সবচেয়ে কম খরচে বাঁচা যায় কলকাতায়। জানাচ্ছে মার্সার’স ২০২২ কস্ট অফ লিভিং সার্ভে (2022 Cost of Living Survey Mercer)। বিশ্বের বড় শহরগুলিতে জীবনযাপনের ব্যয় কেমন তা জানতে চালানো হয় এই বার্ষিক সমীক্ষায়। সমীক্ষকদের এই সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সঙ্গত কারণ রয়েছে। তাদের মতে দুধ, পাউরুটি, কাঁচা আনাজ সহ রোজকার প্রয়োজনের জিনিসগুলির দাম সবথেকে কম এই শহরে। আর ঠিক উল্টো পিঠেই রয়েছে মুম্বই। জীবনযাপনের ব্যয় সেখানে সবথেকে বেশি। এই ব্যয় অবশ্য শুধু খাওয়ার খরচেই আটকে থাকে না। বাসস্থান, পরিবহণ, স্বাস্থ্য পরিষেবা, জামাকাপড়, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, আসবাবপত্র, বিনোদন সবকিছু এই হিসেবের আওতায় আসে। সত্যি বলতে কি প্রায় ২০০রকম নিত্যব্যবহার্য সামগ্রী ও পরিষেবার খরচের ভিত্তিতে এই হিসেব কষা হয়।

মুম্বইয়ের পরই সবথেকে ব্যয়বহুল শহর হল দিল্লি। এরপরেই রয়েছে চেন্নাই, বেঙ্গালুরু এবং হায়দরাবাদ। কম খরচে থাকা যায় এমন শহরের মধ্যে কলকাতার কাছাকাছি রয়েছে পুনে। হায়দরাবাদ, পুনে, চেন্নাই ও কলকাতায় থাকার খরচ মুম্বইয়ের তুলনায় ৫০ শতাংশ কম বলেই এই সার্ভে জানাচ্ছে। শুধু আমাদের দেশই নয়, মার্সার’স এই সমীক্ষা চালায় পাঁচ মহাদেশের ২২৭টি শহরে। জীবনযাপনের খরচ মাপার জন্য তাদের চলতি বছরের সমীক্ষার আওতায় এসেছে স্মার্টওয়াচ, স্মার্টফোন, ট্যাবলেট কমপিউটারের মত আধুনিক জীবনযাপনের নানারকম গ্যাজেটস। বাদ গেছে সাবেক আমলের মিউজিক সিডি, ভিডিও ইত্যাদি দেখার খরচ। ভারতীয় সিনেমার রাজধানী মুম্বইতে সিনেমা দেখার খরচ সবথেকে বেশি। বিদ্যুৎ এবং ফোনবাবদ ব্যয়ও সেখানে বেশি হয়। মার্সার’স এর সমীক্ষকদের মতে কোভিড এবং ইউক্রেন-রাশিয়ার সংঘাতের কারণে সব শহরেই পেট্রোলের দাম বেড়েছে। বেড়েছে নতুন গাড়ির দাম এবং গাড়ি দেখভালের খরচ।

তবে মুম্বই দেশের মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর হলেও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যান্য বড় শহর — বেজিং, সাংহাই, ম্যানিলার তুলনায় সেখানে বসবাসের খরচ এখনও কম। বহুজাতিক সংস্থাগুলির কাছে মুম্বইয়ের আকর্ষণ এখনও কমেনি। কারণ এখানে ব্যবসা বেশি এবং কাজ চালানো অনেক সুবিধাজনক। তবে কোন কোন সংস্থা এখন হায়দরাবাদ, চেন্নাই এবং পুনের দিকে ঝুঁকছে। কলকাতার বাসিন্দা মাত্রই জানেন এখানে থাকার খরচ কম অথচ নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য অনেক বেশি। বিশেষ করে আবাসন, যোগাযোগ ও স্বাস্থ্য পরিষেবার অনেক উন্নতি ঘটেছে। কম খরচেই এখন শহরের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে দ্রুত যাওয়া যায়। প্রসারিত হয়েছে মেট্রো। কম খরচে উন্নত নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য মেলে কলকাতায়। থাকা-খাওয়ার খরচও এখানে কম। তাই কলকাতার দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে মানুষ।