গত মে মাসে আফ্রিকান-আমেরিকান প্রাক্তন বাস্কেটবল খেলোয়াড় কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডকে হাঁটুতে পিষে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের পুলিশ। ফ্লয়েডের হত্যার সময় থেকেই প্রতিবাদে ফেটে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্ব। সেই প্রতিবাদ এখনো চলছে। তারই ধারাবাহিকতায় ইউএস ওপেনের প্রথম দিন থেকে নিজের ম্যাচগুলোতে কৃষ্ণাঙ্গদের ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র ওসাকা। প্রতি ম্যাচে একেকজনের নাম সংবলিত মাস্ক পরে খেলতে নেমেছেন এই টুর্নামেন্টে, যারা বিভিন্ন সময়ে পুলিশের অত্যাচার কিংবা বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন। জানিয়েছেন মৌন প্রতিবাদ। ফাইনালে এসেছিলেন ‘তামির রাইস’ লেখা মাস্ক পরে, ২০১৪ সালে ক্লিভল্যান্ডে ১২ বছর বয়সের যে শিশুকে গুলি করে হত্যা করেছিল দেশটির পুলিশ।
সাংবাদিক সম্মেলনে ওসাকা বলেন, আমি কখনো ভাবিনি আমি জিতবো। আমি আর কখনো আজারেঙ্কার মুখোমুখি হতে চাই না। আমি এই ম্যাচটা ঠিক মতো উপভোগ করতে পারলাম না। আমি যকন অনেক ছোটো ছিলাম তখন এই কোর্টে তমার খেলা দেখেছি তোমার কছা থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তার মধ্যে প্রথম, জেতার জন্য কনসেন্ট্রেসন ও শান্ত থাকা খুবই প্রয়োজন। আমি তো ভাবিইনি আমি জিতবো। প্রথম সেটে হেরে যাওয়ার পর আমার ধারণাটা সঠিক বলে মনে হচ্ছিল। তারপরেই ভাবলাম অনেকেই ফাইনাল খেলার স্বপ্ন দেখে। আমি সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে। কান হাল ছাড়বো! আমি এভাবে হারতে পারি না। শেষ চেষ্টা আমাকে করতে হবে। আমি পেরেছি, আমি জিতেছি। আজারেঙ্কা তোমার কাছ থেকে আমি অনেক শিখেছি তোমাকে ধন্যবাদ।

এবারের ইউএস ওপেন টেনিসের শুরু থেকেই বর্ণ বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছিলেন জাপানের নাওমি ওসাকা। এমনকি বর্ণ বৈষম্যের আন্দোলনের অংশ হিসেবে টুর্নামেন্ট থেকে সড়ে যেতে চেয়েছিলেন। সেমিফাইনালের আগে নাম প্রত্যাহার করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছিলেন। ১ ঘন্টা ৫৩ মিনিট লড়াই করে ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মত গ্র্যান্ড স্ল্যামের শিরোপা জিতলেন ওসাকা। ইউএস ওপেনে দ্বিতীয়। অন্যটি অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে। তিনি ইউএস ওপেনের ইতিহাসে ১৮ বছর পর একক মহিলা টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে ৩টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনাল জয়ের নজির গড়েছেন। টুর্নামেন্টের ফাইনালে পিছিয়ে পড়েও চতুর্থ বাছাই ওসাকা ১-৬, ৬-৩ ও ৬-৩ গেমে হারিয়েছেন অবাছাই বেলারুশের ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কাকে। প্রথম সেটে পিছিয়ে পড়ার পর দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন বাকি ম্যাচে। খেলার ধরনে হালকা পরিবর্তন আনলেন। আজারেঙ্কার ফোরহ্যান্ডগুলোর জবাব দিতে থাকলেন লাইনের ধারে গিয়ে, ব্যাকহ্যান্ডের মাধ্যমে। শটগুলো মারতে থাকলেন নিখুঁতভাবে, প্রচণ্ড জোরে। আড়াআড়িভাবে না মেরে সোজা মারা শুরু করলেন। তাতেই আজারেঙ্কার গতি আস্তে আস্তে কমে গেল, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে এল ওসাকার হাতে। শেষমেশ শক্তির খেলাতেই পরাজয় মানলেন আজারেঙ্কা।