আগামী ২০ মে পঞ্চম দফায় লোকসভা নির্বাচনে হুগলির ৩টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি ওই একই দিনে হাওড়া জেলার দুটি লোকসভা কেন্দ্র হাওড়া ও উলুবেড়িয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুর ও বনগাঁ কেন্দ্র দুটিতেও একসঙ্গে ভোট নেওয়া হবে। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন সবরকম প্রস্তুতি নিয়েছে।
প্রসঙ্গত, হুগলির তিনটি লোকসভা হুগলি, শ্রীরামপুর ও আরামবাগে যাতে নির্বিঘ্নে মানুষ ভোট দিতে পারেন, কমিশন আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। উল্লেখ্য, হুগলি জেলায় গ্রামীণ এলাকা বেশি হওয়ায় বাড়তি নজর দেওয়া হয়েছে।
শুধুমাত্র হুগলি গ্রামীণ এলাকার ভোট বৈতরনী পার করতে ১৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী নামাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সঙ্গে থাকবে রাজ্য পুলিসের ছ-হাজারের বেশি কর্মী। হুগলি জেলাজুড়ে মোট ২৩১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। সঙ্গে মোট ৯,১৮৯ জন রাজ্য পুলিসের কর্মী। পঞ্চম দফায় বাংলার যে সমস্ত এলাকায় ভোট হবে, তার নিরিখে এই পরিমাণ বাহিনী সর্বোচ্চ। এই বিরাট তৎপরতা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। আগেই হুগলি লোকসভার ৮০ শতাংশের বেশি বুথকে স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করেছিল কমিশন। সেই নিরিখে এই তৎপরতা বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, পুলিস ব্যবস্থার নিরিখে হুগলি জেলাকে ভাগ করে বাহিনী মোতায়েন করা হবে। সেই অনুযায়ী, চন্দননগর পুলিস কমিশনারেটের জন্য ৬০ কোম্পানি ও হুগলি গ্রামীণ পুলিসের জন্য ১৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী বরাদ্দ করা হয়েছে। পঞ্চম দফায় উত্তর ২৪ পরগনার একাংশ, হাওড়া ও হুগলিতে ভোট হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকছে হুগলিতে। হুগলি জেলার জন্য রাজ্য পুলিসও সর্বাধিক থাকছে। কমিশনের পরিসংখ্যান অনুসারে, চন্দননগর পুলিস কমিশনারেট এলাকায় ২,৮৪২ জন ও গ্রামীণে ৬,২৪৭ জন পুলিসকর্মী মোতায়েন করা হবে। হুগলি জেলা পুলিসের এক কর্তার দাবি, এই জেলায় গ্রামীণের এলাকা অনেকটা বড়। হুগলির তিনটি কেন্দ্রের বেশিরভাগ এলাকাই গ্রামীণ। সেই নিরিখেই হয়তো বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।