| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে আর্থার কোনান ডয়্যালের সাক্ষাৎকার ও প্ল্যানচেট-আলোচনা : অসিত দাস শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

শিশুদের জন্য শেখ হাসিনার ভাবনা

Reporter
ড. মিল্টন বিশ্বাস / ৯৪২ জন পড়েছেন
আপডেট মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

২৮ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার জন্মদিন। তিনি আজ সকলের নেত্রী, বিশ্বের অহংকার। তিনি হাসলে হাসে বাংলাদেশ। তিনি মানবতার জননী বলেই মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ১১ লাখ রোহিঙ্গা আজ আশ্রয় পেয়েছে। তিনি অসহায় মানুষের ঠিকানা। অটিস্টিক শিশুদের প্রতি রয়েছে তাঁর গভীর মমত্ববোধ। অন্যদিকে যেকোনো শিশু তাঁর কাছে ছোট্টসোনামণি। নিজের এক পুত্র এক কন্যাসহ তাঁর রয়েছে ৭ জন নাতি-নাতনি। অর্থাৎ শিশুদের সঙ্গেই শেখ হাসিনার পারিবারিক জীবন অতিবাহিত হয়।

২০২০ সালের ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে শুরু হওয়া ‘মুজিববর্ষে’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের শিশুদের কাছে একটি চিঠি লিখেছেন। ‘মুজিববর্ষ’ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে শিশুদের কাছে শেখ হাসিনার চিঠি’’ শিরোনামে সেই পত্রটি শ্রেষ্ঠ কথামালা। এরপর বিভিন্ন সালে ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসে প্রদান করা ভাষণগুলোও গুরুত্বপূর্ণ শিশুভাবনা। অধিকন্তু ২৬ মার্চের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস তথা জাতীয় শিশু-কিশোর সমাবেশ এবং অক্টোবর মাসের বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচিত ভাষণ সংকলিত হয়েছে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান, আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস ও জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস, বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহের একাধিক ভাষণে শিশুদের সম্পর্কে বলা কথাগুলো চিন্তার স্ফুলিঙ্গ। এসওএস আন্তর্জাতিক শিশুপল্লি বাংলাদেশের চার দশক পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠান, ঢাকা শিশু হাসপাতালের নতুন ১০ তলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং শিশু হৃদরোগ কেন্দ্রের উদ্বোধন অথবা বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলা আয়োজিত জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান কিংবা আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন অনুষ্ঠান উপলক্ষে শেখ হাসিনা শিশুদের নিয়ে সরাসরি কথা বলেছেন। তবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস, নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস, বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ কিংবা আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস অথবা বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ভাষণের কিছু কিছু জায়গায় শিশুদের প্রসঙ্গ এসেছে। সরাসরি শিশুদের সম্বোধন করে বলা না হলেও যেহেতু শিশু সম্পর্কিত ভাবনা অথবা নির্দেশনা প্রসঙ্গক্রমে এসেছে সেজন্য এগুলোও গুরুত্বপূর্ণ।

২.

শিশুদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর দরদ ছিল অপরিসীম। এজন্য তাঁর জন্মদিনকে শিশুদের জন্য উৎসর্গ করে ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা প্রথম মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ১৭ মার্চকে ‘জাতীয় শিশু দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেন। ১৯৯৭ সালের ১৭ মার্চ দিবসটি পালন করা শুরু হয়। দিবসটির তাৎপর্যের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ জড়িত। বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। ভবিষ্যতে দেশ গড়ার নেতৃত্ব দিতে হবে আজকের শিশুদেরই। তাই শিশুরা যেন সৃজনশীল মুক্তমনের মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে- তিনি সব সময় সেটাই চাইতেন। তাই জাতির পিতার জন্মদিনকে শিশু দিবস হিসেবে পালন করা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সঙ্গে সঙ্গে মহান নেতার জীবন ও আদর্শ অনুসরণে এ দেশের শিশুদের যথাযোগ্য সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের মুখ্য লক্ষ্য। অন্যদিকে ১৯২০ সালের ২৩ এপ্রিল শুরু হওয়া বিশ্ব শিশু দিবস ২০ নভেম্বর-এ উদযাপন করা হচ্ছে। আর আন্তর্জাতিক শিশু দিবস জুন মাসের ১ তারিখে উদযাপন করা হয়। তবে বিভিন্ন দেশে নিজস্ব দিন আছে শিশু দিবসটিকে উদযাপন করার। যেমন, বাংলাদেশে অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার বিশ্ব শিশু দিবস পালন করা হয়। যেমন, ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বিশ্ব শিশু দিবস পালিত হয়। দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল- ‘আজকের শিশু আনবে আলো, বিশ্বটাকে রাখবে ভালো’।

শেখ হাসিনার শিশুভাবনায় বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার তৎকালীন গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়ার শেখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন শিশু মুজিব। কিশোর বয়স থেকেই মুজিবের সংবেদনশীল হৃদয় ও মানবিক মূল্যবোধের পরিচয় পাওয়া যায়। একদিকে সৎ সাহস, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মানসিকতা, অন্যদিকে গরিব-দুঃখী মানুষের প্রতি অগাধ ভালোবাসা, তাদের দুঃখ-দৈন্য লাঘবের সংকল্প তাকে অবধারিতভাবেই রাজনীতিতে টেনে আনে। স্কুল জীবনেই তার মধ্যে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটতে দেখা যায়। দেশভাগের পর নতুন রাজনৈতিক চিন্তা নিয়ে ১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ গঠন করেন শেখ মুজিব। ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগ গঠিত হলে তার সঙ্গে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান। ক্রমান্বয়ে তিনি বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের নির্ভীক নেতায় পরিণত হন। কৈশোর থেকেই বঙ্গবন্ধু ছিলেন নির্ভীক ও অমিত সাহসী এবং তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার অধিকারী। তিনি ছিলেন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ও প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী, ছিলেন স্বাধীনচেতা ও রাজনীতি সচেতন। কিশোর অবস্থায় নেতৃত্ব দেয়ার গুণাবলি তাঁর মধ্যে ফুটে উঠেছিল। বঙ্গবন্ধু তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাঙালির সকল আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর অবিসংবাদিত নেতৃত্বে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়। বিকাশ ঘটে বাঙালি জাতিসত্তার। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিশ্বের সকল নিপীড়িত-শোষিত মানুষের অধিকার আদায় ও মুক্তির প্রতিভূ। তাঁর সন্মোহনী ব্যক্তিত্ব সবাইকে আকৃষ্ট করত। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় তিনি যখন স্বাধীন বাংলাদেশের পুনর্গঠন কাজে আত্মনিয়োগ করেন, তখনই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাঁকে সপরিবারে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও উন্নয়নকে স্তব্ধ করে দেয়া হয়। স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীরা এবং প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি পুনর্বাসিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে জাতির পিতার হত্যাকারীদের প্রচলিত আদালতে বিচার ও রায় কার্যকর করার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি আজ কিছুটা হলেও দায়মুক্ত হয়েছে। সরকার ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

৩.

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সময় বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে উপরে বর্ণিত কথাগুলো দিয়েই সবসময় ছোটদের আদর্শবাদী হতে বলেছেন। তাঁর মতে, আজকে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে শিশুদের জন্য নিরাপদ আবাসভূমিতে পরিণত করার শপথ নিতে হবে। শপথ নিতে হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়ার। আর এজন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরো বলেছেন, ‘২০০৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে সরকার গঠন করে মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য আওয়ামী লীগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। আমরা আজ আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছি।’

২০২০ সালের শিশু দিবসের বাণী পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব শিশুদের কল্যাণে বর্তমানকে উৎসর্গ করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘সব শিশুর সমঅধিকার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাবা-মা, পরিবার ও সমাজের ভূমিকা অপরিসীম। শিশুর প্রতি সহিংস আচরণ এবং সব ধরনের নির্যাতন বন্ধ করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

এবারের জাতীয় শিশু দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল- ‘মুজিববর্ষে সোনার বাংলা, ছড়ায় নতুন স্বপ্নাবেশ; শিশুর হাসি আনবে বয়ে, আলোর পরিবেশ।’ জাতির পিতার জীবন ও কর্ম আপামর জনসাধারণের কাছে তুলে ধরতে ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে ২৫ মার্চ ২০২১ সময়কে ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি ইউনেস্কোর উদ্যোগে বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে ‘মুজিববর্ষ’।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে শিশু আইন প্রণয়ন ও প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেন। বর্তমান সরকার উন্নয়ন ও সুরক্ষার বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে জাতীয় শিশু নীতি-২০১১, শিশু আইন-২০১৩, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭ প্রণয়ন করেছে। শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার প্রিয় মাতৃভূমিকে শিশুদের জন্য নিরাপদ আবাস ভূমিতে পরিণত করতে বদ্ধপরিকর। গত এক দশক যাবৎ শিক্ষার্থীদের বছরের শুরুতে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া শিশুদের মনে দেশপ্রেম জাগ্রত করে তাদের ব্যক্তিত্ব গঠন, সৃজনশীলতার বিকাশ এবং আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং খেলাধুলার বিভিন্ন শাখায় শিশুদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

৪.

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুদের যে মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসেন তার দৃষ্টান্ত ভাষণগুলোতে ছড়িয়ে আছে। আবার ২০১৬ সালে পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চবিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শীর্ষেন্দু বিশ্বাসকে চিঠির জবাব দিয়ে বিস্ময় উদ্রেক করেছেন তিনি। ২০১৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর শীর্ষেন্দুর স্কুলে পৌঁছানো প্রধানমন্ত্রীর চিঠিটি ছিল এরকম—

স্নেহের শীর্ষেন্দু, আমার স্নেহাশীষ নিও। তোমার চিঠি পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। তুমি শুধু এ দেশের একজন সাধারণ নাগরিক নও বরং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়ার অগ্রজ সৈনিক। আমি জানি, পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার পায়রা নদীটি অত্যন্ত খরস্রোতা। নিজের পিতামাতাসহ অন্যান্য পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এই নদীকেন্দ্রিক তোমার নিরাপত্তা সচেতনতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি বুঝতে পারি তোমার বীর মুক্তিযোদ্ধা দাদুর প্রভাব রয়েছে তোমার ওপর। মির্জাগঞ্জের পায়রা নদীতে একটি সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তোমাকে আশ্বস্ত করছি।

তোমার সার্বিক মঙ্গল কামনা করি। আমার দোয়া নিও। তোমার বাবা-মাসহ মুরুব্বিদের সালাম ও ছোটদের দোয়া দিও। অনেক অনেক আদর নিও। শেখ হাসিনা

এর আগে ২০১৬ সালের ২৬ আগস্ট তিন পৃষ্ঠার চিঠিতে শীর্ষেন্দু লিখেছিল,

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সালাম ও শুভেচ্ছা নেবেন। আমি একজন সাধারণ নাগরিক। আমার নাম শীর্ষেন্দু বিশ্বাস। পিতা বিশ্বজিৎ বিশ্বাস, মা শীলা রানী। আমি পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চবিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির একজন নিয়মিত ছাত্র। আমার দাদু একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর নাম অবিনাশ বিশ্বাস। আমার মা সরকারি চাকরি করেন। আমি আপনার পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকীতে আপনার পিতার শৈশবকাল নিয়ে রচনা লিখে তৃতীয় স্থান অধিকার করি। আমাদের গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠিতে। আমাদের মির্জাগঞ্জ পায়রা নদী পার হয়ে যেতে হয়। এটি পটুয়াখালীর একটি উপজেলা। এ নদীতে প্রচণ্ড ঢেউ। মানুষ ভয় পায়। কখনো নৌকা ডুবে যায়। কখনো কখনো ট্রলার ডুবে যায়।

আমার চেয়ে ছোট ভাইবোন তাদের মা-বাবাকে হারায়। তাই আমি চাই না কারও মা-বাবা চলে যান। আমি আমার মা-বাবাকে প্রচণ্ড ভালোবাসি। তাঁদের হারাতে চাই না। তাই আপনার কাছে একটাই অনুরোধ যে আপনি মির্জাগঞ্জ পায়রা নদীর ওপর ব্রিজের ব্যবস্থা করুন। তা যদি আপনি পারেন, তা হলে একটু আমাদের জন্য কষ্ট করে এই ব্রিজ তৈরি করার ব্যবস্থা করুন। আজ আর নয়। ইতি আপনার দেশের একজন সাধারণ নাগরিক।- শীর্ষেন্দু বিশ্বাস।

এদেশের একজন শিশুর প্রতি মমত্ববোধ নিংড়ানো প্রধানমন্ত্রীর ওই চিঠিতে আরো ছিল শীর্ষেন্দুর মতো শিশুরা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়ার অগ্রজ সৈনিক। চিঠির জগতের মতোই তাঁর অফিসিয়াল ভাষণগুলোও আন্তরিকতায় পূর্ণ। ১৭ সেপ্টেম্বর (২০২০) তিনি ভিডিও কল দিয়ে অটিস্টিক শিশু রায়ার ইচ্ছা পূরণ করেছেন। রায়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভিডিওকলে কথা বলার জন্য প্রতিদিন অপেক্ষা করেন বলে তার ইচ্ছের কথা জানিয়ে এক ভিডিও বার্তা পোস্ট করলে শিশুটির ভালোবাসায় সাড়া দিয়ে তিনি নিজেই রায়াকে ভিডিও কল করেন এবং তার সাথে কথা বলেন। সেসময় রায়ার কবিতা শোনেন এবং শিশুটির সাথে জাতীয় সংগীত গেয়েছেন শেখ হাসিনা। প্রকৃতপক্ষে ছোটদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গভীর স্নেহ ও হৃদয় নিঃসৃত অনুকম্পা প্রকাশিত হয়েছে তাঁর আনুষ্ঠানিক ভাষণ, বাস্তবসম্মত কর্মসূচি ও ব্যক্তিগত আচরণের মধ্যে দিয়ে।

(অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস, বিশিষ্ট লেখক, কবি, কলামিস্ট, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য, সম্প্রীতি বাংলাদেশ এবং অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, email : drmiltonbiswas1971@gmail.com)

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev