পলাশ-প্রিয়া কখনো ভাবতে পেরেছিল তাদের ছোট্ট মেয়ে দীপ্তি আবার সুস্থ হয়ে ফিরে আসবে? সত্যিতো তাঁদের কাছে এটা ছিল দিবা স্বপ্ন। এতো টাকাই বা তাঁরা পাবেন কোথায়। তার ওপর মেয়ের বয়স মাত্র ১ বছর ৬ মাস। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু অপারেশন জরুরি। আনুষাঙ্গিক খরচ বাদ দিলে যে টাকা দরকার তাও তাদের জোগাড় করার সাধ্য ছিল না। ছোট্ট মেয়ের এই করুণ মুখের দিকে তাকিয়ে ভেঙে পড়েছিলেন মা প্রিয়া সরকার। ফতেপুর অঞ্চলের বাসিন্দা প্রিয়ার বাবা তখন বেশ অসহায়। একে লকডাউনের সময় তার মেয়ের এই রোগ। মেয়ের হার্টে যে একটা ছোট্ট ছিদ্র রয়েছে। এমত অবস্থায় আর কোনও কিছু ভাববার আবকাশ তাদের হয় নি। স্বামী-স্ত্রী দুজনে একদিন তাঁদের কন্যাকে নিয়ে হাজির হন ফতেপুর অঞ্চলে তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অধ্যাপক অবশেষ দাসের কাছে। অবশেষবাবু মন দিয়ে তাঁদের কথা শুনেছিলেন। কথা দিয়েছিলেন ঠিক আছে তোমরা যাও দেখছি আমি কি করতে পারি।

এরপর অবশেষবাবু ফলতা ব্লকের রূপকার এবং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর খানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁকে সমস্ত ব্যাপারটা জানান। জাহাঙ্গীরবাবু ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিয়টি নিয়ে আলোচনা। করেন। অভিষেক সমস্ত ব্যাপারটা শোনার পর নিজে থেকেই উদ্যোগ নেন। তাঁর উদ্যোগেই দীপ্তিকে ভর্তি করা হয় কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে। অপারেশন হয় দীপ্তির এবং দ্রুত সে সুস্থ হয়ে ওঠে। নার্সিংহোমের সমস্ত খরচ বহন করেন অভিষেক নিজে। একবার ছোট্ট মেয়ে দীপ্তি এবং তার বাবা-মার সঙ্গে দেখাও করেন অভিষেক। সুস্থ হয়ে দীপ্তি ঘরে ফিরলে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের মিডিয়া সেলের দায়িত্ব থাকা জয় মন্ডলকে মিষ্টি ও ফুল নিয়ে পাঠান দীপ্তিদের বাড়ি। এখন দীপ্তি সম্পূর্ণ সুস্থ। অভিষেককে কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা ওঁদের নেই। ঘরের সাংসদ অভিষেক ওদের কাছে দেবতা। মেয়ের জীবনদাতা। পলাশ প্রিয়ার একটাই প্রশ্ন কাগজে-কলমে টিভিতে যা দেখি, যা শুনি। তার তো কিছুই মিলছে না ওনার সম্বন্ধে।