আগামী ২ অক্টোবর থেকে অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়া, করোনায় রুটিরুজি হারানো কারিগর, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর হিলাদের আগামী উতসব মরসুমের আগে হাসি ফোটাতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর সৃষ্টিশ্রী উৎসবের আয়োজন করেছে। এই উৎসবে সারা বাংলা থেকে বিভিন্ন কারিগর এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠির সদস্যরা অংশ নেবেন। এটি আয়োজন করা হয়েছে ঢাকুরিয়ার সৃষ্টিশ্রী ভবনে, উদ্বোধন করবেন দপ্তরের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়।
বিগত প্রায় ছমাস ধরে যে লকডাউন ঘোষনা করা হয়েছে, তাতে বাংলার প্রত্যেক জেলার কারিগর আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একইভাবে বিভিন্ন স্বনির্ভর দলের মহিলারাও চূড়ান্তভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এই কয়েক মাসে। প্রত্যেক ব্যক্তি কারিগর অথবা সংগঠনে প্রচুর পরিমানে উৎপাদন জমে রয়েছে, বিক্রি করার উপায় নেই।
এমতাবস্থায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই উদ্যোগ কারিগর এবং স্বনির্ভর দলগুলির সদস্যদের মুখে হাসি ফোটাবে। পঞ্চায়েত দপ্তর সূত্র জানাগেছে ধনেখালি তাঁত, ফুলিয়ার তাঁতের শাড়ি, বিষ্ণুপুরের বালুচরি, গাড়োয়াল, তসর সিল্ক, পাঞ্জাবি, ডোকরা, টেরাকোটা, নানান ধরণের গয়না পাওয়া যাবে। আর পাওয়া যাবে আম বাঙালির প্রিয় ইলিশ, থাকবে গলদা চিংড়ি, তুলাইপাঞ্জি, লক্ষণভোগ, গোবিন্দ ভোগ-সহ সুস্বাদু চাল ও দেশি ঘি’ও। উৎসবে আসা দর্শকদের রসনা তৃপ্ত করতে পাওয়া যাবে পিঠে পুলি, কচুরি, আলুরদম, তন্দুর, বিভিন্ন ধরনের ফ্রাই। সাধারণ মানুষ যাতে হস্তশিল্পীদের জিনিসপত্রগুলি কিনতে আগ্রহী হন, সেই কারণেই পুজোর উপহার হিসেবে প্রতিটি জিনিসের উপর ২০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে। সরকারি সূত্রে জানাগিয়েছে সৃষ্টি ভবনে ২৪টি স্থায়ী স্টলের পাশাপাশি নীচের পার্কিং লটে আরও ১৬টি নতুন স্টল বানানো হবে।
এই খবরে কারিগরদের মধ্যে উৎসাহের জোয়ার লেগেছে। বঙ্গীয় পারম্পরিক কারু ও বস্ত্র শিল্পী সঙ্ঘের সম্পাদক মধুমঙ্গল মালাকার জানালেন কারিগরদের এই দুর্দিনে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই উদ্যোগ বহু মানুষকে অনাহার থেকে বাঁচাবে। গত কয়েক মাস বাংলা জোড়া বহু তাঁতি এবং কারিগর প্রায় আধপেটা খেয়ে আছেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। জানাগিয়েছে এই উৎসব চলবে ভাইফোঁটা পর্যন্ত।