বাংলার প্রতি বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রের মোদী সরকারের বিমাতৃসূলভ আচরণ ও বঞ্চনার প্রতিবাদে উদয়নারায়ণপুর বিধানসভা কেন্দ্র তৃণমূল কংগ্রেস পরিবারের প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয় পেঁড়ো নেতাজী সংঘ সংলগ্ন মাঠে। এদিন সভামঞ্চ থেকে উদয়নারায়ণপুর বিধানসভা কেন্দ্র তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান তথা হাওড়া গ্রামীণ জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের কো অর্ডিনেটর বিধায়ক সমীর পাঁজা বলেন, নোটবন্দী থেকে রেলের বেসরকারীকরণ, সমবায় ব্যাঙ্কে অনৈতিক ভাবে হস্তক্ষেপ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বপ্রথম গর্জে উঠেছেন। তার প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলার মানুষ পদে পদে প্রমাণও পেয়েছেন। বাংলার প্রাপ্য ৫৪ হাজার কোটি টাকা, ১০০ দিনের কাজের টাকা-সহ আমফান ঘূর্ণিঝড়ে প্রাপ্য যে অর্থ, তা না দিয়ে কদর্য ভাবে নোংরা রাজনীতি করে যেভাবে কেন্দ্রের মোদী সরকার বিমাতৃসূলভ আচরণ করে চলেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।
উদয়নারায়ণপুরে বিজেপির যেসব গুটিকয়েক সমর্থক আছেন, কান খুলে শুনে রাখুন উদয়নারায়ণপুরবাসীর মধ্যে বিভাজন এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করার চেষ্টা করবেন না। সিপিএমের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আজ ১০ বছরের কাছাকাছি উদয়নারায়ণপুরের মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে পেরেছি আমরা, ফিরে আসতে দিইনি আমরা সেই খুনের, পালিয়ে বেরানোর দিনগুলোকে। যদি মনে করেন ভদ্রতা আমাদের দুর্বলতা, তাহলে রাজনৈতিকভাবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কীভাবে তার যোগ্য জবাব দিতে হয় তা আমরাও জানি।

স্মরণ করিয়ে দিই, দেবীপুরের রায়চকে নিমাই সিং এর হত্যার বদলা নিইনি আমরা, নদীর ওপারে খোশালপুরের রতনপোতায় গোবিন্দ দাসকে কুপিয়ে হত্যা, মান্দারিয়া খালে সঞ্জীব দে কে হত্যা করা থেকে কান্দুয়ায় গোপাল পাত্রের খুনের বদলা নিইনি আমরা, শান্তি ফিরেছে উদয়নারায়ণপুরে। আরামবাগের সিপিএমের অনিল বসু থেকে তাবড় তাবড় নেতাকে আমরা হটিয়েছি, আর আপনারা তো নাদান। খবর নিয়ে দেখবেন কমরেডদের থেকে একটু, কাউকে পাশে পাইনি সেদিন, খবর রাখতেন, পাশে থাকতেন একজনই, আমাদের দিদি মমতাদি। দিনে বাম রাতে রাম এর বন্ধুরা আজ কন্যাশ্রী থেকে রুপশ্রী, জন্মালে শিশুসাথী আর মৃত্যুকালে সমব্যাথী, মাঝখানে সবুজসাথী থেকে শুরু করে কৃষকবন্ধু, বিনামূল্যে রেশন, স্বাস্থ্য সবকিছুই উপভোগ করার সুবিধা পাচ্ছেন শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই।
বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সুর, প্রতিবাদের ভাষা আরও জোরদার করার ডাক দিয়ে এদিন বিধায়ক সমীরবাবু আগামী ২০শে সেপ্টেম্বর উদয়নারায়ণপুর বিডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের কথা জানান, পাশাপাশি জানান ২৭শে সেপ্টেম্বর ঐতিহাসিক কান্দুয়া দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সাথে সাথে সেখানেও উদয়নারায়ণপুর বিধানসভা কেন্দ্র তৃণমূল কংগ্রেস পরিবারের সঙ্গে যুক্ত হবেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে আগত কর্মীরা।

পেঁড়ো নেতাজী সংঘ সংলগ্ন মাঠে এদিন প্রতিবাদ সভা মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন যজ্ঞে সামিল হতে হাওড়া গ্রামীণ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কো-অর্ডিনেটর ও বিধায়ক সমীর পাঁজার হাত ধরে ৭০০ জনেরও বেশি সিপিএম বিজেপি নেতৃত্ব ও কর্মী আনুলিয়া, বসন্তপুর, খোশালপুর, বালিচক মোট ৪টি অঞ্চল থেকে উদয়নারায়ণপুর বিধানসভা কেন্দ্র তৃণমূল কংগ্রেস পরিবারের সাথে যুক্ত হলেন।
বিধায়ক সমীর কুমার পাঁজা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উদয়নারায়ণপুর কেন্দ্র তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির সভাপতি দীপঙ্কর দাস, জেলা পরিষদ সদস্য মৃত্যুঞ্জয় সামন্ত, পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ ও কুরচি শিবপুর অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি লক্ষীকান্ত দাস, জেলা পরিষদ সদস্যা অপর্ণা সাহা, উদয়নারায়ণপুর ব্লক যুব তৃণমূল সভাপতি ও কার্যকরী সভাপতি তন্ময় চক্রবর্তী ও সেকেন্দার মোল্লা-সহ আঞ্চলিক তৃণমূল সমগ্র নেতৃত্ব।