উদয়নারায়ণপুর বিধানসভা কেন্দ্র তৃণমূল কংগ্রেসের আয়োজনে কেন্দ্রের মোদী সরকারের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে ও বাংলার প্রতি চক্রান্ত, বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয় গড়ভবানীপুর সোনাতলা বাজারে। এদিন প্রতিবাদ সভার মঞ্চ থেকে হাওড়া গ্রামীণ জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের কো-অর্ডিনেটর তথা উদয়নারায়ণপুরের বিধায়ক সমীর পাঁজা বলেন, “একদিকে যখন অতিমারী করোনা মোকাবিলায় নিজের জীবনের পরোয়া না করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়াই করে চলেছেন, তাঁর সাথে আমফান ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত গোটা বাংলাকে যেভাবে তৎপরতার সাথে দিদি কাজ করে চলেছেন সেখানে তাঁর পাশে থাকা দূর অস্ত, বাংলার প্রতি চক্রান্ত করে বাংলা কে সাহায্য না করে বঞ্চনার সাথে সাথে উল্টে নোংরা রাজনীতির খেলায় মেতে উঠেছে মোদী সরকার।” বিজেপি কর্মী থেকে নেতৃত্বের প্রতি হুঁশিয়ারির সাথে এদিন সমীরবাবু সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তাই সাধু সাবধান… গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আমাদের আন্দোলন চলছে, চলবে।

এদিন প্রতিবাদ সভা থেকে ছাত্র-যুব দের পাশাপাশি মহিলাদের উদ্দেশ্যে বিধায়ক সমীর পাঁজা বার্তা দেন, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদনাম করবে বিরোধিতা করবে, অকথ্য ভাষায় কথা বলবে… ২৪ ঘন্টার মধ্যে তার পাল্টা প্রত্যুত্তর দিতে হবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাজনৈতিকভাবে। বিজেপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিনরাত বদনাম করে, গালিগালাজ করে বিনামূল্যে রেশনটাও কিন্তু আপনারা ব্যাগ ভর্তি করে আনেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বাংলার মা-মাটি-মানুষের সরকারের নেতৃত্বে তৈরী করা ঢালাই রাস্তার উপর দিয়ে সবুজসাথীর সাইকেলের মধ্যে বিজেপির ঝান্ডাটা লাগিয়ে মিছিলে বের হোন, তারপরেও দিদির বিরোধিতা করেন…. আপনাদের লজ্জা লাগা দরকার।

আমরা নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীক্ষায় দীক্ষিত সৈনিক, দিদির আদর্শ কে পাথেয় করে আমরা বিরোধী গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যদেরও ঘর করে দিয়েছি, কোনও রাজনৈতিক রঙ দেখিনি। আগামী ১৪ ও ২০শে সেপ্টেম্বরও পেঁড়ো ও উদয়নারায়ণপুরে রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের নির্দেশ মেনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে প্রতিবাদ সভার শেষলগ্নে জানান উদয়নারায়ণপুরের বিধায়ক সমীর পাঁজা। এদিন প্রতিবাদ সভায় হাওড়া গ্রামীণ জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের কো অর্ডিনেটর সমীর পাঁজা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উদয়নারায়ণপুর ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি দীপঙ্কর দাস, উদয়নারায়ণপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুলেখা পাঁজা, জেলা পরিষদের সদস্য মৃত্যুঞ্জয় সামন্ত, দেবীপুর এর প্রধান প্রশান্ত দে-সহ যুব তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি, ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ।