আর দশজনের মধ্যে দাঁড় করিয়ে দিলে, যাঁরা তাঁকে চেনেন না, তাঁরা কেউ বলতেই পারবেন না ইনি কালনা-২নং-এর ব্লক সভাপতি প্রণব রায়। এই তো কয়েকদিন আগে কানাঘুষ শোনা যাচ্ছিল কালনা-২নং ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি প্রণব রায়কে সরিয়ে নতুন মুখের খোঁজ চলছে। দুর্জনেরা সেই খবরকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে এমন বলা শুরু করলো যে গল্পের গরু শেষ পর্যন্ত গাছে উঠে বসলো। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনীতিক সন্ন্যাসী প্রণব রায়কে ভুল বোঝেন নি। তাঁর ওপর ফের আস্থা রেখেছেন। সেই ১৯৯৮ সাল থেকে আজও হাল ধরে রেখেছেন কালনা-২নং-এর ব্লক সভাপতি প্রণব রায়। দুর্জনদের মুখে ছাই ফেলে টানা ২২ বছর পার করা প্রণব রায় আবার ৫ বছরের জন্য দায়িত্ব পেয়েছেন। না তাতে তার কোনও অহং বোধ নেই। তাঁর একটাই কথা, আমি পদের প্রত্যাশী নই। সংগঠনটা করতে ভালোবাসি। মানুষের সঙ্গে থাকতে চাই। সেই সুযোগটা দিদি আমাকে দিয়েছেন। আমি তার মর্যাদা রাখার চেষ্টা করে যাব।

লকডাউনের সময় টানা এক মাস রান্না করা খাবার গ্রামের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে দলীয় কর্মীদের দিয়ে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন। যাঁরা তাঁর সিঙ্গারকোন অফিসে এসেছে তাঁরাও খাবার পেয়েছেন। তাঁর কথায় মানুষকে অভুক্ত রাখা ধর্মে সইবে না। আমি আমার মতো করে চেষ্টা করেছি। জানিনা কতটা করতে পেরেছি। তবে সবাই আমাকে সাহায্য করেছে। দেবু (দেবু টুডু), নীলিমা (নীলিমা কপ্টী) এরা তো আমার সঙ্গেই থাকে। এছাড়া পার্টিকে ভালোবাসে এমন অসংখ্য কর্মী আছে। মহৎ কাজ একার দ্বারা হয় না।
কৃষি বিল নিয়েও তাঁর এক কথা এটা অন্যায়। ইমিডিয়েট এফেক্ট কিছু বোঝা যাবে না। কিন্তু লংটার্মে এর এফেক্টে মানুষের দম বন্ধ হয়ে যাবে। বিজেপি প্রজেক্ট করে পলিসি মেক করে না। প্রজেক্ট শেষ হয়ে যায় কিন্তু পলিসির এফেক্ট দীর্ঘকালীন। মানুষ তাতে উপকৃতও হয়। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্য বস্তুর মধ্যে থাকে চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, তেল। এগুলো অত্যাবশ্যকীয় পণ্য থেকে বাতিল করে দেওয়া হলো। কৃষি বিপণনে বিদেশি বিনিয়োগ স্বাগত, রাজ্যের মধ্যে কৃষিপণ্য বেচাকেনা পুরোপুরি রাজ্যসরকারের দেখবার বিষয়। এ ব্যাপারে রাজ্যের আইন-কানুন কার্যকরী হওয়া উচিত। কেন্দ্রীয় সরকারের নয়। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পুরোপুরি পরিপন্থী এই বিল। এটা মানা যায় না। আমরা কৃষি বিলের নামে নীল চাষ ও নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের প্রথা ফিরিয়ে এনে কৃষকদের ফসলের ন্যায্য অধিকার কেড়ে নেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সিঙ্গারকোন থেকে বৈদ্যপুর রথতলা পর্যন্ত একটি প্রতিবাদ মিছিল করেছি। আরও প্রতিবাদ মিছিল করবো।

আজকের প্রতিবাদ মিছিলের শুভ সূচনা করেন রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপত্র দেবু টুডু, উপস্থিত ছিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কোলে, কালনা ২নং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নীলিমা কোপ্টী, কালনা ২নং ব্লক তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি বাপন হালদার-সহ ব্লকের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতৃত্ব ও কর্মীবৃন্দ।