বাগান বাড়ির নাম ‘পাহাড়তলী’। মালিক অতুল্য ঘোষ। আজ তাঁর ১১৭তম জন্ম দিন। কেউ কেউ মনে করেন, তৎকালীন কংগ্রেসের বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য ও কিং মেকার ছিলেন অতুল্য ঘোষ। সেই সময় বাঁকুড়া জেলা কংগ্রেসের অন্যতম কর্মকর্তা কালী কিঙ্কর কুণ্ডু ও পিয়ারলেসের কর্ণধার বি.কে. রায়ের মধ্যস্থতায় ও সহযোগিতায় স্থানীয় মশিয়াড়ার স্বাধীনতা সংগ্ৰামী মতিলাল রায়ের কাছ থেকেই দান স্বরূপ ২২ বিঘা জমি পান বাগান বাড়ি নির্মাণের জন্য।

১৯৫৯ সালে কংসাবতী জলাধার প্রকল্প শুরু হওয়ার সময়ে বেশ কয়েক বার ঐ প্রকল্পের চিফ ইঞ্জিনিয়ার-সহ বহুমন্ত্রী, আমলা, তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী ডা. বিধান চন্দ্র রায় এই বাগান বাড়িতে এসেছেন এবং প্রকল্পের অগ্ৰগতি বিষয়ে ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সেরেছেন এই বাগান বাড়িতে। তৎকালীন পূর্তমন্ত্রী খগেন্দ্র সরকার মুকুটমনিপুর থেকে বাগানবাড়ি পর্যন্ত পিচের রাস্তা তৈরি করে দেন। তৎকালীন রাজ্যের মন্ত্রী অমলা সোরেন, ডেপুটি স্পিকার আশুতোষ মল্লিক, স্থানীয় কংগ্রেসের নেতা বাদল সরকার, বীরেন মহান্তী, পূরবী মুখোপাধ্যায় প্রমুখ তাঁর এখানে প্রায় আসতেন।

সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায় এবং অধ্যাপক ও প্রাবন্ধিক প্রমথনাথ বিশিও এসেছিলেন অতু্ল্য ঘোষের বিশেষ আমন্ত্রণে। আজ সেই বাগান বাড়িতেই কচি-কাঁচাদের নিয়ে জন্মদিন পালন করলেন বিধায়ক জ্যোৎস্না মান্ডি।

তাঁর কথায়, পাশেই তো আমার বাড়ি। ছোট বেলায় এই বাড়িতে কতোবার খেলতে এসেছি। বড়ো হয়ে সব জানতে পারি অতুল্য ঘোষ ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন ব্যক্তিত্ব, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতা, লোকসভার প্রাক্তন সদস্য। আজ তাঁরই জন্মদিনে তাঁর বাড়ির আঙিনায় পাড়া পরশিদের নিয়ে তাঁর জন্মদিন পালন করছি। এ এক আলাদা অনুভূতি। এইরকম একজন ব্যক্তিত্বকে শ্রদ্ধা এবং প্রণাম জানাই।