করোনা ভাইরাসের প্রোকপ না থাকলে সোলনায় কাল রাতের দৃশ্যটা একেবারে অন্যরকম হতো। ক্রশ্চিয়ানো রোনালদোর গোল উপভোগ করতো টইটুম্বুর গ্যালারি। পর্তুগালের জার্সি গায়ে চাপিয়ে তিনি টপকে গেলেন ১০০ গোলের গণ্ডি। সেই সঙ্গে ভেঙে ফেলেছেন বহু রেকর্ড। অনেক পেছনে ফেলে দিয়েছেন নিজের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের। মঙ্গলবার রাতে সুইডেনের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে এই নজির গড়েন রোনালদো। প্রথমার্ধের একেবারে শেষদিকে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত ফ্রি কিক থেকে আসে তার কেরিয়ারের শততম গোল। দ্বিতীয় গোলটি আসে দ্বিতীয়ার্ধে ৭২ মিনিটে। ব্রুনোর পাস থেকে। এই মুহূর্তে সিআর সেভেনের আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যা ১০১।
খেলার শেষে পর্তুগিজ টিভি চ্যানেল ‘আরটিপি’কে তিনি বলেন, ‘দর্শক ছাড়া খেলাটা দুঃখজনক। ব্যাপারটা অনেকটাই এমন—সার্কাসে যাচ্ছি যেখানে ভাঁড় নেই কিংবা বাগান দেখতে গেলাম, যেখানে ফুল নেই।’ রোনালদো জানালেন, গ্যালারি থেকে দর্শকরা যখন কটু কথা বলে সেটা তাঁকে প্রেরণা জোগায়, ‘নিজের কথা বলতে পারি, যখন প্রতিপক্ষের মাঠে যাই কটু কথা উপভোগ করি। এটা আমার খেলাকে ভালো করার প্রেরণা।’ খেলোয়াড় হিসেবে দর্শকহীন মাঠে ভালো লাগে না রোনালদোর। সে কথা বলতেও কুণ্ঠা করেননি তিনি, ‘আমরা খেলোয়াড়েরা এটা পছন্দ করি না (দর্শকহীন মাঠ)। তবে এটা সয়ে গেছে। স্টেডিয়াম যে ফাঁকা থাকবে সেটা তো আগেই জানা।’
১০০টি গোল ইউরোপের প্রথম এবং বিশ্বের দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে এই নজির তার। সব মিলিয়ে গোটা বিশ্বে রোনাল্ডোর চেয়ে বেশি গোল করেছেন মাত্র একজন। তিনি হলেন ইরানের আলি দায়েই। যার দখলে আছে ১০৯টি গোল। ধারেকাছে নেই ম্যারাডোনা কিংবা পেলের মতো কিংবদন্তিরা। তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি অনেক পেছনে। তার আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যা ৭০। মেসির ওপরেই রয়েছেন ভারতের অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ছেত্রীর গোলসংখ্যা ৭২।
২০০৩ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে পর্তুগালের হয়ে অভিষেক হয় রোনাল্ডোর। ১৭ বছরের ক্যারিয়ারে জিতেছেন দুটি আন্তর্জাতিক ট্রফি। করেছেন সাতটি হ্যাটট্রিক। এবার পেরলেন ১০০’র গণ্ডি। পর্তুগালের হয়ে গোলের সেঞ্চুরি করার পরও অবশ্য থেমে যেতে রাজি নন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন এখানেই থামছেন না। আসলে তার নজর রয়েছে আলি দায়েইয়ের ১০৯ গোলের রেকর্ড ভাঙার।