অনন্য এক কীর্তির সামনে জাপানের পেশাদার মহিলা ফুটবলার ইউকি নাগাসুতো। জাপানের হয়ে ২০১১ মহিলা বিশ্বকাপ জিতেছেন নাগাসুতো। পরের বছর লন্ডন অলিম্পিকে রুপার পদকও জেতেন ৩৩ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার। ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনো মহিলা ফুটবলার হিসেবে ছেলেদের দলে খেলবেন জাপানের ইউকি নাগাসুতো। যুক্তরাষ্ট্রের পেশাদার মহিলা লিগের দল শিকাগো রেড স্টারস থেকে তাকে লিয়েনে নিয়ে আসছে জাপানের অপেশাদার দল হায়াবুসা ইলেভেন। কানাগাওয়া লিগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে থাকে ছেলেদের এই ক্লাবটি।
২০১৯ মহিলা বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের মিডফিল্ডার মেগান র্যাপিওনি লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন। নটিজেনদের কাছে সেই বিষয়টা অজানা নয়। সেই বার্তা আলোড়ন ফেলেছিল সারা বিশ্বে। সেখান থেকে প্রেরণা নিয়েই ছেলেদের দলে যোগ দেওয়ার চ্যালেঞ্জটা নিয়েছেন নাগাসুতো। তবে হায়াবুসার হয়ে নাগাসুতো কবে মাঠে নামবেন তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে নতুন ক্লাবের হয়ে যত দ্রুত সম্ভব মাঠে নামতে চান তিনি। নাগাসুতোর এ দলবদলের খবর নিশ্চিত করেছে শিকাগো রেড স্টারস ও হায়াবুসা। জাপান, জার্মানি ও ইংল্যান্ডে খেলেছেন নাগাসুতো। গত বছর ৮ গোলের পাশাপাশি আরও ৮টি গোল সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন তিনি। ২০২১ যুক্তরাষ্ট্রে মেয়েদের জাতীয় লিগ শুরুর আগে হায়াবুসায় লিয়েনে খেলার সময়সীমা শেষ হবে নাগাসুতোর।

সংবাদমাধ্যমকে নাগাসুতো বলেন, ‘মহিলা ফুটবলারদের এই বার্তাটা দিতে চাই যে মেয়েআও ছেলেদের দলে যোগ দিয়ে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। সত্যি বলতে ছেলেদের দলে কতটা ভালো খেলবো তা জানি না। তবে নিজের সর্বোচ্চটাই নিংড়ে দিতে চাই। এই মুহূর্তে অভিজ্ঞতার সঙ্গে আমার পারফরম্যান্সও ভালো হচ্ছে, এই চ্যালেঞ্জটা নেওয়ার জন্য এটাই সঠিক সময়।’
নাগাসুতোর বড় ভাই গেঙ্কি জে-লিগের প্রাক্তন ফুটবলার। এখন তিনি খেলছেন হায়াবুসায়। নাগাসুতোর এই ক্লাবে আসার পেছনে তাঁর ভাইয়ের অবদান যথেষ্ট। গেঙ্কির ভাষায়, ‘এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সে বলে আসছে ছেলেদের দলে খেলতে চায়। তাই বড় ভাই হিসেবে বোনের স্বপ্ন পূরণ করাটা আমার দায়িত্ব ছিল।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাগাসুতোকে অভিনন্দন জানিয়েছে হায়বুসা। ক্লাবটির টুইট, ‘ছেলেদের দলে মহিলা খেলোয়াড় হিসেবে নাগাসুতোর এই ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জকে সমর্থন দিন।’ চলতি মাসেই তিনি ক্লাবের হয়ে মাঠে নামতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।