শুক্রবার নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রথম পাতার হেডলাইন শুধু ট্রাম্প নয়, ট্রাম্পের সঙ্গে রিপাবলিকান সেনেটররাও এবারের ভোটে পিছিয়ে রয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমস, সিএনএন, রয়টার্স ও ফক্স নিউজের সর্বশেষ এক্সিট পোলে দেখা যাচ্ছে জো বাইডেনের পক্ষে ৫১ শতাংশ মানুষের রায় আর ট্রাম্পের পক্ষে ৪৪ শতাংশ। বিশেষ করে ৩টি রিপাবলিকান স্টেট—এরিজোনা, মেইন ও নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেটে সেনেট নির্বাচনে ৫ থেকে ৮ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন ডেমোক্রাট প্রার্থীরা। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও এই সব স্টেট থেকে পিছিয়ে পড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজের এক্সিট পোল অনুযায়ী বাইডেন ৫১ শতাংশ ট্রাম্প ৪৬ শতাংশ, রয়টার্সের এক্সিট পোলের হিসেবে বাইডেনের পক্ষে সমর্থন ৫২ শতাংশ আর ট্রাম্পের পক্ষে ৪০ শতাংশ। নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, করোনাভাইরাস প্যানডেমিক নিয়ন্ত্রণে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুরোপুরি ব্যার্থ, ফলে সেনেটে রিপাবলিকান পার্টি মেজরিটি হারাবে। এক্সিট পোল অনুযায়ী এই তিন জায়গায় জো বাইডেন বেশ বড়ো মার্জিনে এগিয়ে আছেন। মেইন স্টেটে বাইডেন ট্রাম্পকে পেছনে ফেলেছেন ১৭ পয়েন্টে। এরিজোনাতেও ফারাক বেশ বড়ো। নর্থ ক্যারোলিনায় বাইডেন এগিয়ে মাত্র ১ পয়েন্টে। নির্বাচনের ৫০ দিন আগে নিউইয়র্ক টাইমস ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছে এই ৫০ দিনে এমন কিছু ঘটবে না যেখানে ট্রাম্পের সমর্থন বাইডেনকে পেছনে ফেলতে পারে।
নিউইয়র্ক টাইমস লিখছে, যে ৭টি স্টেট আমেরিকার প্রসিডেন্ট নির্বাচনে সবচেয়ে বড়ো ভূমিকা গ্রহণ করে সবকটিতেই বাইডেনের থেকে ট্রাম্প পিছিয়ে রয়েছেন। বিশেষ করে এরিজোনার মত কট্টর রিপাবলিকান স্টেটে ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৬ পয়েন্টে পিছিয়ে রয়েছেন। নর্থ ক্যারোলিনায় ট্রাম্প পিছিয়ে রয়েছেন ১৬ পয়েন্টে। দুই জায়গাতেই বাইডেনের পক্ষে মত দিয়েছেন ৫২ শতাংশ মানুষ সেখানে ট্রাম্পের পক্ষে ৪১ শতাংশ। এক্সিট পলের ফলাফল অনুযায়ী ডেমোক্রেটরা সেনেটে কমপক্ষে ৩টি আসন পাবে। ফলে দুই দলের ৫০-৫০ আসন পেয়ে টাই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে বাইডেন জয়ী হলে ডেমোক্রাটরা ভাইস প্রেসিডেন্টকে পাবেন সেনেট সভাপতি হিসেবে। সেই হিসেবে ডেমোক্রেটরা সেনেটের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে পারবে। তবে ভোটারদের মতামত অনুযায়ী ট্রাম্প অর্থনীতিকে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছেন তার প্রতি তাদের সমর্থন আছে কিন্তু তাঁরা চান যে দল হোয়াইট হাউসে থাকবে সেই দল যদি সেনেটকে নিয়ন্ত্রণে রাখে তাহলে কাজের জন্য অনেক সুবিধা হয়। তবে সার্বিক বিচারে ট্রাম্প বা রিপাবলিকান সেনেটারদের প্রতি সমর্থন সাধারণ মানুষের নেই। ফলে রিপাবলিকান সেনেটররা তো ডুববেনই সঙ্গে ট্রাম্পও। তাই ৩ নভেম্বর সেনেট নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে আপামর আমেরিকা বাসী।
আমেরিকার রাজনীতিতে শুধু হোয়াইট হাউসে জিতে গেলে নিজের দলের এজেন্ডা ধরে রাখা কঠিন। বিশেষ করে অর্থনৈতিক পলিসি, স্বাস্থ্যনীতি, ট্যাক্স পলিসি, ইমিগ্রেশন ইত্যাদিতে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রাটদের অবস্থান বিপরীতমুখী। বর্তমানে হাউস ডেমোক্রাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সেনেট রিপাবলিকানদের। যদিও সেনেটে রিপাবলিকানদের মেজরিটি মাত্র ৪টি আসনে। কিন্তু আগামী ৩ নভেম্বর যে কয়টি সেনেটের আসনে নির্বাচন হবে তাতে ডেমোক্রাটদের এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা বেশি বলে জানাচ্ছে ওয়াশিংটন পোস্ট। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী কলোরাডোর বর্তমান রিপাবলিকান সেনেটন কোরি গার্ডনার ডেমোক্রাট প্রার্থী জন হিকেনলুপারের থেকে বেশ খানিকটা পিছিয়ে রয়েছেন। হিকেনলুপারের প্রতি ভোটারদের সমর্থন ৫১ শতাংশ আর গার্ডনারের প্রতি সমর্থন ৪৬ শতাংশ। এরিজোনার রিপাবলিকান সেনেটর মার্থা ম্যাকস্যালিও প্রায় ৭ শতাংশ ভোটে পিছিয়ে রয়েছেন ডেমোক্রাট প্রার্থী মার্ক কেলির থেকে। নর্থ ক্যারোলাইনায় বর্তমান রিপাবলিকান প্রার্থী টম চিলিসের অবস্থাও বেশ নড়বড়ে। সিএনএন এক্সিট পোল অনুযায়ী টম টিলিসের প্রতি ভোটারদের সমর্থন ৪৬ শতাংশ পক্ষান্তরে ডেমোক্রাট প্রার্থী ক্যাল ক্যানিংহ্যামের প্রতি সমর্থন ৪৭ শতাংশ। মেইন স্টেটের বর্তমান সেনেটর সুজান কলিন্স দীর্ঘ ২০ বছর রিপাবলিকান পার্টির সেনেটর হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন কিন্তু স্টেট হাউস স্পিকার ডেমোক্রাট প্রার্থী সারা গিডিওনের পক্ষে রায় দিয়েছেন ৫৪ শতাংশ মানুষ আর সুজান কলিন্সের পক্ষে ৪২ শতাংশ। জর্জিয়ার পরিস্থিতি নর্থ ক্যারোলাইনার মতো। এনআরপি-র এক্সিট পোল অনুযায়ী দুই প্রার্থীর পার্থক্য মাত্র ১ শতাংশ। বর্তমান রিপাবলিকান সেনেটর ডেভিড পারাড্যুর পক্ষে ৪৭ শতাংশ ভোট আর ডেমোক্রাট প্রার্থী জন ওসাফের প্রতি সমর্থন ৪৮ শতাংশ। কুইনপিয়াক ইউনিভার্সিটির এক্সিট পোল অনুযায়ী সাউথ ক্যারোলাইনার কট্টর রিপাবলিকান এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থক লিনজি গ্রাহাম এবার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে। ডেমোক্রাট প্রার্থী জেমি হ্যারিসনের সঙ্গে তার ব্যাবধান শূন্য শতাংশ। দুজনের ক্ষেত্রেই মানুষের রায় ৪৮ শতাংশ করে।
ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, ভোটের ফলাফল যাই হোক না কেন এবার আমেরিকার ভোটের লড়াই যে বেশ হাড্ডাহাড্ডি হবে তার আগাম বার্তা পাওয়া যাচ্ছে এক্সিট পোলে। কোনো ক্ষেত্রে ট্রাম্পের বিপক্ষে রায় যেতে পারে।