি ধসে পড়ার ঘটনায় কয়েক জন আহত হয়েছেন। উদ্ধারকারী দল পৌঁছেছে ঘটনাস্থলে।
আরামবাগ মহকুমা শাসক জানিয়েছেন, বন্যা ও দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুত প্রশাসন। এজন্য সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।