চিনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রকাশিত জার্নাল সে দেশের কর্তব্যপূরাণ। মাঝে মাঝেই সেই জার্নালে চিনা নাগরিকদের কি কর্তব্য তা জানানো হয়। গত ১৫ জুলাই সংখ্যায় সেই জার্নালের সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছিল পার্টির সাধারন সম্পাদক শি জিং ফিং-কে নিশ্চিন্ত ও সুরক্ষিত রাখাই চিনের প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য। আরো লেখা হয়, এর অর্থ শুধু মাত্র শি জিং ফিং-কেই নিশ্চিন্ত ও নিরাপদ রাখা অন্য কোনও ব্যক্তিকে নয়। এই নির্দেশ থেকে স্পষ্ট এই মুহূর্তে চিনে শি জিং ফিং হলেন একমাত্র পাওয়ার সেন্টার। এই দিক দিয়ে বিচার করে দেখলে ক্ষমতার নিরিখে চেয়ারম্যান মাওকেও ছাড়িয়ে গিয়েছেন শি জিং ফিং। মাও যখন চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন, সেই সময়ে লি শাও চি, চৌ এন লাই, মার্শাল জু দে-রাও যথেষ্ট ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। অর্থাৎ চিনের আকাশে এখন একটাই রেড স্টার তার নাম শি জিং ফিং। ২০২১-এ চিনা কমিউনিস্ট পার্টির শতবর্ষ। পার্টির প্রথম ১০০ বছর যদি মাওয়ের হয় তাহলে নতুন শতবর্ষ হবে শি জিং ফিং-এর। কমিউনিস্ট পার্টির জার্নাল থেকে এই বার্তাই স্পষ্ট।
চিনে উচ্চশিক্ষায় এখন পড়ানো হয় শি জিং ফিং-এর লেখা চায়না ড্রীম। এই স্বপ্নের লক্ষ্য হলো, বিশ্বে আগামী শতাব্দী চীনের। অর্থাৎ আগামীদিনে চিনকে বিশ্বের এক নম্বর সুপার পাওয়ার করেতোলাই লক্ষ্য। একদা তিমির বিনাশি চিনা কমিউনিস্ট পার্টি এখন বিশ্ব দখলের লক্ষ্যে পৌঁছতে তাদের হাতিয়ার আগ্রাসন। সেই আগ্রাসনের চেহারা দেখা যাচ্ছে দক্ষিণ চিন সাগর, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও লাদাখ সীমান্তে।
গত শতকে পাঁচ-এর দশক থেকে বিদেশ নীতিকে চিন ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে মুখের কথা আর কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য শিকেয় তুলে রেখেছে। শি’ জমানায় লাদাখ সীমান্তে সাম্প্রতিক অশান্তিতে চিনের এই দু-মুখো নীতি প্রকাশ্যে এসেছে। লাদাখের পরিস্থিতি চিন যে ভাবে সব প্রটোকল ভেঙে অশান্ত করে তুলেছে তার পিছনে গভীর কৌশল দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা নিয়ে ভারতের সঙ্গে পুরোপুরি যুদ্ধে নামা চিনের উদ্দেশ্য নয়। কারন চিন জানে, ১৯৬২-র ভারত আর ২০২০-র ভারত এক নয়। আর্থিক ও সামরিক দিক থেকে চিন যতই ক্ষমতাশালী হোক না কেন, সম্পূর্ণ যুদ্ধে তাদেরও বিপুল ক্ষতি হবে এটা বেজিং জানে। তার উপর ভারত পরমানু শক্তিধর রাষ্ট্র তাই এশিয়ায় আধিপত্য বজায় রাখতে চিন অন্য কৌশল নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় অশান্তি তৈরি করে ভারতকে সামরিক ক্ষাতে ব্যায় বাড়াতে বাধ্য করা। এর ফলে অতিমারীতে বিপর্যস্ত ভারতীয় অর্থনীতিতে আরও চাপ বাড়বে। যার লক্ষণ এখনই দেখা যাচ্ছে। সাধারনত লাদাখ সীমান্তে নভেম্বর থেকে মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত চিন বা ভারত কেউই সেনা মোতায়েন রাখে না। গত ৪৫ বছর ধরেই এই অলিখিত ব্যবস্থা চলে আসছে। কিন্তু এবার লাল চিনের যা মতিগতি তাতে শীতেও গিড়িচূড়ায় সেনা মোতায়েন রাখার প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে ভারতকে।
দেশের সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয় তার সবটাই প্রকাশ্যে আনে না কোনও দেশই। সেই হিসেবে যেটুকু জানা যায় তার থেকে স্পষ্ট এইরকম কঠিন আবহাওয়ায় সেনা মোতায়েন রাখা অত্যন্ত ব্যয়বহুল বিষয়।
লাদাখ গিরিচূড়ায় চ্যালেঞ্জ
অত্যন্ত ব্যয় বহুল
গিরিচূড়ায় সরবরাহে খরচ
খরচ বিশেষ সরঞ্জামের