লোকে বলে কো-আপারেটিভ মানেই বাস্তু ঘুঘুর বাসা। টাকা নয়ছয় ছাড়া ওখানে কিছুই হয় না। বাম আমলে সত্যি সত্যিই ধুঁকছিল সমবায় সমিতিগুলি। আস্থা হারিয়েছিল সাধারণ মানুষ সমবায়ের প্রতি। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। এখন উল্টোস্রোতে বইছে সমবায় সমিতিগুলি।
আজ সুবর্ণবণিক সমাজ হলে ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট কো-অপারেটিভ হাউসিং ফেডারেশন লিমিটেড (হাউসফেড)-এর ৩৮তম বার্ষিক সাধারণ সভা ছিল। সংস্থার কর্মীরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সমস্ত পরিচালক মন্ডলী। করোনার কারণে বিভিন্ন সমবায় আবাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকতে পারেন নি। তবে কলকাতা এবং আশেপাশের জেলা থেকে ১৬১ জন প্রতিনিধির মধ্যে ৫৬ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা শুরুর মুহূর্তে কলকাতা কর্পোরেশন কো-অপারেটিভ হাউসিং সোসাইটির প্রতিনিধি হিমাদ্রিবাবু একটি প্রশ্ন উত্থাপন করেন। এই ধরণের সোসাইটির প্রতি মানুষের একটু নাক সিঁটকানো ভাব আছে। কিন্তু এখানে দেখতে পাচ্ছি যে খরচগুলো আগে অনেক বেশি ছিল সেগুলো অনেক কমেগেছে, লায়বিলিটি যা ছিল তাও প্রায় ৬০ শতাংশ কমিয়ে আনা হয়েছে। ক্ষতির জায়গায় মুনাফা মুখী এই সংস্থা, কোন যাদুবলে এটা হচ্ছে বুঝতে পারছি না। চেয়ারম্যান হিসেবে আশিস চক্রবর্তী সমস্ত প্রতিনিধির সামনে বেশ সাবলীলভাবে তার জবাবও দিলেন—
১। আমাদের জেলা অফিসগুলি আগে ছিল ভাড়াবাড়িতে। মাসিক ভাড়ায় আমরা সেই অফিসগুলি চালাতাম। এখন বিভিন্ন জেলায় সমবায় দফতরের অনেক বাড়ি হয়েছে, হয়েছে সমবায় ভবন। আমরা মন্ত্রী অরূপ রায় এবং সচিব মি: রাওয়ের সঙ্গে কথা বলে সেই সব সমবায় ভবনে আমাদের অফিস স্থানন্তরিত করতে পেরেছি ফলে আগে মাসিক ভাড়া যা দিতে হতো তা এখন দশ ভাগের একভাগ।

২। আমার পাশেই চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার বিবেক সেন বসে আছেন। আগে ওনার জায়গায় যাঁরা ছিলেন তাঁদের সকলকেই আমাদের সোসাইটির অর্থ থেকেই পারিশ্রমিক দিতে হতো। আমরা সরকার এবং মন্ত্রীকে বোঝাতে পেরেছি, এই ধরণের স্পেশালিস্ট পোস্ট সামলাবার মতো মানুষ সরকারের কাছেই আছে। সরকার আমাদের দীর্ঘদিন ধরে সেই সাহায্যও করছেন। এবার থেকে তাঁর পারিশ্রমিকটাও যদি সরকারের তরফ থেকে দেওয়া হয় তাহলে আমাদের সোসাইটির পক্ষে উপকার হয়। এটা স্বশাসিত হলেও সরকারের অংশ। সরকার আমাদের কথা শুনেছেন। মুখ্য নির্বাহী আধিকারিক বিবেকবাবু আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর তাঁর দায়ভারও এখন সরকারের। এখান থেকে আমরা বছরে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা বাঁচাতে পেরেছি।
৩। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখলাম অনেক শাখাতেই বেশ কিছু টাকা পড়ে আছে। যা অযৌক্তিক আমি সেই টাকা একসঙ্গে জড়ো করে ফিক্সড করে দিলাম। সেটাও কম নয় প্রায় ২ কটি টাকা। সেখান থেকে যে ইন্টারেস্ট পাই তাই দিয়ে টোডি ম্যানসনের অফিসের ভাড়া থেকে অন্যান্য আনুসাঙ্গিক খরচ উঠে যায়। এইভাবে একটু একটু করে আমরা ঘুরে দাঁড়াবার চেষ্টা করছি। আগে আমরা ৯.৭৫ শতাংশ হারে সুদ নিতাম এখন সেটা নিই ৮.৭৫ শতাংশ এবং সমবায় আবাসনের ক্ষেত্রে ৮.২৫ শতাংশ। আগামী দিনে এই সুদের হার ৭.৫০ শতাংশে নামিয়ে আনবো। বড়ো বড়ো রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্কের পাশাপাশি আমাদের হাউসফেডের নামও সমানভাবে উচ্চারিত হবে। সাধারন মানুষ আমাদের কাছ থেকে লোন নিতে আসবে।

আজ এই অনুষ্ঠানের প্রথম অংশ ছিল ২৫ জন মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের সম্বর্ধনা ও শারদীয়া উৎসব সংখ্যা ১৪২৭-এর শুভ উদ্বোধন। উৎসব সংখ্যা ১৪২৭ বেশ সুন্দর। গল্প, প্রবন্ধ, কবিতায় পরিপূর্ণতা পেয়েছে। নামী-দামী লেখক ছাড়াও এই ধরণের উপস্থাপনা সাহসিকতার পরিচায়ক। মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা দুই ২৪ পরগণা, শ্রীরামপুর, দুর্গাপুর, আসানসোল, মেদিনীপুর, তমলুক, রামনগর, বহরমপুর, মালদহ, শিলিগুড়ি, বর্ধমান, কলকাতা শাখার কর্মীদের সন্তান। তাঁদের প্রত্যেককে সম্বর্ধনা এবং ২০০০ টাকা করে আর্থিক সাহায্য, বই, ব্যাগ এবং করোনাকালে মাক্স এবং স্যানিটাইজার দেওয়া হয়। সম্বর্ধনা দেন চেয়ারম্যান আশিস চক্রবর্তী, ভাইস চেয়ারম্যান তপেন্দ্র মোহন বিশ্বাস এবং মুখ্য নির্বাহী আধিকারিক বিবেক সেন। সমবায় ব্যক্তিত্ব, আশিস চক্রবর্তী জানালেন, ‘সময় পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হাউসিং ফেডারেশন (হাউসফেড) শুধুই মানুষের স্বপ্ন রূপায়নই করে না, আপনার শিশু যাতে আগামী দিনের দায়িত্ববান নাগরিক হয়ে উঠতে পারে, সেই স্বপ্নও দেখাতে সাহায্য করে।’ অনুষ্ঠানটি করোনা সময়ের সব ধরণের সুরক্ষা ব্যবস্থা মান্য করেই আয়োজিত হয়।