৬৭ জন দিল্লিবাসী পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরার বন্দোবস্ত করলেন হরিপালের বিধায়ক বেচারাম মান্না। এঁদের মধ্যে ৩৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও ৩৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। দীর্ঘ লকডাউন-এর সময় এই সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকরা হুগলির বেগমপুরে আটকে ছিলেন কিন্তু এই দুঃসময়ে তাদের পাশে কেউ ছিল না অথচ তাদের বাড়িতে আত্মীয়-পরিজনদের কথা চিন্তা করে তারা ব্যাকুল হয়ে পড়েছিলেন চেষ্টা করছিলেন তারা বাড়ি ফিরে যাবার। কিন্তু যাবার মতন টিকিট ভাড়া তাদের কাছে ছিল না। মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্বরূপ এগিয়ে এলেন হরিপালের বিধায়ক বেচারাম মান্না।

এই ১৫ জন অসহায় দিল্লি বাসী শ্রমিকের ঘরে ফেরার জন্য ট্রেনের টিকিট কেটে দিলেন। আজ সেই টিকিট পরিযায়ী শ্রমিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এঁদের মধ্যে করন মহাবাত ও বিরেন্দ্র মহাবত দম্পতির ঘূর্ণিঝড় আমফানের দিন কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। আজ এই দম্পতির হাতে জন্ম সার্টিফিকেট প্রদান করেন বেগমপুর অঞ্চল প্রধান ভারতি বাকুলি। ০২৩৮১ হাওড়া-নিউদিল্লী শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন। আগামীকাল সকাল ৮টায় হাওড়া স্টেশনে উঠবেন। সকলের বাড়ি দিল্লীর প্রেমনগরে।

আগামীকাল ট্রেনে যাতে কোনরূপ অসুবিধা না হয় তার জন্য সমস্ত রূপ ব্যবস্থা করেন উপপ্রধান বরুন কুন্ডু ও চন্ডীতলা-২-এর পূর্তের কর্মাধ্যক্ষ জয়দেব রক্ষিত। যাবার সময় এই সমস্ত শ্রমিকরা বলে গেছেন বাংলার ব্যবহারের আমরা অভিভূত। এখানকার মানুষরা যে কতটা দয়াশীল আমরা তা মর্মে মর্মে বুঝেছি। বিধায়ক সাহেব এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দুঃসময়ে আমাদের পাশে থেকেছেন আমাদের থাকা-খাওয়ার কোনও কষ্ট হয়নি। যাবার আগে তারা বলে গেলেন কিছুদিনের মধ্যে আবার আমরা এখানে ফিরে আসবো আমাদের পুরনো কর্মস্থলে।
ছবি ও সংবাদ : তরুণ মুখোপাধ্যায় ও সুভাষ মজুমদার