লকডাউন বা কোনও নির্দেশিকা জারির আগে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও আলোচনা করেনি কেন্দ্র। এটি সঠিক নয় বলেই মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার ২৭ এপ্রিল নবান্নে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এদিন ইঙ্গিত দিয়েছেন লকডাউন চলবে। ইচ্ছেমতো খোলা-বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। কোনও স্বচ্ছতা নেই, পরিকল্পনার অভাব স্পষ্ট। একদিকে বলছে লকডাউনে কড়াকড়ি করতে হবে। আবার দোকান খুলতে বলছে। দোকান খুললে ভিড় হবে, মানুষকে দোকানে যেতে বারণ তো করা যাবে না। ফলে ভিড় হবে, লকডাউন ব্যর্থ হবে। দুটো জিনিস একসঙ্গে চলতে পারে না। ভালো কিছু হলে কেন্দ্র ক্রেডিট নেয়, খারাপ কিছু হলে দায় চাপানো হয় রাজ্যের উপর। এখানে তো আবার কেন্দ্রীয় দল পাঠিয়েছে। ওদের কাছে অফিসাররা হাজিরা দেবে না কাজ করবে? এই দল পাঠানোর যৌক্তিকতা কী? সহযোগিতা করতে হলে আসুক, অসহযোগিতা কাম্য নয়। আমরাও দোকানদারদের ভালো চাই। এ বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের মতামত জানতে চাইব। তারপর বুধবার এ ব্যাপারে রাজ্য সরকার পরিকল্পনা ঘোষণা করবে। রাজ্য সরকার রেড জোনগুলিতে লকডাউন কড়াভাবেই প্রয়োগ করবে। অরেঞ্জ জোনে অপেক্ষাকৃত শিথিল করা হবে। গ্রিন জোনে আরেকটু শিথিল করা হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিকল্পনা করা হবে। এমনভাবে ২১ মে অবধি চলবে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের হোম ডেলিভারি চালু হয়েছে আগেই। এখন সেই পণ্যের বাইরেও সব জিনিসের হোম ডেলিভারি চালু থাকবে। এমন পদক্ষেপ বাংলায় প্রথম। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি ক্যাবিনেট কমিটি গড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এই কমিটির চেয়ারম্যান অমিত মিত্র। কমিটিতে আছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, স্বাস্থ্য সচিব প্রমুখ।