কেন্দ্রের আনা কৃষি বিলের বিরুদ্ধে গত সপ্তাহ ধরেই বেশ সরগরম উপমহাদেশীয় রাজনীতি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তজুড়ে চলছে বিক্ষোভ, আন্দোলন। তারপরেও ব্যাপক বিক্ষোভ এবং প্রতিবাদের মধ্যেও রবিবার রাজ্যসভায় ধ্বনি ভোটে পাশ হয়ে গিয়েছে কৃষি বিল। ভারতের সংবিধানে কৃষি হল রাজ্যের এক্তিয়ার ভুক্ত। বিল অনুযায়ী কৃষি পণ্য বিক্রির বিষয়ে সরকারি নিয়ন্ত্রণ সরিয়ে, কৃষকস্বার্থ ও কৃষিরওপর রাজ্যের অধিকারকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার এবং বড়ো পুঁজিপতিদের ভারতের কৃষি ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক করে দিতে চাইছে।
এমনকি বেসরকারি বড় সংস্থার সঙ্গে অর্থাৎ আদানি, আম্বানি, গোয়েঙ্কা এবং আন্তর্জাতিক বড় কোম্পানির সঙ্গে সাধারণ চাষীরা চুক্তিবদ্ধ হলে যা হয় তা হল প্রথম দুই-এক বছর সরকারি দামের চাইতে বেশি দাম দেওয়া হয়, যার ফলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফসল কেনাকাটা কমে যায় এবং সরকারি ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। একই পরিস্থিতি আসতে চলেছে দেশে ।
এখানেই শেষ নয়, কৃষকদের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য অর্থাৎ এমএসপি (MSP) যে দামে সরকার বেশ কিছু কৃষিপণ্য চাষির থেকে কিনতে বাধ্য, আইন বদলের ফলে বেসরকারি ক্রেতারা এরকম কোনো ন্যূনতম দাম দিতে বাধ্য নয়। কৃষকদের ফসলের দাম পাবার যে সরকারি সুরক্ষা ব্যবস্থা সেটা ধ্বংস করা হচ্ছে এই বেসরকারীকরণের মাধ্যমে।

এর ফলে সরকারি রেশন ব্যবস্থার শস্যে টান পড়বে কারণ বেসরকারি বড় কোম্পানি বিশ্বজনীন বাজার চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের ইচ্ছামত ফসল ফলাবে এবং ফসল বিক্রি বেসরকারি হাতে চলে যাবে সম্পূর্ণভাবে। এই নতুন আইনে বেসরকারি মান্ডি হবে কর মুক্ত এবং সরকারি মান্ডিতে কর লাগে, অর্থাৎ সরকারিভাবে ফসল ক্রয় ব্যবস্থা ধ্বংসের নীল নকশা। আর সব থেকে মারাত্মক বিষয় হল এই আইনে প্রতারিত হয়ে কেউ আদালতে ন্যায় বিচার চাইতেও পারবেন না।
রাজ্যসভায় এর বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের জোরালো প্রতিবাদে ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেনকে সাসপেন্ডও হতে হয়েছে।
গর্জে উঠেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার নবান্নে কৃষি বিল এবং ‘গণতন্ত্র-হত্যা’র সর্বাত্মক প্রতিবাদের ডাক দিয়েছেন। তৃণমূলের মহিলা সংগঠন মঙ্গলবার মেয়ো রোডে গাঁধী মূর্তির পাদদেশে ধর্ণা-অবস্থানে বসেন।
নেত্রীর নির্দেশ মতোই আজ উদয়নারায়ণপুরের বিধায়ক তথা হাওড়া গ্রামীণ জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের কো-অর্ডিনেটর সমীর পাঁজার নেতৃত্বে উদয়নারায়ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের বিশাল মিছিলের মাধ্যমে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হলো। প্রায় পাঁচ হাজার মহিলাদের সঙ্গে নিয়ে গড়ভবানীপুর থেকে সোনাতলা পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিলে সামিল হন সমীরবাবু এবং আগামী দিনে উদয়নারায়ণপুরে আরো বড়ো আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।