মনোজিৎ মৌলিক
মা-মাটি-মানুষ সরকারের উন্নয়নের জোয়ার মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে প্রশংসনীয় কাজ করছে হলদিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটি আর হলদিয়া পুরসভা। পুরসভার চেয়ারম্যান শ্যামল আদককে পাশে বসিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী তথা এইচডিএ চেয়ারম্যান শুভেন্দু অধিকারী জানান, সারা বছর যাতে ঘরে ঘরে পরিস্রুত পানীয় জল মেলে সেজন্য কয়েকশো কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত নদীর জল নোনা হয়ে যায়। সেই সমস্যার মোকাবিলা করে এই যে পরিস্রুত পানীয় জল প্রকল্পর কাজ চলছে তা রাজ্যে আর কোথাও হয়নি। এ ছাড়া কয়েক মাসের মধ্যে হলদিয়ায় চালু হয়ে যাবে ৫০ বেডের ইএসআই হাসপাতাল, ট্রমা সেন্টার, যুব আবাস, বনসৃজনের কাজও চলছে জোরকদমে। দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড হলদিয়াতে দফতরও খুলছে। বালুঘাটার পাশাপাশি সাজিয়ে তোলা হচ্ছে ত্রিবেণীকে। পর্যটকরা এই শীতে হলদিয়া ভবনে থেকে নয়াচরে ঘুরে আসছেন পরিবহণ দফতরের লঞ্চে চড়ে। শুভেন্দুবাবু জানান, পরিবেশ দূষণ থাকলে শিল্পপতিরা লগ্নিতে সঙ্কোচ করেন। দূষণ কমার কারণেই ২০১৩-র পর অনেক সংস্থা হলদিয়ায় বিনিয়োগ করেছে। আরও লগ্নি আসছে। এইচডিএ-র সিইও পানিকর হরিশংকর জানান, এবারের হলদিয়া ট্রেড ফেয়ারে দু’দিনের সিম্পোজিয়াম হয়েছে।

দূষণ নিয়ন্ত্রণে রেখে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে কীভাবে শিল্পায়ন হতে পারে সেই ভিশন ২০৩০ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গ্রিন জোন, ভূগর্ভস্থ জল না তুলে কীভাবে জল সরবরাহ হতে পারে, সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি বিষয় উঠে এসেছে আলোচনায়। সদ্যসমাপ্ত হলদিয়া মেলায় শিল্প সংস্থাগুলোর সক্রিয়তা ছিল উল্লেখযোগ্য। মেলায় ৯৫০টি বড়ো স্টল ছিল, ছোটো স্টল ছিল অগুণতি। ২৪৮টি হস্তশিল্প স্টল থেকেও বিক্রি ভালোই হয়েছে। ১০ দিনের মেলা দেখতে রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ এসেছিলেন হলদিয়ায়। মেলার সমাপ্তি অনুষ্ঠানে শুভেন্দুবাবু ছাড়াও ছিলেন সাংসদ শিশির অধিকারী, দিব্যেন্দু অধিকারী, নুসরত জাহান রুহি প্রমুখ। আগামী বছর মেলা হওয়ার কথা ২২ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি।