অভিনেতার নাম যখন চরিত্রের আড়ালে হারিয়ে যায়, সেটিই নাকি সেই শিল্পীসত্তার সবচেয়ে বড় অর্জন। তেমনটাই ঘটেছে ব্রির বেলায়। লোকে তাঁকে ডাকতে শুরু করেছে ক্যাপ্টেন মার্ভেল নামে। কিন্তু তিনি নাকি হতেই চাননি ক্যাপ্টেন মার্ভেল। দু–দুবার মুখের ওপর না করে দিয়েছিলেন প্রযোজককে। সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এমনটাই জানালেন ‘রুম’খ্যাত এই হলিউড তারকা।
লকডাউনে অন্য অনেকের মতোই ইউটিউব চ্যানেল খুলেছেন ব্রি লারসন। মাত্র কয়েক দিন আগে ইউটিউবে তাঁর প্রথম ভিডিওতে তিনি কথা বলেছেন নিজের উদ্বিগ্নতা আর বিষণ্ণতা নিয়ে। দুই দিনে ব্রির চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করেছেন ১ লাখ ৮০ হাজার ভক্ত। ভিডিওতে ব্রি তাঁর বন্ধু, সহকর্মী ও অন্য প্রতিষ্ঠিত ইউটিউবারদের সঙ্গে কথা বলেছেন। পরামর্শ নিয়েছেন।
নটিজনদের কাছে ব্রি লারসনের নতুন করে পরিচয় দেবার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। নারী–পুরুষনির্বিশেষে এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ মানুষের একজন ব্রি লারসন। এ খবর টাইম ম্যাগাজিনের। জীবনের ৩০টা বসন্ত ছুঁতে না ছুঁতেই তাঁর স্বীকৃতির ঝুলিতে অস্কার, বাফটা, গোল্ডেন গ্লোব, স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ড-সহ নামকরা সব অ্যাওয়ার্ড।

তবে স্বীকৃতির আড়ালে বিষণ্ণ ব্রি-র হরেক সমস্যা। সমস্যা থেকে এসেছে হতাশা। এক প্রশ্নের উত্তরে ব্রি বলেছেন, ‘আমার অ্যাজমা আছে, আর আমি অন্তর্মুখী স্বভাবের। অনেক মানুষের ভেতর আমার গলা শুকিয়ে আসে। নিজেকে বেঢপ আর জবুথবু লাগে। সেই সময় ক্যাপ্টেন মার্ভেল ছবিটি আমাকে সামাজিক উদ্বিগ্নতা আর বিষণ্ণতা থেকে মুক্ত হতে অনেকটা সাহায্য করেছিল। এ রকম একটা সুপারহিরো চরিত্রই যেন আমি খুঁজছিলাম নিজেকে আড়াল করার জন্য।’
ব্রি জানিয়েছেন, মানুষ তাঁকে সেভাবেই চেনে, যেভাবে পরিচালক তাঁকে দেখাতে চান। কিন্তু এখানেও একটা ছোটগল্প আছে। আমার জীবনের সবকিছুতেই যেন একটা গল্প লুকিয়ে থাকে পরবর্তীতে সেটা ক্রমশ প্রকাশ্য হিসেবে দর্শকদের কাছে ধরা দেয়। —‘আমি তখন কং: স্কাল আইল্যান্ড ছবির শুটিং করছিলাম। তখন ফোনটা এল। বলা হলো, আমি ক্যাপ্টেন মার্ভেল চরিত্রটার জন্য নির্বাচিত হয়েছি। আমার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল, না, আমি এই সিনেমা করব না। আমি এত চাপ নিতে পারব না। আমি এসবের মধ্যে নেই। তারপর মনে হলো, এই নারী সুপারহিরো আমাকে আমার বিষণ্নতা থেকে বাঁচাতে পারে। আর দিনের শেষে নারী পরিচালক, নারীকেন্দ্রিক গল্প আর নারী ক্রু মিলিয়ে দুর্দান্ত একটা কাজ হলো।’
বক্স অফিসেও দুর্দান্ত সারা ফেলেছে ক্যাপ্টেন মার্ভেল ছবিটি। নারীর ক্ষমতায়নের সুপারহিরো সিনেমায় এক বৈপ্লবিক আইকন।