মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের নাম ভাঙিয়ে ইষ্টার্ন ইন্ডিয়া মোশান পিকচার্স ডিরেক্টর অ্যাসোসিয়েশন এই সংস্থার অন্যতম কর্ণধার হিসেবে দাবি করে সায়ন্তন পাল ওরফে রাহুল নামে এক ব্যাক্তি প্রতারণাচক্র ফেঁদে বসেছে টালিগঞ্জ স্টুডিও পাড়ার বুকে। ফেসবুকে টালিগঞ্জের সিনেমা জগতের এ্যাসিস্টেন্ট ডিরেক্টর, এ্যাসিস্টেন্ট ক্যামেরাম্যান, অভিনেতা, অভিনেত্রী হতে ইচ্ছুক যুবক যুবতীদের সুকৌশলে খুঁজে বার করে মোটা টাকার বিনিময়ে তাদের কাজের সুযোগ অথবা ইষ্টার্ন ইন্ডিয়া মোশান পিকচার্স ডিরেক্টর অ্যাসোসিয়েশন এই সংস্থার কার্ড পাইয়ে দেওয়া হবে বলে প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার টাকা ঠকিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যাদবপুর এলাকার বাসিন্দা এই লোকটি সম্পর্কে ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে অভিযোগ জমা পরেছে। কিন্তু বছর গড়িয়ে গেলেও সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও পুলিশি ব্যবস্থা দেখা যায় নি। সায়ন্তনকে জিজ্ঞাসাবাদ বা গ্রেফতার কিছুই করেনি পুলিশ। এমনকি ইষ্টার্ন ইন্ডিয়া মোশান পিকচার্স ডিরেক্টর অ্যাসোসিয়েশন এই সংস্থার দফতরে যোগাযোগ করা হলে সেখান থেকেও বলে দেওয়া হয়েছে যে এই নামে তাদের সংস্থায় একজন ছিলেন বটে কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে নানারকম অভিযোগ উঠতে থাকায় তাঁকে তাঁরা বাদ দিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে সায়ন্তনের সঙ্গে সংগঠনের কোনও যোগাযোগ নেই। এই ঘটনা শুনে আকাশ থেকে পড়েছেন ভুক্তভুগীরা। এঁদের মধ্যে রয়েছেন দমদমের বাসিন্দা শান্তা মিত্র নামে এক নাট্যকর্মী এবং অভিনেত্রী। তার কাছ থেকে কার্ড বানিয়ে দেব, কাজার সুযোগ করে দেব ইত্যাদি বলে দফায় দফায় সায়ন্তন ৪১ হাজার টাকারও বেশি নেয়।

সমস্ত আর্থিক লেনদেনটাই হয় অনলাইনে। টাকা হাতানোর পর থেকে সায়ন্তন, শান্তা মিত্রকে এড়িয়ে চলা শুরু করে। কার্ড এবং কাজ পাওয়ার কি হলো জানতে চাইলে, হচ্ছে হবে করতে থাকে। একসময় বিরক্ত হয়ে শান্তা দেবী টাকা ফেরত চান। তখন সায়ন্তন টাকা ফেরত দূরে থাক টাকার কথা মুখে আনলে শোচনীয় অবস্থা হবে বলে হুমকি দেয়। শান্তা মিত্র জানিয়েছেন, তারপর থেকেই ফেসবুক চ্যাট এবং দুটি মোবাইল নম্বরে সায়ন্তনকে আর পাওয়া যায় নি। তার সরল বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে এই ঠগবাজ টাকা হাতিয়ে চম্পট দিয়েছে। ২০১৯-এর এই ঘটনার পর শান্তা মিত্র অন্তত ৫০ বার থানা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন, প্রতিকার চেয়েছেন, তার হকের টাকা উদ্ধার করে দিতে পুলুশি সাহায্য চেয়েছেন কিন্তু কোনওরকম সুরাহা হয় নি। ওদিকে সংগঠনের সম্পাদক বিমল দে-র সঙ্গে দেখা করে টাকা উদ্ধারের কথা জানালে তাদের পক্ষ থেকেও বলে দেওয়া হয় যে বিষয়টি তাঁরা বড়োজোর পুলিশকে জানাতে পারেন। কিন্তু সায়ন্তন যেহেতু তাদের বর্তমান কর্মসমিতি বা সদস্যদের কেউই নন, ফলে তাঁদের পক্ষে এর বেশি কিছু করা সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে টালিগঞ্জ পাড়ার ফিল্ম এবং টেলি-সিরিয়ালের পর্দার মোহে আকৃষ্ট হয়ে শান্তা মিত্র এখন এই কোভিদ পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে ঘরে বসে আছেন। প্রাত্যহিক খাবার জুটছে না। দারুন হতাশায় ভদ্রমহিলা চোখের জলে অনুতাপ করছেন যে থানা পুলিশ এত কিছু করেও প্রতারকের কোনও শাস্তি হল না। তিনি আজ পর্যন্ত একটা পয়সাও ফেরত পেলেন না।