সঞ্জীব পুরোহিত সেদিনও হেঁটেছিলেন প্রখর রৌদ্রে। আজও কাতারে কাতারে সঞ্জীব পুরোহিতরা হাঁটছেন। সেই চৈত্রের প্রখর রোদেই। সেদিনের সঞ্জীব হেঁটেছিলেন চাকরি পাবার আশায়, আজকের সঞ্জীবেরা হাঁটছেন বাঁচার আশায়। হাঁটছেন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে। রোজগার, কর্মস্থল ছেড়ে। সৌজন্যে, কোভিড-১৯।
বিহারের বারাউনি থেকে কুড়ি জনের একটি দল হেঁটে পূর্ব বর্ধমানে ফিরছিল। রেললাইন ধরে হাঁটতে হাঁটতে রাতে দুর্গাপুরে এসে পৌঁছয় দলটি। ভাবতে পারেন? অঙ্গদপুরের কাছে দু-জন অজ্ঞান হয়ে যান। খবর পেয়ে দুর্গাপুর পুরসভার ৪ নং বরো চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যবস্থাপনায় তাঁদের লজে এনে খাবার দেওয়া হয়।
দুর্গাপুরের ৪৩ নং ওয়ার্ডের পুরপিতা ও ৪ নং বরো চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এ এক অবিশ্বাস্য পরিস্থিতি। ভাবতে পারেন রেল লাইন ধরে মানুষ বাড়ি ফিরছেন ৩০০, ৪০০, ৫০০ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে? চার-পাঁচ দিন ধরে ক্রমাগত হেঁটে এরা অনেকেই অসুস্থ। এর আগেও আমরা মুর্শিদাবাদের ৪৪ জনকে দুর্গাপুরের একটি লজে রাখার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।
চন্দ্রশেখরবাবু আরো জানান, দুর্গাপুরের মুচিপাড়ায় পুরসভা বাজারের উল্টো দিকের জঙ্গলে মোটরবাইক ফেলে মালদহের বাসিন্দা ১৪ জন লুকিয়ে পড়েছিলেন। এলাকাবাসীরা তাঁদের পথ আটকে পুলিশে খবর দেন। তাঁদেরও লজে থাকার ব্যবস্থা করেন চন্দ্রশেখরবাবু। তিনি বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে। কেতুগ্রামের কুড়ি জনকে অণ্ডালে রাখা হচ্ছে। বাকিরা আপাতত এখানেই থাকবেন। আমাদের ফুড-ব্যাঙ্ক থেকে খাবার দেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য খাদ্য, অস্থায়ী আশ্রয়স্থল, চিকিৎসা পরিষেবা-সহ যাবতীয় ব্যবস্থা করা হচ্ছে।