দেবাশিস ভট্টাচার্য
১৯৪৯ সালের কথা। দেশ সবে স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু ‘ইয়ে আজাদি ঝুটা হ্যায়’ বলে সশস্ত্র বিপ্লব করার ডাক দিয়েছিল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি। সে জন্য রাষ্ট্র সিপিআইকে নিষিদ্ধ করেছিল। জ্যোতি বসু-সহ সব নেতাদের গ্রেফতার করেছিল। জেলে রাজনৈতিক বন্দীদের প্রতি আচরণ খারাপ ছিল। বইপত্র এবং প্রাপ্য খাদ্য দেওয়ার দাবিতে রাজবন্দীরা অনশন শুরু করেন। রাজবন্দীদের ন্যায্য দাবির সমর্থনে মহিলা আত্মরক্ষা সমিতি এক সভা করে। বৌবাজারের ভারত সভা হলে। দিনটি ছিল ১৯৪৯ সালের ২৭ এপ্রিল। সভার পর মহিলাদের একটি মিছিল বের হয়। নেতৃত্বে ছিলেন মণিকুন্তলা সেন।

মিছিলটি বৌবাজারের মোড়ে আসতেই পিছনে একটি বোমা ফাটে। সঙ্গেসঙ্গে পুলিশ গুলি চালায়। চারজন মহিলা নিহত হন। এঁদের নাম অমিয়া, প্রতিভা, লতিকা ও গীতা। তিরিশ বছর পর ওইখানে ওই চার মহিলা বিপ্লবীর নামে শহীদ বেদি হয়। সেদিন পুলিশের গুলি চালনার প্রতিবাদে চারিদিকে ধিক্কার ওঠে। তখন মুখ্যমন্ত্রী ডা. বিধান চন্দ্র রায় জেলে গিয়ে রাজবন্দীদের অভিযোগগুলি শোনেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের সব দাবি মেনে নেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সিপিআই নেতা মুজফ্ফর আহমেদের সঙ্গে একটি চুক্তিও হয়। ২৭ এপ্রিল এলেই মনে পড়ে সেসব ঘটনার কথা।
