| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

রাসায়নিক কৃষি ব্যবস্থার খাদ্য রাজনীতি ও মানুষের স্বাস্থ্যহানি (৩য় কিস্তি)

Reporter
অনুপম পাল / ৮৭৭ জন পড়েছেন
আপডেট বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আগাছা প্রতিরোধী জিন পরিবর্তিত ফসল ও ভয়াবহতা : গ্লাইফোসেট একটি আগাছা নাশক। দ্রুত ঘাস মারার জন্য এই রাসায়নিক ছেটানো হয়। রেল লাইনের পোড়া ঘাস দেখা যায়; এসব গ্লাইফোসেট প্রয়োগ করে মারা হয়। এমন যদি হয় ফসলের মধ্যেই গ্লাইফোসেট প্রতিরোধী জিন প্রবেশ করিয়ে দিলে গাছ মরবে না কিন্ত অনান্য আগাছা মারা যাবে। জেনে এটাও বেশ ভালো লাগছে। আমেরিকায় হার্বিসাইড প্রতিরোধক (এইচ আর টি) সয়াবিন চাষ হচ্ছে।(এইচ আর টি) সয়াবিনের জমিতে মেশিনের সাহায্যে প্রচুর গ্লাইফোসেট স্প্রে করা হচ্ছে আগাছা মারবার জন্য। আমেরিকা, ব্রাজিল ও আরজেন্টিনার বিস্তীর্ণ জমিতে ক্রমাগত গ্লাইফোসেট ব্যবহারের ফলে আমারানথ্যাস পামেরী  নামের এক ধরনের নটে গাছকে কিছুতেই মারা যাচ্ছে না, এখন মৃত্যুঞ্জয়ী আাগাছায় পরিনত হয়েছে। চাষ করার সময় ট্রাকটরের ফাল ভেঙে যাচ্ছে। জমিতে ফসল চাষ করা দায়। আগাছা নাশক ব্যবহার আপাত দৃষ্টিতে শ্রম সাশ্রয়কারী হলেও জমিতে, জলে, জমির কেঁচো, অনুজীব,অনুখাদ্যের উপর এর বিরুপ প্রতিক্রিয়া পড়ে। এইসব তথ্য চেপে যাওয়া হচ্ছে স্রেফ ব্যবসায়িক মুনাফার স্বার্থে। পৃথিবীতে সবথেকে বেশী এই ধরনের জি এম ফসলের চাষ হচ্ছে। সুতরাং গ্লাইফোসেট নিষিদ্ধ করলে জি এম ফসলের চাষ ও কমবে পরিবেশ ও মাটির ক্ষতি কমবে। ভারত সরকারের গেজেট অনুযায়ী ২০১৮ সালের ৯ই অগাস্ট ১৮টি কীটনাশক নিষিদ্ধ করার কথা বললেও গ্লাইফোসেটের কোন উল্লেখ নেই।

ভারতে রপ্তানীযোগ্য ডাল জাতীয় ফসল কাটার আগে তাড়াতাড়ি শুকিয়ে ফেলার জন্য গ্লাইফোসেট স্প্রে করা হচ্ছে কানাডায়। ফসলে গ্লাইফেসেটের মাত্রাতিরিক্ত অবশেষ থেকে যাচ্ছে। কানাডা প্রবাসী অবসরপ্রাপ্ত ম্যারিন ইঞ্জিনিয়ার শ্রীশান্তনু মিত্রের অক্লান্ত পরিশ্রম ও একক আন্দোলনের ফলে কানাডায় গ্লাইফেসেটের টেস্ট করা হচ্ছে। আগে হত না। ২০১৮-১৯  সালে তিনি এই নিয়ে ভারতেও প্রায় একক প্রচেষ্টায় আন্দোলন চালিয়েছেন। ফুড সেফটি ও স্টানর্ডারডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (FSSAI) ১২ অক্টোবর ২০১৮ এ বিজ্ঞপ্তি করে জারি করে বলেছে যে আমদানীকৃত ডালে পরীক্ষা  করে জানাতে হবে গ্লাইফোসেটের কতটা অবশেষ আছে। ৩১ অক্টোবর, ২০১৮ পাইওনিয়ার পত্রিকায় বলা হয়েছে আমদানীকৃত ডাল বিষাক্ত এবং জনসাধারণ না খেলেই ভাল হয়।কিন্ত ডালের গ্লাইফোসেট পরীক্ষা করার কোন সুযোগ সাধারন মানুষের নেই। অড়হর, কলাই, কুলথী, বিউলী, খেসারী, ছোট দানার মুগ, মুসুর ইত্যাদি দেশের উৎপাদিত ডাল খাওয়া যেতে পারে।

এই মুহূর্তে গ্লাইফোসেটকে বলা হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম মারাত্মক রাসায়নিক যা জৈব যুদ্ধে মানুষ মারার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। খাদ্যের এই বিষের অবশেষের প্রভাবে ডায়বেটিস, ক্যানসার ছাড়া বহু রোগ সৃষ্টি করে মানুষ ও প্রানীর। খাবারে অবশেষের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে ইনসুলীন তৈরীর পথে বাধা সৃষ্টি করে। ইনসুলীন উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। পরিবেশের উপর বিরুপ প্রভাব পড়েছে- ব্যাঙ, কেঁচো, জীবাণু মারা পড়েছে। জমিতে বহু দিন অবিকৃত অবস্থায় থেকে যায়। ২০১৮ সালে আমেরিকায় ক্যানসার আক্রান্ত জনৈক মালি ডুইন জনসন কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ক্ষতিপূরণের জন্য। তিনি বহুকাল ধরে লনে (ঘাসের মাঠ) এই ঘাস মারা বিষ প্রয়োগ করার ফলে ক্যানসারে আক্রান্ত হন। অথচ প্রস্তুতকারক মনসান্তো কোম্পানী এই বিষয়টি জনসাধারনের কাছে চেপে গিয়েছেন ব্যবাসায়িক স্বার্থে। তথ্য গোপন করার অপরাধে আদালত মনসান্তেকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রায় ২৮৯ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ (প্রায় ২৯ কোটি টাকা) দেওয়ার রায় ঘোষনা করেন। বলতে গেলে ভারতেও এই বিষ বিক্রির ব্যাপারে কোন সাংবিধানিক বৈধতা নেই। তথ্য জানার অধিকার আইনে কতৃপক্ষ এর নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য দিতে পারেন নি। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই নিজস্ব তথ্য নেই, কোম্পানীর দেওয়া তথ্যের উপর নির্ভর করে।

ওই রকম আর একটি আষাড়ে গল্প হল বিটা ক্যারোটিন সমৃদ্ধ গোল্ডেন রাইস। বিটা ক্যারোটিন সংশ্লেষকারী বিশেষ জিন ধানের জিনোমে প্রবেশ করিয়ে তৈরী করা হয়েছে গাজরের গন্ধযুক্ত ঈষৎ হলুদ বর্ণের সোনালী ধান বা গোল্ডেন রাইস। বিটা ক্যারোটিন থেকেই শরীরে ভিটামিন এ সংশ্লেষিত হয়। দাবী করা হয়েছে এখনকার ওই বিতর্কিত চালের প্রতি গ্রামে সর্বাধিক বিটা ক্যারোটিনের পরিমাণ মোটামুটি ৩৫ মাইক্রোগ্রাম (১ মাইক্রোগ্রাম=১/১০০০মিগ্রা) অর্থাৎ ১০০ গ্রাম চালে ৩৫০০ মাইক্রোগ্রাম বিটা ক্যারোটিন আছে। এই চালের ভাত খেলে অন্ধত্ব নিবারণ হবে এমনটাই দাবি করা হয়েছে কারণ ভাত আমাদের প্রধান খাদ্য। এই গবেষনার জন্য খরচ হয়েছে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশী। ওই চাল বেচে বা ধানের বীজ বেচেও লগ্নীকৃত অর্থ আদায় করাটাও ব্যবসায়িক মুনাফার মধ্যে পড়ে। অথচ সম পরিমাণ সজনে পাতায় ৭৭০০, কারি পাতায় ৮০০০, নটে শাকে ১৭০০, মূলো শাকে ৪৫০০, পালং শাকে ৩৬০০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন বিটা ক্যারোটিন থাকে। দামী গাজরের কথা ছেড়েই দিলাম।

তাছাড়া ভিটামিন–এ শোষণ নির্ভর করে শরীরের স্বাভাবিক পুষ্টি ও অন্যান্য মৌলের উপস্থিতির উপর। আমাদের দেশের সহজলভ্য খাদ্য সামগ্রী থেকে প্রচুর ভিটামিন–এ পাওয়া যায়। এমনিতেই জিনশস্য নিয়ে বহু বির্তক আছে। ওই ভাবে ভিটামিন “এ” খাওয়ার জন্য শরীরে অনান্য খাদ্যের কি অভাব পড়বে কিনা, শরীরে কেমন আলার্জ্জী হবে কিনা এসব প্রশ্নের উত্তর জানা নেই। তাছাড়া ওই চালে অনান্য পুষ্টিগনও কম। বহুজাতিকের ব্যবসায়িক প্রলোভন থেকে সর্তক থাকতে হবে। ধরে নেওয়া হয়েছিলো চালে বিটা ক্যারোটিন নেই। বাস্তবে তা নয়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে আমাদের অনেক দেশী লাল ও কালো চালেও বিটা ক্যারোটিন আছে।

পৃথিবীর বহু দেশই এই শস্যের বিরোধী। ইউরোপের অনেক দেশেই সমীক্ষা চলেছে। ইউরোপে এই শস্যের আমদানি ও রপ্তানির বিধিনিষেধ জারি হয়েছে। সেইভাবে অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, জাপান, নিউজিল্যান্ডে বিধিনিষেধ রয়েছে। ভারতেও বাসমতি ধান চাষের জায়গায় হরিয়ানা, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখন্ডে জি এম ধানের (বিটি ধান) সব ধরনের পরীক্ষা বন্ধ করা আছে। কারন রপ্তানীর বাসমতি চালে নূন্যতম সংক্রমন আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রহনীয় নয়।

খাবারে ভেজাল ও দূষণ: মাটির তলার জল প্রচুর পরিমানে তোলার জন্য পানীয় ও সেচের জলে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক পাওযা যায়। রাজ্যের ৩৪১ ব্লকের মধ্যে প্রায় ১/৩ ব্লকই আর্সেনিক কবলিত। নানা দুরারোগ্য ব্যাধি ও ক্যানসারের মত মারন রোগ থাবা বসিয়েছে। সেচের জলের মাধ্যমে বিভিন্ন ফসলে আর্সেনিক প্রবেশ করছে। ভাতের ফ্যানের মাধ্যমে অনেকটা আর্সেনিক বেরিয়ে যায়। বীরভুমের কিছু জায়গায় ফ্লোরাইডের দূষণ ধরা পড়েছে। ধাপার মাঠে উৎপাদিত সবজিতে কীটনাশক ছাড়া সিসা, ক্যাডমিয়াম, পারদ, আর্সেনিক মত ভারী ধাতুর অতিরিক্ত উপস্থিতি ধরা পড়েছে। বেগুন চকচকে করার জন্য ফিউরাডন নামক তীব্র দানাদার জাতীয় বিষের দ্রবনে চুবিয়ে রাখা হয়।কলায় ওই বিষ বিঘায় ৪-৫ কেজি প্রয়োগ করা হয় যা সহজেই কলায় চলে আসে।পুকরে মাছ ধরার জন্য এন্ডোসালফন বিষ ছড়িয়ে দেওযা হয়। কিছুক্ষনের মধ্যে মাছ মরে ভেসে ওঠে, ধরতে সুবিধা হয়। খাদ্য আর বিশুদ্ধ নেই।

এসব ছাড়া খাদ্য বিভিন্ন ভাবে ভেজাল দেওয়া হয়। সরষের তেলে শিঁয়াল কাটার তেল, ঝাঁঝের জন্য বিশেষ রাসায়নিক দেওয়া হয়। ১৯৮৮ সালের ৩১ এ অগাস্ট খবরের কাগজের প্রথম পাতায় ছিল বেহালার গরীব ভান্ডার নামক দোকানের সরষের তেল খেয়ে প্রচুর মানুষের পঙ্গু হয়ে যাওয়ার মর্মান্তিক খবর। বেহালার ফ্লাইং ক্লাবের থেকে চোরাই করা ট্রাইক্রিসাইল ফসফেট রেপ সিড তেলের সঙ্গে মিশিয়ে সরষের তেল বলে কম দামে বিক্রি করা হয়েছিল। ট্রাইক্রিসাইল ফসফেট ইষৎ সরষের তেল গন্ধ যুক্ত হলুদ রঙের তৈলাক্ত তরল অগ্নি নির্বাপক হিসাবে ব্যবহার হয়।

রাস্তার পাশে এগরোল, চাউমিনের সঙ্গে দেওয়া টমাটো ও চিলি সসের রং দেখলেই বোঝা যায় কৃত্রিম রং দেওয়া আছে সেই সঙ্গে ভেজাল হিসাবে কুমড়ো ইত্যাদি। কালো ভিনিগার ও আজিনামোতোর মিশ্রনে সয়াসস তৈরী হয়, সয়াবিনের সঙ্গে কোন সর্ম্পক নেই।

দুধে ইউরিয়া-ফ্যাটের পরিমান ঠিক দেখানোর জন্য,ডিটারজেন্ট-ফেনা ভাবের জন্য, ময়দা, ছানার জল, আরারুট, আমোনিয়াম সালফেট  যাতে ল্যাকটোমিটারে দুধের ঘনত্ব নিয়ে প্রশ্ন না ওঠে, ফর্মালিন-যাতে দুধ তাড়াতাড়ি নষ্ট না হয়।

চায়ে লোহার ও কাঠের গুড়ো, গোটা জিরের সঙ্গে মাটির জিরে, মেটানিল ইয়োলো ও চাল গুড়ো হলুদ গুড়োর সঙ্গে, লাল ঘেষ লংকার গুড়োর সঙ্গে, মিষ্টিতে রং ছাড়া ভেজাল হিসাবে ময়দা, সুজি ক্ষতিকারক নয়। দইএ আগার আগার ও ডালডা, পনিরে ময়দা। ঘুগনি ও বেসন বেশী হলুদ দেখানোর জন্য মেটানিল ইয়োলো। পোলাও ও বিরিয়ানীতে মেটানীল ইয়োলো। মধুতে লাল রং। পাটালিতে জৈব আসিড (আসেটিক) দেওয়ার জন্য রং সাদা হয় কিন্ত খাবার পর টাগরার ছল উঠে যায়। এই ঘটনা ঘটে সস্তার লাল, হলুদ, সবুজ, ঝাল লজেন্সে পাওয়া যায়। অসময়ে ফিস ফ্রাই-এর স্যালডের জন্য কুঁচোনো কাঁচা পেঁপের সঙ্গে মেটানিল ইয়েলো দিয়ে গাজর ও কঙ্গো রেড দিয়ে বিট তৈরী হয়। চোলাই মদে মেথিলেটেড স্পিরিট। মাংসে ও দুধে জল, চালে কাঁকর ও  মাখনে কলা খুব পরিচিত ভেজাল, বহুকাল থেকেই চলছে। ঔষধে ভেজালের সঙ্গে আমরা পরিচিত। ভেজাল ধরার জন্য ফুড ইন্সপেক্টরের কথা আমরা শুনি কিন্ত সেই পদের আধিকারিককে দেখতে পাওয়া সৌভাগ্যের ব্যাপার। জনগন  সচেতন হলে তাহলে এই ভেজাল রোধ করা যাবে।

ইদানীং দই এর বদলে আইসক্রিমের খুব চল হয়েছে। আগের যুগের মত জল, চিনি আর রং দিয়ে তৈরী আইসক্রিম নয়। এর মধ্যে বহু রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো হয়। গাউর গাম ব্যবহৃত আইসক্রিমের শক্ত ভাব ও চিনির দানা জমে গিয়ে আবার চিনি দানার আকার যাতে না নেয়। ১৯৯০ সাল থেকে আমেরিকা ও কানাডায় এর ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা আছে। সামান্য পরিমান শরীরে প্রবেশ করলে কারুর পেট ফাঁপতে পারে ও ক্যালশিয়াম, জিঙ্ক ও লোহা শোষনে বাধা দেয়। কৃত্রিম অনুমোদিত রং সংরক্ষক হিসাবে দেওয়া সেডিয়াম বেনজয়েটের সঙ্গে বিক্রিয়া করে নানা সমস্যা ঘটায়। শিশুদের হাঁপানি ও ক্যানসার হতে পারে।সংরক্ষক হিসাবে পটাশিয়াম সরবেট ক্যানসার কারক। পরিমান বাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত মোনো ডাইগ্লিসেরাইড শরীরের পক্ষে ভালো নয়। মোনো ডাইগ্লিসেরাইড যুক্ত আইসক্রিম খাওয়া উচিৎ নয়। তাছাড়া কৃত্রিম হর্মোন থাকার জন্য আমেরিকায় অল্প বয়সী মেয়েরা মোটা হয়ে যাচ্ছে।

কেন্টাকি ফ্রায়েড চিকেন, হট ডগ ইত্যাদি পাশ্চাত্য খাবারে অস্বাস্থ্যকর আজিনামোতো, সংপৃক্ত ফ্যাট ইত্যাদি থাকে।সম্পতি আমেরিকার ফুড এবং ড্রাগ এডমিনিসট্রেশন স্বীকার করেছেন ওদেশের মুরগীর মাংসে আর্সনিকের উপস্থিতির কথা। মুরগীর খাবারে আর্সেনিক য়ৌগ মেশানো হয় , সেখান থেকেই মাংসে আর্সেনিক  চলে আসে। আমাদের দেশে সেচের জলের থাকা আর্সেনিকও খাবারে চলে আসছে। পশ্চিমবঙ্গ প্রানীপালন মৎস বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষনায় দেখা যাচ্ছে মুরগীর মাংসে ও ডিমে  ১০টার বেশী আন্টিবায়োটিক পাওয়া যাচ্ছে। ওই মাংস খাওয়ার ফলে মানুষের শরীরে নিদৃষ্ট আন্টিবায়োটিক গুলির কাজ না করার সম্ভাবনা বেশী। পোল্ট্রিতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশী অনেক  আন্টিবায়োটিক প্রয়োগ হয়।

                                         এক নজরে খাবারে দূষণ ও প্রতিকার 

খাবার

 

উৎপাদন পদ্ধতি / প্রক্রিয়া  মন্তব্য
আগে এখন
যাবতীয় ফসল ও পান জৈব সার রাসায়নিক সার, বিষ ও আগাছা নাশক রাসায়নিক কৃষি মানুষের নানা রোগের জন্য দায়ী
পানীয় জল ও খাদ্য কোন বিষ ও রাসায়নিক সারের অবশেষ ছিল না বিষ, সার ও আর্সেনিক ও ভারী ধাতু সব ধরনের খাবারেই বিষের অবশেষ দেখা যাচ্ছে
মাছ পুকুরের, ধানজমির ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জলাশয়ের মাছ ভিন্ন রাজ্য থেকে আমদানী করা রুই কাতলা, সংরক্ষক দেওয়া থাকে কি ধরনের খাবার মাছকে দেওয়া হয় তা অজানা।কানকোর মধ্যে ইউরিয়া দেওয়া হয়।
ডিম ও মাংস বাড়ির হাস ও মুরগির ডিম পোল্ট্রির ডিম,প্রচুর অন্টিবায়োটিকের  প্রয়োগ হয়।পশু খাদ্যেও কীটনাশক আন্টিবায়োটিকের অবশেষ ডিম ও মাংসে, ভবিষতে বিশেষ কিছু আন্টিবায়োটিকের কাজ হবে না। পশু কি খাবার খাচ্ছে সেটাও বিচার্য বিষয়।
ফল পাকানো কার্বাইডের ব্যবহার কমই হত, আঁশশ্যাওড়া পাতা, পাকা ফল দিয়েও পাকানো যায়। কার্বাইড ও ইথরেল দিয়ে পাকানো হয় ওই দুটি রাসায়নিক শরীরের পক্ষে ভালো নয়।
মিষ্টির রং জাফরান, কেশর রঙ

রুপোর তবক,

মেটানিল ইয়োলো, কংগো রেড, ম্যালকাইট গ্রিন ও আলুমুনিয়াম তবক ক্যানসার সৃষ্টি কারী শিল্প ব্যবহৃত রং ও আলুমিনিয়াম তবক, চানাচুরেও দেওয়া হচ্ছে। মটরে ম্যালকাইট গ্রিন,  কংগো রেড দিয়ে রাঙালু,  সেদ্ধ করা করমচা (চেরীতে ) বোদে করা হয়।পটল , কাঁকরোল সবুজ করার জন্য তুঁতে ও  ম্যালকাইট গ্রিন,
জ্যাম , জেলী

বোতলের ফলের রস

কোন রং ব্যবহার হত না কৃত্রিম রং খাদ্য সংরক্ষনের জন্য সেডিয়াম বেনজয়েট ও প্রমানিত আলার্জ্জীকারক পটাশিয়াম মেটাবাই সালফাইট ব্যবহার হচ্ছে
ঠান্ডা পানীয় সাধারন চিনি, দূষণ মুক্ত জল।

আখের রস, নুন,চিনি ও লেবুর জল, ডাবের জল,ঘোলের প্রচলন বেশী ছিল

বাজারী পানীয়তে কৃত্রিম রং ও  কৃত্রিম মিষ্টি স্বাদের জন্য বিতর্কিত হাই কর্ণ ফ্রুট সিরাপ ও  আসপারটামে ব্রান্ডেড পানীয়তেও কীটনাশকের অবস্থিতি পাওয়া গিয়েছে,

কৃত্রিম  মিষ্টি ক্যানসার সৃষ্টিকারী যৌগ

ছানা কাটানো লেবুর রস, ক্যালসিয়াম ল্যাকটেট কোন ক্ষেত্রে মিউরেটিক আসিড ব্যবহার হচ্ছে পেটের গন্ডগোল
প্রাতরাশ মুড়ি, চিড়ে, মোযা, খই, ছাতু, ফ্যান ভাত, পান্তা, রুটি, লুচি আগে ছিল কর্ণ ফ্লেক্স ও প্যাকেটের দুধ, চাউ, ইন্সট্যান্ট চাউ, পিৎসা চিলি চিকেনের চল বেড়েছে টক স্বাদের জন্য ক্যানসার সৃষ্টি কারী নিষিদ্ধ যৌগ আজিনামোতো ব্যবহার হচ্ছে
ব্যবহৃত পাত্র মাটি, লোহা, কাঁসা ও পিতল আলুমিনিয়াম, স্টীল, প্লাস্টিক, নন স্টক প্যান, মেলামাইন বাসন  প্লাস্টিকের বিষক্রিয়া গরম খাবারে, চায়ে  চলে আসে, তাছাড়া আধুনিক পাত্রের রান্না স্বাস্থকর নয়।
জ্বালানী ঘুটে, কাঠ, কয়লা, হিটার,গ্যাস গ্যাস, মাইক্রোআভেন, ইনডাকশান হিটার মাইক্রোআভেন স্বাস্থের কারনে  রাশিয়াতে ১৯৭৮ পর্যন্ত নিষিদ্ধ ছিল, এতে রান্না  আগুন দ্বারা হয় না
দাঁতের যত্ন ঘুটের ছাই, নিম ও শ্যওড়া দাঁতন পেস্ট ও বিভিন্ন রকমের ব্রাশ এত কিছু ব্যবহারের পর দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা বেড়েছে
দই দই আইসক্রিম আইসক্রিমে বহু কৃত্রিম জিনিষ ব্যবহৃত হয়।
দুধ বহু বাড়ীতে গরু, মোষও ছাগলের দুধ, বিশেষ কেসিন প্রোটিন যুক্ত এ টু দুধ, মনে করা হয় শরীরের পক্ষে ভালো। ফ্যাট বের করা নেওয়া প্যাকেটের দুধ, গুড়ো দুধ,

বিদেশী গরুর দুধ বেশী এ ওয়ান কেসিন প্রটিন দুধ

 

অক্সিটোসিন হর্মোন দিয়ে গরুর দুধ দোয়া হয়,প্যাকেটের দুধেও অনেক সময়ে  ভেজাল দেওয়া হয়। চিনে মেলামাইন পাউডার ভেজাল দেওয়া হয়েছিল।
রান্নার মাধ্যম সরিষা, তিল, বাদাম, ঘি, ডালডা সয়াবিন (বিদেশ থেকে জি এম সয়াবীনের তেল ও থাকতে পারে),রেপ সীড, সাদা তেল, ভেজিটেবল তেল, সূর্যমুখী,সাফোলা বিদেশের আমদনীকৃত সয়াবিন তেল বিক্রির জন্য সরষের তেলকে নানা ভাবে খারাপ প্রমান করার চেষ্টা হয়েছে।বাটারের পরিবর্তে মার্জারিন
চাল ঢেঁকি ছাটা মোটা ও সরু  দেশী ধানের চাল কলে ছাটা পরিষ্কার রাসায়নিক সার ও বিষ দ্বারা  প্রস্তুত আধুনিক জাতের চাল বেশীর ভাগ আধুনিক জাতের পরিষ্কার পালিশ চালের ভাল স্বাদ নেই , পুষ্টিও কম।
ঝাল চৈ, পিপুল, গোল মরিচ,  রাসায়নিক সার বিষ ছাড়া চাষ লংকায় প্রচুর কীটনাশক ব্যবহার হয়। ঝাল লংকা খুব কম, লংকায় ঝাল হবে কিনা তা জেনে কিনতে হয়।
লবন সামুদ্রিক ও সৈন্ধব লবন সমতলেও আয়োডিন যুক্ত প্যাকেট করা দামী লবন এবং শুকনো ভাব রাখার জন্য ক্ষতিকারক ট্রাইক্যালসিয়াম ফসফেট, সোডিয়াম বাই কার্বনেট, সোডিয়াম ফেরোসায়ানাইড, পটাশিয়াম ফেরোসায়ানাইড, ক্যালসিয়াম ফেরোসায়ানাইড ব্যবহার করা হয়। আলু, পিয়াঁজ, চিংড়ি মাছ, বাধাকপি ও দইয়ে যথেষ্ঠ আয়োডিন থাকে। খাবার জল থেকেও পাওয়া যায়।

 

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev