থেমে গেল ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই। শনিবার ২৫ এপ্রিল মা সাঈদা বেগমের মৃত্যুর পর বুধবার ২৯ এপ্রিল নিজেই চলে গেলেন ইরফান খান। বিরল ক্যান্সার ধরা পড়ার পর ২০১৮ সাল থেকে বিদেশে চিকিৎসা চলছিল তাঁর। দেশেও ফিরে এসেছিলেন। ৯৫ বছর বয়সে মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়েও জয়পুরে ফিরতে পারেননি ইরফান। এরপরই কোলনে সংক্রমণ নিয়ে ভর্তি হন মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন হাসপাতালে। সেখানেই এদিন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর। ইরফানের মৃত্যুর খবর প্রথম টুইট করে জানান তাঁর অভিনীত পিকু ছবির পরিচালক সুজিত সরকার। ইরফান খানের স্ত্রী সুতপা ও দুই সন্তানের জন্য সমবেদনা জানান তিনি।

১৯৬৭ সালের ৭ জানুয়ারি রাজস্থানের জয়পুরে জন্ম। বলিউডে তাঁর প্রথম ছবি সালাম বম্বে। নানা ধরনের চরিত্রে বহু ছবিতে অভিনয় করেছেন। হাসিল ও মকবুল ছবিতে ভিলেনের ভূমিকায় অভিনয় করে পরপর দু বছর তিনি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পান। উল্লেখযোগ্য ছবিগুলির মধ্যে রয়েছে এক ডক্টর কি মৌত, লাইফ ইন আ মেট্রো, পান সিং তোমর, হায়দার, গুন্ডে, পিকু, তলওয়ার, হিন্দি মিডিয়াম, দ্য লাঞ্চবক্স, ব্ল্যাকমেল, চকোলেট, বিল্লু ইত্যাদি।

ব্রিটিশ ও হলিউড ছবিতেও তিনি অভিনয় করেছেন যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অস্কারজয়ী স্লামডগ মিলিওনেয়ার, দ্য ওয়ারিয়র, দ্য নেমসেক, জুরাসিক ওয়ার্ল্ড, ইনফার্নো, লাইফ অফ পাই ইত্যাদি। দেশ-বিদেশে বহু পুরস্কার পেয়েছেন তাঁর অসামান্য অভিনয়ের জন্য, ২০১১ সালে পান পদ্মশ্রী।

মুম্বাইতে পা রাখার পর চাণক্য, ভারত এক খোঁজ, চন্দ্রকান্তা, শ্রীকান্ত-সহ দূরদর্শন ও বেসরকারি চ্যানেলে বহু সিরিয়ালে তিনি অভিনয় করেছেন। বাঙালি না হয়েও বাঙালি চরিত্রে তাঁর অসামান্য অভিনয় মনে রাখবেন চলচ্চিত্রপ্রেমীরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন।



সবচেয়ে বড়ো কথা অসুস্থ অবস্থাতেও অভিনয় চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন তিনি। জীবনের কঠিন লড়াই তিনি চালিয়ে গেলেন হাসিমুখে। তাঁর প্রয়াণ দেশ ও বিদেশের সংস্কৃতি জগতকেই শোকাহত করেনি, তাঁর গুণমুগ্ধ সব জগতের মানুষ শোকবার্তা দিচ্ছেন।

